📄 স্থাবর সম্পত্তি (Fixed Assets)
আরবিতে তাকে ' موجودات ثابتة ' বলা হয়। এর অর্থ অনগদ সম্পত্তি, যা সহজে নগদায়নযোগ্য নয়। যেমন- যন্ত্রপাতি, বিল্ডিং ইত্যাদি।
আরবিতে তাকে ' موجودات ثابتة ' বলা হয়। এর অর্থ অনগদ সম্পত্তি, যা সহজে নগদায়নযোগ্য নয়। যেমন- যন্ত্রপাতি, বিল্ডিং ইত্যাদি।
📄 অবস্তু সম্পত্তি (Intangible Assets)
যাকে আরবিতে 'موجودات غير مادية ' বলা হয়। এমন বস্তু যাকে বস্তুগতভাবে চেনা যায় না, যেমন- গুডউইল (সুনাম)। তার মূল্যও হিসাব করা হয় এবং বেচাকেনাও হয়। কিন্তু এটা কোনো অনুভবযোগ্য বস্তুগত জিনিস নয়। অথবা কোনো ব্যবসায়ের এডভারটাইজিংয়ে (প্রচার) অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ প্রচার দ্বারা কয়েক বছর পর্যন্ত উপকার হবে। এটাও অবস্তু সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।
সম্পত্তির বিবরণ লেখার পর তা সংগ্রহের মাধ্যম এবং তার জন্য মূলধন সংস্থানের (Financing) উৎসও লেখা হয়।
সম্পত্তির মূল্য বিভিন্ন রকমের হয়। এক রকম মূল্য হল, ক্রয় করার সময়ের মূল্য। তারপর ব্যবহারের পর পুরাতন হওয়ার কারণে তার মূল্য কমে যায়। সময় অতিবাহিত হলে মূল্য বৃদ্ধিও পায়, কিন্তু যেহেতু এ মূল্য পরিবর্তনের সঠিক পরিমাণ অনুমান করা কঠিন। এ কারণে ব্যালান্স শিটে সম্পত্তির সে মূল্য ধরা হয় যে মূল্যে তা ক্রয় করা হয়েছিল। তাকে বলা হয় বইয়ের মূল্য (Book Value)। যেহেতু এ সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য সাধারণত বিভিন্ন রকম হয়, এ কারণে সাধারণত ব্যালান্স শিট থেকে কোম্পানির অবস্থার প্রকৃত রূপ ফুটে উঠে না; বরং আনুমানিক ও সম্ভাব্য ধারণা হয় মাত্র। এর ভিতর ধোঁকা-প্রতারণাও চলে।
ব্যালান্স শিটের দ্বিতীয় অংশে 'দায়সমূহ' লেখা হয়, অর্থাৎ যে অর্থ কোম্পানির পরিশোধ করতে হবে। দায়ের মধ্যে কর্মচারীদের বেতন, কোনো ক্রয়কৃত জিনিসের মূল্য যা পরিশোধ করতে হবে, ধারকৃত মূলধন যা পরিশোধ করতে হবে এবং এ ধরনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। দায় লেখার রীতি হল, প্রথমে দীর্ঘমেয়াদী দায় লেখা হয়। যেমন ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে যা পাঁচ বছর পর পরিশোধ করতে হবে, এমন দায়কে Long Time Liabilities বলে। তারপর চলতি দায়সমূহ লেখা হয়, যা অল্প দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। যেমন কর্মচারীদের বেতন, ট্যাক্স, ক্রয়কৃত কোনো জিনিসের বিল যা পরিশোধ করতে হবে, দীর্ঘ মেয়াদী ঋণের যে অংশ এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে ইত্যাদি। এমন দায়কে বলা হয় Current Liabilities।
যাকে আরবিতে 'موجودات غير مادية ' বলা হয়। এমন বস্তু যাকে বস্তুগতভাবে চেনা যায় না, যেমন- গুডউইল (সুনাম)। তার মূল্যও হিসাব করা হয় এবং বেচাকেনাও হয়। কিন্তু এটা কোনো অনুভবযোগ্য বস্তুগত জিনিস নয়। অথবা কোনো ব্যবসায়ের এডভারটাইজিংয়ে (প্রচার) অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ প্রচার দ্বারা কয়েক বছর পর্যন্ত উপকার হবে। এটাও অবস্তু সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হবে।
সম্পত্তির বিবরণ লেখার পর তা সংগ্রহের মাধ্যম এবং তার জন্য মূলধন সংস্থানের (Financing) উৎসও লেখা হয়।
সম্পত্তির মূল্য বিভিন্ন রকমের হয়। এক রকম মূল্য হল, ক্রয় করার সময়ের মূল্য। তারপর ব্যবহারের পর পুরাতন হওয়ার কারণে তার মূল্য কমে যায়। সময় অতিবাহিত হলে মূল্য বৃদ্ধিও পায়, কিন্তু যেহেতু এ মূল্য পরিবর্তনের সঠিক পরিমাণ অনুমান করা কঠিন। এ কারণে ব্যালান্স শিটে সম্পত্তির সে মূল্য ধরা হয় যে মূল্যে তা ক্রয় করা হয়েছিল। তাকে বলা হয় বইয়ের মূল্য (Book Value)। যেহেতু এ সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য সাধারণত বিভিন্ন রকম হয়, এ কারণে সাধারণত ব্যালান্স শিট থেকে কোম্পানির অবস্থার প্রকৃত রূপ ফুটে উঠে না; বরং আনুমানিক ও সম্ভাব্য ধারণা হয় মাত্র। এর ভিতর ধোঁকা-প্রতারণাও চলে।
ব্যালান্স শিটের দ্বিতীয় অংশে 'দায়সমূহ' লেখা হয়, অর্থাৎ যে অর্থ কোম্পানির পরিশোধ করতে হবে। দায়ের মধ্যে কর্মচারীদের বেতন, কোনো ক্রয়কৃত জিনিসের মূল্য যা পরিশোধ করতে হবে, ধারকৃত মূলধন যা পরিশোধ করতে হবে এবং এ ধরনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। দায় লেখার রীতি হল, প্রথমে দীর্ঘমেয়াদী দায় লেখা হয়। যেমন ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে যা পাঁচ বছর পর পরিশোধ করতে হবে, এমন দায়কে Long Time Liabilities বলে। তারপর চলতি দায়সমূহ লেখা হয়, যা অল্প দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। যেমন কর্মচারীদের বেতন, ট্যাক্স, ক্রয়কৃত কোনো জিনিসের বিল যা পরিশোধ করতে হবে, দীর্ঘ মেয়াদী ঋণের যে অংশ এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে ইত্যাদি। এমন দায়কে বলা হয় Current Liabilities।
📄 নিট মূলধন
সম্পত্তির মধ্যে থেকে দায়সমূহ বাদ দিয়ে যে অবশিষ্টাংশ উদ্বৃত্ত থাকে তাকে নিট মূলধন 'المالية الصافية' (Net Worth) বলে। প্রকৃতপক্ষে অংশীদারগণ এ অর্থেরই মালিক হয়।
সম্পত্তির মধ্যে থেকে দায়সমূহ বাদ দিয়ে যে অবশিষ্টাংশ উদ্বৃত্ত থাকে তাকে নিট মূলধন 'المالية الصافية' (Net Worth) বলে। প্রকৃতপক্ষে অংশীদারগণ এ অর্থেরই মালিক হয়।
📄 লাভ-লোকসানের পরিমাপ
ব্যালান্স শিট তো কোম্পানির আর্থিক সামর্থ্য জানার জন্য তৈরি হয়। এর সাথে কোম্পানির কত লাভ বা ক্ষতি হল তার কোনো সম্পর্ক নেই। লাভ-ক্ষতির বিবরণ দেয়ার জন্য যে রিপোর্ট তৈরি করা হয় তাকে আয়- বিবরণী, আরবিতে 'اللائحة المالية' বা 'البيان المالى' এবং ইংরেজিতে Income Statement বলে। তার বিন্যাস নিম্নরূপ:
মোট বিক্রয় (Gross Sales)
ফেরত (Returns)
নিট বিক্রয় (Net Sales)
প্রত্যক্ষ ব্যয় (Direct Expenses)
মোট লাভ (Gross Profit)
পরোক্ষ ব্যয় (Indirect Expenses)
নিট লাভ (ট্যাক্সের পূর্বে) [Net Profit (Pre Tax)]
ট্যাক্স (Tax)
নিট মুনাফা (ট্যাক্সের পর) [Net Profit (After Tax)]
সংরক্ষিত তহবিল (Reserve)
বণ্টনযোগ্য মুনাফা (Dividend)
'ফেরত' হল বিক্রির পর যে পণ্য ফেরত নিতে হয়। যেহেতু সেগুলো বিক্রীত পণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, তাই তা বাদ দিয়ে যা বিক্রীত থাকবে সেগুলোই নিট 'বিক্রয়'। 'প্রত্যক্ষ ব্যয়' বলতে সে বস্তু প্রস্তুত করতে যে ব্যয় হয়েছে তা বুঝায়, যা কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক পণ্য। যেমন, যদি মিল হয় তাহলে তার কাঁচা মাল ক্রয়ের জন্য যে ব্যয় হবে তা প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে গণ্য হবে। যদি কোনো পত্রিকা হয় তাহলে তার ছাপা ও কাগজের ব্যয় এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। 'নিট বিক্রি' থেকে এ ব্যয় বাদ দিলে যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে তা কোম্পানির 'মোট লাভ'। 'পরোক্ষ ব্যয়' হল বিক্রীত বস্তু তৈরির সাথে যে ব্যয় সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। যেমন অফিসের জন্য বিল্ডিং ভাড়া, সম্পাদকের বেতন ইত্যাদি। প্রত্যক্ষ ব্যয় আর পরোক্ষ ব্যয়ের মধ্যে কার্যত পার্থক্য হল, প্রত্যক্ষ ব্যয় তখন হবে যখন পণ্য প্রস্তুত হবে। যদি পণ্য প্রস্তুত না হয় তাহলে ব্যয় হবে না। তারপর পণ্য বেশি তৈরি হলে খরচও বেশি হবে, আর কম তৈরি হলে খরচও কম হবে। আর পরোক্ষ ব্যয় সর্বাবস্থায় চালু থাকবে, প্রোডাকশন হোক বা না হোক অথবা কম হোক বা বেশি হোক। 'মোট লাভ' থেকে এ ধরনের ব্যয় বাদ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা 'নিট মুনাফা' (ট্যাক্সপূর্ব)। এর থেকে সরকারকে প্রদেয় ট্যাক্স বাদ দেয়ার পর বাকিটা 'নিট মুনাফা' (ট্যাক্স পরবর্তী)। এ নিট মুনাফার কিছু অংশ সংরক্ষিত তহবিলে স্থানান্তর করার পর যে মুনাফা অবশিষ্ট থাকে তাকে 'বিতরণযোগ্য মুনাফা' (Distributable Profit) বলে।
* ইনকাম স্টেটমেন্টে যে নিট মুনাফা দেখানো হয় তা নগদ ক্যাশ আকারে থাকা জরুরি নয়। কখনো এমন হয়, কোম্পানি প্রচুর মুনাফা দেখায়, কিন্তু তার কাছে নগদ টাকা সে পরিমাণ থাকে না, বরং সেটা প্রোডাকশনে লাগানো থাকে। এরূপ অবস্থায়ই 'বোনাস শেয়ার' জারি করার প্রয়োজন হয়।
ব্যালান্স শিট তো কোম্পানির আর্থিক সামর্থ্য জানার জন্য তৈরি হয়। এর সাথে কোম্পানির কত লাভ বা ক্ষতি হল তার কোনো সম্পর্ক নেই। লাভ-ক্ষতির বিবরণ দেয়ার জন্য যে রিপোর্ট তৈরি করা হয় তাকে আয়- বিবরণী, আরবিতে 'اللائحة المالية' বা 'البيان المالى' এবং ইংরেজিতে Income Statement বলে। তার বিন্যাস নিম্নরূপ:
মোট বিক্রয় (Gross Sales)
ফেরত (Returns)
নিট বিক্রয় (Net Sales)
প্রত্যক্ষ ব্যয় (Direct Expenses)
মোট লাভ (Gross Profit)
পরোক্ষ ব্যয় (Indirect Expenses)
নিট লাভ (ট্যাক্সের পূর্বে) [Net Profit (Pre Tax)]
ট্যাক্স (Tax)
নিট মুনাফা (ট্যাক্সের পর) [Net Profit (After Tax)]
সংরক্ষিত তহবিল (Reserve)
বণ্টনযোগ্য মুনাফা (Dividend)
'ফেরত' হল বিক্রির পর যে পণ্য ফেরত নিতে হয়। যেহেতু সেগুলো বিক্রীত পণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, তাই তা বাদ দিয়ে যা বিক্রীত থাকবে সেগুলোই নিট 'বিক্রয়'। 'প্রত্যক্ষ ব্যয়' বলতে সে বস্তু প্রস্তুত করতে যে ব্যয় হয়েছে তা বুঝায়, যা কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক পণ্য। যেমন, যদি মিল হয় তাহলে তার কাঁচা মাল ক্রয়ের জন্য যে ব্যয় হবে তা প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে গণ্য হবে। যদি কোনো পত্রিকা হয় তাহলে তার ছাপা ও কাগজের ব্যয় এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। 'নিট বিক্রি' থেকে এ ব্যয় বাদ দিলে যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে তা কোম্পানির 'মোট লাভ'। 'পরোক্ষ ব্যয়' হল বিক্রীত বস্তু তৈরির সাথে যে ব্যয় সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। যেমন অফিসের জন্য বিল্ডিং ভাড়া, সম্পাদকের বেতন ইত্যাদি। প্রত্যক্ষ ব্যয় আর পরোক্ষ ব্যয়ের মধ্যে কার্যত পার্থক্য হল, প্রত্যক্ষ ব্যয় তখন হবে যখন পণ্য প্রস্তুত হবে। যদি পণ্য প্রস্তুত না হয় তাহলে ব্যয় হবে না। তারপর পণ্য বেশি তৈরি হলে খরচও বেশি হবে, আর কম তৈরি হলে খরচও কম হবে। আর পরোক্ষ ব্যয় সর্বাবস্থায় চালু থাকবে, প্রোডাকশন হোক বা না হোক অথবা কম হোক বা বেশি হোক। 'মোট লাভ' থেকে এ ধরনের ব্যয় বাদ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা 'নিট মুনাফা' (ট্যাক্সপূর্ব)। এর থেকে সরকারকে প্রদেয় ট্যাক্স বাদ দেয়ার পর বাকিটা 'নিট মুনাফা' (ট্যাক্স পরবর্তী)। এ নিট মুনাফার কিছু অংশ সংরক্ষিত তহবিলে স্থানান্তর করার পর যে মুনাফা অবশিষ্ট থাকে তাকে 'বিতরণযোগ্য মুনাফা' (Distributable Profit) বলে।
* ইনকাম স্টেটমেন্টে যে নিট মুনাফা দেখানো হয় তা নগদ ক্যাশ আকারে থাকা জরুরি নয়। কখনো এমন হয়, কোম্পানি প্রচুর মুনাফা দেখায়, কিন্তু তার কাছে নগদ টাকা সে পরিমাণ থাকে না, বরং সেটা প্রোডাকশনে লাগানো থাকে। এরূপ অবস্থায়ই 'বোনাস শেয়ার' জারি করার প্রয়োজন হয়।