📄 আমাদের কথা
মন্তব্যকারী ভাই হয়তো কাজের বিধান ও কর্তার বিধানে পার্থক্য দেখাতে চাচ্ছেন। তার কথানুসারে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক, কিন্তু সকল সাহায্যপ্রার্থী মুশরিক নয়।
কিন্তু এই কথাও পুরো মাত্রায় সঠিক নয়। কারণ, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাইলেই সেটা শিরক হবে, সাধারণভাবে এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। এর সপক্ষে দলিলও নেই। অবশ্যই সাহায্যকারীর অবস্থা বিবেচনা করে বিধানের মাঝে পার্থক্য করতে হবে। তৃতীয় মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।
📄 পঞ্চম মন্তব্যকারী পাঠক বলেন
'যখন আমরা বলি, কোনো কুফরি কথা বা কুফরি কাজ ব্যক্তিকে কাফের বানিয়ে দেয় (যদি তাকফিরের শর্ত পাওয়া যায় ও কোনো প্রতিবন্ধক না থাকে), অথবা যখন বলি, কথা বা কাজের কারণে কাফের হয় না; কাফের হয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিশ্বাসের কারণে— ফলাফল কি দুটো কথার একই দাঁড়ায় না?'
📄 আমাদের কথা
কেউ যদি এমন কিছু বলে ও করে, যা স্পষ্ট কুফরি, কুফরির অর্থ ছাড়া সে কথার অন্য কোনো অর্থের সম্ভাবনাই নেই—নিঃসন্দেহে সে কাফের।
আমরা এই ব্যক্তির উপর, যখন তার থেকে কাজটা প্রকাশ পায়, তখন থেকেই কাফের হওয়ার বিধান আরোপ করি। কিন্তু বাস্তবে সে কাফের হয় সেই সময় থেকে, যখন তার হৃদয় থেকে ঈমান নিঃশেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ, যখন তার হৃদয় থেকে ঈমানের রোকনগুলোকে সত্য বলে মেনে নেওয়া ও এর দাবি অনুসারে আল্লাহর প্রতি ও আল্লাহ যে সব জিনিসকে সম্মানিত করেছেন, সে সবের প্রতি সম্মানবোধ হারিয়ে যায়, তখন থেকেই সে প্রকৃতার্থে কাফের হয়ে যায়। যে সব কথা ও কাজ অকাট্যরূপে কুফরি, যার হৃদয়ে ঈমান আছে, তার থেকে এ সব প্রকাশ পেতে পারে না। কারণ, ঈমান ও কুফর একটি আরেকটির বিপরীত।
আমরা যখন বলি, সে এই সব কথা ও কাজের মাধ্যমে কাফের হয়েছে, এটা বাহ্যিক দিক দিয়ে সঠিক। এর উপর ভিত্তি করেই শরিয়তের বিধান আরোপিত হবে। কিন্তু অন্তরের দিক দিয়ে সে তখনই কাফের হয়ে গেছে, যখন তার মন থেকে ঈমান বেরিয়ে গেছে। একটা হচ্ছে, কুফরের বহিঃপ্রকাশ, আরেকটা হচ্ছে প্রকৃত বা অন্তরের কুফর। তা তখন থেকেই সাব্যস্ত হয়, যখন থেকে হৃদয় ঈমানশূন্য হয়। এটা এ ধরনের কথা ও কাজের পূর্বে হয়ে থাকে, যার প্রভাবে কুফরি কথা ও কাজ তার দ্বারা প্রকাশ পায়। প্রত্যেকটি জিনিসকে তার আপন জায়গায় রেখে বিচার করতে হবে।
📄 এরপর মন্তব্যকারী পাঠক বলেন
'ইসলামে প্রবেশ ও মুসলমান হিসেবে স্বীকৃত হওয়াটা শব্দের উপর নির্ভর করে। বক্তা যদি মুনাফিকও হয়, তাতেও সে মুসলমান হিসেবে স্বীকৃত হয়। মদিনার মুনাফিকদের ব্যাপারটা এমনই ছিল। তারা বাস্তবে কাফের ছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের মতো আচরণ করেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'মানুষ যেন বলতে না পারে যে, মুহাম্মদ তার সঙ্গীদের হত্যা করে।' এর দ্বারা বোঝা যায়, ইসলামে প্রবেশ করা ও ইসলাম থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে শব্দই মূল। এ ছাড়াও শরিয়তের অনেক বিধান প্রাথমিকভাবে বাহ্যিক অবস্থার বিচারে ধার্য করা হয়, নিয়তের দিকে লক্ষ করা হয় না। এখানেও কুফরি কথা ও কাজের ক্ষেত্রে বাহ্যিক অবস্থার বিচারেই কথা বলতে হবে, নিয়তের দিকে লক্ষ করা হবে না।'