📄 নিজেকে প্রকাশ করতে ভালোবাসা
০৯. নিজেকে প্রকাশ করতে ভালোবাসা: এটা বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন, নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা এবং দায়িত্বের বিপজ্জনক অবস্থার (জবাবদিহিতা) প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া। অথচ, এ ব্যাপারে রাসূল ﷺ সতর্ক করে বলেছেন-
إِنَّكُمْ سَتَحْرِصُونَ عَلَى الإِمَارَةِ، وَسَتَكُونُ نَدَامَةً يَوْمَ القِيَامَةِ، فَنِعْمَ المُرْضِعَةُ وَبِئْسَتِ الفَاطِمَةُ
“নিশ্চয়ই তোমরা নেতৃত্বের ব্যাপারে আগ্রহী। অথচ, কিয়ামতের দিন তোমাদের জন্য তা অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হবে। এর প্রথম দিক তো খুবই সুখকর। কিন্তু শেষ পরিণতি খুবই ভয়ঙ্কর।”
টিকাঃ
১৭. সহীহ বুখারী: ৭১৪৮
📄 কৃপণতা
১০. কৃপণতা: মহান আল্লাহ আনসারদের প্রশংসা করে বলেন-
وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ
“এবং তাঁরা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দান করে।"
এবং তিনি এ কথাও বর্ণনা করেছেন-
وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“যাঁরা কৃপণতা থেকে মুক্ত হতে পেরেছে, তাঁরাই প্রকৃত সফলকাম।”
এ কথা নিশ্চিত যে, দুর্বল ঈমানের কারণে কৃপণতা সৃষ্টি হয়। রাসূল ﷺ বলেছেন-
لا يَجْتَمِعُ الشُّحُ وَالْإِيمَانُ فِي قَلْبِ عَبْدٍ أَبَدًا
“কস্মিনকালেও কোনো বান্দার অন্তরে কৃপণতা ও ঈমান একত্র হতে পারে না।”
কৃপণতা খুবই বিপজ্জনক এবং এর ফলে আত্মার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। রাসূল ﷺ বলেছেন-
إِيَّاكُمْ وَالشُّحَ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِالشُّحَّ، أَمَرَهُمْ بِالْبُخْلِ فَبَخِلُوا، وَأَمَرَهُمْ بِالْقَطِيعَةِ فَقَطَعُوا، وَأَمَرَهُمْ بِالْفُجُورِ فَفَجَرُوا
“তোমরা কৃপণতা থেকে বেঁচে থাক। কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা কৃপণতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অর্থলোভ তাদেরকে কৃপণতার আদেশ করেছে; ফলে তারা কৃপণতা করেছে। তাদেরকে আত্মীয়তা ছিন্ন করার আদেশ করেছে; তখন তারা তাই করেছে এবং তাদেরকে পাপাচারে প্ররোচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে।”
কৃপণ ব্যক্তি কখনো কারো দুঃখে হাত বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে আসতে পারে না। তার অপর মুসলমান ভাইয়ের জন্য আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসে না। গরীব-দুঃখীদের কষ্ট লাঘবে তার মন গলে না।
টিকাঃ
১৮. সূরা হাশর: ৯
১৯. সূরা হাশর: ৯
২০. সুনানে নাসায়ী: ৩১১০ (৬/১৩)
২১. সুনানে আবু দাউদ: ১৬৯৮ (২/৩২৪)
📄 কথা ও কাজে গরমিল
১১. কথা ও কাজে গরমিল: এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ - كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।”
নিঃসন্দেহে এটা এক ধরনের মুনাফিকী। যে ব্যক্তির কাজ তার কথার বিপরীত হবে, সে আল্লাহর নিকট ঘৃণিত হবে এবং মানুষের নিকটও অপছন্দনীয় হবে। জাহান্নামীরা তার স্বরূপ উন্মোচন করবে। সে সৎকাজের আদেশ দিত; কিন্তু নিজে তা করত না এবং অসৎকাজে নিষেধ করত; কিন্তু সেগুলো আবার নিজেই করত।
টিকাঃ
২৩. সূরা সফ: ২-৩
📄 মুসলমান ভাইয়ের বিপদ দেখলে বা কোনো ক্ষতি হলে অথবা ব্যর্থতা দেখলে খুশি হওয়া
১২. মুসলমান ভাইয়ের বিপদ দেখলে বা কোনো ক্ষতি হলে অথবা ব্যর্থতা দেখলে খুশি হওয়া: এ কথা ভেবে খুশি হয় যে, ওর তো এটা ক্ষতি হলো। ওহো! এটা কতই না ভালো হলো! এ ধরনের মানসিকতা ঈমানী দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।