📄 মন্তব্যকারী পাঠক এরপর বলেন
'আমরা সব সময় মানুষের নিয়ত তালাশ করে দেখতে সক্ষম হই না। অবস্থার প্রেক্ষিতে অনেক সময় নিয়ত ফুটে ওঠে না। ফলে উপরের কথাগুলো অনেক জিন্দিকের' জন্য ধর্মবিরোধী কথা বলার দ্বার উন্মোচন করে দেবে। তারা প্রথমে ইসলামের সুপ্রমাণিত কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করবে। এরপর মানুষ জিজ্ঞেস করলে বলবে, 'আমি এর দ্বারা কুফরি অর্থ উদ্দেশ্য নিইনি।' আমরা যদি কাফের হওয়ার বিষয়টি অন্তরের উপর ন্যস্ত করি, তা হলে জিন্দিক ও ধর্মবিদ্বেষীরা সুযোগ পেয়ে যাবে। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে বলবে, পরে নিয়তের কথা বলে শাস্তি থেকে পার পাওয়ার চেষ্টা করবে।'
টিকাঃ
১. আরবরা অধিক কৃপণ ব্যক্তিকে জান্দাক বা জান্দাকি বলে থাকে। কারও কারও মতে জিন্দিক রাসুল সা.-কে স্বীকার করে, কিন্তু অন্তরে কুফরি আকিদা লালন করে। ফিকহের পরিভাষায় শব্দটির ব্যবহার এমন ভ্রান্ত আকিদার বেদআতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যার চিন্তাধারা সরকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়। জিন্দিক হওয়া মারাত্মক অপরাধ। দুনিয়াতে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আখেরাতে জাহান্নাম। মালেকি মাজহাবে এমন অপরাধীকে তওবা করতে বলাও অনর্থক। জিন্দিক আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস রাখে না। কখনও বাহ্যিকভাবে ঈমান প্রকাশ করলেও অন্তরে কুফরকেই লালন করে থাকে। (মুকালামা বাইনাল মাজাহিব, ওয়ালি খান আল-মুজাফফার, ৫৪)
📄 আমাদের কথা
ইসলাম থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বাসগত বিষয় এক রকম আর ফিকহি ও বিচারিক বিষয়গুলো আরেক রকম।
আমরা যখন বিশ্বাসগত ব্যাপার সন্ধান করব, তখন আমাদের জানতে হবে, ঈমান কী, কুফর কী? কীভাবে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে? কী কী কারণে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো বান্দা ও আল্লাহ তায়ালার মধ্যকার বিষয়।
কিন্তু আলোচনা যখন হবে ফিকহ-ফতোয়া ও আইন নিয়ে, তখন আমাদের শব্দের ফিকহি বিধান খুঁজে দেখতে হবে। যাচাই করতে হবে, কোন কোন কথা ও কাজ ইসলামে প্রবেশের ও ইসলাম থেকে বের হওয়ার কারণ। এটি অবশ্যই ব্যক্তি ও তার চারপাশের মানুষের মধ্যকার বিষয়। কারণ, এর উপর অনেক ফিকহি মাসআলার ভিত্তি। যেমন: বিয়ে শুদ্ধ হওয়া, বিয়ে বহাল থাকা, ভঙ্গ হয়ে যাওয়া, ইসলামকে হেয় করে কথা বললে তার জন্য শাস্তি আরোপিত হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।
বিচারিক বিষয়গুলো এরই সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারও থেকে কোনো কুফরি কথা ও কাজ প্রকাশ পেল, কুফর ছাড়া যার ভিন্ন কোনো ব্যাখ্যা সম্ভব নয় অথবা এমন কথা ও কাজ প্রকাশ পেল, স্পষ্ট কুফরি না হলেও ব্যক্তির ব্যাখ্যার মাধ্যমে তার কুফরি হওয়া প্রমাণিত হল অথবা তার ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রমাণ হল, কাজটি কুফরি ছিল না—এ সব বিষয়ের বিধান ফিকহের কিতাবে দণ্ডবিধি ও মুরতাদ হওয়ার অধ্যায়গুলোতে খুঁজতে হবে।
অন্য দিকে ঈমান-আকিদার বিষয় এর থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। তার সম্পর্ক অন্তরের সঙ্গে, অন্তরের ইচ্ছার সঙ্গে। আল্লাহ তায়ালা বলেন—'বেদুইনরা বলে আমরা ঈমান এনেছি। আপনি বলুন, তোমরা ঈমান আননি; কিন্তু বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'নিশ্চয় সকল আমলের ভিত্তি নিয়তের উপর।'