📄 ৪ নং আমল : হাদীসে সাওবান মনে রাখবেন
ইন্টারনেটের গুনাহ থেকে আত্মরক্ষার জন্য এখন যে আমল বা চিকিৎসার কথা বলবো, তা বিশেষভাবে আমাদের মত লোকদের জন্য। অর্থাৎ যারা দৃশ্যত দীনদার, মাশাআল্লাহ মসজিদে আসে; তবে ফজর নামাযে আসে না। কেন? রাতের ওই গুনাহের কারণে। আসরের সময় ঘুমে থাকে তারপর সূর্য যখন লাল হয়ে যায়- নবীজির ভাষায় সূর্য যখন শয়তানের দু'শিং এর মাঝ দিয়ে উদয় হয় তখন তড়িঘড়ি করে নামায পড়ে নেয়। কেন? রাতের ওই গুনাহের কারণে। অনুরূপভাবে মাশাআল্লাহ হয়তো দাড়ি আছে, টুপি আছে, পাঞ্জাবী আছে, চিল্লায় যায়, আলেমদের সোহবতে যায়, জিকিরের মজলিসে বসে কিন্তু গোপনে গোপনে গুনাহও করে। অর্থাৎ আমি বুঝাতে চাচ্ছি, যারা বাহ্যিক সুরতে দীনদার, তারা যদি একটি হাদীসের বিষয়বস্তু সব সময় মনে রাখেন, বিশেষ করে যদি গুনাহ-টি করার সময় মনে রাখতে পারেন তাহলে গুনাহ করার ভূত তার ঘাড় থেকে নেমে যায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে আলহামদুলিল্লাহ ফায়দা পেয়েছি। আশা করি আপনারাও পাবেন।
হাদীসটি হুবহু মনে রাখার প্রয়োজন নেই। শুধু বিষয়বস্তুটা মনে রাখলেই চলবে। হাদীসটি এই, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
لأعلمن أقوامًا من أمتي يأتون يوم القيامة بحسناتٍ أمثال جبال تهامة بيضا فيجعلها الله عزّ وجل هباءً منথুরা قال ثوبان يا رسولَ اللهِ صفهم لنا جَلّهم لنا أن لا نكون منهم ونحن لا نعلم قال أما إنهم إخوانكم ومن جلدتكم ويأخذون من الليل كما تأخذون ولكنهم أقوام إذا خَلوا بمحارم الله انتهكوها
আমি আমার উম্মতের কিছু লোক সম্পর্কে জানি যারা কেয়ামতের দিন তিহামা পাহাড় পরিমাণ শুভ্র নেক আমল নিয়ে হাজির হবে। (অর্থাৎ হয়তো তাদের জীবনে নফল আছে। তাবলীগ আছে। তা'লীম আছে। দীনের বহুমুখী খেদমত আছে।) কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের এত বিশাল বিশাল আমলকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে একেবারে লাপাত্তা করে দিবেন। হাদীসটির বর্ণনাকারী সাওবান রাযি. এটা শুনে বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। রাসূলুল্লাহ ﷺ উত্তর দিলেন, তারা তোমাদেরই ভাই এবং তোমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত। তোমাদের যেমন রাত আসে তাদের কাছেও রাত আসে। কিন্তু তারা এমন লোক যে, নির্জনে নিভৃতে আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত হয়। ২৪
সুতরাং ভাবুন, এই ভার্চুয়াল গুনাহ, গোপন গুনাহ আমার আমল নষ্ট করে দিচ্ছে না তো? আমার তাবলীগ, জিহাদ, হজ, ই'তেকাফ, সাদাকা অজগরের মত গিলে ফেলছে না তো? এভাবে চিন্তা ধরে রাখতে পারলে ইনশাআল্লাহ গুনাহ-টি থেকে সহজে বের হয়ে আসতে পারবেন।
টিকাঃ
২৪ ইবন মাজাহ: ৪২৪৫
📄 ৮ নং আমল : আখেরাতের মোরাকাবা করুন
মাঝে মধ্যে আখেরাতের মোরাকাবা করবেন। অর্থাৎ এভাবে চিন্তা করবেন যে, আজ আমি যে গুনাহগুলোতে লিপ্ত, কেয়ামতের দিন তো আল্লাহ আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করবেন যে, বান্দা! এ গুনাহ-টা কেন করলি? দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে তুমি মনে করেছিলে যে, তোমাকে কেউ দেখে-নি। আমিও কি দেখি-নি? তুমি কি মনে করেছ যে, আমার দেখা মাখলুকের চোখের চেয়ে দুর্বল? এভাবে আল্লাহ তাআলা সরাসরি প্রশ্ন করবেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তো বলেছেন—
مَا مِنْكُمْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تُرْجُمَانٌ وَلَا حِجَابٌ يَحْجُبُهُ
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সঙ্গে তার রব কথাবার্তা বলবেন না। তার ও তার রবের মাঝে কোনো দোভাষী এবং এমন কোনো পর্দা থাকবে না, যা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। ৩১
চিন্তা করুন, সেদিন আমরা কী উত্তর দিবো? সেদিন যদি আল্লাহ সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, বান্দা! রাতের দুইটা বাজে কেন তুই অশ্লীলতার ভেতর ডুবে গিয়েছিলি? কেন তুই এমন জিনিসের চর্চা করেছিলি, যেখানে পৌত্তলিকতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ প্রেম ও নগ্নতাসহ কত শত অপরাধের চর্চা ও শিক্ষা ছিল? তখন আমরা কী উত্তর দিবো? এভাবে চিন্তা করলেও ইনশাআল্লাহ আলোচ্য গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।
টিকাঃ
৩১ সহিহ বুখারী: ৬৯৩৫
📄 ৯ নং আমল : ভাবুন, আমার ওপর পাহারাদার আছে
মাঝে মধ্যে অন্তরে এই ভাবনা জাগিয়ে তুলবেন যে, আমার ওপর পাহারাদার আছে। আল্লাহ তাআলা পাহারাদার ফেরেশতার মাধ্যমে আমার ভালো-মন্দ প্রতিটি আমল সংরক্ষণ করে রাখছেন। ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল রহ. একজন কবির কাছে একটি কবিতা শুনে দরজা বন্ধ করে খুব কেঁদেছিলেন। কবিতাটি ছিল এই—
إِذَا مَا خَلَوْتَ الدَّهْرَ يَوْمًا فَلَا تَقُلْ خَلَوْتُ وَلَكِنْ قُلْ عَلَيَّ رَقِيبُ
যদি তুমি দিনের কিছু সময় একাকী কাটাও, তখন একথা বলো না যে, আমি নির্জনে একাকী সময় কাটিয়েছি; বরং বলো, আমার পেছনে সদা সর্বদা একজন পাহারাদার ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন—
مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْলٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী রয়েছে। ৩২
টিকাঃ
৩২ সূরা কাফ : ১৮