📄 কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে সহমর্মিতা
কুরআনের সূরা আবাসাতে আল্লাহ তা'য়ালা মাক্কী জীবনের শুরুর দিকের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। একদিন নবিজি কুরাইশ নেতাদের সাথে দাওয়াতি আলাপ করছিলেন। মাঝে এক অন্ধ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম ﷺ এসে কিছু বলে উঠলে নবি ﷺ-এর মুখে খানিকটা বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে এবং তাঁর ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে যায়। তখন আল্লাহ কুরআনের এই আয়াত নাযিল করেন-
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَكَّى أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ أَن جَاءَهُ الْأَعْمَىٰ عَبَسَ وَتَوَلَّى الذكرى
"সে ভ্রু কুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি আগমন করেছিল। (হে নবি,) তুমি কেমন করে জানবে সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত, অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। "[১৩০]
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, একজন নেতাকে অন্যের আবেগের প্রতি কতোটা আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে হবে।
এ ছাড়াও আল্লাহ কুরআনে রাসূল এর বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে তাঁর সহমর্মিতার কথা বলেছেন,
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
“তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদেরকে যা কিছু কষ্ট দেয় তা তার নিকট খুবই কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।”[১৩১]
কুরআন সাধারণভাবে সকল মুসলিমকে সহমর্মিতার গুণে গুণান্বিত হতে শিক্ষা দেয়। এই সংক্রান্ত অসংখ্য আয়াত কুরআনে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَمْ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ يَتِيمَا ذَا مَقْرَبَةٍ أَوْ مِسْكِيْنَا ذَا مَتْرَبَةٍ ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَ تَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَ تَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ .
"তুমি কি জানো, দুর্গম গিরিপথ কী? তা হচ্ছে, দাস মুক্ত করা। অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে ইয়াতিম আত্মীয়-স্বজনকে খাদ্য দান করা, অথবা দারিদ্র-ক্লিষ্ট মিসকীনকে। অতঃপর অন্তর্ভুক্ত হওয়া মুমিনদের এবং তাদের-যারা পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারনের ও দয়া প্রদর্শনের।”[১৩২]
আর যারা এই গুণগুলোর চর্চা করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন-
أُولَبِكَ أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ
"তারাই সৌভাগ্যবান।”
সুন্নাহর মাঝেও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতির জোর তাকিদ রয়েছে。
রাসূল ﷺ বলেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ-না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” [১৩৩]
ভিন্ন হাদীসে রয়েছে—“সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একটি দেহের মতো। দেহের এক অংশ যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয় তখন পুরো দেহ তা অনুভব করে” [১৩৪]
এখানে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের মাঝে সহমর্মিতাকে রাসূল ﷺ একটি বিশ্বজনীন বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, একজন মুসলিম হিসেবে অপর মুসলিম ছাড়াও সাধারণভাবে ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা থাকতে হবে। রাসূল ﷺ বলেন,
“যারা মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি দয়া দেখাবেন না”। [১৩৫]
রাসূল ﷺ যখন সালাতে ইমামতি করতেন তখন সালাতের মধ্যে কোনো শিশু কেঁদে উঠলে তিনি সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন- শিশু কাঁদলে মায়ের মনে যে আশঙ্কা-দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয় তা লাঘব করতেই তিনি দ্রুত সালাত শেষ করে দেন যাতে শিশুটির মা দ্রুত শিশুটিকে দেখতে পারে। [১৩৬]
সালাতের মতো এত মহান ইবাদতও রাসূল সংক্ষিপ করতেন। কারণ, তিনি কান্নারত শিশুদের মায়ের জায়গায় নিজেকে বসাতে পেরেছিলেন।
একটি হাদীসে রাসূল ﷺ আমাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে দেখেছেন যাকে জান্নাতে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর জন্য। সুবহানাল্লাহ! যদি প্রশ্ন করা হয়, কেন ওই ব্যক্তি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাতে গেল? তার উত্তর হতে পারে একটাই- অন্যান্য পথচারীদের প্রতি সহমর্মিতার কারণে। তাহলে এখানে আমরা দেখছি, এই সহমর্মিতাই একজন মানুষের জান্নাতের পাথেয় হতে পারে।
রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে অন্যের জন্য তাই পছন্দ করে যা নিজের জন্য পছন্দ করবে”। [১৩৭]
নিজের জন্য যা চাই অন্যের জন্যও তেমনটা চাওয়ার গুণ নিজেদের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে সামগ্রিকভাবে সমাজে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকত না। পারস্পরিক সহমর্মিতায় পরিপূর্ণ একটি সমাজ গড়ে উঠত।
ইসলাম শুধু মানুষের প্রতি সহমর্মিতাকেই উদ্বুদ্ধ করেনি। বরং পশু-পাখি ও অন্যান্য মাখলুকের প্রতিও ইসলাম আমাদেরকে সহমর্মী হতে শিখিয়েছে। বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে- বনী ইসরাঈলের এক পতিতা মহিলা এক তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জঘন্য গুনাহও ক্ষমা করে তারে জান্নাত দান করেন।
এক সাহাবি একবার পাখির বাসা থেকে কয়েকটি পাখির ছানা নিয়ে এসেছিল। রাসূল ﷺ দেখলেন, ছানাগুলোর মা পাখিটি ছানাগুলোর ওপর কিচির মিচির করে ঘুরছে। সন্তানের আশঙ্কায় মা পাখির হৃদয়ের ডাক রাসূল ﷺ শুনতে পেলেন। তিনি ওই সাহাবিকে নির্দেশ দিলেন- পাখির ছানাগুলোকে তাদের বাসায় মায়ের কাছে রেখে আসতে। [১৩৮]
আবু দাউদের একটি সহিহ হাদীসে রয়েছে, একদিন রাসুল ﷺ একটি বাগানে প্রবেশ করে হাড়-জিরজিরে শুকনো একটি উট দেখতে পেলেন। রাসূল ﷺ কে দেখেই উটটি কাঁদতে শুরু করল। রাসূল ﷺ সেটির পিঠে হাত রাখলে তা শান্ত হল। তিনি এরপর উটের মালিকটিকে ডেকে উটের অযত্ন-ক্ষুধা ও অতি-বোঝা চাপানোর জন্য তাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং এই ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করতে বললেন। [১৩৯]
এভাবে রাসূল ﷺ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, বরং সকল পশু-পাখিদের প্রতিও ছিলেন সহমর্মী。
টিকাঃ
[১৩০] সূরা আবাসা, ৮০:১-৪
[১৩১] সূরা তাওবাহ, ৯:১২৮
[১৩২] সূরা বালাদ, ৯০:১২-১৭
[১৩৩] সহিহ আল-বুখারি : ১৩
[১৩৪] সহিহ আল-бухари : ৬০১১
[১৩৫] সহিহ আল-বুখারী : ৭৩৭৬
[১৩৬] সহিদুল বুখারি : ৭১০
[১৩৭] সহিদুল বুখারি : ১৩
[১৩৮] মুসতাদরাকে হাকিম: ৭৮০৮
[১৩৯] সুনান আবু দাউদ: ২৫৪৯
কুরআনের সূরা আবাসাতে আল্লাহ তা'য়ালা মাক্কী জীবনের শুরুর দিকের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। একদিন নবিজি কুরাইশ নেতাদের সাথে দাওয়াতি আলাপ করছিলেন। মাঝে এক অন্ধ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম ﷺ এসে কিছু বলে উঠলে নবি ﷺ-এর মুখে খানিকটা বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে এবং তাঁর ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে যায়। তখন আল্লাহ কুরআনের এই আয়াত নাযিল করেন-
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَكَّى أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ أَن جَاءَهُ الْأَعْمَىٰ عَبَسَ وَتَوَلَّى الذكرى
"সে ভ্রু কুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি আগমন করেছিল। (হে নবি,) তুমি কেমন করে জানবে সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত, অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। "[১৩০]
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, একজন নেতাকে অন্যের আবেগের প্রতি কতোটা আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে হবে।
এ ছাড়াও আল্লাহ কুরআনে রাসূল এর বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে তাঁর সহমর্মিতার কথা বলেছেন,
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
“তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদেরকে যা কিছু কষ্ট দেয় তা তার নিকট খুবই কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।”[১৩১]
কুরআন সাধারণভাবে সকল মুসলিমকে সহমর্মিতার গুণে গুণান্বিত হতে শিক্ষা দেয়। এই সংক্রান্ত অসংখ্য আয়াত কুরআনে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَمْ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ يَتِيمَا ذَا مَقْرَبَةٍ أَوْ مِسْكِيْنَا ذَا مَتْرَبَةٍ ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَ تَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَ تَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ .
"তুমি কি জানো, দুর্গম গিরিপথ কী? তা হচ্ছে, দাস মুক্ত করা। অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে ইয়াতিম আত্মীয়-স্বজনকে খাদ্য দান করা, অথবা দারিদ্র-ক্লিষ্ট মিসকীনকে। অতঃপর অন্তর্ভুক্ত হওয়া মুমিনদের এবং তাদের-যারা পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারনের ও দয়া প্রদর্শনের।”[১৩২]
আর যারা এই গুণগুলোর চর্চা করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন-
أُولَبِكَ أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ
"তারাই সৌভাগ্যবান।”
সুন্নাহর মাঝেও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতির জোর তাকিদ রয়েছে。
রাসূল ﷺ বলেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ-না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” [১৩৩]
ভিন্ন হাদীসে রয়েছে—“সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একটি দেহের মতো। দেহের এক অংশ যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয় তখন পুরো দেহ তা অনুভব করে” [১৩৪]
এখানে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের মাঝে সহমর্মিতাকে রাসূল ﷺ একটি বিশ্বজনীন বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, একজন মুসলিম হিসেবে অপর মুসলিম ছাড়াও সাধারণভাবে ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা থাকতে হবে। রাসূল ﷺ বলেন,
“যারা মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি দয়া দেখাবেন না”। [১৩৫]
রাসূল ﷺ যখন সালাতে ইমামতি করতেন তখন সালাতের মধ্যে কোনো শিশু কেঁদে উঠলে তিনি সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন- শিশু কাঁদলে মায়ের মনে যে আশঙ্কা-দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয় তা লাঘব করতেই তিনি দ্রুত সালাত শেষ করে দেন যাতে শিশুটির মা দ্রুত শিশুটিকে দেখতে পারে। [১৩৬]
সালাতের মতো এত মহান ইবাদতও রাসূল সংক্ষিপ করতেন। কারণ, তিনি কান্নারত শিশুদের মায়ের জায়গায় নিজেকে বসাতে পেরেছিলেন।
একটি হাদীসে রাসূল ﷺ আমাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে দেখেছেন যাকে জান্নাতে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর জন্য। সুবহানাল্লাহ! যদি প্রশ্ন করা হয়, কেন ওই ব্যক্তি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাতে গেল? তার উত্তর হতে পারে একটাই- অন্যান্য পথচারীদের প্রতি সহমর্মিতার কারণে। তাহলে এখানে আমরা দেখছি, এই সহমর্মিতাই একজন মানুষের জান্নাতের পাথেয় হতে পারে।
রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে অন্যের জন্য তাই পছন্দ করে যা নিজের জন্য পছন্দ করবে”। [১৩৭]
নিজের জন্য যা চাই অন্যের জন্যও তেমনটা চাওয়ার গুণ নিজেদের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে সামগ্রিকভাবে সমাজে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকত না। পারস্পরিক সহমর্মিতায় পরিপূর্ণ একটি সমাজ গড়ে উঠত।
ইসলাম শুধু মানুষের প্রতি সহমর্মিতাকেই উদ্বুদ্ধ করেনি। বরং পশু-পাখি ও অন্যান্য মাখলুকের প্রতিও ইসলাম আমাদেরকে সহমর্মী হতে শিখিয়েছে। বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে- বনী ইসরাঈলের এক পতিতা মহিলা এক তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জঘন্য গুনাহও ক্ষমা করে তারে জান্নাত দান করেন।
এক সাহাবি একবার পাখির বাসা থেকে কয়েকটি পাখির ছানা নিয়ে এসেছিল। রাসূল ﷺ দেখলেন, ছানাগুলোর মা পাখিটি ছানাগুলোর ওপর কিচির মিচির করে ঘুরছে। সন্তানের আশঙ্কায় মা পাখির হৃদয়ের ডাক রাসূল ﷺ শুনতে পেলেন। তিনি ওই সাহাবিকে নির্দেশ দিলেন- পাখির ছানাগুলোকে তাদের বাসায় মায়ের কাছে রেখে আসতে। [১৩৮]
আবু দাউদের একটি সহিহ হাদীসে রয়েছে, একদিন রাসুল ﷺ একটি বাগানে প্রবেশ করে হাড়-জিরজিরে শুকনো একটি উট দেখতে পেলেন। রাসূল ﷺ কে দেখেই উটটি কাঁদতে শুরু করল। রাসূল ﷺ সেটির পিঠে হাত রাখলে তা শান্ত হল। তিনি এরপর উটের মালিকটিকে ডেকে উটের অযত্ন-ক্ষুধা ও অতি-বোঝা চাপানোর জন্য তাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং এই ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করতে বললেন। [১৩৯]
এভাবে রাসূল ﷺ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, বরং সকল পশু-পাখিদের প্রতিও ছিলেন সহমর্মী。
টিকাঃ
[১৩০] সূরা আবাসা, ৮০:১-৪
[১৩১] সূরা তাওবাহ, ৯:১২৮
[১৩২] সূরা বালাদ, ৯০:১২-১৭
[১৩৩] সহিহ আল-বুখারি : ১৩
[১৩৪] সহিহ আল-бухари : ৬০১১
[১৩৫] সহিহ আল-বুখারী : ৭৩৭৬
[১৩৬] সহিদুল বুখারি : ৭১০
[১৩৭] সহিদুল বুখারি : ১৩
[১৩৮] মুসতাদরাকে হাকিম: ৭৮০৮
[১৩৯] সুনান আবু দাউদ: ২৫৪৯
📄 সহমর্মী হব কেন?
মানুষ যখন পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হয় তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্কগুলো অনেক মজবুত হয়। নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। একজন অপরজনের দুঃখ কষ্টে বিপদে আপদে এগিয়ে আসে। অপরদিকে কর্মক্ষত্রে সহমর্মী মানুষের সফলতার হার বেশি। চাকরির ক্ষেত্রে তাদের প্রমোশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায় আর ব্যবসার ক্ষেত্রেও ব্যবসার পরিধি বেড়ে যায়। তা ছাড়া সহমর্মী মানুষ মানসিকভাবে উৎফুল্ল থাকে বিধায় শরীর সুস্থ থাকে এবং প্রোডাক্টিভ জীবনযাপন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সহমর্মী হওয়ার অনেক উপকারীতা লক্ষ্য করা যায়। চুরি, ড্রাগ ডিলিং, হত্যা, রাহাজানির মতো সমাজ বিরোধী কাজে সহমর্মী মানুষ জড়ায় না। জেলখানার মানুষদের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে সহমর্মীতা অত্যন্ত কম। যারা অপরাধী তারা অন্য লোকের আবেগ, অনভূতিকে কোনো পাত্তা দেয় না। পাত্তা দিলে তারা সেই অপরাধ করার মানসিক সাহসই পেত না। সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের রাসূল ﷺ যেই নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন সেখানেও মানুষকে পরস্পরের প্রতি সহমর্মী করে সমাজে অপরাধ কমানোর একটা প্রয়াস ছিল। সেই যেনা ব্যভিচার করতে চাওয়া যুবকটির কথা মনে আছে যা আমরা বইয়ের শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম? তাকেও কিন্তু সহমর্মীতার গুণে গুণান্বিত করেই রাসূল ﷺ সামাজিক অপরাধ কমানোর প্রয়াস চালিয়েছেন。
মানুষ যখন পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হয় তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্কগুলো অনেক মজবুত হয়। নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। একজন অপরজনের দুঃখ কষ্টে বিপদে আপদে এগিয়ে আসে। অপরদিকে কর্মক্ষত্রে সহমর্মী মানুষের সফলতার হার বেশি। চাকরির ক্ষেত্রে তাদের প্রমোশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায় আর ব্যবসার ক্ষেত্রেও ব্যবসার পরিধি বেড়ে যায়। তা ছাড়া সহমর্মী মানুষ মানসিকভাবে উৎফুল্ল থাকে বিধায় শরীর সুস্থ থাকে এবং প্রোডাক্টিভ জীবনযাপন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সহমর্মী হওয়ার অনেক উপকারীতা লক্ষ্য করা যায়। চুরি, ড্রাগ ডিলিং, হত্যা, রাহাজানির মতো সমাজ বিরোধী কাজে সহমর্মী মানুষ জড়ায় না। জেলখানার মানুষদের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে সহমর্মীতা অত্যন্ত কম। যারা অপরাধী তারা অন্য লোকের আবেগ, অনভূতিকে কোনো পাত্তা দেয় না। পাত্তা দিলে তারা সেই অপরাধ করার মানসিক সাহসই পেত না। সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের রাসূল ﷺ যেই নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন সেখানেও মানুষকে পরস্পরের প্রতি সহমর্মী করে সমাজে অপরাধ কমানোর একটা প্রয়াস ছিল। সেই যেনা ব্যভিচার করতে চাওয়া যুবকটির কথা মনে আছে যা আমরা বইয়ের শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম? তাকেও কিন্তু সহমর্মীতার গুণে গুণান্বিত করেই রাসূল ﷺ সামাজিক অপরাধ কমানোর প্রয়াস চালিয়েছেন。
📄 সহমর্মী হব কীভাবে?
ক. নিজেকে অন্যের অবস্থানে ভেবে দেখুন।
খ. অন্যের প্রতি আন্তরিক হোন এবং মন দিয়ে অন্যের কথা শুনুন
গ. বক্তাকে প্রশ্ন করুন
ঘ. Mirroring:
ঙ. আলাপ শেষ করার জন্যে তাড়াহুড়া করবেন না।
চ. মানুষের অনুভূতির মূল্যায়ন করুন。
ছ. দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না।
জ. সহযোগী হোন, প্রতিপক্ষ হবেন না।
ক. নিজেকে অন্যের অবস্থানে ভেবে দেখুন।
খ. অন্যের প্রতি আন্তরিক হোন এবং মন দিয়ে অন্যের কথা শুনুন
গ. বক্তাকে প্রশ্ন করুন
ঘ. Mirroring:
ঙ. আলাপ শেষ করার জন্যে তাড়াহুড়া করবেন না।
চ. মানুষের অনুভূতির মূল্যায়ন করুন。
ছ. দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না।
জ. সহযোগী হোন, প্রতিপক্ষ হবেন না।
📄 সহমর্মিতার চেকলিস্ট
এখানে আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে সহমর্মীতার একটি চেকলিস্ট দিচ্ছি। কুরআন ও হাদীসের মধ্যে আল্লাহ আমাদেরকে সহমর্মীতার যেসকল গুণগুলো অর্জন করতে বলেছেন সেগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছি কিনা অথবা পারলেও তাতে ঠিক কতটা সফল হয়েছি তা সম্পর্কে ধারণা পেতে এই চেকলিস্টটি আমাদের সাহায্য করবে。
| ক্র. | সহমর্মিতা মূলক কাজ | সবসময় | প্রায়সময় | মাঝেমাঝে | হঠাৎ | কখনো না | আল-কুরআনের আলোকে | হাদীস থেকে রেফারেন্স |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | দেখা হলেই ছোট বড় সবাইকে সালাম দেই। | | | | | | আন-নিসা, ৪:৮৬ | রিয়াদুস সালেহীন- ৮৪৪,৮৪৭ |
| ২ | কেউ কথা বলার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করি। | | | | | | আয়-যারিয়াত, ৫১:২৫ | |
| ৩ | বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষদের প্রতিটি প্রশ্নের সবরের সাথে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি। | | | | | | ইয়াসিন, ৩৬: ১৫ ত্বোয়া-হা, ২০:৪৬ | আল-আদাবুল মুফরাদ- ১১৬৪ |
| ৪ | কার মতের সাথে সম্মত না হলেও সম্মানের সাথে তার দৃষ্টিকোণ বোঝার চেষ্টা করি। | | | | | | আন-নিসা, ৪:৯৪ আন-নাহল, ১৬:১২৫ | সহিহ মুসলিম -২২৮৮ |
| ৫ | কেউ তার সমস্যা নিয়ে কথা বলার সময় তাকে উপকারী উপদেশ এবং সান্ত্বনামুলক কথা বলি। | | | | | | আল-বাকারা, ২: ২৬৩ আল-আ'রাফ, ৭: ১৯৯ | ৪০ হাদীস আন-নাবাওয়ী - ৭ (সহিহ মুসলিম-৫৫) |
| ৬ | কাউকে ভুলে কষ্ট দিয়ে ফেললে অনায়াসে তার কাছে ক্ষমা চাইতে পারি। | | | | | | হা-মীম সিজদাহ, ৪১: ৩৪ | মুসনাদ আহমাদ - ৬৯৪২, সহিহ বুখারী - ২৫১৮ |
| ৭ | কারো জন্য উপহার কেনার সময় এমন জিনিস নেওয়ার চেষ্টা করি, যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করব। | | | | | | আল-হাশর, ৫৯: ১০ আল-হুজুরাত, ৪৯: ১০ | সহিহ বুখারী - ১৩ |
| ৮ | অন্যের মুখে কারো সম্পর্কে খারাপ শুনলে তা বিশ্বাস করার আগে ভালভাবে যাচাই করে নেই। | | | | | | আল-হুজুরাত, ৪৯:৬ আল-ইসরা, ১৭:৩৬ | সহিহ মুসলিম -4, সুনান আবি দাউদ- ৪৯৭২ |
| ৯ | ইয়াতিম, মিসকিন কিংবা খুব অভাবে বা কষ্টে আছে এমন কাউকে দেখলে সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করি। | | | | | | আল-ইসরা, ১৭:২৬ | সহিহ বুখারী - ৫৩৫২, ৫৩৫৩ |
| ১০ | আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুরা কেউ অসুস্থ হলে নিয়মিত দেখতে যাই, তাদের জন্য দুয়া করি। | | | | | | আল-ইসরা, ১৭:২৬ আর-রুম, ৩০: ৩৮ | সহিহ মুসলিম - ২৫৬৮ |
| ১১ | আমার পরিচিত মানুষজন তাদের দুঃখ, হতাশা কিংবা গোপন কথা আমার সাথে বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। | | | | | | আল-ইসরা, ১৭:৩৪ আন-নিসা, ৪:৫৮ | সহিহ মুসলিম - ২৬৯৯, সুনান আবু দাউদ- ৪৭৯৯ |
| ১২ | কারো ভুল দেখলে সাথে সাথে শোধরানোর চেষ্টা না করে তাকে বোঝার চেষ্টা করি। | | | | | | আল-ইমরান, ৩: ১৫৯ | সুনান আন-নাসাঈ-৩৯৫৫ |
| ১৩ | আমার বা আমার পরিবার এর কারনে প্রতিবেশির কোনো কষ্ট হছে কিনা এই বিষয়ে আমি অত্যন্ত যত্নবান থাকি। | | | | | | আন-নিসা, ৪: ৩৬ | রিয়াদুস সালেহীন- ৩০৫, ৩০৮ |
ওপরের চেকলিস্টের ১৩টি গুণাবলির ওপর-
* কেউ যদি গড় এ ৪-৫ পায় তখন ধারণা করা যায় তার সহমর্মিতার লেভেল খুব ভালো।
* কেউ যদি গড় এ ৩ পায় তখন ধারণা করা যায় তার সহমর্মিতার বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি প্রয়োজন।
* কেউ যদি গড় এ ১-২ পায় তখন ধারণা করা যায় তার সহমর্মিতার লেভেল ভালো নয় এবং তার অনেক বেশি অগ্রগতি প্রয়োজন।
৫. সহমর্মিতার চেকলিস্ট
এখানে আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে সহমর্মীতার একটি চেকলিস্ট দিচ্ছি। কুরআন ও হাদীসের মধ্যে আল্লাহ আমাদেরকে সহমর্মীতার যেসকল গুণগুলো অর্জন করতে বলেছেন সেগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছি কিনা অথবা পারলেও তাতে ঠিক কতটা সফল হয়েছি তা সম্পর্কে ধারণা পেতে এই চেকলিস্টটি আমাদের সাহায্য করবে。
| ক্রমিক | সহমর্মিতা মূলক কাজ | সবসময় | প্রায়সময় | মাঝেমাঝে | হঠাৎ | কখনো না | আল-কুরআনের আলোকে | হাদীসের আলোকে |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | দেখা হলেই ছোট বড় সবাইকে সালাম দেই। | | | | | | আন-নিসা, ৪:৮৬ | রিয়াদুস সালেহীন- ৮৪৪,৮৪৭ |
| ২ | কেউ কথা বলার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করি। | | | | | | আয়-যারিয়াত, ৫১:২৫ | |
| ৩ | বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষদের প্রতিটি প্রশ্নের সবরের সাথে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি। | | | | | | ইয়াসিন, ৩৬: ১৫ ত্বোয়া-হা, ২০:৪৬ | আল-আদাবুল মুফরাদ- ১১৬৪ |
| ৪ | কার মতের সাথে সম্মত না হলেও সম্মানের সাথে তার দৃষ্টিকোণ বোঝার চেষ্টা করি। | | | | | | আন-নিসা, ৪:৯৪ আন-নাহল, ১৬:১২৫ | সহিহ মুসলিম -২২৮৮ |
| ৫ | কেউ তার সমস্যা নিয়ে কথা বলার সময় তাকে উপকারী উপদেশ এবং সান্ত্বনামুলক কথা বলি। | | | | | | আল-বাকারা, ২: ২৬৩ আল-আ'রাফ, ৭: ১৯৯ | ৪০ হাদীস আন-নাবাওয়ী - ৭ (সহিহ মুসলিম-৫৫) |
| | কাউকে ভুলে কষ্ট দিয়ে ফেললে অনায়াসে তার কাছে ক্ষমা চাইতে পারি। | | | | | | হা-মীম সিজদাহ, ৪১: ৩৪ | মুসনাদ আহমাদ - ৬৯৪২, সহিহ বুখারী - ২৫১৮ |
| | কারো জন্য উপহার কেনার সময় এমন জিনিস নেওয়ার চেষ্টা করি, যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করব। | | | | | | আল-হাশর, ৫৯: ১০ আল-হুজুরাত, ৪৯: ১০ | সহিহ বুখারী - ১৩ |
| | অন্যের মুখে কারো সম্পর্কে খারাপ শুনলে তা বিশ্বাস করার আগে ভালভাবে যাচাই করে নেই। | | | | | | আল-হুজুরাত, ৪৯:৬ আল-ইসরা, ১৭:৩৬ | সহিহ মুসলিম -4, সুনান আবি দাউদ- ৪৯৭২ |
| | ইয়াতিম, মিসকিন কিংবা খুব অভাবে বা কষ্টে আছে এমন কাউকে দেখলে সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করি। | | | | | | আল-ইসরা, ১৭:২৬ | সহিহ বুখারী - ৫৩৫২, ৫৩৫৩ |
| ১০ | আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুরা কেউ অসুস্থ হলে নিয়মিত দেখতে যাই, তাদের জন্য দুয়া করি। | | | | | | আল-ইসরা, ১৭:২৬ আর-রুম, ৩০: ৩৮ | সহিহ মুসলিম - ২৫৬৮ |
| ১১ | আমার পরিচিত মানুষজন তাদের দুঃখ, হতাশা কিংবা গোপন কথা আমার সাথে বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। | | | | | | আল-ইসরা, ১৭:৩৪ আন-নিসা, ৪:৫৮ | সহিহ মুসলিম - ২৬৯৯, সুনান আবু দাউদ- ৪৭৯৯ |
| ১২ | কারো ভুল দেখলে সাথে সাথে শোধরানোর চেষ্টা না করে তাকে বোঝার চেষ্টা করি। | | | | | | আল-ইমরান, ৩: ১৫৯ | সুনান আন-নাসাঈ-৩৯৫৫ |
| ১৩ | আমার বা আমার পরিবার এর কারনে প্রতিবেশির কোনো কষ্ট হছে কিনা এই বিষয়ে আমি অত্যন্ত যত্নবান থাকি। | | | | | | আন-নিসা, ৪: ৩৬ | রিয়াদুস সালেহীন- ৩০৫, ৩০৮ |
মোট নাম্বার=
ওপরের চেকলিস্টের ১৩টি গুণাবলির ওপর-
* কেউ যদি গড় এ ৪-৫ পায় তখন ধারণা করা যায় তার সহমর্মিতার লেভেল খুব ভালো।
* কেউ যদি গড় এ ৩ পায় তখন ধারণা করা যায় তার সহমর্মিতার বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি প্রয়োজন।
* কেউ যদি গড় এ ১-২ পায় তখন ধারণা করা যায় তার সহমর্মিতার লেভেল ভালো নয় এবং তার অনেক বেশি অগ্রগতি প্রয়োজন।