📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 রাসূল ﷺ-এর জীবন থেকে সেলফ মোটিভেশনের শিক্ষা

📄 রাসূল ﷺ-এর জীবন থেকে সেলফ মোটিভেশনের শিক্ষা


অন্যান্য রাসূলগণের জীবনের দাওয়াতি পরীক্ষা ও কষ্ট-বিপর্যয়ের থেকে আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ এর জীবনের কষ্ট ও বিপর্যয় কোনো অংশে কম নয়। বরং রাসূল এর জীবনের পুরোটাই এক মহাসংগ্রামের ঐতিহাসিক কাব্য। এখানে আমরা সীরাতের কিছু ঘটনার দিকে তাকাব যেখান থেকে নবি -এর জীবনে আয়- অনুপ্রেরণার প্রয়োগ ও এর কলাকৌশল সম্পর্কে আমরা ধারণা পাব।

১। আহযাব যুদ্ধের সময় পরিখা খননের কাজে রাসূল ﷺ নিজে সাহাবিদের সাথে অংশগ্রহণ করেন। বারা ইবনু আযেব বলেন, "যুদ্ধে পরিখা খননকালে আমি রাসূল ﷺ কে মাটি বহন করতে দেখেছি। রাসূল ﷺ এর অনেক কষ্ট হচ্ছিল। মাটি বহন করতে গিয়ে শরীরে মাটি লেগে যাওয়ায় রাসূল এর পেটের চামড়া দেখা যাচ্ছিল না"। এখন প্রশ্ন আসতে পারে: কোন বিষয়টি রাসূল কে ক্ষুৎপিপাসার মধ্যেও অনুপ্রাণিত করেছিল মাটি বহন করতে? সাহাবিদের সাথে একই কাতারে নেমে এসে তিনি ধূলি-ধূসরিত হয়ে মাটি বহন করতে উদ্‌বুদ্ধ হয়েছিলেন কেন?

২। খন্দকের দিন রাসূল ﷺ সাহাবিদের চাইতেও অধিক ক্ষুধার তাড়নায় ভুগেছিলেন। সাহাবিগণ তাঁকে নিজেদের পেটে পাথর বাধা অবস্থায় ক্ষুধার কথা জানালে, তিনি কাপড় তুলে দেখালেন যে, তাঁর পেটে দুটি পাথর বাঁধা রয়েছে। একনাগাড়ে তিনদিন প্রচন্ড ক্ষুধার যন্ত্রণা ভোগ করার পর সামান্য কিছু খাদ্যের ব্যবস্থা হলেও তিনি সাহাবিদেরকে বাদ দিয়ে একাকী খাননি বরং সকলকে নিয়েই খেয়েছিলেন। সাহাবিগণ এসময় অবর্ণনীয় ক্ষুধার কষ্ট ভোগ করছিলেন। আনাস বলেন, পরিখা খননরত মুসলিমদের জন্য যে সামান্য খাদ্য আনা হয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত। এই দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্যই তাঁরা গ্রহণ করেছিলেন।

৩। পরিখা খননকালে রাসূল ﷺ সাহাবিদের জন্য হালাল বিনোদনের ব্যবস্থা করেন। মানসিকভাবে তাদেরকে চাঙা রাখার জন্য তিনি নিজে কবিতা আবৃত্তি করতেন, সাহাবিরা তাঁর কবিতার জবাব দিতেন। আবার সাহাবিদের কবিতার জবাব রাসূল ﷺ কবিতার মাধ্যমে দিতেন। এভাবে পারস্পরিক কবিতা চর্চার মাধ্যমে সাহাবিদের মানসিক শক্তিও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মাটি বহন করার সময় রাসূল আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা এর এই কবিতাটি আবৃত্তি করছিলেন- হে আল্লাহ, তোমার অনুগ্রহ পেতাম না, পেতাম না হিদায়াত, করতাম না দান খয়রাত, পড়তাম না সালাত। এ বান্দাদের ওপর তোমার প্রশান্তি করো বর্ষণ, কাফিরদের মোকাবিলায় যেন করি মোরা ধৈর্য ধারণ। মোদের বিরুদ্ধে ফিতনা সৃষ্টিতে যদি দেয় কেহ প্ররোচনা শির নত না করার কাব্য মোরা করব যে রচনা।

এ দল এভাবে খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে যুদ্ধের প্রস্তুতিস্বরূপ পরিখা খনন করার সময়টা পুরোটাই রাসূল ﷺ সেলফ মোটিভেশনের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

৪। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম দিন ছিল তায়িফের দিন। মক্কার বাইরে পৃথক একটি ইসলামি ভূমি গঠনের চিন্তা থেকেই তিনি তায়িফের মানুষের হিদায়াতের জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁকে অবর্ণনীয় নির্যাতন সইতে হয়। পাথরের আঘাতে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। তিনি রক্তাক্ত শরীরে আল্লাহর কাছে দুআ করেন এই বলে-

“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে স্বীয় দুর্বলতা, (মানুষকে বোঝাতে) আমার কলাকৌশলের স্বল্পতা এবং মানুষের কাছে আমার মূল্যহীনতার অভিযোগ করছি। হে সর্বাধিক দয়ালু! তুমি দুর্বলদের প্রভু, আমারও প্রভু। তুমি আমাকে কার কাছে ন্যস্ত করছ? তুমি কি আমাকে দূরের এমন অচেনা কারও হাতে ন্যস্ত করছ, যে আমার সাথে কঠোর ব্যবহার করবে? নাকি কোনো শত্রুর হাতে সোপর্দ করছ, যাকে তুমি আমার বিষয়ের মালিক করে দিয়েছ? তুমি যদি আমার ওপর রাগান্বিত না হও তাহলে আমি কোনো কিছুই পরোয়া করি না। তবে নিঃসন্দেহে তোমার ক্ষমা আমার জন্য সর্বাধিক প্রশস্ত ও প্রসারিত। আমি তোমার সেই চেহারার জ্যোতির আশ্রয় চাই, যা দ্বারা অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায় এবং যা দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিষয় সংশোধন হয়। এই কথার মাধ্যমে আমার ওপর তেমার ক্রোধ নেমে আসা হতে অথবা আমার ওপর তোমার অসন্তুষ্টি নাযিল হওয়া থেকে তোমার আশ্রয় চাই। তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই আমার সকল প্রচেষ্টা। তোমার সাহায্য ব্যতীত অন্যায় কাজ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং তোমার তাওফীক ও শক্তি ছাড়া তোমার আনুগত্য করা অসম্ভব'

এই দুআর মধ্যে আমরা রাসূল এর সোৎসাহের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস খুঁজে পাই:

* একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি।
* আল্লাহর ক্ষমার আশা।
* একমাত্র আল্লাহর শক্তির কাছেই আশ্রয় চাওয়া।

অন্যান্য রাসূলগণের জীবনের দাওয়াতি পরীক্ষা ও কষ্ট-বিপর্যয়ের থেকে আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ এর জীবনের কষ্ট ও বিপর্যয় কোনো অংশে কম নয়। বরং রাসূল এর জীবনের পুরোটাই এক মহাসংগ্রামের ঐতিহাসিক কাব্য। এখানে আমরা সীরাতের কিছু ঘটনার দিকে তাকাব যেখান থেকে নবি -এর জীবনে আয়- অনুপ্রেরণার প্রয়োগ ও এর কলাকৌশল সম্পর্কে আমরা ধারণা পাব।

১। আহযাব যুদ্ধের সময় পরিখা খননের কাজে রাসূল নিজে সাহাবিদের সাথে অংশগ্রহণ করেন। বারা ইবনু আযেব বলেন, "যুদ্ধে পরিখা খননকালে আমি রাসূল কে মাটি বহন করতে দেখেছি। রাসূল এর অনেক কষ্ট হচ্ছিল। মাটি বহন করতে গিয়ে শরীরে মাটি লেগে যাওয়ায় রাসূল এর পেটের চামড়া দেখা যাচ্ছিল না"। এখন প্রশ্ন আসতে পারে: কোন বিষয়টি রাসূল কে ক্ষুৎপিপাসার মধ্যেও অনুপ্রাণিত করেছিল মাটি বহন করতে? সাহাবিদের সাথে একই কাতারে নেমে এসে তিনি ধূলি-ধূসরিত হয়ে মাটি বহন করতে উদ্‌বুদ্ধ হয়েছিলেন কেন?

২। খন্দকের দিন রাসূল ﷺ সাহাবিদের চাইতেও অধিক ক্ষুধার তাড়নায় ভুগেছিলেন। সাহাবিগণ তাঁকে নিজেদের পেটে পাথর বাধা অবস্থায় ক্ষুধার কথা জানালে, তিনি কাপড় তুলে দেখালেন যে, তাঁর পেটে দুটি পাথর বাঁধা রয়েছে। একনাগাড়ে তিনদিন প্রচন্ড ক্ষুধার যন্ত্রণা ভোগ করার পর সামান্য কিছু খাদ্যের ব্যবস্থা হলেও তিনি সাহাবিদেরকে বাদ দিয়ে একাকী খাননি বরং সকলকে নিয়েই খেয়েছিলেন। সাহাবিগণ এসময় অবর্ণনীয় ক্ষুধার কষ্ট ভোগ করছিলেন। আনাস বলেন, পরিখা খননরত মুসলিমদের জন্য যে সামান্য খাদ্য আনা হয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত। এই দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্যই তাঁরা গ্রহণ করেছিলেন।

৩। পরিখা খননকালে রাসূল ﷺ সাহাবিদের জন্য হালাল বিনোদনের ব্যবস্থা করেন। মানসিকভাবে তাদেরকে চাঙা রাখার জন্য তিনি নিজে কবিতা আবৃত্তি করতেন, সাহাবিরা তাঁর কবিতার জবাব দিতেন। আবার সাহাবিদের কবিতার জবাব রাসূল ﷺ কবিতার মাধ্যমে দিতেন। এভাবে পারস্পরিক কবিতা চর্চার মাধ্যমে সাহাবিদের মানসিক শক্তিও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মাটি বহন করার সময় রাসূল আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা এর এই কবিতাটি আবৃত্তি করছিলেন-
হে আল্লাহ, তোমার অনুগ্রহ পেতাম না, পেতাম না হিদায়াত,
করতাম না দান খয়রাত, পড়তাম না সালাত।
এ বান্দাদের ওপর তোমার প্রশান্তি করো বর্ষণ,
কাফিরদের মোকাবিলায় যেন করি মোরা ধৈর্য ধারণ।
মোদের বিরুদ্ধে ফিতনা সৃষ্টিতে যদি দেয় কেহ প্ররোচনা
শির নত না করার কাব্য মোরা করব যে রচনা।

এ দল এভাবে খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে যুদ্ধের প্রস্তুতিস্বরূপ পরিখা খনন করার সময়টা পুরোটাই রাসূল ﷺ সেলফ মোটিভেশনের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

৪। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম দিন ছিল তায়িফের দিন। মক্কার বাইরে পৃথক একটি ইসলামি ভূমি গঠনের চিন্তা থেকেই তিনি তায়িফের মানুষের হিদায়াতের জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁকে অবর্ণনীয় নির্যাতন সইতে হয়। পাথরের আঘাতে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। তিনি রক্তাক্ত শরীরে আল্লাহর কাছে দুআ করেন এই বলে-

“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে স্বীয় দুর্বলতা, (মানুষকে বোঝাতে) আমার কলাকৌশলের স্বল্পতা এবং মানুষের কাছে আমার মূল্যহীনতার অভিযোগ করছি। হে সর্বাধিক দয়ালু! তুমি দুর্বলদের প্রভু, আমারও প্রভু। তুমি আমাকে কার কাছে ন্যস্ত করছ? তুমি কি আমাকে দূরের এমন অচেনা কারও হাতে ন্যস্ত করছ, যে আমার সাথে কঠোর ব্যবহার করবে? নাকি কোনো শত্রুর হাতে সোপর্দ করছ, যাকে তুমি আমার বিষয়ের মালিক করে দিয়েছ? তুমি যদি আমার ওপর রাগান্বিত না হও তাহলে আমি কোনো কিছুই পরোয়া করি না। তবে নিঃসন্দেহে তোমার ক্ষমা আমার জন্য সর্বাধিক প্রশস্ত ও প্রসারিত। আমি তোমার সেই চেহারার জ্যোতির আশ্রয় চাই, যা দ্বারা অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায় এবং যা দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিষয় সংশোধন হয়। এই কথার মাধ্যমে আমার ওপর তেমার ক্রোধ নেমে আসা হতে অথবা আমার ওপর তোমার অসন্তুষ্টি নাযিল হওয়া থেকে তোমার আশ্রয় চাই। তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই আমার সকল প্রচেষ্টা। তোমার সাহায্য ব্যতীত অন্যায় কাজ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং তোমার তাওফীক ও শক্তি ছাড়া তোমার আনুগত্য করা অসম্ভব'

এই দুআর মধ্যে আমরা রাসূল এর সোৎসাহের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস খুঁজে পাই:

* একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি।
* আল্লাহর ক্ষমার আশা।
* একমাত্র আল্লাহর শক্তির কাছেই আশ্রয় চাওয়া।

📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 আত্ম-অনুপ্রেরণার চেকলিস্ট

📄 আত্ম-অনুপ্রেরণার চেকলিস্ট


এখানে আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে সোৎসাহের একটি চেকলিস্ট দিচ্ছি। আল্লাহ আমাদেরকে সহমর্মিতার যেসকল গুণগুলো অর্জন করতে বলেছেন, সেগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছি কি না; অথবা পারলেও তাতে ঠিক কতটা সফল হয়েছি-তা সম্পর্কে ধারণা পেতে এই চেকলিস্টটি আমাদের সাহায্য করবে。

| | আমি এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে পছন্দ করি, যারা আমাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে এবং ভালো কাজে প্রেরণা দেয়। | | আয-যুখরুফ, ৪৩: ৬৭ আল-কাহফ, ১৮:২৮ | জানি' আত-তিরমিযী - ২৩৭৮ (সহিহ বুখারী- ৫৫৩৪, সহিহ মুসলিম - ২৬২৮) |
|---|---|---|---|---|
| | যেসব পরিস্থিতি আমাকে বিষণ্ণ করে সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। | | আন-নিসা, ৪:৩১ | সুনান ইবনু মাজাহ- ৩৯৭৬ |
| | যেকোনো কাজের আগে আল্লাহর কাছে সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করি। | | আল-বাকারা, ২: ৪২ আল-বাকারা, ২: ১৫৩ | রিয়াদুস সালেহীন - ১৫০১ |
| | আল্লাহর দেওয়া সুযোগ গুলো আমার জীবনে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। | | আত-তালাক, ৬৫: ৩ | আল-আদাবুল মুফরাদ -৪৭৯ |
| | দুনিয়ার কাজগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার চেষ্টা করি। | | আল-মায়িদাহ, ৫: ১৬ | জামি' আত-তিরমিযী - ২৫২১ |
| | নিজের দুর্বলতাকে কাটিয়ে উঠার সক্রিয় চেষ্টা করি। | | আর-রা'দ, ১৩:১১ | সহিহ বুখারী - ৪২ |
| | কষ্টের মুহূর্তে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেই যে আল্লাহ্ সবরকারীদের সাথে থাকে এবং কষ্টের পরেই শান্তি আসে। | | ইনশিরাহ, ৯৪:৬ | রিয়াদুস সালেহীন - ২৭ |
| | কাজের শুরুতে বৃহত্তর পুরস্কারের কথা স্মরণ করি। | | আস-সিজদাহ, ৩২: ১৭ আন-নাহল, ১৬:৯৭ | সহিহ বুখারী -৫৬ |

ওপরের চেকলিস্টের ৮টি গুণাবলির ওপর-

কেউ যদি গড় এ ৪-৫ পায় তখন ধারণা করা যায় তার স্ব-প্রণোদনার লেভেল খুব ভালো।

কেউ যদি গড় এ ৩ পায় তখন ধারণা করা যায় তার আত্মবিশ্বাসের বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি প্রয়োজন।

কেউ যদি গড় এ ১-২ পায় তখন ধারণা করা যায় তার আত্ম-অনুপ্রেরণার লেভেল ভালো নয় এবং তার অনেক বেশি অগ্রগতি প্রয়োজন।

৬. আত্ম- অনুপ্রেরণার চেকলিস্ট

এখানে আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে সোৎসাহের একটি চেকলিস্ট দিচ্ছি। আল্লাহ আমাদেরকে সহমর্মিতার যেসকল গুণগুলো অর্জন করতে বলেছেন, সেগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছি কি না; অথবা পারলেও তাতে ঠিক কতটা সফল হয়েছি-তা সম্পর্কে ধারণা পেতে এই চেকলিস্টটি আমাদের সাহায্য করবে。

আমি এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে পছন্দ করি, যারা আমাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে এবং ভালো কাজে প্রেরণা দেয়।

যেকোনো কাজের আগে আল্লাহর কাছে সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করি।

আল্লাহর দেওয়া সুযোগ গুলো আমার জীবনে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।

দুনিয়ার কাজগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার চেষ্টা করি।

নিজের দুর্বলতাকে কাটিয়ে উঠার সক্রিয় চেষ্টা করি।

কষ্টের মুহূর্তে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেই যে আল্লাহ্ সবরকারীদের সাথে থাকে এবং কষ্টের পরেই শান্তি আসে।

কাজের শুরুতে বৃহত্তর পুরস্কারের কথা স্মরণ করি。

(সহিহ বুখারী- ৫৫৩৪, সহিহ মুসলিম - ২৬২৮) আয-যুখরুফ, ৪৩: ৬৭ আল-কাহফ, ১৮:২৮ জানি' আত-তিরমিযী - ২৩৭৮
আন-নিসা, ৪:৩১ সুনান ইবনু মাজাহ- ৩৯৭৬
আল-বাকারা, ২: ৪২ আল-বাকারা, ২: ১৫৩ রিয়াদুস সালেহীন - ১৫০১
আত-তালাক, ৬৫: ৩ আল-আদাবুল মুফরাদ -৪৭৯
আল-মায়িদাহ, ৫: ১৬ জামি' আত-তিরমিযী - ২৫২১
আর-রা'দ, ১৩:১১ সহিহ বুখারী - ৪২.
ইনশিরাহ, ৯৪:৬ রিয়াদুস সালেহীন - ২৭
আস-সিজদাহ, ৩২: ১৭ আন-নাহল, ১৬:৯৭ সহিহ বুখারী -৫৬

ওপরের চেকলিস্টের ৮টি গুণাবলির ওপর-

* কেউ যদি গড় এ ৪-৫ পায় তখন ধারণা করা যায় তার স্ব-প্রণোদনার লেভেল খুব ভালো।
* কেউ যদি গড় এ ৩ পায় তখন ধারণা করা যায় তার আত্মবিশ্বাসের বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি প্রয়োজন।
* কেউ যদি গড় এ ১-২ পায় তখন ধারণা করা যায় তার আত্ম-অনুপ্রেরণার লেভেল ভালো নয় এবং তার অনেক বেশি অগ্রগতি প্রয়োজন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00