📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 সমষ্টিক মালিকানা (Collective Property)

📄 সমষ্টিক মালিকানা (Collective Property)


এ মূলনীতির অর্থ হচ্ছে, উৎপাদনের উপাদান, অর্থাৎ ভূমি এবং কারখানা ইত্যাদি কোনো লোকের ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকবে না; বরং তা জাতীয় মালিকানায় থাকবে। আর তা পরিচালিত হবে সরকারি ব্যবস্থাপনায়। ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী ব্যক্তিমালিকানায় থাকতে পারে, কিন্তু উৎপাদনের উপাদান কোনো ব্যক্তিমালিকানায় থাকতে পারে না। এর পরিণাম হল, খাঁটি সমাজতান্ত্রিক দেশে শুধু জমি ও কারখানাই নয়; বরং ব্যবসায়িক দোকান-পাটও কোনো ব্যক্তি বিশেষের মালিকানায় থাকে না। সেখানে সব লোক সরকারের কর্মচারী। উৎপাদিত আয়ের পুরোটা সরকারি কোষাগারে যায়। আর কর্মচারীদের বেতন বা মজুরি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রদান করা হয়।

📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 পরিকল্পনা (Planning)

📄 পরিকল্পনা (Planning)


সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার দ্বিতীয় মৌলিক নীতি হচ্ছে পরিকল্পনা। এর অর্থ, সবধরনের মৌলিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সরকার নিজস্ব পরিকল্পনার অধীনে বাস্তবায়ন করে। এ পরিকল্পনার মধ্যে সব অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং সকল অর্থনৈতিক উপাদানের পরিমাণ ও সংখ্যা একত্র করা হয়। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কোন্ উপাদান কোন্ জিনিসের উৎপাদনে লাগানো হবে। কোন্ বস্তু কী পরিমাণ উৎপাদন করা হবে। কোন্ বিভাগের শ্রমিকদের কী পরিমাণ মজুরি নির্ধারণ করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নের ধারণা মূলত সমাজতন্ত্র পেশ করেছিল। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে ধনতান্ত্রিক দেশগুলোও আংশিকভাবে পরিকল্পনা প্রণয়নের পন্থা অবলম্বন করতে শুরু করে। এর কারণ, পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ক্রমে ক্রমে তার সে মূলনীতির উপর পরিপূর্ণরূপে অটল থাকতে পারে নি যে, রাষ্ট্র অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। বরং বিভিন্ন সমষ্টিক স্বার্থের খাতিরে পুঁজিবাদী সরকারকেও ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছু না কিছু হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এমনকি মিশ্র অর্থনীতি (Mixed Economy) নামে এক নতুন পরিভাষা অস্তিত্ব লাভ করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, যদিও মৌলিকভাবে অর্থনীতি বাজার শক্তির অধীনেই পরিচালিত হবে, কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে ব্যবসা ও শিল্পের কিছু বিভাগ সরকারি তহবিলেও থাকতে পারে। যেমন কিছু ধনতান্ত্রিক দেশে রেলওয়ে, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, এয়ারলাইন সার্ভিস ইত্যাদি সরকারি খাতে থাকে। যে ব্যবসা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চালানো হচ্ছে, সরকার তাও কিছু নীতিমালা ও বিধিবিধানের অধীন করে নেয়। প্রথম প্রকারের ব্যবসাকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিভাগ (Public Sector) এবং দ্বিতীয় প্রকারকে ব্যক্তিগত বিভাগ (Private Sector) বলা হয়। এ মিশ্র অর্থনীতিতে যেহেতু এক পর্যায়ে সরকারের হস্তক্ষেপ থাকে, তাই আংশিকভাবে তাকে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়। এ আংশিক পরিকল্পনার পরিণামে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। তবে তা আংশিক পরিকল্পনা। আর সমাজতন্ত্রের পরিকল্পনা পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা। অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সকল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত সরকারি পরিকল্পনার অধীন হয়।

📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 সমষ্টিক স্বার্থ (Collective Interest)

📄 সমষ্টিক স্বার্থ (Collective Interest)


সমাজতন্ত্রের তৃতীয় মূলনীতি হচ্ছে সমষ্টিক স্বার্থ। অর্থাৎ সমাজতন্ত্রের দাবি হল, ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থের অনুগামী হয়। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিকল্পনার মাধ্যমে মৌলিকভাবে সমষ্টিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়া হয়।

📘 ইসলাম এবং আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায়নীতি > 📄 আয়ের সুষম বণ্টন (Equitable Distribution of Income)

📄 আয়ের সুষম বণ্টন (Equitable Distribution of Income)


সমাজতন্ত্রের চতুর্থ মূলনীতি হচ্ছে, উৎপাদনের মাধ্যমে যে আয় হবে তা জনগণের মধ্যে সুষমভাবে বণ্টিত হবে। ধনী দরিদ্রের মাঝে অতিরিক্ত ব্যবধান থাকবে না। উভয় শ্রেণীর আয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকবে। প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, সমাজতন্ত্রে আয়ের সমতা হবে। অর্থাৎ সবার আয় সমান হবে, কিন্তু বাস্তবে এরূপ কখনো হয় নি। মানুষের মজুরি ও বেতন কমবেশি হতে থাকে। তবে সমাজতন্ত্রে অন্তত এ দাবি অবশ্যই করা

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00