📄 মুসলমানদের সমস্যার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া
হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. এর সাথে অপর এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছিল। পথে তিনি রাস্তা থেকে একটি পাথর সরিয়ে ফেললেন। সে ব্যক্তি বলল, এটি কি করলেন? তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি রাস্তা থেকে একটি পাথর সরিয়ে দেবে, যা মানুষকে কষ্ট দিত; তার জন্য একটি নেকী লেখা হবে। আর যার একটি নেকী থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
১৫. মুসলমানদের সমস্যার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া: এর জন্য কোনো অনুদান বা নিজের পক্ষ থেকে দুআ না করা। সে একেবারে ঠাণ্ডা অনুভূতির লোক। বিশ্বের মুসলমানদের ওপর কোথায় আক্রমণ হচ্ছে বা কোথায় তারা প্রাকৃতিক বিপদে পড়ছে- এ ব্যাপারে তার মাঝে সামান্য অনুভূতিও নেই। সে শুধু নিজের নিরাপত্তা নিয়েই সন্তুষ্ট। এর কারণ হচ্ছে তার ঈমান দুর্বল। কেননা, একজন মুমিন অবশ্যই এমন স্বভাবের বিপরীত হবে। রাসূল ﷺ বলেছেন-
إِنَّ الْمُؤْمِنَ مِنْ أَهْلِ الإِيمَانِ بِمَنْزِلَةِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ، يَأْلَمُ الْمُؤْمِنُ لِأَهْلِ الإِيمَانِ، كَمَا يَأْلَمُ الْجَسَدُ لِمَا فِي الرَّأْسِ
“নিশ্চয়ই মুমিন হলো মুমিনের শরীরের মাথার মতো। একজন মুমিন অপর মুমিনের দুঃখে দুঃখিত হবে, যেমন মাথায় ব্যথা হলে সারা শরীর ব্যথা অনুভব করে।"
টিকাঃ
৩০. আল মু'জামুল কাবীর: ২০/১০১
৩১. মুসনাদে আহমাদ: ৫/৩৪০
📄 ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করা
১৬. ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করা: নবী কারীম ﷺ বলেন-
مَا تَوَادَّ اثْنَانِ فِي اللهِ جَلَّ وَعَزَّ أَوْ فِي الْإِسْلَامِ، فَيُفَرِّقُ بَيْنَهُمَا إِلَّا بِذَنْبٍ يُحْدِثُهُ أَحَدُهُمَا
“যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে বা ইসলামের স্বার্থে তার অপর ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে, তাহলে তা একমাত্র ছিন্ন হতে পারে, যদি তাদের কেউ কোনো গুনাহ করে কেবল তখনই।”
এটিই প্রমাণ যে গুনাহের কারণে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। গুনাহের কারণে ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তার ব্যাপারে দেওয়া আল্লাহ তাআলা'র প্রতিরোধ ভেঙে যায়। অথচ, আল্লাহ তাআলা মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করে থাকেন।
টিকাঃ
৩২. আদাবুল মুফরাদ: ৪০১
📄 দ্বীনের কাজে দায়িত্ব পালনের প্রতি অনুভূতি না থাকা
১৭. দ্বীনের কাজে দায়িত্ব পালনের প্রতি অনুভূতি না থাকাও দুর্বল ঈমানের বহিঃপ্রকাশ: এমন লোকেরা দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের জন্য এগিয়ে আসে না। এটা রাসূল ﷺ এর সাহাবীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁরা ইসলামে প্রবেশ করার সাথে সাথেই দ্বীন প্রচারকে নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করতেন। তুফাইল ইবনে আমর রাযি. এর ঘটনাই দেখুন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পরপরই রাসূল ﷺ এর নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন, নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গিয়ে দ্বীন প্রচারের জন্য। আজ আমরা অনেকেই দাওয়াতের কাজ শুরু করতে বেশ দেরি করি।
নবী কারীম ﷺ এর সাহাবাগণ ইসলাম গ্রহণের পর দাওয়াতের কাজে সহায়ক কাজকর্ম শুরু করে দিতেন। কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বের অবসান ঘটাতেন। তাদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে সচেষ্ট হতেন। দেখুন, ছুমামা ইবনে উছাল রাযি. এর ঘটনা প্রবাহের দিকে। তিনি ছিলেন ইয়ামামার গোত্রপতি। তাকে যখন বন্দী করে নিয়ে আসা হয় এবং মাসজিদে নববীর খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়, নবী কারীম ﷺ তখন তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার অন্তঃকরণকে ইসলামের আলো দ্বারা আলোকিত করেন। ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর উমরাহ করতে মক্কায় যান। মক্কায় পৌঁছে তিনি কুরাইশ সরদারদের বললেন-
وَلا وَاللَّهِ لا يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَامَةِ حِنْطَةُ حَتَّى يَأْذَنَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“না, আল্লাহর কসম! এখন থেকে রাসূল ﷺ এর অনুমতি ব্যতীত ইয়ামামা থেকে একটি গমের দানাও তোমাদের নিকট পৌঁছবে না।”
তিনি কাফেরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন এবং তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেন। যেন তারা দাওয়াতের প্রতি এগিয়ে আসতে বাধ্য হয়। আর এটি ছিল তাৎক্ষণিক। তাঁর বলিষ্ঠ ঈমান তাঁকে এ কাজের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে।
টিকাঃ
৩৩. সহীহ বুখারী, ফাতহুল বারী: ৮/৮৭
📄 বিপদাপদে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া
১৮. বিপদাপদে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া: ভয়ে কম্পমান থাকে, যখন কোনো বিপদের কথা শুনে। বলিষ্ঠভাবে দৃঢ়তার সাথে সমস্যার সমাধান করতে পারে না। আর এর পিছনে মূল কারণ হলো- ঈমানের দুর্বলতা।