📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 ব্যবসায়ের প্রকারভেদ (মালিকানা হিসেবে) (Different kinds of Business)

📄 ব্যবসায়ের প্রকারভেদ (মালিকানা হিসেবে) (Different kinds of Business)


সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেহেতু সব অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতা সরকারি পরিকল্পনার অধীনে পরিচালিত হয়। এ কারণে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত ও একক প্রকৃতির ব্যবসায়ের প্রশ্নই উঠে না। সুতরাং ব্যবসায়ের শ্রেণী বিভাগের উপর এ আলোচনা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর প্রযোজ্য। মালিকানা হিসেবে ব্যবসায় তিন প্রকার :
১. একমালিকানা ব্যবসায় (Private Proprietorship)।
২. অংশীদারি ব্যবসায় (Partnership)।
৩. যৌথমূলধনী কোম্পানি (Joint Stock Company)।
যখন থেকে মানুষ কারবার করছে, তখন থেকেই প্রথম দুই প্রকারের কারবার প্রচলিত। ফুকাহায়ে কিরামও তার মৌলিক ব্যাখ্যা এবং সে সম্পর্কিত বিধান আলোচনা করেছেন। তার বর্তমান রূপ অতীত থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন নয়। এ কারণে তার বিস্তারিত আলোচনা এখানে করা হবে না। তবে 'কোম্পানি' কারবারের একটি নতুন প্রকার। পূর্বের ফুকাহায়ে কিরামের যুগে এর অস্তিত্ব ছিল না। তাই এখানে তার বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন।

📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 সুদী ব্যাংকিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থা

📄 সুদী ব্যাংকিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থা


পেছনের আলোচনায় ব্যাংকিংয়ের প্রচলিত ব্যবস্থার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। এর দ্বারা পরিষ্কার হয়ে গেছে, বর্তমান ব্যবস্থার ভিত্তি হচ্ছে সুদ। এখন প্রশ্ন হল, সুদ বন্ধ করা হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালনার বিকল্প পন্থা কী হবে? এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত যে প্রস্তাবনাগুলো সামনে এসেছে, নিম্নে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হল।
সুদী ব্যাংকিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থার উপর আলোকপাত করার আগে কিছু মৌলিক বিষয় জেনে নেয়া জরুরি।
১. সুদী ব্যাংকিংয়ের বিকল্প অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য এমন হওয়া উচিৎ নয় যে, প্রচলিত ব্যাংক যত কাজ যে প্রক্রিয়ায় করে চলেছে তার সব কাজ কমবেশি সে প্রক্রিয়ায় সম্পাদন করতে হবে এবং তার উদ্দেশে কোনো পার্থক্য হতে পারবে না। কেননা, এখন পর্যন্ত যা কিছু হয়ে আসছে যদি তাই করতে হয়, তাহলে 'বিকল্প ব্যবস্থার' কোনো প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকে না।
বরং 'বিকল্প'-এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, বর্তমান বাণিজ্যিক পরিবেশে ব্যাংকের জন্য যে কাজ জরুরি বা উপকারী, তা সম্পাদন করার জন্য এমন কর্মপন্থা অবলম্বন করা যা শরীয়তের মূলনীতির গণ্ডির মধ্যে থাকে, যা দ্বারা শরীয়তের অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়। আর যে কাজ শরয়ী মূলনীতির আলোকে জরুরি বা উপকারী নয় এবং যাকে শরয়ী মূলনীতি অনুযায়ী সাজানো যায় না, তা থেকে দূরে থাকা।
২. যেহেতু সম্পদ বণ্টনের পুরো ব্যবস্থার উপর সুদ নিষিদ্ধের প্রভাব পড়ে, তাই এ আশা করাও ভুল যে, সুদের শরয়ী বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর করলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের লাভের হার তাই থাকবে যা এখন সুদী ব্যবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে; বরং বাস্তব হল, যদি ইসলামী বিধান সঠিকভাবে কার্যকর করা হয় তাহলে এ অনুপাতের মধ্যে বড় ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে; বরং এ পরিবর্তন একটি দৃষ্টান্তমূলক ইসলামী অর্থনীতির জন্য অপরিহার্যভাবে কাম্য।
৩. বর্তমানে ব্যাংক যে সেবা প্রদান করে তন্মধ্যে এ বিষয়টা উপকারী; বরং বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে জরুরি, সে মানুষের বিক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সঞ্চয়কে একত্র করে তা শিল্প ও বাণিজ্যে ব্যবহার করার মাধ্যম হয়। এ সঞ্চয় যদি মানুষের পকেটে পড়ে থাকত তাহলে তা দ্বারা শিল্প ও বাণিজ্যের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণে কোনো ফায়দা পাওয়া যেত না। বলাবাহুল্য, সম্পদের উদ্বৃত্ত অংশ অলস পড়ে থাকা শরীয়তের দৃষ্টিতেও কাম্য নয় এবং অর্থনৈতিকভাবেও তাকে কল্যাণকর বলা যায় না।
কিন্তু এ সঞ্চয়কে শিল্প ও বাণিজ্যে ব্যবহার করার জন্য যে পন্থা প্রচলিত ব্যাংক অবলম্বন করেছে, তা ঋণের পন্থা। সুতরাং এ প্রতিষ্ঠান পুঁজিপতিদের উৎসাহিত করে, সে অন্যের আর্থিক উপকরণগুলো নিজের লাভের জন্য এমনভাবে ব্যবহার করবে যাতে ঐ উপকরণ থেকে উৎপাদিত সম্পদের বেশিরভাগ অংশ তার নিজের কাছেই জমা থাকে এবং পুঁজির আসল মালিকরা উপরে উঠার যথাযথ সুযোগ না পায়।
সুতরাং প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্যাংক হল শুধু এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা টাকার লেনদেন করে। এ টাকা দ্বারা যে কারবার হচ্ছে তার লাভ কত আর এর দ্বারা কার উপকার হচ্ছে আর কার ক্ষতি হচ্ছে- এর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
ইসলামী বিধানের আলোকে ব্যাংক এমন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবশিষ্ট থাকতে পারে না যার কাজ শুধু অর্থের লেনদেন করা। তার পরিবর্তে তাকে এমন এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বানাতে হবে, যে বিভিন্ন মানুষের সঞ্চয় একত্র করে তা সরাসরি ব্যবসায় বিনিয়োগ করবে। আর যেসব লোকের সঞ্চয় সে জমা করবে তারা সবাই সরাসরি সে ব্যবসার অংশীদার হবে। তাদের লাভ ক্ষতি সে ব্যবসার লাভ ক্ষতির সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, যা তাদের পুঁজি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং সুদী ব্যাংকিংয়ের বিকল্প যে ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হবে তার উপর এ আপত্তি করা উচিৎ নয় যে, ব্যাংক তার পূর্বের অবস্থান শেষ করে দিয়ে একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কেননা, যার কারণে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে সে প্রয়োজন এ ছাড়া পূর্ণ হতে পারে না।
৪. চতুর্থ কথা হল, শত শত বছর ধরে জেঁকে বসা কোনো ব্যবস্থা পরিবর্তন করে তার স্থলে অন্য একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করতে গেলে সর্বদা সমস্যা একটু হবেই, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন যদি জরুরি হয় তাহলে শুধু এ সমস্যার উপর ভিত্তি করে নতুন ব্যবস্থা অগ্রহণযোগ্য বলে স্থির করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। এ অবস্থায় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। সমস্যার ভয়ে পিছপা হওয়া যায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00