📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 কৃপণতা

📄 কৃপণতা


১০. কৃপণতা: মহান আল্লাহ আনসারদের প্রশংসা করে বলেন-
وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ
“এবং তাঁরা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দান করে।"
এবং তিনি এ কথাও বর্ণনা করেছেন-
وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“যাঁরা কৃপণতা থেকে মুক্ত হতে পেরেছে, তাঁরাই প্রকৃত সফলকাম।”
এ কথা নিশ্চিত যে, দুর্বল ঈমানের কারণে কৃপণতা সৃষ্টি হয়। রাসূল ﷺ বলেছেন-
لا يَجْتَمِعُ الشُّحُ وَالْإِيمَانُ فِي قَلْبِ عَبْدٍ أَبَدًا
“কস্মিনকালেও কোনো বান্দার অন্তরে কৃপণতা ও ঈমান একত্র হতে পারে না।”
কৃপণতা খুবই বিপজ্জনক এবং এর ফলে আত্মার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। রাসূল ﷺ বলেছেন-
إِيَّاكُمْ وَالشُّحَ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِالشُّحَّ، أَمَرَهُمْ بِالْبُخْلِ فَبَخِلُوا، وَأَمَرَهُمْ بِالْقَطِيعَةِ فَقَطَعُوا، وَأَمَرَهُمْ بِالْفُجُورِ فَفَجَرُوا
“তোমরা কৃপণতা থেকে বেঁচে থাক। কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা কৃপণতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অর্থলোভ তাদেরকে কৃপণতার আদেশ করেছে; ফলে তারা কৃপণতা করেছে। তাদেরকে আত্মীয়তা ছিন্ন করার আদেশ করেছে; তখন তারা তাই করেছে এবং তাদেরকে পাপাচারে প্ররোচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে।”
কৃপণ ব্যক্তি কখনো কারো দুঃখে হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসতে পারে না। তার অপর মুসলমান ভাইয়ের জন্য আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসে না। গরীব-দুঃখীদের কষ্ট লাঘবে তার মন গলে না।

টিকাঃ
১৮. সূরা হাশর: ৯
১৯. সূরা হাশর: ৯
২০. সুনানে নাসায়ী: ৩১১০ (৬/১৩)
২১. সুনানে আবু দাউদ: ১৬৯৮ (২/৩২৪)

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 কথা ও কাজে গরমিল

📄 কথা ও কাজে গরমিল


১১. কথা ও কাজে গরমিল: এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ - كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।”
নিঃসন্দেহে এটা এক ধরনের মুনাফিকী। যে ব্যক্তির কাজ তার কথার বিপরীত হবে, সে আল্লাহর নিকট ঘৃণিত হবে এবং মানুষের নিকটও অপছন্দনীয় হবে। জাহান্নামীরা তার স্বরূপ উন্মোচন করবে। সে সৎকাজের আদেশ দিত; কিন্তু নিজে তা করত না এবং অসৎকাজে নিষেধ করত; কিন্তু সেগুলো আবার নিজেই করত।

টিকাঃ
২৩. সূরা সফ: ২-৩

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 মুসলমান ভাইয়ের বিপদ দেখলে বা কোনো ক্ষতি হলে অথবা ব্যর্থতা দেখলে খুশি হওয়া

📄 মুসলমান ভাইয়ের বিপদ দেখলে বা কোনো ক্ষতি হলে অথবা ব্যর্থতা দেখলে খুশি হওয়া


১২. মুসলমান ভাইয়ের বিপদ দেখলে বা কোনো ক্ষতি হলে অথবা ব্যর্থতা দেখলে খুশি হওয়া: এ কথা ভেবে খুশি হয় যে, ওর তো এটা ক্ষতি হলো। ওহো! এটা কতই না ভালো হলো! এ ধরনের মানসিকতা ঈমানী দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 শুধুমাত্র কাজটি অপছন্দনীয় কি না তা ভাবা

📄 শুধুমাত্র কাজটি অপছন্দনীয় কি না তা ভাবা


১৩. শুধুমাত্র কাজটি অপন্দনীয় কি না তা ভাবা: কোনো কাজে গুনাহ হবে কি না তা মোটেও না ভাবা। অনেকেই জিজ্ঞেস করে, এ কাজ করলে গুনাহ হবে নাকি? এটি কি হারাম না মাকরূহ? এ ধরনের মনোবৃত্তি হারামের দিকেই নিয়ে যায়- সন্দেহযুক্ত বিষয়কে কর্মে পরিণত করার জন্য। কেউ সন্দেহযুক্ত কাজ করলে এ আশঙ্কা রয়েছে যে, একদিন সে হারাম কাজ করে ফেলবে। এ ব্যাপারে রাসূল ﷺ সতর্ক করে বলেছেন-
مَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ
“যে ব্যক্তি সন্দেহ-সংশয়ে পতিত হলো, সে হারাম কাজ করল। যেমন, কেউ যদি নিষিদ্ধ চারণভূমির পাশে ছাগল চরায়; তাহলে আশঙ্কা রয়েছে যে, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে চরাবে।”
বরং অনেকে ফতোয়া চায় এই বলে যে, যদি বলা হয় এটি হারাম; তাহলে প্রশ্ন করে, এর হুরমাত (অবৈধতা) কি খুবই কঠিন? এটি করলে কেমন গুনাহ হতে পারে? এ ধরনের লোক তো খারাপ বা মাকরূহ কাজ হতে দূরে থাকেই না; এমনকি হারাম কাজ পরিহার করার মানসিকতাও রাখে না। এরা হারাম কাজ করতে গিয়ে গুনাহের প্রতি কোনো ভ্রক্ষেপই করে না। এদের ব্যাপারে রাসূল ﷺ বলেছেন-
لَأَعْلَمَنَّ أَقْوَامًا مِنْ أُمَّتِي يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحَسَنَاتٍ أَمْثَالِ جِبَالِ تِهَامَةَ بِيضًا، فَيَجْعَلُهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ هَبَاءً مَنْثُورًا، قَالَ ثَوْبَانُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا، جَلِّهِمْ لَنَا أَنْ لَا نَكُونَ مِنْهُمْ، وَنَحْنُ لَا نَعْلَمُ، قَالَ: أَمَا إِنَّهُمْ إِخْوَانُكُمْ، وَمِنْ جِلْدَتِكُمْ، وَيَأْخُذُونَ مِنَ اللَّيْلِ كَمَا تَأْخُذُونَ، وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذَا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللَّهِ انْتَهَكُوهَا
"আমি আমার উম্মতের কিছু সম্প্রদায়ের কথা জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামা পাহাড় পরিমাণ নেকী নিয়ে হাজির হবে। আল্লাহ এগুলিকে ধুলিকণার মতো উড়িয়ে দেবেন। হযরত ছাওবান রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এদের গুণাবলি বলুন, এদের চিহ্নিত করুন, যেন আমরা অজান্তে এদের মতো না হয়ে যাই। তিনি বলেন, তারা তোমাদেরই ভাই এবং স্বজাতি। তোমাদের মতোই রাতে তাহাজ্জুদ পড়বে; কিন্তু তারা এমন লোক, সুযোগ পেলেই হারাম কাজ করে বসবে।”

টিকাঃ
২৪. সহীহ বুখারী: ৫২, সহীহ মুসলিম: ১৫৯৯
২৫. সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৪৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00