📄 বিনয়ী হওয়া ও দুনিয়ার চাকচিক্য পরিত্যাগ করা
১৭. বিনয়ী হওয়া ও দুনিয়ার চাকচিক্য পরিত্যাগ করা। কথাবার্তায় চাল-চলনে বিনয়ী হলে অন্তরও বিনয়ী হয়। এ জন্যই রাসূল ﷺ বলেছেন, “সাধাসিধে চাল-চলন হলো ঈমানের অঙ্গ। "
তিনি আরও বলেছেন, "যে ব্যক্তি ক্ষমতা বা সামর্থ থাকা সত্ত্বেও চাকচিক্যময় পোশাক পরিত্যাগ করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকুলের সামনে তাকে ডেকে এখতিয়ার দেবেন যে, সে ঈমানের যে পোশাকটি ইচ্ছা পরতে পারবে। "
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযي. এমনভাবে চলাফেরা করতেন যে, তাঁকে এবং তাঁর গোলামদের মাঝে পার্থক্য করা যেত না।
টিকাঃ
১৩৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪১১৮
১৩৯. সুনানে তিরমিযী: ২৪৮১
📄 অন্তরের কিছু করণীয় বিষয়: আল্লাহকে ভালোবাসা
১৮. অন্তরের কিছু করণীয় রয়েছে, যা ঈমানকে মজবুত ও তরতাজা করে। যেমন, আল্লাহকে ভালোবাসা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর প্রতি সুধারণা রাখা, তাঁর প্রতি ভরসা করা, তাঁর ফায়সালার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকা, তাঁর নিকট তাওবা করা ইত্যাদি। বান্দাকে অবশ্যই এমন এক অবস্থানে পৌঁছতে হবে; যেন সে ঈমানের ওপর সুদৃঢ় থাকে। কুরআন ও হাদীসকে আঁকড়ে ধরে আল্লাহমুখী হয় এবং তাকওয়া অবলম্বন করে।
📄 আত্মসমালোচনা করা
১৯. আত্মসমালোচনা করা ঈমানকে মজবুত করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্য সে কী প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা।”
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. বলেন-
حاسبوا أنفسكم قبل أن تحاسبوا
“তোমরা হিসাব দেওয়ার পূর্বেই নিজেদের হিসাব কর।”
একজন মুসলমানের উচিত সে এক নির্দিষ্ট সময়ে একাকী নিজের কাজের পর্যালোচনা করে তার হিসাব নেবে এবং লক্ষ্য করবে যে, সে পরকালের জন্য কী করেছে?
টিকাঃ
১৪০. সূরা হাশর: ১৮
📄 আল্লাহর নিকট সর্বদা দুআ করা
২০. পরিশেষে আল্লাহর নিকট সর্বদা দুআ করা; যেন ঈমান মজবুত হয়, দুর্বলতা দূর হয়। রাসূল ﷺ বলেন-
إن الإيمان ليخلق في جوف أحدكم كما يخلق الثوب فاسألوا الله أن يجدد الإيمان في قلوبكم
“নিশ্চয়ই তোমাদের পেটের মাঝে ঈমান জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিকট দুআ কর; যেন তিনি তোমাদের অন্তঃকরণে ঈমানকে নতুন করে দেন।”
হে আল্লাহ! আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনার সুন্দরতম নাম এবং সুমহান গুণাবলির মাধ্যমে যেন আপনি আমাদের অন্তঃকরণে ঈমানকে নব জীবন দান করেন। হে আল্লাহ! আমাদের নিকট ঈমানকে পছন্দনীয় করে দিন। এবং তা আমাদের অন্তঃকরণে সৌন্দর্যময় করে তুলুন। আমাদের নিকট কুফরী, খোদাদ্রোহীতা এবং অবাধ্যতাকে ঘৃণিত করে দিন। আর আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন (আমীন)। আমাদের প্রভু প্রশংসিত এবং তা হতে পবিত্র যা তারা (কাফের-মুশরিকরা) সাব্যস্ত করে। রাসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং সমস্ত প্রশংসা একমাত্র বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের জন্য।