📄 সবর (Patience)
সবর ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অনেকগুলো ভালো গুণের উৎস এই সবর। সবর নিছক সহনশীলতা কিংবা ধৈর্যকে বলে না। বরং আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুশীলন হিসেবে এটা তার চেয়ে বেশি কিছু। ইমাম ইবনুল জাওযী বলেছেন,
"আল্লাহ সবরকে সর্বোত্তম দান বানিয়েছেন। যে কাজগুলো করলে অথবা যে আমলগুলো পরিত্যাগ করলে আখিরাতে শাস্তি পেতে হবে, দুনিয়াতে এমন মোহময় কাজ থেকে আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং কষ্টকর হলে আদিষ্ট কাজগুলো অবশ্যই করার নাম হলো 'সবর'।"[৯৭]
ইসলাম সবরকে এতই গুরুত্ব দিয়েছে যে, সবরচর্চা করা এবং পরস্পরকে সবরের উপদেশ দেওয়াকে মানবজাতির মুক্তির অন্যতম পাথেয় বলে চিহ্নিত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَتِ وَ تَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
কসম সময়ের! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়-যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।"[৯৮]
আল্লাহ আরও বলেন, " مَا أُوتِيتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ وَ أَبْقَى لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبِيرَ الْإِثْمِ وَ الْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلوةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَهُمْ يُنْفِقُونَ اللَّهِ وَالَّذِينَ إِذَا أَصَابَهُمُ الْبَغْرُ هُمْ يَنْتَصِرُونَ )
অতএব, তোমাদেরকে যা দেওয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। তাদের জন্যে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাদের পালনকর্তার ওপর ভরসা করে। যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে এবং রাগান্বিত হয়েও ক্ষমা করে। যারা তাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য করে, নামায কায়েম করে। পারস্পরিক পরামর্শক্রমে কাজ করে। এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা আক্রান্ত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।"[৯৯]
এখানে আল্লাহ ক্রোধের মুহূর্তে ক্ষমা করার কথা বলেছেন। মূলত ক্রোধের মুহূর্তে মাথা ঠাণ্ডা রাখা ও ক্ষমা করতে পারা সবরেরই একটি রূপ। এটা আত্মনিয়ন্ত্রণের অন্যতম হাতিয়ার। ক্রোধের মুহূর্তে যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আল্লাহর রাসূল ﷺ এর ভাষায় সেই প্রকৃত বীর。
যারা আক্রান্ত হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে-এর বাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেছেন: এরা হল ওই সকল ব্যক্তি, যারা তাদের ওপর কোনো যুলুম হলে প্রতিশোধ নিতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা যালিমকে ক্ষমা করে দেওয়া বেছে নেয়。
এভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার বৈধ কারণ থাকা সত্ত্বেও সবর করা এবং ক্ষমা করে দেওয়া আত্মনিয়ন্ত্রণ অর্জনের অন্যতম মাধ্যম。
একবার এক লোক এসে রাসূল-কে বলল, "আমাকে উপদেশ দিন।” রাসূল ﷺ বললেন, "তুমি রাগ করবে না।” লোকটি একথা তিনবার বললে প্রতিবারই রাসূল ﷺ বললেন, "তুমি রাগ করবে না।”[১০০]
ভিন্ন হাদীসে রাসূল ﷺ বলেন, “সেই ব্যক্তি প্রকৃত বীর নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করতে পারে। বরং সেই প্রকৃত বীর, যে কিনা রাগের মুহূর্তে নিজেকে সংবরন করতে পারে।”[১০১]
তাহলে কীভাবে আমরা সবরের চর্চা করতে পারি? চলুন, কিছু উপায় জেনে নিই।
**আল্লাহ তাআলার কাছে আত্মসমর্পণ**
আমাদের জীবনের প্রতিটি বিষয় আল্লাহ তাআলার নিয়ন্ত্রণাধীন। এই বিষয়টি বুঝতে শেখা এবং মেনে নেওয়াটা একজন মুমিনের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষ সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে পুরোপুরিভাবে সমর্পিত করে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নিজেদের দুর্বলতাগুলোকে কাটিয়ে উঠতে পারি। তাঁর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা করার মাধ্যমে হতে পারি শক্তিশালী।
কুরআনের ৯০ টির বেশি জায়গায় আল্লাহ তাআলা সবর করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আইয়্যুব এবং ইয়াকুব এর এর মতো নবিদের জীবনের সবরের ঘটনাগুলো কুরআনের বেশকিছু জায়গায় উল্লেখিত হয়েছে। অসুস্থতার মাধ্যমে, কখনো ধন-সম্পদের লোকসানের মাধ্যমে, কখনো প্রিয়জনকে হারানোর শোকের মাধ্যমে তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন, কীভাবে এই নবিরা বারবার তাঁর অনুগ্রহের কাছেই ফিরে এসেছেন, তাঁর কাছেই বিপদ থেকে নিষ্কৃতির দুআ করেছেন। তারা একাগ্রচিত্তে সবর করে গেছেন, আল্লাহর ভালোবাসার ওপর বিশ্বাস করে গেছেন। অন্যভাবে বলা যায়, জীবনের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পৌঁছেও তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করেছেন পরিপূর্ণভাবে। তাদের এই ভরসা আর সবরই তাদেরকে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পার হতে সাহায্য করেছে এবং সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاسْمَعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ * وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُمْ مِنَ الصَّالِحِينَ ..
"স্মরণ কর ইসমা'ঈল, ইদরীস ও জুল-কিফল এর কথা, তাদের প্রত্যেকেই ছিল ধৈর্যশীল। আমি তাদেরকে আমার রাহমাতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম, কারণ তারা ছিল সৎকর্মশীল।"[১০২]
**একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন কোনটি সর্বোত্তম**
অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদ, হতাশা এমনকি ছোটখাটো কোনো কারণে মনে কষ্ট পেলেও এই কথাটি নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন। আপনার জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন, তার জন্যে এই কথাগুলো প্রযোজ্য। এক আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হোন এবং এর পেছনেই আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করুন। একইসাথে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং জান্নাতে আপনার স্থান দুটোই অর্জন করতে পারবেন।
আল্লাহ বলেছেন,
وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَ هُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
"পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তো-বা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।" [১০৩]
আয়াতগুলো কতটা স্বস্তিদায়ক, সুবহানাআল্লাহ! আপনি যে পরিস্থিতিতেই পড়ুন না কেন, তা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি খুব ভালোভাবেই জানেন, আপনার জীবনে কী প্রয়োজন। বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারলে আপনি খুব সহজেই আপনার অন্তরের নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে ঝেড়ে ফেলতে পারবেন। আর এভাবেই আপনি একজন ধৈর্যশীল মানুষে পরিণত হতে পারবেন।
**আল্লাহ তাআলা আপনার সমস্ত দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে চান**
আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন। তিনি চান, যত যা-ই হোক, দিনশেষে আপনি আপনার দুঃখ-কষ্টের ভারটুকু আল্লাহকে বলেই ভারমুক্ত হন। ঠিক যেমনটা করেছিলেন, নবি ইয়াকুব (আঃ)। তিনি তখনো জানতেন না, তাঁর পুত্রদের সাথে তাঁর আর কখনো দেখা হবে কি না! তিনি তাঁর হারানো সম্পদ ও পরিবার আর কখনো ফিরে পাবেন কি না! সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা ছিল— আদৌ আর কখনো তিনি সুস্থ হবেন কি না! আল্লাহ তাঁর কথা কুরআনে তুলে ধরেছেন এভাবে—
قَالَ إِنَّمَا أَشْكُوا بَنِي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
"তিনি বললেন, আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তা তোমরা জান না।"[১০৪]
অনুসরণ করার জন্যে এরচেয়ে উত্তম আদর্শ আর কী হতে পারে?
**সান্ত্বনা খুঁজুন সালাতে**
বিপদ যখন আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে, তখন আমাদের ধৈর্য হ্রাস পেতে থাকে। হতাশা বাড়তে থাকে। যখন এমনটা হবে, তখন নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে সালাতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করুন। সালাতের আরেকটি বিশেষ দিক হলো এটি আপনাকে ধীরস্থিরভাবে পদক্ষেপ নিতে, বিনয়াবনত হতে এবং স্রষ্টার সাথে আপনার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে। একজন মুসলিমকে দৈনিক পাঁচবার সালাত আদায় করতে হয়। আন্তরিকভাবে এই ইবাদত করতে পারলে আপনি উপলব্ধি করবেন যে, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনোকিছুই সম্ভব নয়।
**নিজ আবেগ ও কর্মক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ**
দুঃখ-কষ্ট-হতাশা-অপ্রাপ্তির কারণে কারণে মানুষ নিজ অবস্থার উন্নয়নে মন দিতে পারে না। এতে করে কেবল দুশ্চিন্তার বোঝা বাড়ে এবং একসময় মানুষকে চূড়ান্ত দুঃখ-কষ্টের মাঝে ডুবিয়ে দেয়। আল্লাহ চান, এ ধরনের মুহূর্তগুলোতে আপনি তার কাছে ফিরে আসুন। সেইসাথে তিনি এটাও চান—আপনি আপনার জীবনের দায়-দায়িত্ব বুঝতে শিখুন। আপনার কর্মস্থল, নিজের ঘর, পরিবার-পরিজন বা অধীনস্তদের প্রতি দায়িত্ববান হোন। যদি এই কর্তব্যগুলো পালন না করে কেবল দুঃখবিলাসে গা ভাসিয়ে দেন, তবে হতাশা আপনাকে আরও গভীর অতলে নিয়ে যাবে।
**প্রতিকূল সময়ে গভীর চিন্তাভাবনা**
কিছুটা ধাতস্থ হয়ে আসার পর নিজ জীবনের দিকে ফিরে তাকান। আপনার জীবনের নিয়ামতগুলোর কথা চিন্তা করে দেখুন, যার জন্যে আপনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। সেইসব মুহুর্তের কথা স্মরণ করুন, যেগুলো আপনাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবর করতে সাহায্য করবে। এরপর আল্লাহ তাআলার কাছে আপনার যা যা প্রয়োজন, তা চেয়ে নিন। এটি আপনাকে বিনয়ী করবে এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে সাহায্য করবে।
**সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে**
ভালো বা মন্দ যা-ই আসুক না কেন, তা আল্লাহই পাঠান। আমাদের পরীক্ষা করার জন্যেই এগুলো আমাদের ওপর আপতিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ধন-সম্পদ আমাদের জন্যে পরীক্ষা। এগুলো আমরা কোন পথে ব্যয় করছি, সেটাই আল্লাহ পরখ করতে চান। আপনি কি অন্যদের সাহায্য করছেন নাকি কেবল নিজের আখের গুছাচ্ছেন। ঠিক একইভাবে, আপনি যখন কোনো বিপদের মুখে পড়েন তখন সেটাও আপনার জন্যে পরীক্ষা। এই সময়ে আপনি আল্লাহকে স্মরণ করেন নাকি মুখ ফিরিয়ে নেন।মনে রাখতে হবে, ধৈর্যধারণ করা সহজ কাজ নয়। আল্লাহ তাআলা নিজেই এই কথা কুরআনে বলেছেন,
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ
"নিশ্চয়ই তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের জন্যে কঠিন।"[১০৫]
কাজেই, ধৈর্য সহকারে সালাতে মনোনিবেশ করা এবং আল্লাহর কাছে চাওয়াটা সহজ কাজ নয়। বিশেষত বিপদের মুহূর্তগুলোতে তা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আপনার রব জানেন আপনি লড়াই করে চলেছেন। তিনি জানেন, তার সন্তুষ্টির জন্যে, তার সাহায্যের জন্যে আপনি কতোটা কষ্ট করছেন!
নিজের ধৈর্যশক্তি বাড়ানোর জন্যে কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর নির্দেশনাগুলো বা নবিজি ﷺ এর হাদীসগুলোকে মেনে চলুন। আপনার যদি মনে হয় আপনার সাহায্যের প্রয়োজন, তবে কাছের কোনো মসজিদে চলে যান এবং নসিহতের জন্যে কোনো আলেমের শরণাপন্ন হোন। অথবা, আপনার কোনো মুমিন বন্ধুর কাছে যান যারা আপনাকে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দিতে পারবে; তা না পারলেও অন্তত আপনার জন্য দুআ করতে পারবে।
টিকাঃ
[৯৭] ফাতহুল বারীঃ ১১/৩০৪
[৯৮] সূরা আসর, ১০৩:১-৩
[৯৯] সূরা আশ শুরা, ৪২: ৩৬-৩৯
[১০০] সহিহুল বুখারি: ৬১1৬
[১০১] সহিহুল বুখাবি: ৬১১৪
[১০২] সূরা আম্বিয়া, ২১:৮৫-৮৬
[১০৩] সূরা বাকারা, ২:২১৬
[১০৪] সূরা ইউসুফ, ১২:৮৬
[১০৫] সূরা বাকারা, ২:৪৫
📄 আত্মবিশ্বাস (Self-confidence)
আত্মবিশ্বাস হলো নিজেদের সম্পর্কে এবং নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে আমাদের অনুভূতি। একজন আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তির নিজেকে ভালভাবে পরিচালনা করার, জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার, বাধাগুলো অতিক্রম করার ক্ষমতা রয়েছে। আত্মবিশ্বাস এমনই গুরুত্বপূর্ণ ইমোশনাল ফ্যাক্টর, যা একজন ব্যক্তিকে অন্যদের কাছে সহজেই আপন হতে এবং তাদের সাথে ভালোভাবে যোগাযোগ করতে সক্ষম করে তোলে। পাশাপাশি তাকে বর্তমানের অর্জন এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম করে।
'আত্মবিশ্বাস' শব্দটির সাথে সমস্বরে আরেকটি শব্দ চলে আসে। তা হলে 'আত্মসম্মান'। এই শব্দ দুটি অনেকসময় একটি আরেকটির প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে শব্দ দুইটার মাঝে সূক্ষ্ম ফারাক আছে। কখনো কেউ দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে পারে অথচ তখন হয়তো তার আত্মসম্মানবোধ একেবারে তলানিতে। আবার আত্মসম্মানের প্রাচুর্য থাকলেও আত্মবিশ্বাসের অভাবে অনেক কাজ করা হয়ে ওঠে না। অবস্থার পরিবর্তন হলে আমাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রাও পরিবর্তিত হয়ে যায়। পরিচিত পরিবেশে আত্মবিশ্বাসী হওয়া সহজ। কিন্তু নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় চুপসে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। আমাদের জীবনের অতীত ঘটনা আর স্মৃতির কারণেও আমাদের আত্মবিশ্বাসের পারদ ওঠানামা করে। আত্মবিশ্বাস হলো আস্থা, বিশ্বাস এবং নির্ভরতার মিলিত রুপ。
ইসলামি বিশ্বাসে আরেকটি শব্দ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো 'তাওয়াক্কুল' বা 'আল্লাহর ওপর ভরসা'। অনেকে আত্মবিশ্বাসকে তাওয়াক্কুলের বিপরীত মনে করলেও আত্মবিশ্বাস এবং তাওয়াক্কুলের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। বরং তাওয়াক্কুল মানুষকে যথাযথভাবে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।
হাসান বসরি রহ. বলেন, 'মালিকের ওপর বান্দার তাওয়াক্কুলের অর্থ, আল্লাহই তার নির্ভরতার স্থান-একথা সে মনে রাখবে।' [১০৬]
কীভাবে একটি মানব শিশুশ্র মধ্যে হাঁটার আত্মবিশ্বাস বিকাশ লাভ করে? প্রথমত, মা সন্তানকে তার হাত ধরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। তারপরে সে শিশুটিকে নিজের মতো চলতে দেয়। কয়েক ধাপ পিছিয়ে যায় এবং শিশুটিকে তার কাছে আসতে বলে। শিশুটি প্রথমে নিশ্চিত হতে পারে না যে সে এটি করতে পারবে কি না। কিন্তু তার মায়ের হাসি তাকে আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। তার মায়ের প্রতি তার আস্থা তার নিজের প্রতি তার আস্থাকে জোরালো করে। শীঘ্রই শিশুটি তার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। মূলত তাওয়াক্কুলের মাঝে আত্মবিশ্বাসের বীজ এবং 'নিজেকে জানা'র মাঝে সেই আত্মবিশ্বাসের বিকাশ লুকিয়ে আছে। সকল নবিই তাদের জীবনে আত্মবিশ্বাসের সৌন্দর্য ও শক্তি দেখিয়েছেন।
**নবি-রাসূলগণের আত্মবিশ্বাস**
নবি ইউসুফ এবং মূসা এর আত্মবিশ্বাসের উদাহরণ আমাদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষনীয় হতে পারে। ইউসুফকে অনেক বছর কারাগারে রাখার পর যখন বাদশাহের দরবারে আনা হলো তিনি তাদের সামনে নিজেকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হিসেবে মেলে ধরেন। এত বছর জেলের অন্ধকার কুঠিরে থাকার পর তিনি আশাহত হয়ে দরবারে আসার কথা ছিল। তার ওপর তিনি জানতেন তার গায়ে দাসের কালিমা লেগে আছে। কিন্তু তিনি ছিলেন আত্মসচেতন ও আত্মবিশ্বাসী। নবি ইউসুফ ** জানতেন তৎকালীন বাদশাহ তার ব্যাপারে দুটো জায়গায় খুশি। এক, তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারেন।
দুই, তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত জেল থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানান।
তাই ভিনদেশী দাস এবং রাজার চোখে দোষী হয়েও তার সততা, আল্লাহভীরুতা এবং ঐশী জ্ঞান তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি বাদশাহ'র চোখে চোখ রেখে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ 'রাষ্ট্রের কোষাধ্যক্ষ' হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।
'আমাকে দেশের কোষাধ্যক্ষ নিযুক্তকরুন। নিশ্চয়ই আমি সুসংরক্ষণকারী, সুবিজ্ঞ।[১০৭]
খরাকবলিত এক দেশের জন্য এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ একটা দায়িত্ব ছিল। কিন্তু ইউসুফ আল্লাহ-প্রদত্ত আত্মবিশ্বাসের জোরেই এমন কন্টাকীর্ণ পথে হাঁটার ইরাদা করেন।
নবি ইউসুফ এর এ ঘটনার সূত্র ধরে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আল্লাহ আমাদের কী দায়িত্ব দিয়েছেন? আমরা কী কী গুণাবলি এবং প্রতিভা উপহার হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছি? আমরা কি আমাদের প্রতিভা ব্যবহার করে আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? নাকি আমাদের তাওয়াক্কুল ও আত্মবিশ্বাসের অভাবের কারণে আমরা পিছিয়ে আছি?
নবি মূসা এর ঘটনার দিকে আমরা চোখ বুলালে তার আত্মবিশ্বাসের বিচ্ছুরণ অনুভব করতে পারব। অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের বোঝা মাথায় নিয়ে দেশ ত্যাগ করে দশ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসছিলেন। তখন তিনি দূর পাহাড়ে আগুন দেখতে পান। সেখানে গিয়ে মহাবিশ্বের রবের সাথে তার কথোপকথন হয়। রাব্বুল আলামীন তাকে ফেরাউনকে দাওয়াত দেওয়ার মতো কঠিন দায়িত্ব দেন। চিন্তা করুন মূসা এর কথা! অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের বোঝা মাথায় নিয়ে দেশত্যাগী হয়ে ফেরাউন থেকে পালিয়ে থাকা আবার সেই ফেরাউনের প্রতি রয়েছে ছোটবেলার ঋণ।[১০৮] এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের মধ্যে আরও একটা বড় সমস্যা ছিল মুখের জড়তা। কিন্তু এসব কোনো সমস্যাই তার কাছে আল্লাহর নির্দেশের সামনে সমস্যা মনে হলো না। তিনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করার জন্য তৎকালীন ভাষার ভংগিতে আল্লাহর কাছে দুআ করলেন-
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
'হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও।
মুখের জড়তা দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানালেন এভাবে-
وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةٌ مِّن لِسَانِي
এবং আমার কর্ম সহজ করে দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও।
তারপর নিজের ভাইকে সহযোগী হিসেবে দেওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে মিনতি জানালেন。
وَاجْعَل لِّي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي
আমার স্বজনদের মধ্য হতে আমার জন্য একজন সহায়ক নিযুক্ত কর।
যখন আমরা এমন কোনো দায়িত্বের সম্মুখীন হই যা পূরণ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব বলে মনে হয়, তখন মুসা আলাইহিস সালাম -এর জীবনের এই ঘটনাটি স্মরণ করুন। মনে রাখবেন যে মহাবিশ্বের রব আপনাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। কারণ তিনি জানেন আপনি এটি করতে পারেন। এমনকি আপনি নিজে এটি উপলব্ধি করতে না পারলেও। আপনার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন ত্রুটিগুলো সম্পর্কে চিন্তা করুন এবং সেগুলো কাটিয়ে উঠার জন্য দুআ করুন।
আমাদের প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে তার সাহাবিদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের খুঁটি গেড়ে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
অসুন্দর নাম পরিবর্তন:
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উচ্চ প্রজ্ঞার কারণে আত্ম- বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য ভাল নামের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি ভাল নাম পছন্দ করতেন। কুৎসিত নাম পরিবর্তন করে তিনি সুন্দর অর্থবহ নাম দিতেন। উমরের এক কন্যার নাম ছিল 'আসিয়াহ' রাসূল আসিয়ার নাম পরিবর্তন করে বলেছিলেন: "তুমি জামিলা।”[১০৯]
নিজেকে অপমান না করা:
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যেন না বলে-আমার আত্মা খারাপ হয়ে গেছে। বরং সে বলুক, আমার আত্মা অনুতপ্তহীন হয়ে উঠেছে।”[১১০]
অনেকে ভাল নিয়তে কিংবা রিয়ার উদ্দেশ্যেও নিজের সম্পর্কে অপমানসূচক কথা বলে। আল্লাহর রাসূল ওপরের হাদীসে ভাল নিয়তেও নিজেকে নিয়ে কটুকথা বলতে নিষেধ করেছেন। কেউ যদি গোপনে কোনো খারাপ কাজ করে ফেলে, সেটা সবাইকে বলে বেড়ানো উচিত না। নিজের কাছে এবং মানুষের কাছে নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখা তাকে আত্মবিশ্বাসী করবে।
পজিটিভ ম্যাসেজ : রাসূল তার সঙ্গীসাথিদেরকে পজিটিভ ম্যাসেজ দিয়ে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করতেন। আবু বকর-কে নিজের বন্ধু বলে তিনি সম্বোধন করেছেন। উমর সম্পর্কে বলেছেন, আমার পরে কেউ নবি হলে সে হতো উমর।[১১১] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদকে জ্ঞানের গভীরতা এবং আগ্রহের জন্য "শিক্ষিত ছেলে”[১১২] বলে সম্বোধন করেছেন। মূসা আশআরীকে সুন্দর কণ্ঠের জন্য বলেছেন- 'দাঊদ এর পরিবার থেকে একটা বাঁশি তোমাকে দেওয়া হয়েছে।[১১৩] এভাবে সকলের ভালো বিষয়গুলোকে সামনে এনে তিনি তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতেন।
• অহংকার নয়, নিজের সম্পর্কে সঠিক ধারণা
সমাজে চলতে গেলে অনেকসময় মানুষকে নিজের সম্পর্কে জানানোর প্রয়োজন হয়ে পরে। নিজের ভালো এবং শক্তিশালী দিকগুলো তাদেরকে বিনয়ের সাথে দেখিয়ে দিলে অহংকার হবে না, বরং তা নিজের সম্পর্কে সুধারণার বহিঃপ্রকাশই হবে। এ বিষয়টা কিছুক্ষেত্রে মানুষের জন্যও উপকারী হবে। যেমন ধরুন, আল্লাহ রাসূল ﷺ নিজের সম্পর্কে কাফের মুশরিকদের বারবার জানিয়েছেন। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদেরকেও নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, "আমি আদম সন্তানের শিক্ষক, আমি আল্লাহর প্রিয় এবং এতে কোনো অহংকার নেই। আমি কেয়ামতের দিন নবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুসরণকারী। আমিই তোমাদের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং সবচেয়ে বেশি ধার্মিক এবং আমি যারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তাদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য।"
তেমনিভাবে রাসূল ﷺ -এর একজন প্রিয় সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ মানুষকে কুরআনের শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, "তাঁর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই! আল্লাহর কিতাবে এমন কোনো সূরা নেই, যেটি নাযিল হওয়ার স্থান সম্পর্কে আমি অবগত নই। এমন কোনো আয়াত নেই, যেটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আমি বেখবর......।"
রাসূল ﷺ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সাহাবিদের মাঝে আত্মবিশ্বাসের গুণ জাগরুক রাখার চেষ্টা করেছেন। হাদীসের পরতে পরতে উম্মাহর সদস্যদের আত্মবিশ্বাসী করার জন্য রাসূল ﷺ -এর দিকনির্দেশনা আছে। কুরআন হাদীসকে জানার সাথে সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
* নিজের দক্ষতা এবং দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন মানুষ যখন নিজের সামর্থ্য ও অক্ষমতা সম্পর্কে জানে না, তখন সে আস্থাহীন হয়ে পড়ে। নিজের ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা থাকাই আত্মবিশ্বাস অর্জনের মূল উপায়। এজন্য জো-হ্যারি মডেল ও SWOT analysis অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদক্ষেপ।
* অতীতের সাফল্যের স্মৃতি স্মরণ করাও একজন ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। বিশেষত যখন আমাদের জীবনে একের পর এক ব্যর্থতা আসে তখন অতীত সাফল্যের মধুর স্মৃতিই হতে পারে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। তবে এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যে, অতীত সাফল্য যেন আমাদেরকে আত্ম-অহমিকা কিংবা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে নিপতিত না করে।
* প্রাসঙ্গিক বিষয়ে এবং নিজের কাজের বিষয়ে বেশি বেশি পড়াশোনা করলে এবং জানাশোনার পরিধি বাড়ালে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরী হয়। এর জন্য প্রয়োজন আনন্দের সাথে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য পড়া এবং নিজের কাজ/ব্যবসার বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা রাখা। নিজের কাজ বা ব্যবসার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ধারণা থাকলে নিজ থেকেই আত্মবিশ্বাস তৈরী হয়।
* আল্লাহর ওপর বিশ্বাস (ঈমান) এবং নির্ভরতা (তাওয়াক্কুল) একজন মানুষকে মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী করে দেয়। সে তার প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির দিকে লক্ষ্য রাখে। ফলে সে হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসী এবং পদে পদে আল্লাহর সাহায্য সে অনুভব করে।
টিকাঃ
[১০৬] জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম, পৃঃ ৪৩৭
[১০৭] সূরা ইউসুফ-৫৫
[১০৮] যদিও অনেকে দুই সময় ভিন্ন দুই ফিরাউনের কথা বলেন। তৎকালীন মিশরে বাদশাহদের ফেরাউন বলা হত
[১০৯] সহিহ মুসলিম: ২১৩৯
[১১০] সহিহ বুখারি: ৬১৭৯
[১১১] সুনানুত তিরমিযি: ৩৬৮৬
[১১২] মুসনাদে আহমাদ: ৩৫৯৯
[১১৩] সহিহুল বুখারি: ৫০৪৮