📄 মূলধন (Capital)
পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মূলধনের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, মূলধন হল উৎপাদিত উৎপাদন-উপকরণ (Produced Factor of Production)-এর নাম। এ সংজ্ঞাকে সামান্য ব্যাখ্যা করে এভাবে বলা যায়, মূলধন হল এমন উৎপাদন-উপকরণ, যা প্রাকৃতিক নয়; বরং কোনো উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে, তারপর পরবর্তী কোনো উৎপাদন কার্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
📄 সংগঠক (Entrepreneur)
সংগঠক হল সে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যে কোনো উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংগঠক বা প্রতিষ্ঠান উপরোল্লিখিত চার উৎপাদন-উপাদান একত্র করে তা উৎপাদন কাজে ব্যবহার এবং লাভ-লোকসানের ঝুঁকি গ্রহণ করে। পুঁজিবাদী দর্শন হল, বর্তমান যুগে উৎপাদন কার্যক্রম এ চার উপাদানের সম্মিলিত কর্মকাণ্ডের ফল। যদিও কখনো এ উপাদানগুলো একই ব্যক্তির কাছে একত্র হয়। অর্থাৎ একই ব্যক্তি ভূমির যোগান দেয়, শ্রম দেয় এবং সে-ই মূলধন সরবরাহ করে। কিন্তু বড় আকারের শিল্পে সাধারণত এ চার উপাদান পৃথক পৃথক ব্যক্তির কাছে থাকে। আর উৎপাদন যেহেতু তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত হয়, তাই অর্জিত উৎপাদনের হকদারও এরাই। সুতরাং সম্পদ বণ্টনের পুঁজিবাদী দর্শন হচ্ছে, জমির ভাড়া (Rent), শ্রমের মজুরি (Wages), পুঁজির সুদ (Interest) এবং উদ্যোক্তার মুনাফা (Profit) দিতে হবে। এর মধ্যে বণ্টনের প্রথম তিন উপাদান অর্থাৎ ভাড়া মজুরি এবং সুদ আগে থেকে নির্ধারিত হয়। এটা নির্ধারণ হয় যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে। এর ব্যাখ্যা পেছনে করা হয়েছে। তবে বণ্টনের চতুর্থ উপাদান, অর্থাৎ মুনাফা কারবার শুরু করার সময় নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না; বরং এটা নির্ধারিত হয় কারবার ফলপ্রসূ হওয়ার পর। অর্থাৎ প্রথম তিন খাতে সম্পদ বণ্টন করার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাই উদ্যোক্তার মুনাফা।