📄 মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বড়ত্ব অনুভব করা
২. মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বড়ত্ব অনুভব করা: তাঁর নাম ও গুণাবলি জানা এবং এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা। এর অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা এবং এ অনুভূতি অন্তর থেকে সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ, অন্তঃকরণ হলো রাজা। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হলো তার সৈন্য-সামন্ত। অন্তর যদি ভালো থাকে; তাহলে সব ভালো থাকবে। আর তা যদি নষ্ট হয়ে যায়; তাহলে সবই বিনষ্ট হয়ে যাবে।
কুরআন ও হাদীসে আল্লাহর বড়ত্বের ব্যাপারে অনেক দলীল-প্রমাণ রয়েছে। যদি কোনো মুসলমান তা গভীর দৃষ্টিতে দেখে; তাহলে তার অন্তঃকরণ কেঁপে ওঠবে এবং তার সত্তা মহান প্রতিপালকের সামনে অবনত হবে। তাঁর প্রতি বিনয়ীভাব আরও বৃদ্ধি পাবে।
তাঁর কয়েকটি নাম ও গুণাবলি এখানে উল্লেখ করছি। যেমন, তিনি মহান পরাক্রমশালী, অহংকারী, বান্দাদের ওপর প্রতাপশালী, বিদ্যুৎ এবং ফেরেশতাকুল তাঁর ভয়ে তাসবীহ পাঠ করছে। তিনি প্রতিশোধ গ্রহণকারী, তিনি সর্বদা জাগ্রত, কখনো ঘুমান না। তার জ্ঞান সর্বত্র ব্যাপ্ত। চক্ষুর খেয়ানত ও অন্তঃকরণে কী লুকানো আছে? তিনি তা জানেন। তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানের কথা এভাবে বলেছেন-
وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ
“আর তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এগুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে কোনো পাতাই ঝরে পড়ে না। মৃত্তিকার অন্ধকারে কোনো শস্য কণা অথবা কোনো আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কোনো জিনিস নেই; যা এক প্রকাশ্য গ্রন্থে লিপিবদ্ধ নেই।”
তিনি তাঁর এ বাণীতে নিজের বড়ত্বের কথা জানিয়েছেন-
وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتُ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ
“তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র। আর এরা যাকে শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।”
রাসূল ﷺ বলেন-
يَقْبِضُ اللهُ الأَرْضَ، وَيَطْوِي السَّمَوَاتِ بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا المَلِكُ، أَيْنَ مُلُوكُ الْأَرْضِ
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিয়ে নেবেন এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। অতঃপর তিনি বলবেন, আমিই বাদশাহ। আজ দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?”
কেউ যদি মূসা আ. এর ঘটনা গভীর দৃষ্টিতে দেখে; তাহলে তার অন্তর কেঁপে ওঠবে। যখন তিনি বলেছিলেন-
“হে রব! আপনি আমাকে দেখা দিন। আমি আপনাকে দেখব। তখন আল্লাহ বলেন, তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না; তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক। সেটি যদি যথাস্থানে দাঁড়িয়ে থাকে; তাহলে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তাঁর পরওয়ারদেগার পাহাড়ের ওপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।”
নবী কারীম ﷺ যখন এ আয়াত ব্যাখ্যা করলেন, তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন-
حِجَابُهُ النُّورُ، لَوْ كَشَفَهُ لَأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ
“আল্লাহর রয়েছে নূরের পর্দা। যদি তিনি তা খুলে ফেলেন; তাহলে তাঁর চেহারার আলো যতদূর দৃষ্টি যায়, ততদূর পর্যন্ত যা সৃষ্টি রয়েছে সবই পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।”
আল্লাহ তাআলা'র বড়ত্বের কথা বর্ণনা করে রাসূল ﷺ বলেন-
إِذَا قَضَى اللَّهُ الْأَمْرَ فِي السَّمَاءِ ضَرَبَتْ الْمَلَائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ كَأَنَّهُ سِلْسِلَةٌ عَلَى صَفْوَانٍ فَإِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا لِلَّذِي قَالَ الْحَقَّ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ
“যখন আল্লাহ আসমানে কোনো নির্দেশ জারি করেন, তখন ফেরেশতাকুল আল্লাহর ভয়ে বিনয়ী হয়ে পাখা নাড়াতে থাকেন; যেন তাঁরা লোহার শিকলের পাথরে বাঁধা রয়েছেন। যখন তাঁদের অন্তঃকরণ থেকে ভয় বিদূরিত হয়, তখন তাঁরা বলেন- তোমাদের রব কি বলেছেন? তাঁরা বলেন, তিনি অবশ্যই সত্য বলেছেন। তিনি সর্বোচ্চ ও সুমহান।"
এ ব্যাপারে অনেক দলীল-প্রমাণ রয়েছে। এখানে এসবের কতিপয় উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, এসব চিন্তা-গবেষণা করে যেন ঈমানের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য চেষ্টা করা হয়।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় মহান রবের বড়ত্বের কথা এভাবে তুলে ধরেছেন, 'তিনিই সব রাজত্বের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করছেন, নির্দেশ দিচ্ছেন, মৃত্যু দিচ্ছেন এবং জীবিত করছেন। তিনিই মর্যাদা দিচ্ছেন এবং অপমানিত করছেন। দিন-রাত্রির আবর্তন ঘটাচ্ছেন। মানুষের মাঝে (সুখ-দুঃখের) দিন ঘুরাচ্ছেন। রাজ্যসমূহ পরিবর্তন করছেন; ফলে কোনো রাষ্ট্র ঠিক রাখছেন, আবার কোনোটাকে ধ্বংস করে আরেকটি গড়ছেন। তাঁর নির্দেশ আকাশে, বাতাসে, সমুদ্রে সর্বত্র বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি সবকিছুকে তাঁর জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টিত করে রেখেছেন। তাঁর শ্রবণশক্তি সকল কণ্ঠকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে। তাঁর কাছে এক কণ্ঠস্বর অন্য কণ্ঠস্বরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঠেকে না। বরং সব ভাষায় সব কথাই তিনি একসাথে শুনতে পাচ্ছেন। তাঁকে অধিক প্রার্থনা ও যাচনা ভ্রান্তিতে ফেলতে পারে না এবং আকুতি-মিনতীকারীদের কাতর কণ্ঠ তাঁকে বিরক্ত করতে পারে না। তাঁর দৃষ্টিশক্তি সবকিছুকেই অবলোকন করছে। এমনকি অন্ধকারে কালো পাথরের ওপর দিয়ে কালো পিপীলিকার দল গেলেও, তা থেকে তাঁর দৃষ্টি এড়ায় না। সুতরাং অদৃশ্য তাঁর নিকট প্রকাশ্য এবং গোপনীয় বিষয় তাঁর নিকট স্পষ্ট। আসমানসমূহ এবং জমিনে যারা রয়েছে, তারা তাঁর নিকট প্রার্থনা-যাচনা করছে। তিনি গুনাহ মাফ করেন। বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করছেন। দুঃখীকে মুক্ত করছেন। রিক্তহস্তকে দান করছেন। পথ ভ্রষ্টকে পথের দিশা দিচ্ছেন। ক্ষুধার্তকে খাবার দিচ্ছেন। বিবস্ত্রকে বস্ত্র দান করছেন। পীড়িতকে আরোগ্য দান করছেন। তাওবাকারীর তাওবা কবুল করছেন। সৎকাজকারীকে প্রতিদান দিচ্ছেন এবং মাজলুমকে সাহায্য করছেন। অত্যাচারীকে পদানত করছেন। সম্মানীর সম্মান রক্ষা করছেন এবং আশ্রয়হীনকে নিরাপত্তা দান করছেন। তিনিই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উত্থান ঘটাচ্ছেন আবার কিছু কিছু জাতিকে ধ্বংস করছেন। যদি আকাশ ও জমিনের পূর্বের ও পরের, মানুষ এবং জ্বীন সকলেই তাঁর অনুগত বান্দা হয়ে যায়; তাহলে তাঁর রাজত্ব সামান্যতম বৃদ্ধি পাবে না। আর যদি পূর্বের ও পরের সকল মানব-দানব তাঁর অবাধ্য হয়ে যায়; তাহলেও তাঁর রাজত্বে সামান্যতম ঘাটতি হবে না। দুনিয়া ও আকাশের সমস্ত মানুষ ও জিন, জীবিত ও মৃত সকলেই যদি কোথাও একত্রিত হয়ে তাঁর নিকট প্রার্থনা করে এবং তিনি প্রত্যেককে তার প্রার্থিত বস্তু দান করেন; তাহলে তাঁর ভাণ্ডার থেকে সামান্যতম জিনিসও কমবে না। তিনিই প্রথম, যাঁর পূর্বে আর কেউ নেই এবং তিনিই সর্বশেষ, তাঁর পরে আর কেউ নেই। তিনিই প্রকাশ্য, যাঁর ওপরে আর কেউ নেই এবং তিনিই অপ্রকাশ্য, যাঁর পিছনে আর কেউ নেই। তিনিই বরকতময়, যাঁর ভাণ্ডার হতে কোনো কিছু ঘাটতি হবে না। তাঁর কোনো শরীক নেই। নেই কোনো প্রতিপক্ষ। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। সৃষ্টিকুলে তাঁর কোনো তুলনা হয় না। সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে একমাত্র তাঁর রাজত্ব ব্যতীত। তাঁর অনুমতি ব্যতীত কারো আনুগত্য নেই। কেউ তাঁর জ্ঞানের বাহিরে অন্যায় করতে পারে না। কেউ আনুগত্য করলে তিনি খুশি হোন, পাপ করলে (যাকে ইচ্ছা) ক্ষমা করে দেন। তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিশোধ হলো ইনসাফস্বরূপ। তাঁর প্রতিটি নেয়ামত রহমতস্বরূপ। তিনি সবার হিফাজতকারী। তিনি যা ইচ্ছা তা করেন। তিনি কোনো কিছু ইচ্ছা করলে বলেন- হয়ে যাও, তখনই তা হয়ে যায়।
টিকাঃ
৭১. অহংকার একমাত্র মহান আল্লাহরই গুণ।
৭২. সূরা আনআম: ৫৯
৭৩. সূরা যুমার: ৬৭
৭৪. সহীহ বুখারী: ৪৮১২; সহীহ মুসলিম: ২৭৮৭
৭৫. সূরা আ'রাফ: ১৪৩
৭৬. সহীহ মুসলিম: ১৭৯
৭৭. সহীহ বুখারী: ৪৮০০
📄 শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করা
০৩. শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করা: শরীয়তের সেই জ্ঞান অর্জন করা জরুরি, যা মানুষের মাঝে খোদাভীতি এবং ঈমান বৃদ্ধিতে সহায়ক। যেমন মহান আল্লাহ বলেন-
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
“আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে আলেমরাই কেবল আল্লাহকে ভয় করে।”
ঈমানদারদের ক্ষেত্রে যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা একই মর্যাদার হতে পারে না। কীভাবে তারা একই মর্যাদার হতে পারে? যে শরীয়তের বিস্তারিত জ্ঞানের অধিকারী, শাহাদাতাইনের অর্থ এবং দাবি জানে, মৃত্যুর পরের জীবনের কথা, শাস্তি বা নেয়ামতের কথা জানে, সে আর যে এসব সম্পর্কে অজ্ঞ সে কি একই মর্যাদার অধিকারী হতে পারে? আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ
“বলুন! যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?”
টিকাঃ
৭৮. সূরা ফাতির: ২৮
৭৯. সূরা যুমার: ০৯
📄 নিয়মিত ইসলামী আলোচনা সভায় উপস্থিত হওয়া এবং আল্লাহকে স্মরণকারী দুআ-দরুদ শিক্ষা করা
০৪. নিয়মিত ইসলামী আলোচনা সভায় উপস্থিত হওয়া এবং আল্লাহকে স্মরণকারী দুআ-দরুদ শিক্ষা করা: কারণ, এসব সভাকে আল্লাহর ফেরেশতাগণ ডানা দিয়ে ঢেকে দেন এবং এর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে। ফেরেশতাগণ তাঁদের জন্য দুআ করতে থাকেন । সহীহ হাদীসে রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত হয়েছে—
لَا يَقْعُدُ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا حَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمِ السَّكِينَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
"কোনো সম্প্রদায় যদি কোথাও আল্লাহর যিকির বা স্মরণ করে ফেরেশতাগণ তাঁদেরকে ঢেকে নেন এবং তাঁদের ওপর রহমত বর্ষিত হয়। তাঁদের ওপর প্রশান্তি নাযিল করা হয় এবং আল্লাহ তাঁদের কথা তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাগণের নিকট উল্লেখ করেন।"
হযরত সাহল ইবনে হানযালিয়াহ রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন-
مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ عَلَى ذِكْرٍ فَتَفَرَّقُوا عَنْهُ إِلَّا قِيلَ لَهُمْ قُومُوا مَغْفُورًا لَكُمْ
“কোনো সম্প্রদায় যদি একত্রিত হয়ে আল্লাহ তাআলা'র স্মরণ করে, অতঃপর যখন তাঁরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তাঁদেরকে বলা হয়, তোমরা ওঠ তোমাদেরকে ক্ষমা করা হলো।”
ইবনে হাজার রহ. বলেন, এখানে আল্লাহর স্মরণ বলতে কোনো কাজের প্রতি সর্বদা লেগে থাকা বুঝায়। যেমন, কুরআন তিলাওয়াত, হাদীস পাঠ, ইসলামী জ্ঞান চর্চা ইত্যাদি।
ইসলামী আলোচনা সভা, যিকিরের মজলিস ঈমানকে বৃদ্ধি করে; যা মুসলিম শরীফে বর্ণিত হানযালা আল উসাইদী রাযি. এর হাদীস হতে বুঝা যায়। তিনি বলেন, “হযরত আবু বকর রাযি. আমাকে পথে দেখতে পেয়ে বললেন, হে হানযালা! আপনি কেমন আছেন? আমি বললাম, হানযালা মুনাফিক হয়ে গিয়েছে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! আপনি এ কি বলছেন? আমি বললাম, যখন আমরা রাসূল ﷺ এর নিকট থাকি, তখন তিনি আমাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা বলেন; তখন মনে হয় যেন আমরা তা চাক্ষুস দেখছি। এরপর যখন আমরা রাসূল ﷺ এর মজলিস হতে বের হয়ে সন্তান-সন্ততি, স্ত্রীর নিকটে আসি অর্থাৎ ঘর-সংসারে এসে এসবের বেশির ভাগই ভুলে যাই। আবু বকর রাযি. বলেন, আল্লাহর শপথ! আমারও তো এরকমই হয়। এরপর আমি এবং আবু বকর রাযি. সামনে চললাম এবং রাসূল ﷺ এর দরবারে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, কী ব্যাপার? বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট থাকলে আপনি জান্নাত-জাহান্নামের কথা বলেন, তখন মনে হয় যেন আমরা তা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করছি। এরপর যখন আপনার নিকট থেকে ঘর-সংসারে স্ত্রী-সন্তানদের নিকট যাই, তখন এসবের বেশিরভাগই ভুলে যাই। তখন রাসূল ﷺ বললেন-
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنْ لَوْ تَدُومُونَ عَلَى مَا تَكُونُونَ عِنْدِي، وَفِي الذِّكْرِ، لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى فُرُشِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ، وَلَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
“সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন নিবদ্ধ, তোমরা যদি আমার এখানে যে অবস্থায় থাক, তা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হতে; তাহলে ফেরেশতাগণ তোমাদের বিছানায় এবং তোমাদের (চলার) পথে তোমাদের সাথে মুসাফাহা করত। কিন্তু হে হানযালা! এটি এক সময় আর ওটি আরেক সময়। (তিনবার)।”
টিকাঃ
৮০. সহীহ মুসলিম: ২৭০০
৮১. সহীহুল জামে': ৫৫০৭
৮২. সহীহ মুসলিম: ২৭৫০
📄 বেশি বেশি নেক আমল করা এবং এর দ্বারা সময়কে ভরিয়ে ফেলা
০۵. বেশি বেশি নেক আমল করা এবং এর দ্বারা সময়কে ভরিয়ে ফেলা: এটি চিকিৎসার একটি মোক্ষম দাওয়া এবং ঈমানের ওপর এর প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। এক্ষেত্রে হযরত আবু বকর রাযি. এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাসূল ﷺ একদিন তাঁর সাহাবাদের প্রশ্ন করলেন, "আজকে তোমাদের মাঝে কে রোযা রেখেছে? আবু বকর রাযি. বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজকে তোমাদের মাঝে কে জানাযায় শরীক হয়েছে? আবু বকর রাযি. বললেন, আমি। তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মাঝে আজকে কে মিসকীনকে খাবার খাওয়ায়েছে? আবু বকর রাযি. বললেন, আমি। তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মাঝে কে আজকে পীড়িতদের সেবা করেছে? আবু বকর রাযি. বললেন, আমি। তখন রাসূল ﷺ বললেন, কোনো মানুষের মাঝে এসব কাজের সমাবেশ ঘটলে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
এ ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. সময়কে কাজে লাগাতেন। নবী কারীম ﷺ থেকে যখন হঠাৎ বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের প্রশ্ন আসছিল, তখন দেখা গেল হযরত আবু বকর রাযি. ছিলেন আনুগত্যে পরিপূর্ণ।
তিনি সব ধরনের নেকীর সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছেন। আমাদের সালাফে সালেহীনের অনেকের জীবনেই এ ধরনের আমল লক্ষ্য করা গেছে। হাম্মাদ ইবনে সালামা রহ. এর ব্যাপারে ইমাম আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন, যদি হাম্মাদকে বলা হয়- আপনি আগামীকাল মৃত্যুবরণ করবেন; তাহলেও তাঁর কোনো আমল বৃদ্ধি করার প্রয়োজন পড়বে না।
টিকাঃ
৮৩. আরবাউ মাসাইল ফিল ঈমান: ৭২
৮৪. সহীহ মুসলিম
৮৫. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ৭/৪৪৭