📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 খোদারী নিয়ন্ত্রণ

📄 খোদারী নিয়ন্ত্রণ


সর্বপ্রথম ইসলাম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর হালাল হারামের কিছু চিরস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা সর্বযুগে সর্বস্থানে কার্যকর। যেমন সুদ জুয়া হুন্ডি মজুদদারি গুদামজাতকরণ এবং অন্যান্য সকল নিষিদ্ধ ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। তার কারণ, এসব সাধারণত একচেটিয়া ইজারাদারি প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হয়। উপরন্তু এর দ্বারা অর্থনীতিতে বৈষম্য সৃষ্টি হয়। তেমনিভাবে ইসলাম এমন সব পণ্যের উৎপাদন এবং ক্রয় বিক্রয় হারাম সাব্যস্ত করেছে যার দ্বারা সমাজ কোনো অনৈতিকতার শিকার হয়, মানুষের নিচু প্রবৃত্তিকে উসকে দিয়ে অবৈধ পন্থায় মুনাফা অর্জনের পথ সৃষ্টি হয়।
এখানে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট থাকা দরকার যে, এ খোদায়ী বিধি-নিষেধ নিয়ন্ত্রণ কুরআন হাদীসের আলোকে আরোপ করা হয়েছে। এগুলোকে ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত বুদ্ধি-বিবেচনার উপর ছেড়ে দেয় নি, যদি তার বিবেক উপযুক্ত মনে করে তাহলে এ বিধি-নিষেধ আরোপ করবে। আর উপযুক্ত মনে না করলে আরোপ করবে না। তার কারণ, কোনো বস্তু ভাল বা মন্দ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য কখনো মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনায় ভিন্নতা এবং মতানৈক্য হয়। কোনো একজন মানুষের বিবেক এক বস্তুকে ভাল এবং অন্য মানুষের বিবেক তাকে মন্দ ভাবতে পারে। সুতরাং এ বিধি-নিষেধগুলোও যদি শুধু মানবীয় বিবেকের উপর ন্যস্ত করা হত, তাহলে সম্ভাবনা ছিল, মানুষ নিজের বিবেকের আলোকে এসব বিধি-নিষেধগুলো অনুপযুক্ত মনে করে সমাজকে তা থেকে মুক্ত করে দিত। আর যেহেতু আল্লাহ তাআলার জ্ঞানে এসব বিধি-নিষেধ সর্বযুগে ও সর্বস্থানের জন্য জরুরি ছিল, এ কারণে ওহীর মাধ্যমে এসব বিধি-নিষেধকে চিরস্থায়িত্বের গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। যাতে মানুষ তার বিবেকপ্রসূত ব্যাখ্যার আশ্রয়ে তার থেকে মুক্ত হয়ে অর্থনীতি এবং সমাজকে বৈষম্যের মধ্যে নিপতিত করতে না পারে।
এখানে একথা স্পষ্ট হয় যে, কুরআন ও হাদীসে আরোপিত এ খোদায়ী বিধি-নিষেধ পালন করা সর্বাবস্থায় অত্যাবশ্যক। তার যৌক্তিক দর্শন মানুষের বুঝে আসুক বা না আসুক।
যেমন পূর্বে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে বেশিরভাগ ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রই ব্যক্তিগত মুনাফার প্রেরণার উপর কিছু না কিছু বিধি-নিষেধ অবশ্যই আরোপ করে। কিন্তু এ বিধিনিষেধ যেহেতু খোদায়ী ওহীনির্ভর নয়, এ কারণে সেটা সুষম অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। সুতরাং ঐসব পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কোথাও সুদ জুয়া হুন্ডি ইত্যাদির উপর কোনো বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয় নি যেগুলো অর্থনৈতিক বৈষম্যের অনেক বড় কারণ।

📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

📄 রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ


আলোচিত খোদায়ী বিধি-নিষেধগুলো ছিল চিরস্থায়ী প্রকৃতির। তার সাথে ইসলামী শরীয়ত সমকালীন সরকারকে এ অধিকারও প্রদান করেছে, সে কোনো জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে এমন কোনো বস্তু বা কাজের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, যেগুলো মৌলিকভাবে হারাম নয়; বরং মুবাহ-র আওতাভুক্ত, কিন্তু তা দ্বারা সমাজের কোনো ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়া অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চিরস্থায়ী প্রকৃতির হয় না, যা প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক স্থানে কার্যকর হবে; বরং তার গুরুত্ব সাময়িক নির্দেশের মতো, যা সাময়িক প্রয়োজন অনুযায়ী হয়। তার একটি সরল দৃষ্টান্ত হল, ফুকাহায়ে কিরাম লেখেছেন, যখন কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘটতে থাকে তখন সরকার তরমুজের ক্রয়-বিক্রয় এবং তা পক্ষ থেকে আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তরমুজ খাওয়া এবং তার ক্রয়-বিক্রয় শরীয়তের দৃষ্টিতেও নাজায়েয হয়ে যাবে। এমনিভাবে উসূলে ফিকাহর মধ্যে 'سد ذرائع' (উপায়-উপকরণ প্রতিরোধ) নামের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে। যার অর্থ, কোনো কাজ যদিও মৌলিকভাবে জায়েয, কিন্তু তার আধিক্য যদি কোনো অপরাধ বা বিশৃঙ্খলার কারণ হয়, তাহলে সরকারের জন্য ঐ বৈধ কাজটিও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা জায়েয।
এ মূলনীতির আলোকে সরকার সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর নজরদারি করতে পারে। যেসব কর্মকাণ্ডের কারণে অর্থনীতিতে বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ার শংকা দেখা দেয়, সরকার তার উপর উপযুক্ত বিধি-নিষেধ আরোপ করতে পারে। কানযুল উম্মাল গ্রন্থে আছে, হযরত উমর ফারুক রা. একবার বাজারে এসে দেখলেন, এক ব্যক্তি কোনো একটি দ্রব্য প্রচলিত দামের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করছে। তখন তিনি সে লোককে বললেন:
اما ان تزيد في السعر و اما ترفع عن سوقى
-হয় তোমার পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি কর, নইলে আমাদের বাজার থেকে উঠে যাও।
বর্ণনায় একথা স্পষ্ট নয় যে, হযরত উমর রা. কোন্ কারণে তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তার কারণ হতে পারে, সে ভারসাম্যপূর্ণ মূল্য থেকে অনেক কম মূল্যে বিক্রি করে অন্য ব্যবসায়ীদের বৈধ মুনাফা অর্জনের পথ বন্ধ করে দিচ্ছিল। এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাব্য কারণ এও হতে পারে, কম মূল্যে পাওয়ার কারণে লোকেরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্রয় করছিল। যা দ্বারা অপব্যয়ের রাস্তা উন্মুক্ত হয়। অথবা মানুষের জন্য মজুদদারির অবকাশ সৃষ্টি হয়। যাই হোক, এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, শরীয়তের মূল বিধান হল, এক জন মানুষ তার নিজস্ব মালিকানা বস্তু যে দামে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারে। সুতরাং উল্লিখিত ঘটনায় লোকটির নিজের পণ্য কম মূল্যে বিক্রি করা মৌলিকভাবে বৈধ ছিল। কিন্তু কোনো সমষ্টিক স্বার্থে হযরত উমর রা. তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এ ধরনের রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা অবশ্য পালনীয় হওয়ার উৎস কুরআনের এ আয়াতে আছে:
يايها الذين امنوا اطيعوا الله واطيعوا الرسول واولى الأمر منكم
-হে মুমিনগণ, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের ও নিজেদের মধ্যেকার ক্ষমতাসীন লোকদের আনুগত্য কর।
এ আয়াতে اولی الامر (ক্ষমতাসীন লোকের) আনুগত্যকে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য থেকে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যার অর্থ, যে সব ব্যাপারে কুরআন ও হাদীস কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করে নি, সেক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের নির্দেশ অবশ্য পালনীয়।
এখানে উল্লেখ্য, সরকারের মুবাহ বিষয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এ অধিকার অসীম নয়। বরং তারও কিছু মূলনীতি, কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। এর বিস্তারিত আলোচনা এখানে সম্ভব নয়। কিন্তু দুটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। প্রথমত সরকারের সে নির্দেশই অবশ্য পালনীয় যা কুরআন ও হাদীসের কোনো বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। দ্বিতীয়ত সরকার এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের অধিকার শুধু তখনি পায় যখন কোনো সমষ্টিগত জনস্বার্থ তার আহ্বায়ক হয়। সুতরাং এক প্রসিদ্ধ ফিকহী মূলনীতিতে বিষয়টা এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে:
تصرف الامام بالرعية منوط بالمصلحة
-জনসাধারণের উপর সরকারের শাসন অধিকার জনস্বার্থের সাথে শর্তযুক্ত।
সুতরাং যদি সরকার কোনো সমষ্টিক স্বার্থ ব্যতীত কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে সেটা জায়েয হবে না। বিচারকের আদালত থেকে তা বাতিল করানো যেতে পারে।

📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 নৈতিক বিধি-নিষেধ

📄 নৈতিক বিধি-নিষেধ


যেমন পেছনে বলা হয়েছে, খাঁটি অর্থে ইসলাম কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নাম নয়; বরং একটি দ্বীন বা জীবনবিধানের নাম। এ দ্বীনের শিক্ষা এবং বিধান জীবনের অন্যান্য বিভাগের ন্যায় অর্থনীতি সম্পর্কেও অবশ্যই আছে। কিন্তু এ দ্বীনের শিক্ষায় প্রতিটি পদক্ষেপে এটা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তা থেকে অর্জিত বৈষয়িক উপকার মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। কুরআন ও হাদীসে সকল জোর একথার উপর দেয়া হয়েছে, পার্থিব জীবন সীমিত কয়েকদিনের জীবনমাত্র। এরপর এমন এক অনন্ত জীবন আসবে যার কোনো শেষ নেই। মানুষের মূল কাজ হল তার পার্থিব জীবনকে সেই পরকালীন জীবনের জন্য সোপান বানানো। সেখানকার সুখের চিন্তা করা। সুতরাং অন্যের তুলনায় চার পয়সা বেশি উপার্জন করা মানুষের আসল সফলতা নয়; বরং তার সফলতা হল, পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে বেশি বেশি সুখ- শান্তির ব্যবস্থা করা। যার পথ হচ্ছে পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় এমন কাজ করা যা তার জন্য সর্বাধিক নেকী ও সওয়াবের কারণ হয়।
যখন মানুষের মধ্যে এ মানসিকতা সৃষ্টি হয় তখন তার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয় শুধু এটা থাকে না যে, কোন্ অবস্থায় কেমন করে আমার আলমারি বেশি পূর্ণ হবে। বরং কখনো তার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এ ভিত্তিতেও হয়, কোন্ কাজে আমার আখেরাতের লাভ বেশি হবে। এভাবে অনেক ব্যাপারে শরীয়ত কোনো অবশ্য পালনীয় নির্দেশ (Mandatory Order) দেয় নি বটে। তবে কোনো বিশেষ বিষয়ের পরকালীন ফযীলত মর্যাদার কথা বর্ণনা করেছে, যা একজন মুমিনের জন্য অনেক বড় আকর্ষণের কারণ। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেই নিজের উপর অনেক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নেয়। নৈতিক নিষেধাজ্ঞা দ্বারা আমার উদ্দেশ্য এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা।
এর একটি সরল দৃষ্টান্ত হল, এক ব্যক্তির কাছে পুঁজি বিনিয়োগের দুটি পথ আছে। একটি হল, সে তার পুঁজি কোনো বৈধ বিনোদনমূলক কিন্তু ব্যবসায়িক প্রকল্পে খাটাতে পারে। এর মধ্যে তার অধিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় হল, সে এ পুঁজি গৃহহীন লোকদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে সস্তায় বিক্রি করার কাজে ব্যয় করতে পারে। এতে তুলনামূলক কম লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। একজন সেক্যুলার চিন্তাধারার মানুষ অবশ্যই প্রথম পথ গ্রহণ করবে। কেননা, তাতে লাভ বেশি। কিন্তু যে ব্যক্তির অন্ত রে পরকালের চিন্তা গ্রথিত সে পথের বিপরীত এ চিন্তা করবে, যদিও আবাসন প্রকল্পে আর্থিক লাভ তুলনামূলক কম, কিন্তু গরীব মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থা করে নিজের জন্য পরকালে বেশি সওয়াব লাভ করতে পারি। এ জন্য আমাকে বিনোদনমূলক প্রকল্প গ্রহণ না করে আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা উচিৎ।
এখানে যদিও উভয় পথই শরয়ীভাবে বৈধ ছিল, কোনোটার উপরই কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না, কিন্তু পরকালীন বিশ্বাসনির্ভর নৈতিক নিয়ন্ত্রণ মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে ঐ ব্যক্তির অন্তরে এক অভ্যন্তরীণ বাধা সৃষ্টি করে দিয়েছে। যা দ্বারা প্রয়োজনের উত্তম অগ্রগণ্যতা নির্বাচন এবং উত্তম উপকরণ নির্দিষ্টকরণ বিধি কার্যকর হয়েছে। এটা একটা ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত মাত্র। কিন্তু যদি প্রকৃতপক্ষেই কারো অন্তরে ইসলামের পরকালীন বিশ্বাস পরিপূর্ণভাবে বদ্ধমূল হয়ে সর্বক্ষণ উপস্থিত থাকে তাহলে সে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের কল্যাণে অনেক বড় অবদান রাখতে পারে।
অনৈসলামী সমাজেও নৈতিকতার একটা অবস্থান আছে, তা আমি অস্বীকার করি না। সে নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কখনো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের উপরও প্রভাব ফেলে। কিন্তু যেহেতু ঐসব নৈতিক ধারণার পেছনে পরকালের মজবুত বিশ্বাস বর্তমান নেই, এ কারণে সেটা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির উপর তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না। পক্ষান্তরে ইসলাম তার যাবতীয় শিক্ষাসহ ব্যাপকভাবে ও পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর হলে অর্থনীতির উপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তার নৈতিক শিক্ষার প্রভাব পড়বে। যেমন অতীতে তার অসংখ্য জীবন্ত দৃষ্টান্ত চোখে পড়েছে। সুতরাং নৈতিক বিধি-নিষেধের এ উপাদান খাঁটি ইসলামী অর্থনীতির দৃষ্টিতে কোনোক্রমেই কোনো দুর্বল উপাদান নয়; বরং তার গুরুত্ব অনেক বেশি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00