📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 মেজাজের ভারসাম্যহীনতা এবং বক্ষের অপ্রশস্ততা

📄 মেজাজের ভারসাম্যহীনতা এবং বক্ষের অপ্রশস্ততা


০৫. মেজাজের ভারসাম্যহীনতা এবং বক্ষের অপ্রশস্ততা: মনে হয়, যেন তার বুকের ওপর জগদ্দল পাথর চেপে আছে। সামান্যতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। কারো সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রাখে না। অথচ, রাসূল ﷺ ঈমানের কথা এভাবে বলেছেন- الإيمان: الصبر والسماحة "ধৈর্যধারণ করা এবং ক্ষমা করাই হলো ঈমান।” তিনি মুমিনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এভাবে-
يألف ويؤلف ولا خير فيمن لا يألف ولا يؤلف
“সে নিজে আকৃষ্ট হবে, অন্যকে আকৃষ্ট করবে। সেই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যে নিজে আকৃষ্ট হয় না এবং যার দিকে অন্য কেউ আকৃষ্ট হয় না।”

টিকাঃ
১৩. আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ: ৫৫৪
১৪. আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ: ৪২৭

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া

📄 কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া


০৬. কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া: পবিত্র কুরআনের ওয়াদা, এর শাস্তি অথবা এর নির্দেশ বা নিষেধ কিংবা কিয়ামতের চিত্রের কথা জেনেও মনে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। দুর্বল ঈমানদার ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত শুনতে আগ্রহী হয় না। কোথাও কুরআন তিলাওয়াত শুনলে তা পড়লে তার মন চায়, যেন তা তাড়াতাড়িই বন্ধ হয়ে যায়।

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 আল্লাহ তাআলার স্মরণ এবং তাঁর নিকট প্রার্থনার ব্যাপারে গাফেল থাকা

📄 আল্লাহ তাআলার স্মরণ এবং তাঁর নিকট প্রার্থনার ব্যাপারে গাফেল থাকা


০৭. আল্লাহ তাআলা'র স্মরণ এবং তাঁর নিকট প্রার্থনার ব্যাপারে গাফেল থাকা: যার ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে, আল্লাহর যিকির করাকে সে কঠিন মনে করে এবং যখন সে দুআ করতে হাত ওঠায়, খুব দ্রুতই হাত গুটিয়ে ফেলে। আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন-
وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا
"আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।”

টিকাঃ
১৫. সূরা নিসা: ১৪২

📘 ঈমানের দুর্বলতা > 📄 কোনো হারাম কাজ সংঘটিত হতে দেখলেও ক্রোধের সঞ্চার না হওয়া

📄 কোনো হারাম কাজ সংঘটিত হতে দেখলেও ক্রোধের সঞ্চার না হওয়া


০৮. কোনো হারাম কাজ সংঘটিত হতে দেখলেও ক্রোধের সঞ্চার না হওয়া: কেননা, প্রত্যেকের অন্তরেই এ গায়রত বা বোধ থাকা বাঞ্ছনীয় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো কিছু কাউকে করতে দেখলে, তার মনে ক্রোধের সংঞ্চার হবে। যদি তা না হয়, এটা তার দুর্বল ঈমানের প্রকাশ। রোগাক্রান্ত অন্তরের কথা রাসূল ﷺ তাঁর সহীহ হাদীসে এভাবে বর্ণনা করেছেন।
تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا، فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا {أي: دخلت فيه دخولاً تاماً} نُكِتَ فِيهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ {أي: نقط فيه نقطة حتى يصل الأمر إلى أن يصبح كما أخبر عليه الصلاة والسلام في آخر الحديث: أَسْوَدُ مُرْبَادًا لبياض يسير يخالطه السواد كَالْكُوزِ مُجَخِّيًا مائلاً منكوساً} لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا، وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا، إِلَّا مَا أُشْرِبَ مِنْ هَوَاهِ
“মানুষের অন্তরে ফিতনা দানা বাঁধে। যেমন চাটাই একটি একটি করে পাতা দিয়ে গাঁথা হয়ে থাকে। সুতরাং যে অন্তর এগুলি গ্রহণ করবে, তার অন্তঃকরণের ওপর একটি করে কালো দাগ পড়তে থাকে। অবস্থা এমন হয় যে, তা আস্তে আস্তে হাঁড়ির কালির মতো অন্ধকার হয়ে যায়। তখন এ অন্তর ভালোকে ভালো বলে চিনে না এবং মন্দকে মন্দ বলে গণ্য করে না। সে মনে যা চায়, তা-ই করে।”

টিকাঃ
১৬. সহীহ মুসলিম: ১৪৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00