📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 দ্বীনের কাজে দায়িত্ব পালনের প্রতি অনুভূতি না থাকা

📄 দ্বীনের কাজে দায়িত্ব পালনের প্রতি অনুভূতি না থাকা


১৭. দ্বীনের কাজে দায়িত্ব পালনের প্রতি অনুভূতি না থাকাও দুর্বল ঈমানের বহিঃপ্রকাশ: এমন লোকেরা দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের জন্য এগিয়ে আসে না। এটা রাসূল ﷺ এর সাহাবীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁরা ইসলামে প্রবেশ করার সাথে সাথেই দ্বীন প্রচারকে নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করতেন। তুফাইল ইবনে আমর রাযি. এর ঘটনাই দেখুন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পরপরই রাসূল ﷺ এর নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন, নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গিয়ে দ্বীন প্রচারের জন্য। আজ আমরা অনেকেই দাওয়াতের কাজ শুরু করতে বেশ দেরি করি।
নবী কারীম ﷺ এর সাহাবাগণ ইসলাম গ্রহণের পর দাওয়াতের কাজে সহায়ক কাজকর্ম শুরু করে দিতেন। কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বের অবসান ঘটাতেন। তাদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে সচেষ্ট হতেন। দেখুন, ছুমামা ইবনে উছাল রাযি. এর ঘটনা প্রবাহের দিকে। তিনি ছিলেন ইয়ামামার গোত্রপতি। তাকে যখন বন্দী করে নিয়ে আসা হয় এবং মাসজিদে নববীর খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়, নবী কারীম ﷺ তখন তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার অন্তঃকরণকে ইসলামের আলো দ্বারা আলোকিত করেন। ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর উমরাহ করতে মক্কায় যান। মক্কায় পৌঁছে তিনি কুরাইশ সরদারদের বললেন-
وَلا وَاللَّهِ لا يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَامَةِ حِنْطَةُ حَتَّى يَأْذَنَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“না, আল্লাহর কসম! এখন থেকে রাসূল ﷺ এর অনুমতি ব্যতীত ইয়ামামা থেকে একটি গমের দানাও তোমাদের নিকট পৌঁছবে না।”
তিনি কাফেরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন এবং তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেন। যেন তারা দাওয়াতের প্রতি এগিয়ে আসতে বাধ্য হয়। আর এটি ছিল তাৎক্ষণিক। তাঁর বলিষ্ঠ ঈমান তাঁকে এ কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে।

টিকাঃ
৩৩. সহীহ বুখারী, ফাতহুল বারী: ৮/৮৭

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 বিপদাপদে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া

📄 বিপদাপদে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া


১৮. বিপদাপদে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া: ভয়ে কম্পমান থাকে, যখন কোনো বিপদের কথা শুনে। বলিষ্ঠভাবে দৃঢ়তার সাথে সমস্যার সমাধান করতে পারে না। আর এর পিছনে মূল কারণ হলো- ঈমানের দুর্বলতা।

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 অনর্থক ঝগড়া-বিবাদ বা তর্ক-বিতর্ক করা

📄 অনর্থক ঝগড়া-বিবাদ বা তর্ক-বিতর্ক করা


১৯. অনর্থক ঝগড়া-বিবাদ বা তর্ক-বিতর্ক করা: এরা প্রমাণ ব্যতিরেকেই তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত থাকে এবং সঠিক উদ্দেশ্য ছাড়াই অহেতুক বিতর্ক করে মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলে। বর্তমান যুগে অধিকাংশ লোকেরই তর্ক-বিতর্ক হয় বাতিল বিষয় নিয়ে। এ বদ অভ্যাস পরিত্যাগের জন্য রাসূল ﷺ এর এ হাদীসটিই যথেষ্ট। তিনি বলেন-
أَنَا زَعِيمُ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًا
“আমি সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের একটি ঘরের জিম্মাদার, যে ব্যক্তি বিতর্ক পরিহার করেছে; যদিও সে হক্ব পথেই ছিল।”

টিকাঃ
৩৪. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮০০ (৫/১৫০)

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ ও এর প্রতি ঝুঁকে পড়া

📄 দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ ও এর প্রতি ঝুঁকে পড়া


২০. দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ ও এর প্রতি ঝুঁকে পড়া: দুনিয়ার মোহে এমনভাবে জড়িয়ে পড়ে যে, যদি কোনো মাল বা টাকা-পয়সা ছুটে যায়; তাহলে মনে খুব যাতনা অনুভব করে। নিজেকে খুবই বঞ্চিত মনে করে। যখন দেখে অন্য কেউ তা পাচ্ছে, তখন অন্যের ব্যাপারে মনে হিংসার উদ্রেক ঘটে; যেটা ঈমানের পরিপন্থী। নবী কারীম ﷺ বলেন-
لَا يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدِ الْإِيمَانُ وَالْحَسَدُ
“কোনো বান্দার অন্তরে ঈমান এবং হিংসা-বিদ্বেষ একত্র হতে পারে না।”

টিকাঃ
৩৫. সুনানে নাসাঈ: ৩১০৯; সুনানে আবু দাউদ: ৫/১৫০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00