📄 ভালোভাবে ইবাদত না করা
০৩. ভালোভাবে ইবাদত না করা: যেমন, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দুআর সময় একাগ্র-একনিষ্ঠ না থাকা। দুআ করার সময় এর অর্থের দিকে খেয়াল না করা, মনে হয় যেন এমনিতেই তা মুখে আওড়িয়ে যাচ্ছে; যদিও সে এ দুআ নির্দিষ্ট সময়ে মাসনূন তরীকায় পাঠ করে থাকে। মহান আল্লাহ গাফেল ও উদাসীন ব্যক্তির দুআ কবুল করেন না।
টিকাঃ
৯. সুনানে তিরমিযী: ৩৪৭৯
📄 আনুগত্য ও ইবাদতে শৈথিল্যতা ও অলসতা প্রদর্শন করা
০৪. আনুগত্য ও ইবাদতে শৈথিল্যতা ও অলসতা প্রদর্শন করা: সঠিক সময়ে ইবাদত করে না। আর যদি ইবাদত করে; তবে তাতে প্রাণ থাকে না। মহান প্রভু মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেন-
وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى
“বস্তুত তারা যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন দাঁড়ায় একান্ত শিথিলভাবে।"
ইবাদতের সময় পার হয়ে গেলে এর জন্য তাদের মনে কোনো কষ্ট অনুভব হয় না। হাজ্ব আদায় করে না। জামাতে নামাজ আদায় করে না। উপরন্তু জুমার নামাজেও দেরি করে। রাসূল ﷺ বলেন-
لَا يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَرُونَ عَنِ الصَّفِّ الْأَوَّلِ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللَّهُ فِي النَّارِ
"যে সম্প্রদায় জামাতের প্রথম কাতারে উপস্থিত হতে সব সময় দেরি করতে থাকবে, শেষ অবধি আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।"
তেমনিভাবে ফরয নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে গেলেও মনে কষ্ট অনুভব করে না। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা ফরযে কিফায়া ছুটে গেলে ইচ্ছাকৃতভাবেই তা আদায় করে না। এমনকি ঈদের জামাতেও উপস্থিত হয় না। জানাযার নামাজ পড়তে চায় না। প্রকৃতপক্ষে, সে নেকীর কাজ করতে আগ্রহী নয়। সে হলো আল্লাহ তাআলা'র এ বাণীর সম্পূর্ণ বিপরীত।
إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
"তাঁরা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তাঁরা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তাঁরা ছিল আমার কাছে বিনীত।"
ইবাদতের ক্ষেত্রে অলসতার বহিঃপ্রকাশ হলো রাতে তাহাজ্জুদ না পড়া। সুন্নাত আদায়ে অনীহা প্রদর্শন করা, মাসজিদের দিকে তাড়াতাড়ি না যাওয়া ইত্যাদি।
টিকাঃ
১০. সূরা নিসা: ১৪২
১১. সুনানে আবু দাউদ: ৬৭৯
১২. সূরা আম্বিয়া: ৯০
📄 মেজাজের ভারসাম্যহীনতা এবং বক্ষের অপ্রশস্ততা
০৫. মেজাজের ভারসাম্যহীনতা এবং বক্ষের অপ্রশস্ততা: মনে হয়, যেন তার বুকের ওপর জগদ্দল পাথর চেপে আছে। সামান্যতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। কারো সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রাখে না। অথচ, রাসূল ﷺ ঈমানের কথা এভাবে বলেছেন- الإيمان: الصبر والسماحة "ধৈর্যধারণ করা এবং ক্ষমা করাই হলো ঈমান।” তিনি মুমিনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এভাবে-
يألف ويؤلف ولا خير فيمن لا يألف ولا يؤلف
“সে নিজে আকৃষ্ট হবে, অন্যকে আকৃষ্ট করবে। সেই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যে নিজে আকৃষ্ট হয় না এবং যার দিকে অন্য কেউ আকৃষ্ট হয় না।”
টিকাঃ
১৩. আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ: ৫৫৪
১৪. আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ: ৪২৭
📄 কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া
০৬. কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া: পবিত্র কুরআনের ওয়াদা, এর শাস্তি অথবা এর নির্দেশ বা নিষেধ কিংবা কিয়ামতের চিত্রের কথা জেনেও মনে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না। দুর্বল ঈমানদার ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত শুনতে আগ্রহী হয় না। কোথাও কুরআন তিলাওয়াত শুনলে তা পড়লে তার মন চায়, যেন তা তাড়াতাড়িই বন্ধ হয়ে যায়।