📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 মুসলমান ভাইয়ের বিপদ দেখলে বা কোনো ক্ষতি হলে অথবা ব্যর্থতা দেখলে খুশি হওয়া

📄 মুসলমান ভাইয়ের বিপদ দেখলে বা কোনো ক্ষতি হলে অথবা ব্যর্থতা দেখলে খুশি হওয়া


১২. মুসলমান ভাইয়ের বিপদ দেখলে বা কোনো ক্ষতি হলে অথবা ব্যর্থতা দেখলে খুশি হওয়া: এ কথা ভেবে খুশি হয় যে, ওর তো এটা ক্ষতি হলো। ওহো! এটা কতই না ভালো হলো! এ ধরনের মানসিকতা ঈমানী দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 শুধুমাত্র কাজটি অপছন্দনীয় কি না তা ভাবা

📄 শুধুমাত্র কাজটি অপছন্দনীয় কি না তা ভাবা


১৩. শুধুমাত্র কাজটি অপন্দনীয় কি না তা ভাবা: কোনো কাজে গুনাহ হবে কি না তা মোটেও না ভাবা। অনেকেই জিজ্ঞেস করে, এ কাজ করলে গুনাহ হবে নাকি? এটি কি হারাম না মাকরূহ? এ ধরনের মনোবৃত্তি হারামের দিকেই নিয়ে যায়- সন্দেহযুক্ত বিষয়কে কর্মে পরিণত করার জন্য। কেউ সন্দেহযুক্ত কাজ করলে এ আশঙ্কা রয়েছে যে, একদিন সে হারাম কাজ করে ফেলবে। এ ব্যাপারে রাসূল ﷺ সতর্ক করে বলেছেন-
مَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ
“যে ব্যক্তি সন্দেহ-সংশয়ে পতিত হলো, সে হারাম কাজ করল। যেমন, কেউ যদি নিষিদ্ধ চারণভূমির পাশে ছাগল চরায়; তাহলে আশঙ্কা রয়েছে যে, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে চরাবে।”
বরং অনেকে ফতোয়া চায় এই বলে যে, যদি বলা হয় এটি হারাম; তাহলে প্রশ্ন করে, এর হুরমাত (অবৈধতা) কি খুবই কঠিন? এটি করলে কেমন গুনাহ হতে পারে? এ ধরনের লোক তো খারাপ বা মাকরূহ কাজ হতে দূরে থাকেই না; এমনকি হারাম কাজ পরিহার করার মানসিকতাও রাখে না। এরা হারাম কাজ করতে গিয়ে গুনাহের প্রতি কোনো ভ্রক্ষেপই করে না। এদের ব্যাপারে রাসূল ﷺ বলেছেন-
لَأَعْلَمَنَّ أَقْوَامًا مِنْ أُمَّتِي يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحَسَنَاتٍ أَمْثَالِ جِبَالِ تِهَامَةَ بِيضًا، فَيَجْعَلُهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ هَبَاءً مَنْثُورًا، قَالَ ثَوْبَانُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا، جَلِّهِمْ لَنَا أَنْ لَا نَكُونَ مِنْهُمْ، وَنَحْنُ لَا نَعْلَمُ، قَالَ: أَمَا إِنَّهُمْ إِخْوَانُكُمْ، وَمِنْ جِلْدَتِكُمْ، وَيَأْخُذُونَ مِنَ اللَّيْلِ كَمَا تَأْخُذُونَ، وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذَا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللَّهِ انْتَهَكُوهَا
"আমি আমার উম্মতের কিছু সম্প্রদায়ের কথা জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামা পাহাড় পরিমাণ নেকী নিয়ে হাজির হবে। আল্লাহ এগুলিকে ধুলিকণার মতো উড়িয়ে দেবেন। হযরত ছাওবান রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এদের গুণাবলি বলুন, এদের চিহ্নিত করুন, যেন আমরা অজান্তে এদের মতো না হয়ে যাই। তিনি বলেন, তারা তোমাদেরই ভাই এবং স্বজাতি। তোমাদের মতোই রাতে তাহাজ্জুদ পড়বে; কিন্তু তারা এমন লোক, সুযোগ পেলেই হারাম কাজ করে বসবে।”

টিকাঃ
২৪. সহীহ বুখারী: ৫২, সহীহ মুসলিম: ১৫৯৯
২৫. সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৪৫

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 ভালো কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং ছোট ছোট নেকীর কাজকে গুরুত্ব না দেওয়া

📄 ভালো কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং ছোট ছোট নেকীর কাজকে গুরুত্ব না দেওয়া


হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. মুমিন ও মুনাফিকের অবস্থা এভাবে বর্ণনা করেছেন-
إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدُ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ، وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ فَقَالَ بِهِ هَكَذَا أَي دفعه بیده
“মুমিন ব্যক্তি তার গুনাহকে এভাবে দেখে, যেন সে পাহাড়ের নিচে বসে আছে আর সেটি তার ওপর পড়ে যাবে- এ আশঙ্কায় সে শঙ্কিত। আর পাপী ব্যক্তি তার গুনাহকে এভাবে দেখে, যেন তার নাকের ওপর একটি মাছি বসেছে, আর সে তা হাতের ইশারায় তাড়িয়ে দিল।”
১৪. ভালো কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং ছোট ছোট নেকীর কাজকে গুরুত্ব না দেওয়া: নবী কারীম ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন আমরা যেন এমন না হই। ইমাম আহমাদ হযরত আবু জরাই আল হুজাইমী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন-
أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَعَلَّمْنَا شَيْئًا يَنْفَعُنَا اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى بِهِ قَالَ لَا تَحْقِرَنَّ مِنْ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَاءِ الْمُسْتَسْقِي وَلَوْ أَنْ تُكَلِّمَ أَخَاكَ وَوَجْهُكَ إِلَيْهِ مُنْبَسِطُ
"আমি রাসূল ﷺ এর নিকট গেলাম। অতঃপর বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা গ্রামের অধিবাসী। আমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যা দ্বারা আল্লাহ তাআলা আমাদের কল্যাণ করেন। তখন তিনি বললেন, তুমি নেকীর কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না। যদিও তুমি তোমার ভাইয়ের পাত্রে বালতি থেকে একটু পানি ঢেলে দাও অথবা তোমার কোনো ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে কথা বল।”
এ জন্যই কারো পাত্রে একটু পানি ঢেলে দেওয়া বা কারো সাথে হাসি মুখে কথা বলা এবং মাসজিদ থেকে ময়লা আবর্জনা দূর করা- এমন ছোট ছোট কাজও গুনাহ মাফের কারণ হবে। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে এসব কাজের জন্য তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনি কি রাসূল ﷺ এর হাদীসটি জানেন না যে, তিনি বলেছেন-
مَرَّ رَجُلٌ بِغُصْنٍ شَجَرَةٍ عَلَى ظَهْرِ طَرِيقٍ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لَأُنَحِّيَنَّ هَذَا عَنِ الْمُسْلِمِينَ لَا يُؤْذِيهِمْ فَأُدْخِلَ الْجَنَّةِ
“এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখল, এক গাছের একটি ডাল রাস্তার ওপর পড়ে আছে। সে ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই এটিকে মুসলমানদের পথ থেকে সরিয়ে দেব; যেন তা তাদেরকে কষ্ট না দেয়। এ জন্য তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়।”
যে ব্যক্তি ছোট-খাটো নেকীর কাজকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছজ্ঞান করবে, সে বিরাট প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে। কেননা নবী কারীম ﷺ বলেছেন-
مَنْ أَمَاطَ أَذًى عَنْ طَرِيقِ الْمُsلِمِينَ كُتِبَ لَهُ حَسَنَةٌ، وَمَنْ تُقُبِّلَتْ لَهُ حَسَنَةٌ دَخَلَ الْجَنَّةِ
“যে ব্যক্তি মুসলমানদের চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক কিছু দূর করবে, তার জন্য একটি নেকী লেখা হবে। আর যার একটি নেকী কবুল হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”

টিকাঃ
২৬. সহীহ বুখারী: ৬৩০৮; ফাতহুল বারী: ১১/১০২
২৭. মুসনাদে আহমাদ: ৫/৬৩
২৮. সহীহ মুসলিম: ১৯১৪
২৯. আদাবুল মুফরাদ: ৫৯৩

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 মুসলমানদের সমস্যার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া

📄 মুসলমানদের সমস্যার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া


হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. এর সাথে অপর এক ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছিল। পথে তিনি রাস্তা থেকে একটি পাথর সরিয়ে ফেললেন। সে ব্যক্তি বলল, এটি কি করলেন? তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি রাস্তা থেকে একটি পাথর সরিয়ে দেবে, যা মানুষকে কষ্ট দিত; তার জন্য একটি নেকী লেখা হবে। আর যার একটি নেকী থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
১৫. মুসলমানদের সমস্যার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়া: এর জন্য কোনো অনুদান বা নিজের পক্ষ থেকে দুআ না করা। সে একেবারে ঠাণ্ডা অনুভূতির লোক। বিশ্বের মুসলমানদের ওপর কোথায় আক্রমণ হচ্ছে বা কোথায় তারা প্রাকৃতিক বিপদে পড়ছে- এ ব্যাপারে তার মাঝে সামান্য অনুভূতিও নেই। সে শুধু নিজের নিরাপত্তা নিয়েই সন্তুষ্ট। এর কারণ হচ্ছে তার ঈমান দুর্বল। কেননা, একজন মুমিন অবশ্যই এমন স্বভাবের বিপরীত হবে। রাসূল ﷺ বলেছেন-
إِنَّ الْمُؤْمِنَ مِنْ أَهْلِ الإِيمَانِ بِمَنْزِلَةِ الرَّأْسِ مِنَ الْجَسَدِ، يَأْلَمُ الْمُؤْمِنُ لِأَهْلِ الإِيمَانِ، كَمَا يَأْلَمُ الْجَسَدُ لِمَا فِي الرَّأْسِ
“নিশ্চয়ই মুমিন হলো মুমিনের শরীরের মাথার মতো। একজন মুমিন অপর মুমিনের দুঃখে দুঃখিত হবে, যেমন মাথায় ব্যথা হলে সারা শরীর ব্যথা অনুভব করে।"

টিকাঃ
৩০. আল মু'জামুল কাবীর: ২০/১০১
৩১. মুসনাদে আহমাদ: ৫/৩৪০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00