📄 কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া
০৬. কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া: পবিত্র কুরআনের ওয়াদা, এর শাস্তি অথবা এর নির্দেশ বা নিষেধ কিংবা কিয়ামতের চিত্রের কথা জেনেও মনে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। দুর্বল ঈমানদার ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত শুনতে আগ্রহী হয় না। কোথাও কুরআন তিলাওয়াত শুনলে তা পড়লে তার মন চায়, যেন তা তাড়াতাড়িই বন্ধ হয়ে যায়।
📄 আল্লাহ তাআলার স্মরণ এবং তাঁর নিকট প্রার্থনার ব্যাপারে গাফেল থাকা
০৭. আল্লাহ তাআলা'র স্মরণ এবং তাঁর নিকট প্রার্থনার ব্যাপারে গাফেল থাকা: যার ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে, আল্লাহর যিকির করাকে সে কঠিন মনে করে এবং যখন সে দুআ করতে হাত ওঠায়, খুব দ্রুতই হাত গুটিয়ে ফেলে। আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন-
وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا
"আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।”
টিকাঃ
১৫. সূরা নিসা: ১৪২
📄 কোনো হারাম কাজ সংঘটিত হতে দেখলেও ক্রোধের সঞ্চার না হওয়া
০৮. কোনো হারাম কাজ সংঘটিত হতে দেখলেও ক্রোধের সঞ্চার না হওয়া: কেননা, প্রত্যেকের অন্তরেই এ গায়রত বা বোধ থাকা বাঞ্ছনীয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো কিছু কাউকে করতে দেখলে, তার মনে ক্রোধের সংঞ্চার হবে। যদি তা না হয়, এটা তার দুর্বল ঈমানের প্রকাশ। রোগাক্রান্ত অন্তরের কথা রাসূল ﷺ তাঁর সহীহ হাদীসে এভাবে বর্ণনা করেছেন।
تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا، فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا {أي: دخلت فيه دخولاً تاماً} نُكِتَ فِيهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ {أي: نقط فيه نقطة حتى يصل الأمر إلى أن يصبح كما أخبر عليه الصلاة والسلام في آخر الحديث: أَسْوَدُ مُرْبَادًا لبياض يسير يخالطه السواد كَالْكُوزِ مُجَخِّيًا مائلاً منكوساً} لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا، وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا، إِلَّا مَا أُشْرِبَ مِنْ هَوَاهِ
“মানুষের অন্তরে ফিতনা দানা বাঁধে। যেমন চাটাই একটি একটি করে পাতা দিয়ে গাঁথা হয়ে থাকে। সুতরাং যে অন্তর এগুলি গ্রহণ করবে, তার অন্তঃকরণের ওপর একটি করে কালো দাগ পড়তে থাকে। অবস্থা এমন হয় যে, তা আস্তে আস্তে হাঁড়ির কালির মতো অন্ধকার হয়ে যায়। তখন এ অন্তর ভালোকে ভালো বলে চিনে না এবং মন্দকে মন্দ বলে গণ্য করে না। সে মনে যা চায়, তা-ই করে।”
টিকাঃ
১৬. সহীহ মুসলিম: ১৪৪
📄 নিজেকে প্রকাশ করতে ভালোবাসা
০৯. নিজেকে প্রকাশ করতে ভালোবাসা: এটা বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন, নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা এবং দায়িত্বের বিপজ্জনক অবস্থার (জবাবদিহিতা) প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া। অথচ, এ ব্যাপারে রাসূল ﷺ সতর্ক করে বলেছেন-
إِنَّكُمْ سَتَحْرِصُونَ عَلَى الإِمَارَةِ، وَسَتَكُونُ نَدَامَةً يَوْمَ القِيَامَةِ، فَنِعْمَ المُرْضِعَةُ وَبِئْسَتِ الفَاطِمَةُ
“নিশ্চয়ই তোমরা নেতৃত্বের ব্যাপারে আগ্রহী। অথচ, কিয়ামতের দিন তোমাদের জন্য তা অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হবে। এর প্রথম দিক তো খুবই সুখকর। কিন্তু শেষ পরিণতি খুবই ভয়ঙ্কর।”
টিকাঃ
১৭. সহীহ বুখারী: ৭১৪৮