📄 ডিবেঞ্চার
شهادة الاستثمار )Debenture( বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে এতটুকু ব্যাপারে মিল রয়েছে যে, এ দুটোর গ্রাহক কোম্পানির অংশীদার হয় না, শুধু ঋণদাতা হয়, কোম্পানির পক্ষ থেকে যাকে বার্ষিক সুদ প্রদান করা হয়। আর ফেরৎ চাইলে তার টাকা ফেরত দেয়া হয়। এ দুয়ের মধ্যে দুদিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। এক তো হল এই, বন্ড শুধু ঋণের দলিল। কখনো ঋণের বন্ডকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য একটি সনদ জারি করা হয়। তার মধ্যে ঐ বন্ডকে কোম্পানির কোনো একটি সম্পত্তি বা অনেকগুলো সম্পত্তির সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়, যদি এ ঋণ পরিশোধ না হয় তাহলে ঐ সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করা হবে। একে ডিবেঞ্চার (Debenture) বলে। যেন বন্ড ঋণের দলিল আর ডিবেঞ্চার তার জামানতের প্রমাণপত্র। দ্বিতীয় পার্থক্য হল, কোম্পানি যদি দেউলিয়া হয়ে যায় তাহলে সম্পত্তির উপর যেসব মানুষের প্রাপ্য থাকে তাদের প্রাপ্যসমূহ পরিশোধের আইনগত পর্যায়ক্রম থাকে। এ বিন্যাসে ডিবেঞ্চার ঐ সম্পত্তির মধ্যে অগ্রাধিকার পাবে যাকে জামানত বানানো হয়েছিল। বন্ডের ঋণ পরিশোধ হবে তার পরে।
এক প্রকার বন্ড আছে যার মধ্যে গ্রাহকের এ অধিকার থাকে, সে বন্ডকে শেয়ারে পরিবর্তন করতে পারবে। প্রথমে সে ঋণদাতা ছিল, এখন কোম্পানির অংশীদার হবে। তার জন্য কখনো সময় নির্ধারিত থাকে, এতদিন পরে শেয়ারে পরিবর্তন করতে পারবে। আবার কখনো সময় নির্দিষ্ট থাকে না, কখনো বিশেষ শর্তারোপ করা হয়, কখনো করা হয় না। এরূপ বন্ডকে রূপান্তরযোগ্য ঋণপত্র 'سندات قابلة للتحويل' (Convertible Bonds) বলে।
টিকাঃ
২. একে বাংলায় বন্ধকী ঋণপত্র বলে।
شهادة الاستثمار )Debenture( বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে এতটুকু ব্যাপারে মিল রয়েছে যে, এ দুটোর গ্রাহক কোম্পানির অংশীদার হয় না, শুধু ঋণদাতা হয়, কোম্পানির পক্ষ থেকে যাকে বার্ষিক সুদ প্রদান করা হয়। আর ফেরৎ চাইলে তার টাকা ফেরত দেয়া হয়। এ দুয়ের মধ্যে দুদিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। এক তো হল এই, বন্ড শুধু ঋণের দলিল। কখনো ঋণের বন্ডকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য একটি সনদ জারি করা হয়। তার মধ্যে ঐ বন্ডকে কোম্পানির কোনো একটি সম্পত্তি বা অনেকগুলো সম্পত্তির সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়, যদি এ ঋণ পরিশোধ না হয় তাহলে ঐ সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করা হবে। একে ডিবেঞ্চার (Debenture) বলে। যেন বন্ড ঋণের দলিল আর ডিবেঞ্চার তার জামানতের প্রমাণপত্র। দ্বিতীয় পার্থক্য হল, কোম্পানি যদি দেউলিয়া হয়ে যায় তাহলে সম্পত্তির উপর যেসব মানুষের প্রাপ্য থাকে তাদের প্রাপ্যসমূহ পরিশোধের আইনগত পর্যায়ক্রম থাকে। এ বিন্যাসে ডিবেঞ্চার ঐ সম্পত্তির মধ্যে অগ্রাধিকার পাবে যাকে জামানত বানানো হয়েছিল। বন্ডের ঋণ পরিশোধ হবে তার পরে।
এক প্রকার বন্ড আছে যার মধ্যে গ্রাহকের এ অধিকার থাকে, সে বন্ডকে শেয়ারে পরিবর্তন করতে পারবে। প্রথমে সে ঋণদাতা ছিল, এখন কোম্পানির অংশীদার হবে। তার জন্য কখনো সময় নির্ধারিত থাকে, এতদিন পরে শেয়ারে পরিবর্তন করতে পারবে। আবার কখনো সময় নির্দিষ্ট থাকে না, কখনো বিশেষ শর্তারোপ করা হয়, কখনো করা হয় না। এরূপ বন্ডকে রূপান্তরযোগ্য ঋণপত্র 'سندات قابلة للتحويل' (Convertible Bonds) বলে।
টিকাঃ
২. একে বাংলায় বন্ধকী ঋণপত্র বলে।
📄 ইজারা
মূলধন সংগ্রহের জন্য আরো একটি পদ্ধতি চালু রয়েছে, যাকে 'ইজারা' বা লিজ (Leasing) বলা হয়। লিজ দু-ধরনের হয়। এক. অপারেটিং লিজ (Opearting Leas), যা সাধারণভাবে প্রচলিত আছে। এতে প্রকৃতপক্ষে লিজদাতা ও লিজগ্রহীতা উভয় পক্ষের সম্পর্ক থাকে। এ ইজারা পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যম নয়। পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যম হয় অন্য প্রকারের ইজারা, যাকে ফাইন্যান্সিয়াল লিজ (Financial Lease) বলে। তার ব্যাখ্যা হল, ইজারার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা এখানে আসল উদ্দেশ্য নয়; বরং কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তির (যেমন মেশিনারি) প্রয়োজন। এখন কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে নিজে মেশিনারি ক্রয় করার পরিবর্তে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বলল, এ মেশিনারি ক্রয় করে আমাকে ভাড়া দাও। এ সময়ে সে যন্ত্রপাতির মালিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হবে এবং কোম্পানি সেটা ব্যবহার করবে ভাড়াগ্রহণকারী হিসেবে। একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য এমন হারে ভাড়া নির্ধারিত হয়, যাতে তা দ্বারা যন্ত্রপাতির মূল্যও পরিশোধ হয়ে যায় এবং এ মেয়াদের জন্য যদি এ অর্থ ঋণ দেয়া হত তাহলে তার উপর যে সুদ পাওয়া যেত তাও পরিশোধ হয়ে যায়। এ মেয়াদ অতিবাহিত এবং ভাড়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হারে সুদসহ যন্ত্রপাতির মূল্য পরিশোধ হয়ে গেলে এ মেশিনপত্র আপনা আপনি কোম্পানির মালিকানায় চলে আসবে। একথা কখনো চুক্তিপত্রে লেখা থাকে আবার কখনো লেখা থাকে না, তবে এভাবেই প্রচলিত আছে।
ঋণের বদলে ইজারার এ পদ্ধতি গ্রহণের দুটি উদ্দেশ্য থাকে। ১. এর কারণে কোনো কোনো অবস্থায় ট্যাক্স থেকে বাঁচা যায় বা ট্যাক্স কম আসে। ২. ঋণ পরিশোধের জন্য ইজারা পদ্ধতি ঋণের তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য। কারণ ইজারায় মেশিনপত্র ইজারাদাতার মালিকানায় থাকে। তার উপর তারই লেভেল লাগানো থাকে। টাকা যদি ফেরৎ না পাওয়া যায় তাহলে লিজদাতার কোনো ভয়ের কারণ থাকে না। কারণ মেশিনপত্র তার মালিকানায় রয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, ফাইন্যান্সিয়াল লিজিং দ্বারা এক অর্থে যেহেতু মূলধন সংগ্রহে সাহায্য নেয়াই উদ্দেশ্য, তাই একে ফান্ড সরবরাহের একটা পদ্ধতি গণ্য করে ‘তম্উইল’ (Financing)-এর অধীনে আনা হয়েছে। না হয় প্রকৃতপক্ষে এটা ‘তম্উইল’ (Financing) নয়। কারণ ফাইন্যান্সিং হল, যার মধ্যে কোনো বস্তু কোম্পানির মালিকানায় আসে। আর এখানে ঐ মেশিনপত্র এখনো কোম্পানির মালিকানায় আসে নি।
মূলধন সংগ্রহের জন্য আরো একটি পদ্ধতি চালু রয়েছে, যাকে 'ইজারা' বা লিজ (Leasing) বলা হয়। লিজ দু-ধরনের হয়। এক. অপারেটিং লিজ (Opearting Leas), যা সাধারণভাবে প্রচলিত আছে। এতে প্রকৃতপক্ষে লিজদাতা ও লিজগ্রহীতা উভয় পক্ষের সম্পর্ক থাকে। এ ইজারা পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যম নয়। পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যম হয় অন্য প্রকারের ইজারা, যাকে ফাইন্যান্সিয়াল লিজ (Financial Lease) বলে। তার ব্যাখ্যা হল, ইজারার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা এখানে আসল উদ্দেশ্য নয়; বরং কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তির (যেমন মেশিনারি) প্রয়োজন। এখন কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে নিজে মেশিনারি ক্রয় করার পরিবর্তে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বলল, এ মেশিনারি ক্রয় করে আমাকে ভাড়া দাও। এ সময়ে সে যন্ত্রপাতির মালিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হবে এবং কোম্পানি সেটা ব্যবহার করবে ভাড়াগ্রহণকারী হিসেবে। একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য এমন হারে ভাড়া নির্ধারিত হয়, যাতে তা দ্বারা যন্ত্রপাতির মূল্যও পরিশোধ হয়ে যায় এবং এ মেয়াদের জন্য যদি এ অর্থ ঋণ দেয়া হত তাহলে তার উপর যে সুদ পাওয়া যেত তাও পরিশোধ হয়ে যায়। এ মেয়াদ অতিবাহিত এবং ভাড়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হারে সুদসহ যন্ত্রপাতির মূল্য পরিশোধ হয়ে গেলে এ মেশিনপত্র আপনা আপনি কোম্পানির মালিকানায় চলে আসবে। একথা কখনো চুক্তিপত্রে লেখা থাকে আবার কখনো লেখা থাকে না, তবে এভাবেই প্রচলিত আছে।
ঋণের বদলে ইজারার এ পদ্ধতি গ্রহণের দুটি উদ্দেশ্য থাকে। ১. এর কারণে কোনো কোনো অবস্থায় ট্যাক্স থেকে বাঁচা যায় বা ট্যাক্স কম আসে। ২. ঋণ পরিশোধের জন্য ইজারা পদ্ধতি ঋণের তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য। কারণ ইজারায় মেশিনপত্র ইজারাদাতার মালিকানায় থাকে। তার উপর তারই লেভেল লাগানো থাকে। টাকা যদি ফেরৎ না পাওয়া যায় তাহলে লিজদাতার কোনো ভয়ের কারণ থাকে না। কারণ মেশিনপত্র তার মালিকানায় রয়েছে।