📘 ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নববী দর্পণে সমকালীন ধারণা > 📄 পারিবারিক জীবনে

📄 পারিবারিক জীবনে


পারিবারিক জীবনেও বিচক্ষণ অনুভূতি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরিবারে যারা নিজেদের ও অন্যান্য সদস্যদের আবেগ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং এই সচেতনতাকে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজে লাগায়, তাদের সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুসম্পর্ক বজায় থাকে। আবার যারা আবেগের বিষয়টিকে উপেক্ষা করে নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সর্বদা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাদের সাথে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রায়ই ঝামেলা বাধে। কারণ, মানুষ একইসাথে বুদ্ধিমান ও আবেগী প্রাণী। তাই একজন মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বিনির্মাণের ক্ষেত্রে আবেগকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা যথেষ্ট নয়।

স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অন্যের আবেগকে বোঝার চেষ্টা করা। এই ব্যাপারে রাসুল ﷺ আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ ও শিক্ষা রেখে গেছেন।

একদা রাসূল ﷺ আয়িশা-কে বললেন, 'আমি বুঝতে পারি যে, কখন তুমি আমার ওপর সন্তুষ্ট আর কখন অসন্তুষ্ট থাকো। যখন তুমি বলো “মুহাম্মাদের রবের কসম”, তখন বুঝি-তুমি আমার ওপর সন্তুষ্ট। আর যখন বলো "ইবরাহীমের রবের কসম”, তখন বুঝি-তুমি আমার ওপর অসন্তুষ্ট।[১৪]

স্ত্রীর আবেগকে এত নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করার শিক্ষা রাসূল ﷺ ছাড়া আর কার কাছে পাব?

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার এই প্রয়োগ বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের বন্ধনও মজবুত করতে কাজে লাগে। বাবা-মা যদি সন্তানের আবেগ বুঝতে পারে এবং বুঝতে পারে যে, কোন সময়ে ও কোন পরিস্থিতিতে সে আদেশ মেনে চলতে প্রস্তুত, তবে ওই পরিস্থিতি বুঝে তাকে শিক্ষা দেওয়া সহজ হবে। এবং এই শিক্ষা সন্তানের জন উপকারী হবে। সন্তানের মানসিক অবস্থা যাচাই না করে যখন-তখন উপদেশ দিতে থাকলে, তা কেবল অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করবে।

রাসূল ﷺ একেবারে ছোট বাচ্চাদের আবেগকেও মূল্যায়ন করেছেন। তিনি যখন মদীনার রাস্তায় হেঁটে বেড়াতেন, তখন মাঝে মাঝে বাচ্চারা তাঁর হাত ধরে ফেলত। তাঁকে নিয়ে অনেক দূর চলে যেত। কোনো বাচ্চা নিজ থেকে হাত না ছাড়া পর্যন্ত রাসূল ﷺ ওর হাত ছেড়ে দিতেন না। অর্থাৎ যে আবেগ থেকে বাচ্চারা রাসূল ﷺ-এর হাত ধরত, তিনি সেই আবেগটিকে নষ্ট হতে দিতেন না। একইভাবে যখন তিনি নামাজে সিজদায় যেতেন, তখন হাসান-হুসাইন তাঁর পিঠে উঠে যেত ঘোড়া ঘোড়া খেলার জন্য। যতক্ষণ না তারা পিঠ থেকে নামত, ততক্ষণ রাসূল ﷺ এর সিজদা থেকে মাথা ওঠাতেন না। এগুলো সবই সামাজিক দক্ষতার জীবন্ত উদাহরণ।

মোট কথা, একজন বিচক্ষণ অনুভূতিসম্পন্ন মানুষ-
কঠিন পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারে।
নিজের কথাগুলো যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারে।
অন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারে।
দরকষাকষির সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
অন্যদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।

টিকাঃ
[১৪] সহিহুল বুখারি: ৬০৭৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00