📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 Sympathy ও Empathy এর মধ্যে পার্থক্য

📄 Sympathy ও Empathy এর মধ্যে পার্থক্য


Sympathy অর্থ হলো- 'সহানুভূতি'। অর্থাৎ কোনো মানুষের দুঃখে দুঃখিত হওয়া এবং তাকে সান্ত্বনা দেওয়া, সবরের উপদেশ দেওয়া। অপরপক্ষে Empathy বলতে বোঝায়- 'সহমর্মিতা' যা সহানুভূতির চাইতেও আরও বেশি কিছু। একজন বিপদগ্রস্থ মানুষের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে তার শারীরিক/মানসিক/আত্মিক অবস্থাকে গভীরভাবে বুঝতে পারা এবং অনুভব করতে পারাই হলো সহমর্মিতা। অন্যভাবে বললে বিষয়টা এমন আসে, সহানুভূতি মানে হচ্ছে 'feeling for someone', আর সহমর্মিতা হচ্ছে 'feeling with that person'.

একটি হাদীস থেকে আমরা Sympathy ও Empathy এর মধ্যে পার্থক্য সুন্দরভাবে বুঝতে পারি। এক মহিলা তার সন্তানের মৃত্যুতে কাঁদছিল। রাসূল ﷺ তাকে দেখে কাঁদতে নিষেধ করলে সে বলল, "আপনি কীভাবে আমার কষ্ট বুঝবেন?" একথা শুনে রাসূল ﷺ আর কোনো জবাব দিলেন না, চুপচাপ চলে আসলেন। পরবর্তীকালে ওই মহিলা জানতে পারল যে, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ। সে রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করলে রাসূল ﷺ বললেন, "সবর তো প্রথম আঘাতে।”

এখানে রাসূল ﷺ অন্তর থেকে অনুভব করতে পেরেছিলেন একজন সন্তানহারা মায়ের অনুভূতি কেমন হতে পারে। এজন্য তিনি শুধু একবারই সতর্ক করেছিলেন বিলাপ করা থেকে। তাৎক্ষণিকভাবে আর কিছুই বলেননি। মহিলাটির ওপর ওই কঠিন মুহূর্তে ধর্মের বিধিনিষেধের আলোচনা করলেন না কিংবা মহিলার অযাচিত বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রের প্রধানসুলভ প্রতিবাদ করলেন না। বরং সে স্থান ত্যাগ করে সবরের বাস্তবিক উদাহরণ দেখালেন। সেই সাথে পরবর্তীকালে মমতামাখানো নির্দেশনা দিয়ে সহমর্মিতার চমৎকার উদাহরণ পেশ করলেন।

Sympathy অর্থ হলো- 'সহানুভূতি'। অর্থাৎ কোনো মানুষের দুঃখে দুঃখিত হওয়া এবং তাকে সান্ত্বনা দেওয়া, সবরের উপদেশ দেওয়া। অপরপক্ষে Empathy বলতে বোঝায়- 'সহমর্মিতা' যা সহানুভূতির চাইতেও আরও বেশি কিছু। একজন বিপদগ্রস্থ মানুষের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে তার শারীরিক/মানসিক/আত্মিক অবস্থাকে গভীরভাবে বুঝতে পারা এবং অনুভব করতে পারাই হলো সহমর্মিতা। অন্যভাবে বললে বিষয়টা এমন আসে, সহানুভূতি মানে হচ্ছে 'feeling for someone', আর সহমর্মিতা হচ্ছে 'feeling with that person'.

একটি হাদীস থেকে আমরা Sympathy ও Empathy এর মধ্যে পার্থক্য সুন্দরভাবে বুঝতে পারি। এক মহিলা তার সন্তানের মৃত্যুতে কাঁদছিল। রাসূল ﷺ তাকে দেখে কাঁদতে নিষেধ করলে সে বলল, "আপনি কীভাবে আমার কষ্ট বুঝবেন?" একথা শুনে রাসূল ﷺ আর কোনো জবাব দিলেন না, চুপচাপ চলে আসলেন। পরবর্তীকালে ওই মহিলা জানতে পারল যে, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ। সে রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করলে রাসূল ﷺ বললেন, "সবর তো প্রথম আঘাতে।”

এখানে রাসূল ﷺ অন্তর থেকে অনুভব করতে পেরেছিলেন একজন সন্তানহারা মায়ের অনুভূতি কেমন হতে পারে। এজন্য তিনি শুধু একবারই সতর্ক করেছিলেন বিলাপ করা থেকে। তাৎক্ষণিকভাবে আর কিছুই বলেননি। মহিলাটির ওপর ওই কঠিন মুহূর্তে ধর্মের বিধিনিষেধের আলোচনা করলেন না কিংবা মহিলার অযাচিত বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রের প্রধানসুলভ প্রতিবাদ করলেন না। বরং সে স্থান ত্যাগ করে সবরের বাস্তবিক উদাহরণ দেখালেন। সেই সাথে পরবর্তীকালে মমতামাখানো নির্দেশনা দিয়ে সহমর্মিতার চমৎকার উদাহরণ পেশ করলেন।

📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে সহমর্মিতা

📄 কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে সহমর্মিতা


কুরআনের সূরা আবাসাতে আল্লাহ তা'য়ালা মাক্কী জীবনের শুরুর দিকের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। একদিন নবিজি কুরাইশ নেতাদের সাথে দাওয়াতি আলাপ করছিলেন। মাঝে এক অন্ধ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম ﷺ এসে কিছু বলে উঠলে নবি ﷺ-এর মুখে খানিকটা বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে এবং তাঁর ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে যায়। তখন আল্লাহ কুরআনের এই আয়াত নাযিল করেন-
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَكَّى أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ أَن جَاءَهُ الْأَعْمَىٰ عَبَسَ وَتَوَلَّى الذكرى

"সে ভ্রু কুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি আগমন করেছিল। (হে নবি,) তুমি কেমন করে জানবে সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত, অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। "[১৩০]

এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, একজন নেতাকে অন্যের আবেগের প্রতি কতোটা আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে হবে।

এ ছাড়াও আল্লাহ কুরআনে রাসূল এর বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে তাঁর সহমর্মিতার কথা বলেছেন,

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

“তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদেরকে যা কিছু কষ্ট দেয় তা তার নিকট খুবই কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।”[১৩১]

কুরআন সাধারণভাবে সকল মুসলিমকে সহমর্মিতার গুণে গুণান্বিত হতে শিক্ষা দেয়। এই সংক্রান্ত অসংখ্য আয়াত কুরআনে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَمْ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ يَتِيمَا ذَا مَقْرَبَةٍ أَوْ مِسْكِيْنَا ذَا مَتْرَبَةٍ ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَ تَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَ تَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ .

"তুমি কি জানো, দুর্গম গিরিপথ কী? তা হচ্ছে, দাস মুক্ত করা। অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে ইয়াতিম আত্মীয়-স্বজনকে খাদ্য দান করা, অথবা দারিদ্র-ক্লিষ্ট মিসকীনকে। অতঃপর অন্তর্ভুক্ত হওয়া মুমিনদের এবং তাদের-যারা পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারনের ও দয়া প্রদর্শনের।”[১৩২]

আর যারা এই গুণগুলোর চর্চা করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন-

أُولَبِكَ أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ

"তারাই সৌভাগ্যবান।”

সুন্নাহর মাঝেও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতির জোর তাকিদ রয়েছে。

রাসূল ﷺ বলেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ-না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” [১৩৩]

ভিন্ন হাদীসে রয়েছে—“সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একটি দেহের মতো। দেহের এক অংশ যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয় তখন পুরো দেহ তা অনুভব করে” [১৩৪]

এখানে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের মাঝে সহমর্মিতাকে রাসূল ﷺ একটি বিশ্বজনীন বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, একজন মুসলিম হিসেবে অপর মুসলিম ছাড়াও সাধারণভাবে ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা থাকতে হবে। রাসূল ﷺ বলেন,

“যারা মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি দয়া দেখাবেন না”। [১৩৫]

রাসূল ﷺ যখন সালাতে ইমামতি করতেন তখন সালাতের মধ্যে কোনো শিশু কেঁদে উঠলে তিনি সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন- শিশু কাঁদলে মায়ের মনে যে আশঙ্কা-দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয় তা লাঘব করতেই তিনি দ্রুত সালাত শেষ করে দেন যাতে শিশুটির মা দ্রুত শিশুটিকে দেখতে পারে। [১৩৬]

সালাতের মতো এত মহান ইবাদতও রাসূল সংক্ষিপ করতেন। কারণ, তিনি কান্নারত শিশুদের মায়ের জায়গায় নিজেকে বসাতে পেরেছিলেন।

একটি হাদীসে রাসূল ﷺ আমাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে দেখেছেন যাকে জান্নাতে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর জন্য। সুবহানাল্লাহ! যদি প্রশ্ন করা হয়, কেন ওই ব্যক্তি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাতে গেল? তার উত্তর হতে পারে একটাই- অন্যান্য পথচারীদের প্রতি সহমর্মিতার কারণে। তাহলে এখানে আমরা দেখছি, এই সহমর্মিতাই একজন মানুষের জান্নাতের পাথেয় হতে পারে।

রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে অন্যের জন্য তাই পছন্দ করে যা নিজের জন্য পছন্দ করবে”। [১৩৭]

নিজের জন্য যা চাই অন্যের জন্যও তেমনটা চাওয়ার গুণ নিজেদের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে সামগ্রিকভাবে সমাজে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকত না। পারস্পরিক সহমর্মিতায় পরিপূর্ণ একটি সমাজ গড়ে উঠত।

ইসলাম শুধু মানুষের প্রতি সহমর্মিতাকেই উদ্‌বুদ্ধ করেনি। বরং পশু-পাখি ও অন্যান্য মাখলুকের প্রতিও ইসলাম আমাদেরকে সহমর্মী হতে শিখিয়েছে। বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে- বনী ইসরাঈলের এক পতিতা মহিলা এক তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জঘন্য গুনাহও ক্ষমা করে তারে জান্নাত দান করেন।

এক সাহাবি একবার পাখির বাসা থেকে কয়েকটি পাখির ছানা নিয়ে এসেছিল। রাসূল ﷺ দেখলেন, ছানাগুলোর মা পাখিটি ছানাগুলোর ওপর কিচির মিচির করে ঘুরছে। সন্তানের আশঙ্কায় মা পাখির হৃদয়ের ডাক রাসূল ﷺ শুনতে পেলেন। তিনি ওই সাহাবিকে নির্দেশ দিলেন- পাখির ছানাগুলোকে তাদের বাসায় মায়ের কাছে রেখে আসতে। [১৩৮]

আবু দাউদের একটি সহিহ হাদীসে রয়েছে, একদিন রাসুল ﷺ একটি বাগানে প্রবেশ করে হাড়-জিরজিরে শুকনো একটি উট দেখতে পেলেন। রাসূল ﷺ কে দেখেই উটটি কাঁদতে শুরু করল। রাসূল ﷺ সেটির পিঠে হাত রাখলে তা শান্ত হল। তিনি এরপর উটের মালিকটিকে ডেকে উটের অযত্ন-ক্ষুধা ও অতি-বোঝা চাপানোর জন্য তাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং এই ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করতে বললেন। [১৩৯]

এভাবে রাসূল ﷺ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, বরং সকল পশু-পাখিদের প্রতিও ছিলেন সহমর্মী。

টিকাঃ
[১৩০] সূরা আবাসা, ৮০:১-৪
[১৩১] সূরা তাওবাহ, ৯:১২৮
[১৩২] সূরা বালাদ, ৯০:১২-১৭
[১৩৩] সহিহ আল-বুখারি : ১৩
[১৩৪] সহিহ আল-бухари : ৬০১১
[১৩৫] সহিহ আল-বুখারী : ৭৩৭৬
[১৩৬] সহিদুল বুখারি : ৭১০
[১৩৭] সহিদুল বুখারি : ১৩
[১৩৮] মুসতাদরাকে হাকিম: ৭৮০৮
[১৩৯] সুনান আবু দাউদ: ২৫৪৯

কুরআনের সূরা আবাসাতে আল্লাহ তা'য়ালা মাক্কী জীবনের শুরুর দিকের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। একদিন নবিজি কুরাইশ নেতাদের সাথে দাওয়াতি আলাপ করছিলেন। মাঝে এক অন্ধ সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতুম ﷺ এসে কিছু বলে উঠলে নবি ﷺ-এর মুখে খানিকটা বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে এবং তাঁর ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে যায়। তখন আল্লাহ কুরআনের এই আয়াত নাযিল করেন-
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَكَّى أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ أَن جَاءَهُ الْأَعْمَىٰ عَبَسَ وَتَوَلَّى الذكرى

"সে ভ্রু কুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি আগমন করেছিল। (হে নবি,) তুমি কেমন করে জানবে সে হয়তো পরিশুদ্ধ হত, অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। "[১৩০]

এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, একজন নেতাকে অন্যের আবেগের প্রতি কতোটা আন্তরিক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে হবে।

এ ছাড়াও আল্লাহ কুরআনে রাসূল এর বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে তাঁর সহমর্মিতার কথা বলেছেন,

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

“তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদেরকে যা কিছু কষ্ট দেয় তা তার নিকট খুবই কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।”[১৩১]

কুরআন সাধারণভাবে সকল মুসলিমকে সহমর্মিতার গুণে গুণান্বিত হতে শিক্ষা দেয়। এই সংক্রান্ত অসংখ্য আয়াত কুরআনে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَمْ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ يَتِيمَا ذَا مَقْرَبَةٍ أَوْ مِسْكِيْنَا ذَا مَتْرَبَةٍ ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَ تَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَ تَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ .

"তুমি কি জানো, দুর্গম গিরিপথ কী? তা হচ্ছে, দাস মুক্ত করা। অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে ইয়াতিম আত্মীয়-স্বজনকে খাদ্য দান করা, অথবা দারিদ্র-ক্লিষ্ট মিসকীনকে। অতঃপর অন্তর্ভুক্ত হওয়া মুমিনদের এবং তাদের-যারা পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারনের ও দয়া প্রদর্শনের।”[১৩২]

আর যারা এই গুণগুলোর চর্চা করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন-

أُولَبِكَ أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ

"তারাই সৌভাগ্যবান।”

সুন্নাহর মাঝেও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতির জোর তাকিদ রয়েছে。

রাসূল ﷺ বলেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ-না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” [১৩৩]

ভিন্ন হাদীসে রয়েছে—“সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একটি দেহের মতো। দেহের এক অংশ যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয় তখন পুরো দেহ তা অনুভব করে” [১৩৪]

এখানে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের মাঝে সহমর্মিতাকে রাসূল ﷺ একটি বিশ্বজনীন বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, একজন মুসলিম হিসেবে অপর মুসলিম ছাড়াও সাধারণভাবে ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা থাকতে হবে। রাসূল ﷺ বলেন,

“যারা মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে না, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি দয়া দেখাবেন না”। [১৩৫]

রাসূল ﷺ যখন সালাতে ইমামতি করতেন তখন সালাতের মধ্যে কোনো শিশু কেঁদে উঠলে তিনি সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন- শিশু কাঁদলে মায়ের মনে যে আশঙ্কা-দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয় তা লাঘব করতেই তিনি দ্রুত সালাত শেষ করে দেন যাতে শিশুটির মা দ্রুত শিশুটিকে দেখতে পারে। [১৩৬]

সালাতের মতো এত মহান ইবাদতও রাসূল সংক্ষিপ করতেন। কারণ, তিনি কান্নারত শিশুদের মায়ের জায়গায় নিজেকে বসাতে পেরেছিলেন।

একটি হাদীসে রাসূল ﷺ আমাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে দেখেছেন যাকে জান্নাতে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর জন্য। সুবহানাল্লাহ! যদি প্রশ্ন করা হয়, কেন ওই ব্যক্তি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাতে গেল? তার উত্তর হতে পারে একটাই- অন্যান্য পথচারীদের প্রতি সহমর্মিতার কারণে। তাহলে এখানে আমরা দেখছি, এই সহমর্মিতাই একজন মানুষের জান্নাতের পাথেয় হতে পারে।

রাসূল ﷺ বলেছেন, “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে অন্যের জন্য তাই পছন্দ করে যা নিজের জন্য পছন্দ করবে”। [১৩৭]

নিজের জন্য যা চাই অন্যের জন্যও তেমনটা চাওয়ার গুণ নিজেদের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে সামগ্রিকভাবে সমাজে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ থাকত না। পারস্পরিক সহমর্মিতায় পরিপূর্ণ একটি সমাজ গড়ে উঠত।

ইসলাম শুধু মানুষের প্রতি সহমর্মিতাকেই উদ্‌বুদ্ধ করেনি। বরং পশু-পাখি ও অন্যান্য মাখলুকের প্রতিও ইসলাম আমাদেরকে সহমর্মী হতে শিখিয়েছে। বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে- বনী ইসরাঈলের এক পতিতা মহিলা এক তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জঘন্য গুনাহও ক্ষমা করে তারে জান্নাত দান করেন।

এক সাহাবি একবার পাখির বাসা থেকে কয়েকটি পাখির ছানা নিয়ে এসেছিল। রাসূল ﷺ দেখলেন, ছানাগুলোর মা পাখিটি ছানাগুলোর ওপর কিচির মিচির করে ঘুরছে। সন্তানের আশঙ্কায় মা পাখির হৃদয়ের ডাক রাসূল ﷺ শুনতে পেলেন। তিনি ওই সাহাবিকে নির্দেশ দিলেন- পাখির ছানাগুলোকে তাদের বাসায় মায়ের কাছে রেখে আসতে। [১৩৮]

আবু দাউদের একটি সহিহ হাদীসে রয়েছে, একদিন রাসুল ﷺ একটি বাগানে প্রবেশ করে হাড়-জিরজিরে শুকনো একটি উট দেখতে পেলেন। রাসূল ﷺ কে দেখেই উটটি কাঁদতে শুরু করল। রাসূল ﷺ সেটির পিঠে হাত রাখলে তা শান্ত হল। তিনি এরপর উটের মালিকটিকে ডেকে উটের অযত্ন-ক্ষুধা ও অতি-বোঝা চাপানোর জন্য তাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং এই ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করতে বললেন। [১৩৯]

এভাবে রাসূল ﷺ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, বরং সকল পশু-পাখিদের প্রতিও ছিলেন সহমর্মী。

টিকাঃ
[১৩০] সূরা আবাসা, ৮০:১-৪
[১৩১] সূরা তাওবাহ, ৯:১২৮
[১৩২] সূরা বালাদ, ৯০:১২-১৭
[১৩৩] সহিহ আল-বুখারি : ১৩
[১৩৪] সহিহ আল-бухари : ৬০১১
[১৩৫] সহিহ আল-বুখারী : ৭৩৭৬
[১৩৬] সহিদুল বুখারি : ৭১০
[১৩৭] সহিদুল বুখারি : ১৩
[১৩৮] মুসতাদরাকে হাকিম: ৭৮০৮
[১৩৯] সুনান আবু দাউদ: ২৫৪৯

📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 সহমর্মী হব কেন?

📄 সহমর্মী হব কেন?


মানুষ যখন পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হয় তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্কগুলো অনেক মজবুত হয়। নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। একজন অপরজনের দুঃখ কষ্টে বিপদে আপদে এগিয়ে আসে। অপরদিকে কর্মক্ষত্রে সহমর্মী মানুষের সফলতার হার বেশি। চাকরির ক্ষেত্রে তাদের প্রমোশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায় আর ব্যবসার ক্ষেত্রেও ব্যবসার পরিধি বেড়ে যায়। তা ছাড়া সহমর্মী মানুষ মানসিকভাবে উৎফুল্ল থাকে বিধায় শরীর সুস্থ থাকে এবং প্রোডাক্টিভ জীবনযাপন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সহমর্মী হওয়ার অনেক উপকারীতা লক্ষ্য করা যায়। চুরি, ড্রাগ ডিলিং, হত্যা, রাহাজানির মতো সমাজ বিরোধী কাজে সহমর্মী মানুষ জড়ায় না। জেলখানার মানুষদের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে সহমর্মীতা অত্যন্ত কম। যারা অপরাধী তারা অন্য লোকের আবেগ, অনভূতিকে কোনো পাত্তা দেয় না। পাত্তা দিলে তারা সেই অপরাধ করার মানসিক সাহসই পেত না। সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের রাসূল ﷺ যেই নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন সেখানেও মানুষকে পরস্পরের প্রতি সহমর্মী করে সমাজে অপরাধ কমানোর একটা প্রয়াস ছিল। সেই যেনা ব্যভিচার করতে চাওয়া যুবকটির কথা মনে আছে যা আমরা বইয়ের শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম? তাকেও কিন্তু সহমর্মীতার গুণে গুণান্বিত করেই রাসূল ﷺ সামাজিক অপরাধ কমানোর প্রয়াস চালিয়েছেন。

মানুষ যখন পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হয় তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্কগুলো অনেক মজবুত হয়। নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। একজন অপরজনের দুঃখ কষ্টে বিপদে আপদে এগিয়ে আসে। অপরদিকে কর্মক্ষত্রে সহমর্মী মানুষের সফলতার হার বেশি। চাকরির ক্ষেত্রে তাদের প্রমোশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায় আর ব্যবসার ক্ষেত্রেও ব্যবসার পরিধি বেড়ে যায়। তা ছাড়া সহমর্মী মানুষ মানসিকভাবে উৎফুল্ল থাকে বিধায় শরীর সুস্থ থাকে এবং প্রোডাক্টিভ জীবনযাপন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সহমর্মী হওয়ার অনেক উপকারীতা লক্ষ্য করা যায়। চুরি, ড্রাগ ডিলিং, হত্যা, রাহাজানির মতো সমাজ বিরোধী কাজে সহমর্মী মানুষ জড়ায় না। জেলখানার মানুষদের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে সহমর্মীতা অত্যন্ত কম। যারা অপরাধী তারা অন্য লোকের আবেগ, অনভূতিকে কোনো পাত্তা দেয় না। পাত্তা দিলে তারা সেই অপরাধ করার মানসিক সাহসই পেত না। সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের রাসূল ﷺ যেই নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন সেখানেও মানুষকে পরস্পরের প্রতি সহমর্মী করে সমাজে অপরাধ কমানোর একটা প্রয়াস ছিল। সেই যেনা ব্যভিচার করতে চাওয়া যুবকটির কথা মনে আছে যা আমরা বইয়ের শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম? তাকেও কিন্তু সহমর্মীতার গুণে গুণান্বিত করেই রাসূল ﷺ সামাজিক অপরাধ কমানোর প্রয়াস চালিয়েছেন。

📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 সহমর্মী হব কীভাবে?

📄 সহমর্মী হব কীভাবে?


ক. নিজেকে অন্যের অবস্থানে ভেবে দেখুন।
খ. অন্যের প্রতি আন্তরিক হোন এবং মন দিয়ে অন্যের কথা শুনুন
গ. বক্তাকে প্রশ্ন করুন
ঘ. Mirroring:
ঙ. আলাপ শেষ করার জন্যে তাড়াহুড়া করবেন না।
চ. মানুষের অনুভূতির মূল্যায়ন করুন。
ছ. দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না।
জ. সহযোগী হোন, প্রতিপক্ষ হবেন না।

ক. নিজেকে অন্যের অবস্থানে ভেবে দেখুন।
খ. অন্যের প্রতি আন্তরিক হোন এবং মন দিয়ে অন্যের কথা শুনুন
গ. বক্তাকে প্রশ্ন করুন
ঘ. Mirroring:
ঙ. আলাপ শেষ করার জন্যে তাড়াহুড়া করবেন না।
চ. মানুষের অনুভূতির মূল্যায়ন করুন。
ছ. দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবেন না।
জ. সহযোগী হোন, প্রতিপক্ষ হবেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00