📄 আল্লাহর নির্দশনসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
১৫. আল্লাহর নির্দশনসমূহের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তা তার অন্তরের তাকওয়া থেকেই হয়।”
আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মাঝে রয়েছে কতিপয় স্থান। আবার কিছু কিছু সময়-কালের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, কা'বা শরীফ, রমজান মাস ইত্যাদি।
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন-
وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কায়েম করা সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা করবে, এটা তার নিজের জন্যই তার রবের নিকট খুবই কল্যাণকর হবে।”
আল্লাহর দেওয়া সীমারেখাকে সম্মান করার অর্থ হলো, সগীরা গুনাহকে ছোট মনে না করা। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন। রাসূল ﷺ বলেছেন, "সাবধান! তোমরা গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করো না। কেননা, কারো গুনাহ জমতে থাকলে তাকে তা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করে ফেলবে। তিনি এর উদাহরণ এভাবে দিয়েছেন যে, কোনো মরুভূমিতে কিছু লোক খাবারের সময় হলে যেমন প্রত্যেকেই একটু একটু করে খড়কুটা জমা করে। যখন তাতে তারা আগুন ধরায়, তখন সে আগুনে তারা যা দেয় সবই পুড়ে ফেলে।”
কবি সত্যই বলেছেন-
خل الذنوب صغيرها وكبيرها ذاك التقى
واصنع كماش فوق أرض الشوك يحذر ما يرى
لا تحقرن صغيرة إن الجبال من الحصى
গুনাহ পরিত্যাগ কর তা ছোট হোক বড় হোক। তুমি সেভাবে চল যেমন কাঁটাযুক্ত পথে অতি সতর্কতার সাথে চলতে হয়। ছোট বলে তাচ্ছিল্য করো না। কেননা, পাহাড় তৈরি হয় ছোট ছোট কংকর দিয়েই।
টিকাঃ
১৩৫. সূরা হাজ্ব: ৩২
১৩৬. সূরা হাজ্ব: ৩০
১৩৭. মুসনাদে আহমাদ: ১০২
📄 মুমিনদের সাথে সম্পর্ক গড়া এবং কাফেরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা
১৬. মুমিনদের সাথে সম্পর্ক গড়তে হবে এবং কাফেরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে। কেননা, আল্লাহর শত্রুদের সাথে সম্পর্ক গড়লে ঈমান দুর্বল হয়ে যায়। পক্ষান্তরে, মুমিনদের সাথে সম্পর্ক গড়লে ঈমান মজবুত ও তরতাজা হয়।
📄 বিনয়ী হওয়া ও দুনিয়ার চাকচিক্য পরিত্যাগ করা
১৭. বিনয়ী হওয়া ও দুনিয়ার চাকচিক্য পরিত্যাগ করা। কথাবার্তায় চাল-চলনে বিনয়ী হলে অন্তরও বিনয়ী হয়। এ জন্যই রাসূল ﷺ বলেছেন, “সাধাসিধে চাল-চলন হলো ঈমানের অঙ্গ। "
তিনি আরও বলেছেন, "যে ব্যক্তি ক্ষমতা বা সামর্থ থাকা সত্ত্বেও চাকচিক্যময় পোশাক পরিত্যাগ করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকুলের সামনে তাকে ডেকে এখতিয়ার দেবেন যে, সে ঈমানের যে পোশাকটি ইচ্ছা পরতে পারবে। "
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযي. এমনভাবে চলাফেরা করতেন যে, তাঁকে এবং তাঁর গোলামদের মাঝে পার্থক্য করা যেত না।
টিকাঃ
১৩৮. সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪১১৮
১৩৯. সুনানে তিরমিযী: ২৪৮১
📄 অন্তরের কিছু করণীয় বিষয়: আল্লাহকে ভালোবাসা
১৮. অন্তরের কিছু করণীয় রয়েছে, যা ঈমানকে মজবুত ও তরতাজা করে। যেমন, আল্লাহকে ভালোবাসা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর প্রতি সুধারণা রাখা, তাঁর প্রতি ভরসা করা, তাঁর ফায়সালার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকা, তাঁর নিকট তাওবা করা ইত্যাদি। বান্দাকে অবশ্যই এমন এক অবস্থানে পৌঁছতে হবে; যেন সে ঈমানের ওপর সুদৃঢ় থাকে। কুরআন ও হাদীসকে আঁকড়ে ধরে আল্লাহমুখী হয় এবং তাকওয়া অবলম্বন করে।