📄 দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না
দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার মনোভাব যেকোনো কথোপকথনকে মুহূর্তেই শেষ করে দিতে পারে। কোনো বিষয়ে ভালোভাবে না জেনেই সে সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়াটাও বড় একটি ভুল। ধরুন, আপনার বন্ধুর সাথে তাঁর অফিসের বসের কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক হয়েছে। এখন আপনি ধারণা করছেন, দোষটা আপনার বন্ধুর। যেহেতু, তাঁর বস একজন ম্যানেজার পর্যায়ের মানুষ, তাই হয়তো ভুলটা তাঁর নয়। অথবা, আপনার বন্ধু হয়তো পরীক্ষায় খুব কম নম্বর পেয়েছে। আপনি ধারণা করে বসলেন, সে হয়তো পড়াশুনা করেনি। অথচ, হতেই পারে সে কোনো পারিবারিক সমস্যার কারণে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারে নি। এ কারণে, সবচেয়ে উত্তম সমাধান হলো, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার মনোভাব না রাখা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ জীবনে ভালোকিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। শুধু শুধু কেন অযাচিত মন্তব্য করে তাদের অপদস্থ করতে যাবেন?
ছ. দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না
দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার মনোভাব যেকোনো কথোপকথনকে মুহূর্তেই শেষ করে দিতে পারে। কোনো বিষয়ে ভালোভাবে না জেনেই সে সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়াটাও বড় একটি ভুল। ধরুন, আপনার বন্ধুর সাথে তাঁর অফিসের বসের কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক হয়েছে। এখন আপনি ধারণা করছেন, দোষটা আপনার বন্ধুর। যেহেতু, তাঁর বস একজন ম্যানেজার পর্যায়ের মানুষ, তাই হয়তো ভুলটা তাঁর নয়। অথবা, আপনার বন্ধু হয়তো পরীক্ষায় খুব কম নম্বর পেয়েছে। আপনি ধারণা করে বসলেন, সে হয়তো পড়াশুনা করেনি। অথচ, হতেই পারে সে কোনো পারিবারিক সমস্যার কারণে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারে নি। এ কারণে, সবচেয়ে উত্তম সমাধান হলো, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার মনোভাব না রাখা। প্রত্যেকেই নিজ নিজ জীবনে ভালোকিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। শুধু শুধু কেন অযাচিত মন্তব্য করে তাদের অপদস্থ করতে যাবেন?
📄 সহযোগী হোন, প্রতিপক্ষ হবেন না
এমন ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলুন যেন মানুষ নিশ্চিন্তে আপনার ওপর ভরসা করতে পারে। তাদের উৎসাহিত করুন। তাদের এটা বুঝতে দিন যে, যা-ই হোক না কেন, আপনি তাদের পাশে আছেন। তারা যেন সহজেই আপনার কাছে আসতে পারে ও মন খুলে কথা বলতে পারে। বইয়ের শুরুতে ব্যবিচারের জন্য অনুমতি নিতে এক যুবকের ঘটনা বলছিলাম। ঘটনাটা হাদীসের ভাষায় একবার পড়ার চেষ্টা করি。
রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন এমনই একজন ব্যক্তিত্ব। এক যুবক আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, 'আপনি আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন!' আমরা ঘটনাটি বইয়ের শুরুতে বিস্তারিত নিয়ে এসেছি। তিনি বললেন, "তুমি কি তোমার মায়ের সাথে তা পছন্দ কর? তোমার বোন বা মেয়ের সাথে, তোমার ফুফু বা খালার সাথে তা পছন্দ কর?" যুবকটি প্রত্যেকের জন্য উত্তরে একই কথা বলল, 'না। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার জন্য আমার জীবন উৎসর্গ হোক। (তাদের সঙ্গে আমি এ কাজ করতে চাই না।)' তখন মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "তাহলে লোকেরাও তো পছন্দ করে না যে, কেউ তাদের মা, মেয়ে, বোন, খালা বাফুফুর সাথে ব্যভিচার করুক।" [১৪৬] এখানে আমরা দেখলাম :
• রাসূল ﷺ কতটা বন্ধুত্বসুলভ ছিলেন সকলের কাছে। যেকোনো বয়সের মানুষ তাঁর কাছে আবদার-অভিযোগ নিয়ে যেতে পারত। তিনি আল্লাহর নবি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছে যিনার অনুমতি চাইতে যুবকটি দ্বিধা করেনি। মানুষের প্রতি এস্প্যাথেটিক হতে চাইলে সবার আগে বন্ধুত্বসুলভ হতে হবে। যেন মানুষ তাদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ইত্যাদি মন খুলে বলতে পারে। আর নিজে থেকে কেউ না বললেও তার কাছে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তবুও সেতো তাকেই নিজের দুঃখের কথা বলবে, যার কাছে সে সহজেই জায়গা করে নিতে পারে।
• একজন যুবকের কাছে যিনার তাড়না ও কামনা কতটা তীব্র হতে পারে তা তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। এজন্যই তিনি সেই যুবককে অপরাধীর দৃষ্টিতে না দেখে 'রোগী' হিসেবে দেখেছিলেন। যে কিনা তার চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে এসেছে। তাই রাসূল ﷺ তাকে তার কামনা ও অপরাধের ফিরিস্তি না দিয়ে ঔষধ বাতলে দিলেন। তিনি বুঝিয়ে দিলেন সে যার সাথে যিনা করবে সেওতো কারও না কারও মা/মেয়ে/বোন/খালা/ফুফু। ওই সকল পুরুষেরা এই কাজটা তেমনি অপছন্দ করবে যেমন এই যুবক করে তার মা/মেয়ে/বোন/খালা/ফুফুর সাথে ব্যভিচার।
মনে রাখবেন, কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তর দেওয়া বা সমাধান দেওয়াটাই সবসময় জরুরি বিষয় নয়। অনেকসময় মানুষ শুধু একটু সহানুভূতি, একটু সহমর্মিতা আশা করে। এক পৃথিবী অপরিচিত মানুষ, ভয় আর অনিশ্চয়তার মাঝে অন্তত একজন আছে যে তার পাশে আছে—এই চিন্তাটুকুই একজন বিপদগ্রস্থ মানুষের জন্য অনেক স্বস্তিদায়ক।
টিকাঃ
[১৪৬] আহমাদ ৫/২৫৬-২৫৭, ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদীস: ৩৭০
জ. সহযোগী হন, প্রতিপক্ষ হবেন না
এমন ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলুন যেন মানুষ নিশ্চিন্তে আপনার ওপর ভরসা করতে পারে। তাদের উৎসাহিত করুন। তাদের এটা বুঝতে দিন যে, যা-ই হোক না কেন, আপনি তাদের পাশে আছেন। তারা যেন সহজেই আপনার কাছে আসতে পারে ও মন খুলে কথা বলতে পারে। বইয়ের শুরুতে ব্যবিচারের জন্য অনুমতি নিতে এক যুবকের ঘটনা বলছিলাম। ঘটনাটা হাদীসের ভাষায় একবার পড়ার চেষ্টা করি。
রাসূলুল্লাহ ছিলেন এমনই একজন ব্যক্তিত্ব। এক যুবক আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, 'আপনি আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন!' আমরা ঘটনাটি বইয়ের শুরুতে বিস্তারিত নিয়ে এসেছি। তিনি বললেন, "তুমি কি তোমার মায়ের সাথে তা পছন্দ কর? তোমার বোন বা মেয়ের সাথে, তোমার ফুফু বা খালার সাথে তা পছন্দ কর?" যুবকটি প্রত্যেকের জন্য উত্তরে একই কথা বলল, 'না। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার জন্য আমার জীবন উৎসর্গ হোক। (তাদের সঙ্গে আমি এ কাজ করতে চাই না।)' তখন মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "তাহলে লোকেরাও তো পছন্দ করে না যে, কেউ তাদের মা, মেয়ে, বোন, খালা বাফুফুর সাথে ব্যভিচার করুক।" [146]
এখানে আমরা দেখলাম :
• রাসূল ﷺ কতটা বন্ধুত্বসুলভ ছিলেন সকলের কাছে। যেকোনো বয়সের মানুষ তাঁর কাছে আবদার-অভিযোগ নিয়ে যেতে পারত। তিনি আল্লাহর নবি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছে যিনার অনুমতি চাইতে যুবকটি দ্বিধা করেনি। মানুষের প্রতি এস্প্যাথেটিক হতে চাইলে সবার আগে বন্ধুত্বসুলভ হতে হবে। যেন মানুষ তাদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ইত্যাদি মন খুলে বলতে পারে। আর নিজে থেকে কেউ না বললেও তার কাছে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তবুও সেতো তাকেই নিজের দুঃখের কথা বলবে, যার কাছে সে সহজেই জায়গা করে নিতে পারে।
• একজন যুবকের কাছে যিনার তাড়না ও কামনা কতটা তীব্র হতে পারে তা তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। এজন্যই তিনি সেই যুবককে অপরাধীর দৃষ্টিতে না দেখে 'রোগী' হিসেবে দেখেছিলেন। যে কিনা তার চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে এসেছে। তাই রাসূল ﷺ তাকে তার কামনা ও অপরাধের ফিরিস্তি না দিয়ে ঔষধ বাতলে দিলেন। তিনি বুঝিয়ে দিলেন সে যার সাথে যিনা করবে সেওতো কারও না কারও মা/মেয়ে/বোন/খালা/ফুফু। ওই সকল পুরুষেরা এই কাজটা তেমনি অপছন্দ করবে যেমন এই যুবক করে তার মা/মেয়ে/বোন/খালা/ফুফুর সাথে ব্যভিচার।
মনে রাখবেন, কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তর দেওয়া বা সমাধান দেওয়াটাই সবসময় জরুরি বিষয় নয়। অনেকসময় মানুষ শুধু একটু সহানুভূতি, একটু সহমর্মিতা আশা করে। এক পৃথিবী অপরিচিত মানুষ, ভয় আর অনিশ্চয়তার মাঝে অন্তত একজন আছে যে তার পাশে আছে—এই চিন্তাটুকুই একজন বিপদগ্রস্থ মানুষের জন্য অনেক স্বস্তিদায়ক।
টিকাঃ
[146] আহমাদ ৫/২৫৬-২৫৭, ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদীস: ৩৭০
📄 সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে কথা বলুন
প্রতিটি মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক অবস্থা থেকে উঠে আসে। কোনো নির্দিষ্ট একটি ফ্রেমের মধ্যে তাই সকলে চিন্তা করা যাবে না। বরং প্রত্যেকের জন্য তার প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা মাথায় রাখতে হবে। সমাজে নানাবিধ মানুষের সাথে সফলভাবে সুসম্পর্ক স্থাপনে এটাই ছিল রাসূল ﷺ এর কর্মপন্থা।
আবু হুরায়রা বলেন, একদিন এক বেদুইন দাঁড়িয়ে মসজিদে প্রস্রাব শুরু করল। উপস্থিত লোকজন দেখে তাকে বাধা দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রিয় নবি তাদের বললেন, "ওকে ছেড়ে দাও। ওর প্রস্রাব শেষ হলে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ো। নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, তোমাদের সহজ ও বিনয়ী আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা বা উগ্রতার জন্য পাঠানো হয়নি”। প্রস্রাব শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ বেদুইন লোকটিকে ডেকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বললেন, “দেখো! মসজিদে প্রস্রাব অথবা পায়খানা করা যায় না। মসজিদ আল্লাহতায়ালার ইবাদতের জায়গা। এখানে সালাত আদায় করা হয়, কুরআন তিলাওয়াত করা হয় ও আল্লাহর জিকির করা হয়” [১৪৭]
এই হাদীসে আমরা দেখি:
✓ রাসূল উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, বেদুইনদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে 'ইবাদতখানা'র চর্চা নেই। আর তাই ইবাদতখানা যে একটি পবিত্র জায়গা, তাতে নোংরা কাজ করতে নেই-এই সত্যও বেদুইন এর অজানা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য তিনি মসজিদের ভেতরে বেদুইনের প্রস্রাব করার ঘটনাটিকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিতে পেরেছিলেন। ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ও চর্চাকে বোঝার মাধ্যমে এভাবেই সহনশীলতা ও সহমর্মিতা জন্ম নেয়।
✓ রাসূল ﷺ বুঝেছিলেন যে, প্রস্রাব করার মাঝে তাকে বাধা দিলে এতে তার জন্য শারীরিকভাবে কষ্ট হবে এবং টানা-হিঁচড়ার মধ্যে মসজিদে প্রস্রাব ছড়িয়ে গিয়ে নাপাকি বৃদ্ধির আশংকা থাকবে। তাই তিনি সাহাবিদেরকে থামিয়ে দিয়ে বেদুইন লোকটিকে শারীরিক ক্ষতি ও অস্বস্তি থেকে বাঁচালেন এবং মসজিদ অধিকতর নাপাক হওয়া থেকে রক্ষা করলেন। এখানেও বেদুইন ব্যক্তিটির সম্ভাব্য শারীরিক কষ্ট ও ক্ষতিকে উপলব্ধি করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে হয়।
টিকাঃ
[১৪৭] সহিহুল বুখারি: ২২০
ঝ. সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে কথা বলুন
প্রতিটি মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক অবস্থা থেকে উঠে আসে। কোনো নির্দিষ্ট একটি ফ্রেমের মধ্যে তাই সকলে চিন্তা করা যাবে না। বরং প্রত্যেকের জন্য তার প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা মাথায় রাখতে হবে। সমাজে নানাবিধ মানুষের সাথে সফলভাবে সুসম্পর্ক স্থাপনে এটাই ছিল রাসূল ﷺ এর কর্মপন্থা।
আবু হুরায়রা বলেন, একদিন এক বেদুইন দাঁড়িয়ে মসজিদে প্রস্রাব শুরু করল। উপস্থিত লোকজন দেখে তাকে বাধা দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রিয় নবি তাদের বললেন, "ওকে ছেড়ে দাও। ওর প্রস্রাব শেষ হলে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ো। নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, তোমাদের সহজ ও বিনয়ী আচরণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে, কঠোরতা বা উগ্রতার জন্য পাঠানো হয়নি"। প্রস্রাব শেষ করার পর রাসূলুল্লাহ বেদুইন লোকটিকে ডেকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বললেন, “দেখো! মসজিদে প্রস্রাব অথবা পায়খানা করা যায় না। মসজিদ আল্লাহতায়ালার ইবাদতের জায়গা। এখানে সালাত আদায় করা হয়, কুরআন তিলাওয়াত করা হয় ও আল্লাহর জিকির করা হয়” [147]
এই হাদীসে আমরা দেখি:
✓ রাসূল উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, বেদুইনদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে 'ইবাদতখানা'র চর্চা নেই। আর তাই ইবাদতখানা যে একটি পবিত্র জায়গা, তাতে নোংরা কাজ করতে নেই-এই সত্যও বেদুইন এর অজানা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য তিনি মসজিদের ভেতরে বেদুইনের প্রস্রাব করার ঘটনাটিকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিতে পেরেছিলেন। ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ও চর্চাকে বোঝার মাধ্যমে এভাবেই সহনশীলতা ও সহমর্মিতা জন্ম নেয়।
√ রাসূল বুঝেছিলেন যে, প্রস্রাব করার মাঝে তাকে বাধা দিলে এতে তার জন্য শারীরিকভাবে কষ্ট হবে এবং টানা-হিঁচড়ার মধ্যে মসজিদে প্রস্রাব ছড়িয়ে গিয়ে নাপাকি বৃদ্ধির আশংকা থাকবে। তাই তিনি সাহাবিদেরকে থামিয়ে দিয়ে বেদুইন লোকটিকে শারীরিক ক্ষতি ও অস্বস্তি থেকে বাঁচালেন এবং মসজিদ অধিকতর নাপাক হওয়া থেকে রক্ষা করলেন। এখানেও বেদুইন ব্যক্তিটির সম্ভাব্য শারীরিক কষ্ট ও ক্ষতিকে উপলব্ধি করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে হয়।
টিকাঃ
[147] সহিহুল বুখারি: ২২০
📄 অন্যকে ছাড় দিতে চেষ্টা করুন
এই একটি অভ্যাস নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে আমরা যেমন নিজেরা মানসিকভাবে প্রশান্তি লাভ করতে পারতাম, অনেক মানসিক চাপ ও রাগ-ক্ষোভকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে পারতাম তেমনি অন্যের সাথেও অহেতুক ভুল বোঝাবুঝি এবং মন কষাকষি থেকে মুক্ত থাকতাম।
দৈনন্দিন জীবনে চলতে-ফিরতে অন্যের আচার-আচরণ, কথা-বার্তা সবকিছু মনমতো হবেই-এমন কথা নেই। তাই অন্যের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে দুঃখ না করে বরং তাকে Benefit of Doubt দিয়ে মাফ করে দেওয়াই সহজ সমাধান।
মুশরিকদের আঘাত পাওয়ার পরে রাসূল ﷺ তাঁর মুখমন্ডল থেকে রক্ত মুছছিলেন আর বলছিলেন, “ওই কওম কীরূপে কৃতকার্য হতে পারে যারা তাদের নবি এর মুখমণ্ডলে আঘাত করেছে এবং তাঁর দাঁত ভেঙে দিয়েছে অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকছিলেন”। এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন- لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ
"আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা শাস্তি দেবেন – এ ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই; কেননা তারা হচ্ছে জালেম”। [১৪৮] সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল ﷺ বারবার বলছিলেন, “হে আমার প্রতিপালক, আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন কারণ তারা জানে না”। [১৪৯] এই হাদীসে আমরা দেখছি:
• একজন মুসলিম সর্বদা অপরকে Benefit of Doubt দিতে চেষ্টা করবে, এমনকি সে অমুসলিম হলেও। রাসূল এখানে তাঁর কওমের অজ্ঞতার কথা বলে তাদেরকে ক্ষমার করার ওসীলা বের করেছেন।
• রাসূল বলেছেন, "কারণ তারা জানে না”, তিনি বলেননি যে, “কারণ তারা জাহেল”। অর্থাৎ মুশরিকদের হিদায়াতের প্রতি রাসূল এর আকাঙ্খা ও মনত্বের প্রগাঢ়তা কতটা ছিল!
• রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়েও যদি শত্রুকে Benefit of Doubt দিতে পারেন, তবে আমরা কেন আমাদের চারপাশের মানুষদের তা দিতে পারি না?
টিকাঃ
[১৪৮] সূরা আলে ইমরান, ৩:১২৮
[১৪৯] সহিহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৭৯২
ঞ. অন্যকে ছাড় দিতে চেষ্টা করুন
এই একটি অভ্যাস নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে আমরা যেমন নিজেরা মানসিকভাবে প্রশান্তি লাভ করতে পারতাম, অনেক মানসিক চাপ ও রাগ-ক্ষোভকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে পারতাম তেমনি অন্যের সাথেও অহেতুক ভুল বোঝাবুঝি এবং মন কষাকষি থেকে মুক্ত থাকতাম।
দৈনন্দিন জীবনে চলতে-ফিরতে অন্যের আচার-আচরণ, কথা-বার্তা সবকিছু মনমতো হবেই-এমন কথা নেই। তাই অন্যের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে দুঃখ না করে বরং তাকে Benefit of Doubt দিয়ে মাফ করে দেওয়াই সহজ সমাধান।
মুশরিকদের আঘাত পাওয়ার পরে রাসূল তাঁর মুখমন্ডল থেকে রক্ত মুছছিলেন আর বলছিলেন, “ওই কওম কীরূপে কৃতকার্য হতে পারে যারা তাদের নবি এর মুখমণ্ডলে আঘাত করেছে এবং তাঁর দাঁত ভেঙে দিয়েছে অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকছিলেন”। এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন- لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ
"আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা শাস্তি দেবেন – এ ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই; কেননা তারা হচ্ছে জালেম”। [148] সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল বারবার বলছিলেন, “হে আমার প্রতিপালক, আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন কারণ তারা জানে না”। [149] এই হাদীসে আমরা দেখছি:
• একজন মুসলিম সর্বদা অপরকে Benefit of Doubt দিতে চেষ্টা করবে, এমনকি সে অমুসলিম হলেও। রাসূল এখানে তাঁর কওমের অজ্ঞতার কথা বলে তাদেরকে ক্ষমার করার ওসীলা বের করেছেন।
• রাসূল বলেছেন, "কারণ তারা জানে না”, তিনি বলেননি যে, “কারণ তারা জাহেল”। অর্থাৎ মুশরিকদের হিদায়াতের প্রতি রাসূল এর আকাঙ্খা ও মনত্বের প্রগাঢ়তা কতটা ছিল!
. রাসূলুল্লাহ তাঁর জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়েও যদি শত্রুকে Benefit of Doubt দিতে পারেন, তবে আমরা কেন আমাদের চারপাশের মানুষদের তা দিতে পারি না?
টিকাঃ
[148] সূরা আলে ইমরান, ৩:১২৮
[149] সহিহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৭৯২