📄 কামনা-বাসনা কম করা
১৩. কামনা-বাসনা কম করা: ঈমানকে তাজা করতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন, এ আয়াতের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে-
أَفَرَأَيْتَ إِن مَّتَّعْنَاهُمْ سِنِينَ - ثُمَّ جَاءَهُم مَّا كَانُوا يُوعَدُونَ - مَا أَغْنَى عَنْهُم مَّا كَانُوا يُمَتَّعُونَ
"আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ-বিলাস করতে দেই, অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেওয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে। তখন তাদের ভোগ-বিলাস তাদের কি কোনো উপকারে আসবে?”
كَأَنْ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةٌ مِنَ النَّهَارِ
“মনে হচ্ছে যে, তারা দিনের এক মুহূর্ত সময় অবস্থান করেছে।”
এ হচ্ছে দুনিয়ার অবস্থা। তাই মানুষের উচিত বেশি আকাঙ্ক্ষা না করা যে, আমি আরও বাঁচবো, আরও বেশ কিছুদিন বেঁচে থাকব। সালাফে সালেহীনের কয়েকজন এক ব্যক্তিকে বলেন, আমাদেরকে যোহরের নামাজ পড়ান। তখন সে ব্যক্তি বললেন, আমি যদি যোহরের নামাজ পড়াই; তাহলে আসরের নামাজে ইমামতি করতে পারব না। তখন তিনি তাকে বলেন, মনে হয় আপনি আশা করছেন যে, আপনি আসর পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন। আমরা বেশি আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।
টিকাঃ
১৩০. সূরা ফাতির: ১৫
১৩১. সূরা শুআরা: ২০৫-২০৭
১৩২. সূরা ইউনুস: ৪৫
📄 দুনিয়াকে নগণ্য মনে করা
১৪. দুনিয়াকে নগন্য মনে করতে হবে। যেন এর প্রতি অন্তরের টান বা আকর্ষণ সৃষ্টি না হয়। মহান আল্লাহ বলেন-
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
“আর এ দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী বৈ কিছুই নয়।”
রাসূল ﷺ বলেন, "এ দুনিয়া হলো অভিশপ্ত। এবং এর মাঝে যা কিছু রয়েছে সবই অভিশপ্ত। একমাত্র আল্লাহর যিকির বা স্মরণ এবং যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা আলেম কিংবা শিক্ষার্থী। "
টিকাঃ
১৩৩. সূরা আলে ইমরান: ১৮৫
১৩৪. সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪১১২
📄 আল্লাহর নির্দশনসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
১৫. আল্লাহর নির্দশনসমূহের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তা তার অন্তরের তাকওয়া থেকেই হয়।”
আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মাঝে রয়েছে কতিপয় স্থান। আবার কিছু কিছু সময়-কালের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, কা'বা শরীফ, রমজান মাস ইত্যাদি।
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন-
وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কায়েম করা সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা করবে, এটা তার নিজের জন্যই তার রবের নিকট খুবই কল্যাণকর হবে।”
আল্লাহর দেওয়া সীমারেখাকে সম্মান করার অর্থ হলো, সগীরা গুনাহকে ছোট মনে না করা। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন। রাসূল ﷺ বলেছেন, "সাবধান! তোমরা গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করো না। কেননা, কারো গুনাহ জমতে থাকলে তাকে তা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করে ফেলবে। তিনি এর উদাহরণ এভাবে দিয়েছেন যে, কোনো মরুভূমিতে কিছু লোক খাবারের সময় হলে যেমন প্রত্যেকেই একটু একটু করে খড়কুটা জমা করে। যখন তাতে তারা আগুন ধরায়, তখন সে আগুনে তারা যা দেয় সবই পুড়ে ফেলে।”
কবি সত্যই বলেছেন-
خل الذنوب صغيرها وكبيرها ذاك التقى
واصنع كماش فوق أرض الشوك يحذر ما يرى
لا تحقرن صغيرة إن الجبال من الحصى
গুনাহ পরিত্যাগ কর তা ছোট হোক বড় হোক। তুমি সেভাবে চল যেমন কাঁটাযুক্ত পথে অতি সতর্কতার সাথে চলতে হয়। ছোট বলে তাচ্ছিল্য করো না। কেননা, পাহাড় তৈরি হয় ছোট ছোট কংকর দিয়েই।
টিকাঃ
১৩৫. সূরা হাজ্ব: ৩২
১৩৬. সূরা হাজ্ব: ৩০
১৩৭. মুসনাদে আহমাদ: ১০২
📄 মুমিনদের সাথে সম্পর্ক গড়া এবং কাফেরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা
১৬. মুমিনদের সাথে সম্পর্ক গড়তে হবে এবং কাফেরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে। কেননা, আল্লাহর শত্রুদের সাথে সম্পর্ক গড়লে ঈমান দুর্বল হয়ে যায়। পক্ষান্তরে, মুমিনদের সাথে সম্পর্ক গড়লে ঈমান মজবুত ও তরতাজা হয়।