📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে কথা বলুন

📄 সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে কথা বলুন


প্রতিটি মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক অবস্থা থেকে উঠে আসে। কোনো নির্দিষ্ট একটি ফ্রেমের মধ্যে তাই সকলে চিন্তা করা যাবে না। বরং প্রত্যেকের জন্য তার প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা মাথায় রাখতে হবে। সমাজে নানাবিধ মানুষের সাথে সফলভাবে সুসম্পর্ক স্থাপনে এটাই ছিল রাসূল ﷺ এর কর্মপন্থা।

আবু হুরায়রা বলেন, একদিন এক বেদুইন দাঁড়িয়ে মসজিদে প্রস্রাব শুরু করল। উপস্থিত লোকজন দেখে তাকে বাধা দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রিয় নবি তাদের বললেন, "ওকে ছেড়ে দাও। ওর প্রস্রাব শেষ হলে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ো। নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, তোমাদের সহজ ও বিনয়ী আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা বা উগ্রতার জন্য পাঠানো হয়নি”। প্রস্রাব শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ বেদুইন লোকটিকে ডেকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বললেন, “দেখো! মসজিদে প্রস্রাব অথবা পায়খানা করা যায় না। মসজিদ আল্লাহতায়ালার ইবাদতের জায়গা। এখানে সালাত আদায় করা হয়, কুরআন তিলাওয়াত করা হয় ও আল্লাহর জিকির করা হয়” [১৪৭]

এই হাদীসে আমরা দেখি:

✓ রাসূল উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, বেদুইনদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে 'ইবাদতখানা'র চর্চা নেই। আর তাই ইবাদতখানা যে একটি পবিত্র জায়গা, তাতে নোংরা কাজ করতে নেই-এই সত্যও বেদুইন এর অজানা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য তিনি মসজিদের ভেতরে বেদুইনের প্রস্রাব করার ঘটনাটিকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিতে পেরেছিলেন। ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ও চর্চাকে বোঝার মাধ্যমে এভাবেই সহনশীলতা ও সহমর্মিতা জন্ম নেয়।

✓ রাসূল ﷺ বুঝেছিলেন যে, প্রস্রাব করার মাঝে তাকে বাধা দিলে এতে তার জন্য শারীরিকভাবে কষ্ট হবে এবং টানা-হিঁচড়ার মধ্যে মসজিদে প্রস্রাব ছড়িয়ে গিয়ে নাপাকি বৃদ্ধির আশংকা থাকবে। তাই তিনি সাহাবিদেরকে থামিয়ে দিয়ে বেদুইন লোকটিকে শারীরিক ক্ষতি ও অস্বস্তি থেকে বাঁচালেন এবং মসজিদ অধিকতর নাপাক হওয়া থেকে রক্ষা করলেন। এখানেও বেদুইন ব্যক্তিটির সম্ভাব্য শারীরিক কষ্ট ও ক্ষতিকে উপলব্ধি করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে হয়।

টিকাঃ
[১৪৭] সহিহুল বুখারি: ২২০

ঝ. সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে কথা বলুন

প্রতিটি মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক অবস্থা থেকে উঠে আসে। কোনো নির্দিষ্ট একটি ফ্রেমের মধ্যে তাই সকলে চিন্তা করা যাবে না। বরং প্রত্যেকের জন্য তার প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা মাথায় রাখতে হবে। সমাজে নানাবিধ মানুষের সাথে সফলভাবে সুসম্পর্ক স্থাপনে এটাই ছিল রাসূল ﷺ এর কর্মপন্থা।
আবু হুরায়রা বলেন, একদিন এক বেদুইন দাঁড়িয়ে মসজিদে প্রস্রাব শুরু করল। উপস্থিত লোকজন দেখে তাকে বাধা দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রিয় নবি তাদের বললেন, "ওকে ছেড়ে দাও। ওর প্রস্রাব শেষ হলে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ো। নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, তোমাদের সহজ ও বিনয়ী আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা বা উগ্রতার জন্য পাঠানো হয়নি"। প্রস্রাব শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ বেদুইন লোকটিকে ডেকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বললেন, “দেখো! মসজিদে প্রস্রাব অথবা পায়খানা করা যায় না। মসজিদ আল্লাহতায়ালার ইবাদতের জায়গা। এখানে সালাত আদায় করা হয়, কুরআন তিলাওয়াত করা হয় ও আল্লাহর জিকির করা হয়” [147]

এই হাদীসে আমরা দেখি:
✓ রাসূল উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, বেদুইনদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে 'ইবাদতখানা'র চর্চা নেই। আর তাই ইবাদতখানা যে একটি পবিত্র জায়গা, তাতে নোংরা কাজ করতে নেই-এই সত্যও বেদুইন এর অজানা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য তিনি মসজিদের ভেতরে বেদুইনের প্রস্রাব করার ঘটনাটিকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিতে পেরেছিলেন। ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ও চর্চাকে বোঝার মাধ্যমে এভাবেই সহনশীলতা ও সহমর্মিতা জন্ম নেয়।
√ রাসূল বুঝেছিলেন যে, প্রস্রাব করার মাঝে তাকে বাধা দিলে এতে তার জন্য শারীরিকভাবে কষ্ট হবে এবং টানা-হিঁচড়ার মধ্যে মসজিদে প্রস্রাব ছড়িয়ে গিয়ে নাপাকি বৃদ্ধির আশংকা থাকবে। তাই তিনি সাহাবিদেরকে থামিয়ে দিয়ে বেদুইন লোকটিকে শারীরিক ক্ষতি ও অস্বস্তি থেকে বাঁচালেন এবং মসজিদ অধিকতর নাপাক হওয়া থেকে রক্ষা করলেন। এখানেও বেদুইন ব্যক্তিটির সম্ভাব্য শারীরিক কষ্ট ও ক্ষতিকে উপলব্ধি করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে হয়।

টিকাঃ
[147] সহিহুল বুখারি: ২২০

📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 অন্যকে ছাড় দিতে চেষ্টা করুন

📄 অন্যকে ছাড় দিতে চেষ্টা করুন


এই একটি অভ্যাস নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে আমরা যেমন নিজেরা মানসিকভাবে প্রশান্তি লাভ করতে পারতাম, অনেক মানসিক চাপ ও রাগ-ক্ষোভকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে পারতাম তেমনি অন্যের সাথেও অহেতুক ভুল বোঝাবুঝি এবং মন কষাকষি থেকে মুক্ত থাকতাম।

দৈনন্দিন জীবনে চলতে-ফিরতে অন্যের আচার-আচরণ, কথা-বার্তা সবকিছু মনমতো হবেই-এমন কথা নেই। তাই অন্যের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে দুঃখ না করে বরং তাকে Benefit of Doubt দিয়ে মাফ করে দেওয়াই সহজ সমাধান।

মুশরিকদের আঘাত পাওয়ার পরে রাসূল ﷺ তাঁর মুখমন্ডল থেকে রক্ত মুছছিলেন আর বলছিলেন, “ওই কওম কীরূপে কৃতকার্য হতে পারে যারা তাদের নবি এর মুখমণ্ডলে আঘাত করেছে এবং তাঁর দাঁত ভেঙে দিয়েছে অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকছিলেন”। এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন- لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ

"আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা শাস্তি দেবেন – এ ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই; কেননা তারা হচ্ছে জালেম”। [১৪৮] সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল ﷺ বারবার বলছিলেন, “হে আমার প্রতিপালক, আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন কারণ তারা জানে না”। [১৪৯] এই হাদীসে আমরা দেখছি:

• একজন মুসলিম সর্বদা অপরকে Benefit of Doubt দিতে চেষ্টা করবে, এমনকি সে অমুসলিম হলেও। রাসূল এখানে তাঁর কওমের অজ্ঞতার কথা বলে তাদেরকে ক্ষমার করার ওসীলা বের করেছেন।

• রাসূল বলেছেন, "কারণ তারা জানে না”, তিনি বলেননি যে, “কারণ তারা জাহেল”। অর্থাৎ মুশরিকদের হিদায়াতের প্রতি রাসূল এর আকাঙ্খা ও মনত্বের প্রগাঢ়তা কতটা ছিল!

• রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়েও যদি শত্রুকে Benefit of Doubt দিতে পারেন, তবে আমরা কেন আমাদের চারপাশের মানুষদের তা দিতে পারি না?

টিকাঃ
[১৪৮] সূরা আলে ইমরান, ৩:১২৮
[১৪৯] সহিহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৭৯২

ঞ. অন্যকে ছাড় দিতে চেষ্টা করুন

এই একটি অভ্যাস নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে আমরা যেমন নিজেরা মানসিকভাবে প্রশান্তি লাভ করতে পারতাম, অনেক মানসিক চাপ ও রাগ-ক্ষোভকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে পারতাম তেমনি অন্যের সাথেও অহেতুক ভুল বোঝাবুঝি এবং মন কষাকষি থেকে মুক্ত থাকতাম।

দৈনন্দিন জীবনে চলতে-ফিরতে অন্যের আচার-আচরণ, কথা-বার্তা সবকিছু মনমতো হবেই-এমন কথা নেই। তাই অন্যের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে দুঃখ না করে বরং তাকে Benefit of Doubt দিয়ে মাফ করে দেওয়াই সহজ সমাধান।

মুশরিকদের আঘাত পাওয়ার পরে রাসূল তাঁর মুখমন্ডল থেকে রক্ত মুছছিলেন আর বলছিলেন, “ওই কওম কীরূপে কৃতকার্য হতে পারে যারা তাদের নবি এর মুখমণ্ডলে আঘাত করেছে এবং তাঁর দাঁত ভেঙে দিয়েছে অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকছিলেন”। এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন- لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ

"আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা শাস্তি দেবেন – এ ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই; কেননা তারা হচ্ছে জালেম”। [148] সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল বারবার বলছিলেন, “হে আমার প্রতিপালক, আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন কারণ তারা জানে না”। [149] এই হাদীসে আমরা দেখছি:
• একজন মুসলিম সর্বদা অপরকে Benefit of Doubt দিতে চেষ্টা করবে, এমনকি সে অমুসলিম হলেও। রাসূল এখানে তাঁর কওমের অজ্ঞতার কথা বলে তাদেরকে ক্ষমার করার ওসীলা বের করেছেন।
• রাসূল বলেছেন, "কারণ তারা জানে না”, তিনি বলেননি যে, “কারণ তারা জাহেল”। অর্থাৎ মুশরিকদের হিদায়াতের প্রতি রাসূল এর আকাঙ্খা ও মনত্বের প্রগাঢ়তা কতটা ছিল!
. রাসূলুল্লাহ তাঁর জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়েও যদি শত্রুকে Benefit of Doubt দিতে পারেন, তবে আমরা কেন আমাদের চারপাশের মানুষদের তা দিতে পারি না?

টিকাঃ
[148] সূরা আলে ইমরান, ৩:১২৮
[149] সহিহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৭৯২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00