📄 নিজেকে অন্যের অবস্থানে ভেবে দেখুন
অন্যের সম্পর্কে মন্তব্য করা বা অপরের সমালোচনা করা সহজ। মুখে বলাই যায়, 'এটা এমন কোনো কঠিন কাজ না', 'আমি বুঝতে পারছিনা তুমি এভাবে কেন চিন্তা করছো', বা, 'তুমি সবকিছুতে বাড়াবাড়ি করো'। একবার নিজেকে ওই ব্যক্তির অবস্থানে চিন্তা করে দেখুন। হতে পারে, তারা কঠিন কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। হয়তো তারা জীবনের কোনো ক্ষেত্রে গভীর সমস্যার মাঝে পড়ে গেছে। ছোটখাট কোনো ব্যাপারের কারণে হয়তো তাদের মন-মেজাজ বিক্ষিপ্ত হয়ে ছিলো আর তার প্রভাব হয়তো তাদের আচরণে এসে পড়েছে। মানুষের সমস্যার ব্যাপারে বিস্তারিত না জেনে কীভাবে আমরা তাদের সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি? নিজেকে সেই ব্যক্তির স্থানে দাঁড় করিয়ে দেখুন। মনে করুন, আপনি এই মুহূর্তে নিজে এই সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা বোঝার চেষ্টা করুন। এভাবে আপনি তাদের আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন。
সীরাতের দিকে তাকালে আমরা দেখি- বদরের যুদ্ধের শুরুতে মুসলিম বাহিনী ও মুশরিক বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হলে সাহাবিদের হাতে আবু হুযায়ফা এর বাবা-চাচা-ভাই তিনজনই সম্মুখযুদ্ধে নিহত হন। এই দৃশ্য আবু হুযায়ফা নিজ চোখে দেখেন। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে রাসূল ﷺ বলেছিলেন যুদ্ধে বনু হাশিমের কাউকে যেন হত্যা করা না হয়। কারণ, তাদেরকে জোরপূর্বক যুদ্ধে নিয়ে আসা হয়েছে। বনু হাশিমের মধ্যে আব্বাসও ছিলেন। তিনি ছিলেন রাসূল এর চাচা এবং তখনো প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দেন নি। রাসূল এর এই কথা শুনে আবু হুজাইফা বলে ফেলেছিলেন, "ও আচ্ছা! আমাদের বাপ-চাচা-ভাইদের শুধু হত্যা করা হবে আর রাসূল-এর বংশের কাউকে হত্যা করা যাবে না? আল্লাহর কসম! আমি আব্বাসকে হত্যা করবই”। একথা রাসূল এর কানে গেলে তিনি উমর এ কে বললেন, "হে আবু হাফসা! রাসূল-এর চাচার মুখও কি তরবারির আঘাতপ্রাপ্ত হবে?" উমর বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই সে মুনাফিক হয়ে গেছে। আপনি আমাকে তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার অনুমতি দিন”। রাসূল এর উমরকে নিষেধ করলেন। পরবর্তীকালে আবু হুজাইফা বলতেন, "সেদিন আমি যা বলেছিলাম অনুশোচনায় তা থেকে কখনো আমার মন শান্ত হতে পারেনি। একমাত্র শাহাদাতের মাধ্যমেই আমার তাওবা পূরণ হতে পারে”। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন এবং তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়। এখানে আমরা দেখলাম:
রাসূল ﷺ মানুষের আবেগকে মূল্যায়ন করতে পারতেন এবং মানুষের জায়গায় নিজেকে বসাতে পারতেন। শুধুমাত্র ইসলামি ভ্রাতৃত্বের দোহাই দিয়ে তিনি মানবীয় আবেগকে বিসর্জন দিতে বলতেন না। তিনি জানতেন, এমনটি করা কারও পক্ষেই সম্ভব না। কারণ, সাহাবিগণও মানুষ। আর একজন ব্যক্তি যে মাত্র চোখের সামনে তার বাবা-চাচাকে নিহত হতে দেখেছে তার মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে তা রাসূল ﷺ বুঝতে পেরেছিলেন। এজন্যই তিনি আবু হুজাইফাকে তার এই উক্তির জন্য কিছু বলেন নি। এমনকি তিনি যে কষ্ট পেয়েছেন এই বিষয়টিও আবু হুযায়ফা এর সাথে শেয়ার করেন নি। কারণ, এতে আবু হুযায়ফা বিব্রত হতেন। বরং নিজের দুঃখের কথা উমর এর সাথে শেয়ার করেছিলেন।
অন্যের সম্পর্কে মন্তব্য করা বা অপরের সমালোচনা করা সহজ। মুখে বলাই যায়, 'এটা এমন কোনো কঠিন কাজ না', 'আমি বুঝতে পারছিনা তুমি এভাবে কেন চিন্তা করছো', বা, 'তুমি সবকিছুতে বাড়াবাড়ি করো'। একবার নিজেকে ওই ব্যক্তির অবস্থানে চিন্তা করে দেখুন। হতে পারে, তারা কঠিন কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। হয়তো তারা জীবনের কোনো ক্ষেত্রে গভীর সমস্যার মাঝে পড়ে গেছে। ছোটখাট কোনো ব্যাপারের কারণে হয়তো তাদের মন-মেজাজ বিক্ষিপ্ত হয়ে ছিলো আর তার প্রভাব হয়তো তাদের আচরণে এসে পড়েছে। মানুষের সমস্যার ব্যাপারে বিস্তারিত না জেনে কীভাবে আমরা তাদের সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি? নিজেকে সেই ব্যক্তির স্থানে দাঁড় করিয়ে দেখুন। মনে করুন, আপনি এই মুহূর্তে নিজে এই সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা বোঝার চেষ্টা করুন। এভাবে আপনি তাদের আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।
সীরাতের দিকে তাকালে আমরা দেখি- বদরের যুদ্ধের শুরুতে মুসলিম বাহিনী ও মুশরিক বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হলে সাহাবিদের হাতে আবু হুযায়ফা এর বাবা-চাচা-ভাই তিনজনই সম্মুখযুদ্ধে নিহত হন। এই দৃশ্য আবু হুযায়ফা নিজ চোখে দেখেন। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে রাসূল ﷺ বলেছিলেন যুদ্ধে বনু হাশিমের কাউকে যেন হত্যা করা না হয়। কারণ, তাদেরকে জোরপূর্বক যুদ্ধে নিয়ে আসা হয়েছে। বনু হাশিমের মধ্যে আব্বাসও ছিলেন। তিনি ছিলেন রাসূল এর চাচা এবং তখনো প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দেন নি। রাসূল এর এই কথা শুনে আবু হুজাইফা বলে ফেলেছিলেন, "ও আচ্ছা! আমাদের বাপ-চাচা-ভাইদের শুধু হত্যা করা হবে আর রাসূল-এর বংশের কাউকে হত্যা করা যাবে না? আল্লাহর কসম! আমি আব্বাসকে হত্যা করবই”। একথা রাসূল এর কানে গেলে তিনি উমর এ কে বললেন, "হে আবু হাফসা! রাসূল-এর চাচার মুখও কি তরবারির আঘাতপ্রাপ্ত হবে?" উমর বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই সে মুনাফিক হয়ে গেছে। আপনি আমাকে তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার অনুমতি দিন”। রাসূল এর উমরকে নিষেধ করলেন। পরবর্তীকালে আবু হুজাইফা বলতেন, "সেদিন আমি যা বলেছিলাম অনুশোচনায় তা থেকে কখনো আমার মন শান্ত হতে পারেনি। একমাত্র শাহাদাতের মাধ্যমেই আমার তাওবা পূরণ হতে পারে”। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন এবং তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়। এখানে আমরা দেখলাম:
রাসূল ﷺ মানুষের আবেগকে মূল্যায়ন করতে পারতেন এবং মানুষের জায়গায় নিজেকে বসাতে পারতেন। শুধুমাত্র ইসলামি ভ্রাতৃত্বের দোহাই দিয়ে তিনি মানবীয় আবেগকে বিসর্জন দিতে বলতেন না। তিনি জানতেন, এমনটি করা কারও পক্ষেই সম্ভব না। কারণ, সাহাবিগণও মানুষ। আর একজন ব্যক্তি যে মাত্র চোখের সামনে তার বাবা-চাচাকে নিহত হতে দেখেছে তার মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে তা রাসূল ﷺ বুঝতে পেরেছিলেন। এজন্যই তিনি আবু হুজাইফাকে তার এই উক্তির জন্য কিছু বলেন নি। এমনকি তিনি যে কষ্ট পেয়েছেন এই বিষয়টিও আবু হুযায়ফা এর সাথে শেয়ার করেন নি। কারণ, এতে আবু হুযায়ফা বিব্রত হতেন। বরং নিজের দুঃখের কথা উমর এর সাথে শেয়ার করেছিলেন。
অন্যের সম্পর্কে মন্তব্য করা বা অপরের সমালোচনা করা সহজ। মুখে বলাই যায়, 'এটা এমন কোনো কঠিন কাজ না', 'আমি বুঝতে পারছিনা তুমি এভাবে কেন চিন্তা করছো', বা, 'তুমি সবকিছুতে বাড়াবাড়ি করো'। একবার নিজেকে ওই ব্যক্তির অবস্থানে চিন্তা করে দেখুন। হতে পারে, তারা কঠিন কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। হয়তো তারা জীবনের কোনো ক্ষেত্রে গভীর সমস্যার মাঝে পড়ে গেছে। ছোটখাট কোনো ব্যাপারের কারণে হয়তো তাদের মন-মেজাজ বিক্ষিপ্ত হয়ে ছিলো আর তার প্রভাব হয়তো তাদের আচরণে এসে পড়েছে। মানুষের সমস্যার ব্যাপারে বিস্তারিত না জেনে কীভাবে আমরা তাদের সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি? নিজেকে সেই ব্যক্তির স্থানে দাঁড় করিয়ে দেখুন। মনে করুন, আপনি এই মুহূর্তে নিজে এই সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা বোঝার চেষ্টা করুন। এভাবে আপনি তাদের আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।
সীরাতের দিকে তাকালে আমরা দেখি- বদরের যুদ্ধের শুরুতে মুসলিম বাহিনী ও মুশরিক বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হলে সাহাবিদের হাতে আবু হুযায়ফা এর বাবা-চাচা-ভাই তিনজনই সম্মুখযুদ্ধে নিহত হন। এই দৃশ্য আবু হুযায়ফা নিজ চোখে দেখেন। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে রাসূল ﷺ বলেছিলেন যুদ্ধে বনু হাশিমের কাউকে যেন হত্যা করা না হয়। কারণ, তাদেরকে জোরপূর্বক যুদ্ধে নিয়ে আসা হয়েছে। বনু হাশিমের মধ্যে আব্বাসও ছিলেন। তিনি ছিলেন রাসূল এর চাচা এবং তখনো প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দেন নি। রাসূল এর এই কথা শুনে আবু হুজাইফা বলে ফেলেছিলেন, "ও আচ্ছা! আমাদের বাপ-চাচা-ভাইদের শুধু হত্যা করা হবে আর রাসূল-এর বংশের কাউকে হত্যা করা যাবে না? আল্লাহর কসম! আমি আব্বাসকে হত্যা করবই”। একথা রাসূল এর কানে গেলে তিনি উমর এ কে বললেন, "হে আবু হাফসা! রাসূল-এর চাচার মুখও কি তরবারির আঘাতপ্রাপ্ত হবে?" উমর বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই সে মুনাফিক হয়ে গেছে। আপনি আমাকে তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার অনুমতি দিন”। রাসূল এর উমরকে নিষেধ করলেন। পরবর্তীকালে আবু হুজাইফা বলতেন, "সেদিন আমি যা বলেছিলাম অনুশোচনায় তা থেকে কখনো আমার মন শান্ত হতে পারেনি। একমাত্র শাহাদাতের মাধ্যমেই আমার তাওবা পূরণ হতে পারে”। তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন এবং তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়। এখানে আমরা দেখলাম:
রাসূল ﷺ মানুষের আবেগকে মূল্যায়ন করতে পারতেন এবং মানুষের জায়গায় নিজেকে বসাতে পারতেন। শুধুমাত্র ইসলামি ভ্রাতৃত্বের দোহাই দিয়ে তিনি মানবীয় আবেগকে বিসর্জন দিতে বলতেন না। তিনি জানতেন, এমনটি করা কারও পক্ষেই সম্ভব না। কারণ, সাহাবিগণও মানুষ। আর একজন ব্যক্তি যে মাত্র চোখের সামনে তার বাবা-চাচাকে নিহত হতে দেখেছে তার মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে তা রাসূল ﷺ বুঝতে পেরেছিলেন। এজন্যই তিনি আবু হুজাইফাকে তার এই উক্তির জন্য কিছু বলেন নি। এমনকি তিনি যে কষ্ট পেয়েছেন এই বিষয়টিও আবু হুযায়ফা এর সাথে শেয়ার করেন নি। কারণ, এতে আবু হুযায়ফা বিব্রত হতেন। বরং নিজের দুঃখের কথা উমর এর সাথে শেয়ার করেছিলেন。
📄 অন্যের প্রতি আন্তরিক হোন এবং মন দিয়ে অন্যের কথা শুনুন
কেউ যখন আপনার কাছে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলতে আসে তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মনের অবস্থা ভালো থাকে না। আপনার কাছে তার কষ্টগুলো বলে কিছুটা হালকা হতে পারবেন ভেবেই হয়তো আপনাকে কথাগুলো বলতে এসেছেন। এসময়ে তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন, তার প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। তাকে জিজ্ঞেস করুন, "এখন তার মনের অবস্থা কী।” যেকোনো প্রয়োজনে আপনি যে তার পাশে থাকতে চান তা বোঝানোর জন্যে তাকে প্রশ্ন করুন, "আমি কি তোমার জন্যে কিছু করতে পারি?” কারো কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা মানে আপনি তার সমাধানে বাধ্য কিংবা সমাধান করতে পারবেন বিষয়টা এমন না। বরং আপনি যে তার কথা মনোযোগের সাথে শুনলেন এতে তার হালকা বোধ হবে। কথায় আছে, কষ্ট কারো সাথে শেয়ার করলে অর্ধেক হয় আর আনন্দ কারো সাথে শেয়ার করলে দ্বিগুণ হয়। আপনি মনোযোগ দিয়ে কারো কথা শোনার ফলে সে বুঝবে আপনি তার প্রতি সহমর্মী। রাসূল সঃ খুব ভালো শ্রোতা ছিলেন। হাদীসে এসেছে, কেউ তার সাথে কিছু বললে তিনি তা পুরোপুরি মনোযোগের সাথে শুনতেন। বক্তার কথা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন না। এমনকি তিনি কখনো ঘাড় ঘুড়িয়ে কারো সাথে কথা বলতেন না। শরীর ও মন পুরোটা তার দিকে ফিরিয়ে তিনি বক্তার কথা বোঝার চেষ্টা করতেন আর বক্তাও তার এম্পেথেটিক হওয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারত। আপনার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু আপনাকে কিছু বলতে চাইলে তার সাথে ফোনে বা সরাসরি সাক্ষাত করে কথা বলুন। এগুলো মানুষের মনে অনেকখানি ভালোলাগার সৃষ্টি করে। সে যদি আপনার মা-বাবা, ভাই-বোন বা জীবনসঙ্গী হয়ে থাকে, তবে তাকে জড়িয়ে ধরুন, তার পাশে থাকুন।
কেউ যখন আপনার কাছে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলতে আসে তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মনের অবস্থা ভালো থাকে না। আপনার কাছে তার কষ্টগুলো বলে কিছুটা হালকা হতে পারবেন ভেবেই হয়তো আপনাকে কথাগুলো বলতে এসেছেন। এসময়ে তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন, তার প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। তাকে জিজ্ঞেস করুন, "এখন তার মনের অবস্থা কী।” যেকোনো প্রয়োজনে আপনি যে তার পাশে থাকতে চান তা বোঝানোর জন্যে তাকে প্রশ্ন করুন, "আমি কি তোমার জন্যে কিছু করতে পারি?” কারো কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা মানে আপনি তার সমাধানে বাধ্য কিংবা সমাধান করতে পারবেন বিষয়টা এমন না। বরং আপনি যে তার কথা মনোযোগের সাথে শুনলেন এতে তার হালকা বোধ হবে। কথায় আছে, কষ্ট কারো সাথে শেয়ার করলে অর্ধেক হয় আর আনন্দ কারো সাথে শেয়ার করলে দ্বিগুণ হয়। আপনি মনোযোগ দিয়ে কারো কথা শোনার ফলে সে বুঝবে আপনি তার প্রতি সহমর্মী। রাসূল সঃ খুব ভালো শ্রোতা ছিলেন। হাদীসে এসেছে, কেউ তার সাথে কিছু বললে তিনি তা পুরোপুরি মনোযোগের সাথে শুনতেন। বক্তার কথা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন না। এমনকি তিনি কখনো ঘাড় ঘুড়িয়ে কারো সাথে কথা বলতেন না। শরীর ও মন পুরোটা তার দিকে ফিরিয়ে তিনি বক্তার কথা বোঝার চেষ্টা করতেন আর বক্তাও তার এম্পেথেটিক হওয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারত। আপনার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু আপনাকে কিছু বলতে চাইলে তার সাথে ফোনে বা সরাসরি সাক্ষাত করে কথা বলুন। এগুলো মানুষের মনে অনেকখানি ভালোলাগার সৃষ্টি করে। সে যদি আপনার মা-বাবা, ভাই-বোন বা জীবনসঙ্গী হয়ে থাকে, তবে তাকে জড়িয়ে ধরুন, তার পাশে থাকুন。
কেউ যখন আপনার কাছে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলতে আসে তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মনের অবস্থা ভালো থাকে না। আপনার কাছে তার কষ্টগুলো বলে কিছুটা হালকা হতে পারবেন ভেবেই হয়তো আপনাকে কথাগুলো বলতে এসেছেন। এসময়ে তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন, তার প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। তাকে জিজ্ঞেস করুন, "এখন তার মনের অবস্থা কী।” যেকোনো প্রয়োজনে আপনি যে তার পাশে থাকতে চান তা বোঝানোর জন্যে তাকে প্রশ্ন করুন, "আমি কি তোমার জন্যে কিছু করতে পারি?” কারো কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা মানে আপনি তার সমাধানে বাধ্য কিংবা সমাধান করতে পারবেন বিষয়টা এমন না। বরং আপনি যে তার কথা মনোযোগের সাথে শুনলেন এতে তার হালকা বোধ হবে। কথায় আছে, কষ্ট কারো সাথে শেয়ার করলে অর্ধেক হয় আর আনন্দ কারো সাথে শেয়ার করলে দ্বিগুণ হয়। আপনি মনোযোগ দিয়ে কারো কথা শোনার ফলে সে বুঝবে আপনি তার প্রতি সহমর্মী। রাসূল সঃ খুব ভালো শ্রোতা ছিলেন। হাদীসে এসেছে, কেউ তার সাথে কিছু বললে তিনি তা পুরোপুরি মনোযোগের সাথে শুনতেন। বক্তার কথা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন না। এমনকি তিনি কখনো ঘাড় ঘুড়িয়ে কারো সাথে কথা বলতেন না। শরীর ও মন পুরোটা তার দিকে ফিরিয়ে তিনি বক্তার কথা বোঝার চেষ্টা করতেন আর বক্তাও তার এম্পেথেটিক হওয়ার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারত। আপনার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু আপনাকে কিছু বলতে চাইলে তার সাথে ফোনে বা সরাসরি সাক্ষাত করে কথা বলুন। এগুলো মানুষের মনে অনেকখানি ভালোলাগার সৃষ্টি করে। সে যদি আপনার মা-বাবা, ভাই-বোন বা জীবনসঙ্গী হয়ে থাকে, তবে তাকে জড়িয়ে ধরুন, তার পাশে থাকুন。
📄 বক্তাকে প্রশ্ন করুন
প্রশ্ন কথোপকথনকে স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলে। যখন কেউ কোনো সমস্যা বিশেষত ব্যক্তিগত সমস্যার কথা আপনার কাছে বলতে আসে তখন তাকে সে বিষয়ে আরও প্রশ্ন করুন। এতে করে সে কথা বলায় আগ্রহ খুঁজে পাবে। অপরজন কী বলছে তা মন দিয়ে শুনুন, এরপর তাকে অর্থপূর্ণ প্রশ্ন করুন। ধরুন, আপনার কাছের বন্ধু আপনার কাছে তার বৈবাহিক জীবনের সমস্যার কথা বলতে এলো। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রশ্ন হওয়া উচিত, 'কী হয়েছে?, 'তুমি কি এখন ঠিক আছো?' বা, 'তোমাদের মাঝে কী নিয়ে মূলত মনোমালিন্য হচ্ছে?' এধরনের প্রশ্ন তাকে স্বছন্দে আপনার কাছে নিজের কথাগুলো খুলে বলতে সাহায্য করবে। তা ছাড়া আপনি যে তাঁর কাছ থেকে আরও শুনতে চান সেটাও সে বুঝতে পারবে। অপরদিকে আপনার গা-ছাড়া মন্তব্য যেমন, "বুঝতে পারছি, আশা করি, তোমাদের মাঝে সব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে” বা, 'সংসারে ঝগড়া-বিবাদ হওয়াটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার” বা "ধৈর্য ধরো, সব ঠিক হয়ে যাবে” – এধরনের কথাগুলো অপর ব্যক্তিকে পরবর্তী কথা বলায় পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করে তোলে।
প্রশ্ন কথোপকথনকে স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলে। যখন কেউ কোনো সমস্যা বিশেষত ব্যক্তিগত সমস্যার কথা আপনার কাছে বলতে আসে তখন তাকে সে বিষয়ে আরও প্রশ্ন করুন। এতে করে সে কথা বলায় আগ্রহ খুঁজে পাবে। অপরজন কী বলছে তা মন দিয়ে শুনুন, এরপর তাকে অর্থপূর্ণ প্রশ্ন করুন। ধরুন, আপনার কাছের বন্ধু আপনার কাছে তার বৈবাহিক জীবনের সমস্যার কথা বলতে এলো। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রশ্ন হওয়া উচিত, 'কী হয়েছে?, 'তুমি কি এখন ঠিক আছো?' বা, 'তোমাদের মাঝে কী নিয়ে মূলত মনোমালিন্য হচ্ছে?' এধরনের প্রশ্ন তাকে স্বছন্দে আপনার কাছে নিজের কথাগুলো খুলে বলতে সাহায্য করবে। তা ছাড়া আপনি যে তাঁর কাছ থেকে আরও শুনতে চান সেটাও সে বুঝতে পারবে। অপরদিকে আপনার গা-ছাড়া মন্তব্য যেমন, "বুঝতে পারছি, আশা করি, তোমাদের মাঝে সব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে” বা, 'সংসারে ঝগড়া-বিবাদ হওয়াটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার” বা "ধৈর্য ধরো, সব ঠিক হয়ে যাবে” – এধরনের কথাগুলো অপর ব্যক্তিকে পরবর্তী কথা বলায় পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করে তোলে。
প্রশ্ন কথোপকথনকে স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলে। যখন কেউ কোনো সমস্যা বিশেষত ব্যক্তিগত সমস্যার কথা আপনার কাছে বলতে আসে তখন তাকে সে বিষয়ে আরও প্রশ্ন করুন। এতে করে সে কথা বলায় আগ্রহ খুঁজে পাবে। অপরজন কী বলছে তা মন দিয়ে শুনুন, এরপর তাকে অর্থপূর্ণ প্রশ্ন করুন। ধরুন, আপনার কাছের বন্ধু আপনার কাছে তার বৈবাহিক জীবনের সমস্যার কথা বলতে এলো। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রশ্ন হওয়া উচিত, 'কী হয়েছে?, 'তুমি কি এখন ঠিক আছো?' বা, 'তোমাদের মাঝে কী নিয়ে মূলত মনোমালিন্য হচ্ছে?' এধরনের প্রশ্ন তাকে স্বছন্দে আপনার কাছে নিজের কথাগুলো খুলে বলতে সাহায্য করবে। তা ছাড়া আপনি যে তাঁর কাছ থেকে আরও শুনতে চান সেটাও সে বুঝতে পারবে। অপরদিকে আপনার গা-ছাড়া মন্তব্য যেমন, "বুঝতে পারছি, আশা করি, তোমাদের মাঝে সব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে” বা, 'সংসারে ঝগড়া-বিবাদ হওয়াটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার” বা "ধৈর্য ধরো, সব ঠিক হয়ে যাবে” – এধরনের কথাগুলো অপর ব্যক্তিকে পরবর্তী কথা বলায় পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করে তোলে。
📄 Mirroring
ধরুন, কেউ আপনাকে ১০ টি বড়সড় মেসেজ লিখে পাঠালো আর আপনি তার প্রতিউত্তরে এক লাইনের ছোট একটা উত্তর করলেন। একটি স্বতস্ফূর্ত কথোপকথন বন্ধ হওয়ার জন্যে এটুকুই যথেষ্ট। একই বিষয় ঘটে, যখন আপনি অত্যন্ত ব্যক্তিগত কোনো ম্যাসেজের উত্তরে এক কথায় লিখে দেন, "বুঝতে পেরেছি" বা, "ঠিক আছে" বা "হুম"। অপর ব্যক্তি আপনাকে অনেককিছু বলতে চাচ্ছিলো অথচ আপনি তাকে আপনার উত্তর দিয়ে দমিয়ে দিলেন। সে যে আগ্রহ নিয়ে তার কথাগুলো শুরু করেছিলো, আপনি তার সেই আগ্রহকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করলেন না। ঠিক এই 'জায়গাতে Mirroring এর বিষয়টি আসে। এর অর্থ হলো, কারও অব্যক্ত কথার ধরন, অঙ্গভঙ্গি বা আচার-আচরণ বুঝতে চেষ্টা করা। এগুলোর মাধ্যমে তার সাথে একটি সংযোগ স্থাপন করা।
কাজেই, আপনার বন্ধু যখন আপনার কাছে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলতে আসে তখন তার প্রতিউত্তরে আপনার জীবনের প্রাসঙ্গিক কোনো ঘটনার কথা তাকে বলুন। সে যদি আপনার চোখের দিকে তাকায়, তবে আপনিও তার চোখের দিকে তাকান। সে যদি দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় তবে আপনিও তা-ই করুন। সে চাইলে, তাকে নিজের মতো করে সামলিয়ে ওঠার সুযোগ দিন। তাদের প্রতিটি দেহভঙ্গি অনুকরণ করতে যাবেন না। বরং তাদের কন্ঠস্বর ও মানসিক অবস্থার সাথে নিজের আচরণকে মানিয়ে নিন।
ঘ. Mirroring:
ধরুন, কেউ আপনাকে ১০ টি বড়সড় মেসেজ লিখে পাঠালো আর আপনি তার প্রতিউত্তরে এক লাইনের ছোট একটা উত্তর করলেন। একটি স্বতস্ফূর্ত কথোপকথন বন্ধ হওয়ার জন্যে এটুকুই যথেষ্ট। একই বিষয় ঘটে, যখন আপনি অত্যন্ত ব্যক্তিগত কোনো ম্যাসেজের উত্তরে এক কথায় লিখে দেন, "বুঝতে পেরেছি" বা, "ঠিক আছে" বা "হুম"। অপর ব্যক্তি আপনাকে অনেককিছু বলতে চাচ্ছিলো অথচ আপনি তাকে আপনার উত্তর দিয়ে দমিয়ে দিলেন। সে যে আগ্রহ নিয়ে তার কথাগুলো শুরু করেছিলো, আপনি তার সেই আগ্রহকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করলেন না। ঠিক এই 'জায়গাতে Mirroring এর বিষয়টি আসে। এর অর্থ হলো, কারও অব্যক্ত কথার ধরন, অঙ্গভঙ্গি বা আচার-আচরণ বুঝতে চেষ্টা করা। এগুলোর মাধ্যমে তার সাথে একটি সংযোগ স্থাপন করা।
কাজেই, আপনার বন্ধু যখন আপনার কাছে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলতে আসে তখন তার প্রতিউত্তরে আপনার জীবনের প্রাসঙ্গিক কোনো ঘটনার কথা তাকে বলুন। সে যদি আপনার চোখের দিকে তাকায়, তবে আপনিও তার চোখের দিকে তাকান। সে যদি দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় তবে আপনিও তা-ই করুন। সে চাইলে, তাকে নিজের মতো করে সামলিয়ে ওঠার সুযোগ দিন। তাদের প্রতিটি দেহভঙ্গি অনুকরণ করতে যাবেন না। বরং তাদের কন্ঠস্বর ও মানসিক অবস্থার সাথে নিজের আচরণকে মানিয়ে নিন।