📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 মন্তব্যকারী এরপর বলেন

📄 মন্তব্যকারী এরপর বলেন


'তারা দাবি করে, ওলি-আওলিয়া, পির-বুজর্গ বিপদগ্রস্তের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। এভাবে তারা যা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই পারেন, সৃষ্টির কাছে তার প্রার্থনা করে থাকে। এতে তো তাদের আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য গ্রহণ করা হয়। এর চেয়ে বড় শিরক আর কী হতে পারে?'

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 আমাদের কথা

📄 আমাদের কথা


এখানে অবস্থা দুটো। দুটো অবস্থার মাঝে বিধানগত পার্থক্য করতে হবে। যারা ওলি-আওলিয়া পির-বুজর্গের কাছে এই বিশ্বাস নিয়ে চায় যে, তারা নিজেরাই দিতে ও বঞ্চিত করতে পারে, তাদের ব্যাপার এক রকম।
আর যারা বিশ্বাস করে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা কিছুই করতে পারে না, তাদের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন।
প্রথম প্রকারের লোকেরা মুশরিক। তাদের কাজগুলো জাহেলি যুগের মুশরিকদের মতো। জাহেলি যুগের মানুষ মূর্তিদের কাছে প্রার্থনা করত, বিশ্বাস করত মূর্তিরা দিতে ও বঞ্চিত করতে পারে, উপকার করতে পারে, ক্ষতিসাধন করতে পারে, আল্লাহ অনুমতি না দিলেও তারা নিজেরাই সুপারিশের ক্ষমতা রাখে। এই বিশ্বাস ভয়ংকর।
পক্ষান্তরে দ্বিতীয় প্রকারে লোকদের আমরা মুশরিক বলতে পারি না। বলতে পারি না, তারা ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে। তারা যাদের ডাকে, তারা নিজেরা কিছু করতে পারে, এমন বিশ্বাস তাদের নয়। দেওয়া, বঞ্চিত করা, উপকার করা, ক্ষতি করা, এমনকি নিজ ক্ষমতাবলে সুপারিশ করা—এর কোনোটাই তারা করতে পারে না, এই-ই তাদের বিশ্বাস। তারা কেবল বিশ্বাস করে, আমরা যাদের ডাকি, আল্লাহর অনুমতি ও ক্ষমতা দিলে কিছু কাজ তারা করতে পারে। এমন যাদের বিশ্বাস, তাদের কী করে কাফের বলা যায়? হ্যাঁ, তাদের বিশ্বাসটা ভ্রান্ত হওয়ার কারণে গুনাহগার বলার যেতে পারে।
মুসলমান বিপদে পড়লে তাকে আল্লাহর কাছেই বিপদমুক্তির প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহর দিকেই ধাবিত রাখতে হবে নিজের অন্তরকে। একমাত্র তিনিই বিপদ থেকে মুক্তি দিতে পারেন। আল্লাহ বলেন—
قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُوْنِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَ لَا تَحْوِيلًا ﴿٥٦﴾
আপনি বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে উপাস্য মনে কর, তাদের ডাকো, দেখবে, তারা না তোমাদের থেকে কোনো কষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখে, না ক্ষমতা রাখে কোনো কিছু পরিবর্তন করার।১
যেহেতু আল্লাহ তায়ালাই বিপদ দূর করেন, আর কারও বিপদ দূর করার ক্ষমতা নেই, তাই সামান্য বিবেক থাকলেও কেউ আল্লাহর সঙ্গে না উপাস্য বানানোর ক্ষেত্রে শরিক করতে পারে, না পালনকর্তা বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন—
قُلْ مَنْ تُنَجِّيْكُمْ مِنْ ظُلُمَتِ الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ تَدْعُوْنَهُ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ، لَئِنْ أَنْجُنَا مِنْ هَذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّكِرِينَ ﴿۲۳﴾ قُلِ اللَّهُ يُنَجِّيْكُمْ مِنْهَا وَ مِنْ كُلِّ كَرْبٍ ثُمَّ أَنْتُمْ تُشْرِكُوْنَ ﴿۲۲﴾
আপনি বলুন, কে তোমাদেরকে জল-স্থলের সমূহ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন? ঘন বিপদের অন্ধকার মুহূর্তে কার কাছে গোপনে কাতর স্বরে প্রার্থনা কর? তাকে বলো, এ বিপদ থেকে উদ্ধার করলে আমরা অবশ্যই শোকরগুজার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হব। হে নবী, বলুন, শুধু আল্লাহই তোমাদের এ বিপদ ও যে কোনো দুঃখ-কষ্ট থেকে উদ্ধার করেন। এরপরও তোমরা তার সঙ্গে শরিক কর!২
বিপদে পড়লে আল্লাহই উদ্ধার করেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সন্দেহ করার কোনো অবকাশও নেই।
কিন্তু বান্দা যখন বিপদমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে আর সেটি করতে গিয়ে আল্লাহর কোনো নেককার বান্দার অভিমুখী হয়, যাতে তিনি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেন, আল্লাহর কাছে তার বিপদমুক্তির প্রার্থনা করেন—এটা শিরক নয়। কারণ, এখানে আল্লাহর সঙ্গে কোনো মাখলুককে না উপাস্য বানানোর ক্ষেত্রে শরিক করা হয়েছে, না পালনকর্তা বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে।
অবশ্যই প্রার্থনা ও দোয়া আল্লাহর কাছে করতে হবে। শব্দে ও আকার-ইঙ্গিতে যেন এটা বোঝা না যায় যে, আল্লাহর থেকে মুখ ফিরিয়ে এনে বান্দার কাছেই প্রার্থনা করাটা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, মৃত্যুর পর কবরে, কেউ কারও জন্য সুপারিশ করতে বসে নেই। এ ধরনের আকিদা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর।

টিকাঃ
১. সুরা বনি ইসরাইল, ৫৬।
২. সুরা আনআম, ৬৩-৬৪।

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 ভুল দাবির সপক্ষে কিছু দলিল দেওয়ার চেষ্টা

📄 ভুল দাবির সপক্ষে কিছু দলিল দেওয়ার চেষ্টা


যারা এভাবে পীর-বুজুর্গদের কাছে প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা করে এই অর্থে যে, তারা আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন, প্রার্থনা করবেন, যেন আল্লাহ তাদের বিপদ দূর করে দেন—বেশ কয়েকটি হাদিস দ্বারা তারা দলিল গ্রহণ করে থাকেন।
বুখারি, মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল-এ এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা, আনাস ইবনে মালেক ও ইবনে আব্বাস রাজি.-থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা পূর্বাপর সব যুগের মানুষকে এক প্রান্তরে সমবেত করবেন। সূর্য কাছাকাছি চলে আসবে। মানুষ দুঃসহ কষ্টে পতিত হবে। তারা বলবে, ‘তোমরা কি দেখছ না, তোমাদের পরিস্থিতিটা কী হয়েছে? তোমরা কি কোনো সুপারিশকারী খুঁজবে না, যে তোমাদের জন্য রবের কাছে সুপারিশ করতে পারে?’ তখন লোকেরা পরস্পর বলবে, ‘তোমাদের আদি পিতা আদম আ.-এর কাছে যাওয়া উচিত।’
তারা আদম আ.-এর কাছে আসবে। বলবে, ‘আপনি মানুষের আদি পিতা। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আপনার মাঝে আত্মা ফুঁকে দিয়েছেন। ফেরেশতাদের আপনাকে সেজদা করতে আদেশ করেছেন। তারা সেজদাও করেছে আপনার। আপনি নিজ রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কী অবস্থায় আছি?’ আদম আ. বলবেন, ‘আমার রব আজ এমন রাগ করেছেন, ইতিপূর্বে আর এত রাগ করতে তাকে দেখা যায়নি। এর পরেও হয়তো কখনও এমন রাগ আর করবেন না। তিনি আমাকে একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। আমি তার অবাধ্যতা করেছি। আমি নিজেকে নিয়েই চিন্তিত। তোমরা অন্য কারও কাছে যাও। নুহের কাছে যেতে পারো।'
তারা নুহ আ.-এর কাছে যাবে। তিনি বলবেন, 'তোমরা ইবরাহিমের কাছে যাও।' তারা ইবরাহিম আ.-এর কাছে যাবে। তিনি বলবেন, 'তোমরা মুসার কাছে যাও।' তারা যাবে মুসা আ.-এর কাছে। তিনি বলবেন, 'তোমরা মরিয়ম-তনয় ঈসার কাছে যাও।' তারা ঈসা আ.-এর কাছে যাবে। তিনি বলবেন, 'তোমরা মুহাম্মদের কাছে যাও।' তারা হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে যাবে।
মুহাম্মদের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে গিয়ে তারা বলবে, 'হে মুহাম্মদ, আপনি আল্লাহর রাসুল। সর্বশেষ নবী। আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমাদের জন্য আপন রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কী অবস্থায় আছি?' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'আমি রওনা হব। আরশের নিচে যাব। সেজাবনত হব রবের উদ্দেশে। তখন আল্লাহ তায়ালা আমার হৃদয়ে এমন সব প্রশংসাবাক্য ও সুন্দর স্তুতি ঢেলে দেবেন, ইতিপূর্বে যা আর কাউকে দেননি।' এরপর আমাকে বলা হবে, 'হে মুহাম্মদ, মাথা ওঠাও। তুমি চাও, তোমাকে দেওয়া হবে। সুপারিশ করো, তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।"১
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাজি. বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'কেয়ামতের দিন সূর্য কাছাকাছি চলে আসবে। মানুষ কান পর্যন্ত ঘামে ডুবে যাবে। এ সময়ে তারা আদম আ.-এর মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করবে, এরপর মুসা আ.-এর মাধ্যমে এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে।'২
উপর্যুক্ত চারজন বর্ণনাকারী সাহাবির বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, মানুষ সেই মহা বিপদের সময় একে-অপরকে বলবে, 'তোমরা কি দেখছ না, তোমাদের কী পরিস্থিতি হয়েছে? তোমরা কি লক্ষ করবে না, কে তোমাদের জন্য রবের কাছে সুপারিশ করবে?' তারা আদম আ.-এর কাছে যাবে। তিনি নুহ আ.-এর কাছে পথ দেখিয়ে দেবেন। তিনি পাঠাবেন ইবরাহিম আ.-এর কাছে। তিনি মুসা আ.-এর কাছে। তিনি ঈসা আ.-এর কাছে। আর ঈসা আ. পাঠাবেন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে। তিনি রবের কাছে সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করবেন। ইবনে উমর রাজি.-এর বর্ণনায় এসেছে, 'আমরা এমন পরিস্থিতিতে থাকব, ইতিমধ্যেই তারা আদম আ.-এর মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করবে। এরপর তারা যাবে মুসা আ.-এর কাছে এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে।'
এ সব হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি যদি রবের কাছে সুপারিশ করতে পারে এমন কারও দিকে মনোযোগ দেয়, তাতে রবের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া গণ্য হয় না।
এ ব্যাপারে আরও একটি হাদিস। উসমান রাজি.-এর খেলাফতকাল। সাহাবি উসমান ইবনে হুনাইফ এক সাহাবিকে আল্লাহর কাছে দোয়া করা শিক্ষা দিচ্ছেন। সেই দোয়ার মাঝে তিনি বলছেন, 'হে মুহাম্মদ, আমি আপনার মাধ্যমে আমার প্রয়োজন পূরণের জন্য রবের দিকে মনোনিবেশ করছি, আপনি আমার প্রয়োজন পূরণ করে দিন।"১ এই দোয়া যখন শেখানো হচ্ছে, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর ইহজগতে নেই।
উপর্যুক্ত হাদিসগুলো দ্বারা যারা দলিল দিয়ে থাকেন, তারা মনে করেন, বিপদে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করা ও তার থেকে সাহায্য মঞ্জুরির জন্য নেককার বান্দাদের দ্বারস্থ হওয়াতে যদি আল্লাহ তায়ালা রাগই করতেন, কেয়ামতের কঠিন বিপদের দিনে এটা দেখে তাঁর রাগ আরও বেড়ে যেত। কারণ, তারা নিজেদের বিপদ দূর করার জন্য আগে আল্লাহর দিকে মনোযোগ দেয়নি। এটা যদি শিরকই হত, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই নবীদের সতর্ক করতেন, কিছুতেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুপারিশ তিনি গ্রহণ করতেন না।
এভাবে ভুল দাবিকে দলিল দিয়ে প্রমাণের চেষ্টা ক্ষতিকর। কিন্তু যেহেতু তারা যাদের ডাকে, তাদের রব ও ইলাহ বিশ্বাস করে না বা রব ও ইলাহের কোনো গুণ তাদের আছে বলে মানে না, এ জন্য তাদেরকে কাফের, মুরতাদ ও ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত বলার সুযোগ থাকে না।
কেউ বলতে পারেন, দুটো পরিস্থিতির মাঝে পার্থক্য আছে। নবীদের ব্যাপারটা কেয়ামতের ময়দানে, তারা সেখানে জীবিত। আর এ দিকে যে সব বুজর্গের কথা বলা হচ্ছে, তারা মৃত।
এর উত্তর হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা শিরক কখনও মেনে নেন না। না ইহকালে, না পরকালে। শিরকের কোনো প্রকারই তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। উপাস্য বানানোর ক্ষেত্রে শরিক করা হোক কিংবা পালনকর্তা বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে। যে সব জিনিসকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা হচ্ছে, তাদের মৃত হওয়া, জীবিত হওয়ায় কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহর কাছে সকল শিরকই প্রত্যাখ্যাত।
যাদের কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে, তাদের মৃত হওয়া বা জীবিত হওয়ার পার্থক্যের কারণে মাসআলা বৈধতা থেকে একেবারে ইসলামত্যাগী হওয়ার মতো শিরকের পর্যায়ে চলে যেতে পারে না। শিরক যদি সাব্যস্তই হয়, যে কোনো প্রকারই হোক, যাকে শরিক করা হচ্ছে তার মৃত হওয়া আর জীবিত হওয়ায় এত বিরাট পার্থক্য কী করে হয়?
হ্যাঁ, হয়তো যারা বলছেন, মৃতদের কাছে এ ধরনের সুপারিশ ও সাহায্য চাওয়া শিরক, তাদের দলিল যদি সঠিক হয়, সেখানে বড়জোর হারাম সাব্যস্ত হতে পারে। কাজটি ইসলাম থেকে বের করে দেওয়ার মতো শিরক হতে পারে না।
উসমান ইবনে হুনাইফ রা.-এর হাদিস সহিহ। সেখানে তিনি এক লোককে এই বলে দোয়া করতে শেখাচ্ছেন যে, সে যেন দোয়ার মাঝে বলে, ‘হে মুহাম্মদ, আমি আপনার মাধ্যমে আমার প্রয়োজন পূরণের জন্য রবের অভিমুখী হচ্ছি, যাতে আপনি আমার প্রয়োজনটা পূরণ করিয়ে দেন।’ এই ঘটনা কিন্তু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মৃত্যু-পরবর্তী সময়ের।
এই দলিলের পর আর কাজটিকে বড় পর্যায়ের শিরক বলার অবকাশ থাকে না। এখন আলোচ্য বিষয় হতে পারে, কাজটির বৈধ বা অবৈধ হওয়া নিয়ে। এটা জানতে হলে ফিকহের কিতাবে সন্ধান করে দেখতে হবে। সেখানে দলিলসহ পূর্ণ বিধান পাওয়া যাবে।
এখানে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর ঘটনাটিও খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি হজের সফরে পথ হারিয়ে বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহর বান্দারা, আমাদের পথ দেখিয়ে দাও।’ হাম্বলি মাজহাবের ফকিহগণ এই কাজ মেনে নিয়েছেন, মেনে নিয়েছেন ইসলামের অন্যান্য মাজহাবের ফকিহগণও।
এত কিছুর পরও মন্তব্যকারী যদি বলতেন— ‘যারা এমনটি করবে, তারা ভুলের উপর আছে’, বিষয়টি আরও সহজ হত।
কিছু মানুষ একটা কথা শুনেই তা প্রত্যাখ্যান করে বসে। বিপক্ষের দলিল-প্রমাণ নিয়ে তাদের চিন্তা করার প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে তারা কোনো বিশ্লেষণে যেতে রাজি না। কখনও তারা মনে করে, তারা যে দলিল দিচ্ছে, সেটাই দলিল। এর বাইরে এই মাসআলায় আর কোনো দলিলই থাকতে পারে না। এ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বেদআত! মুসলমানদের বিশাল এক দলকে কাফের বলে দিতে তাদের একটুও বাঁধে না। তারা হুট করে বলে ফেলে—তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কিছুকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছেন। এর চেয়ে বড় শিরক আর কী হতে পারে!
আমরা বলি, প্রিয় ভাই, আসুন, আমরা যা লিখেছি, গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দলিল-প্রমাণ নিয়ে পর্যালোচনা করুন। এরপর আসুন আবার সংলাপে বসি।
সংলাপ জ্ঞানীদের মাঝে বন্ধন সৃষ্টি করে, একজন উপকৃত হয় অন্যজনের জ্ঞানে।

টিকাঃ
১. বুখারি, ৩৩৪০।
২. বুখারি, ১৪৭৫。
১. মুসনাদে আহমদ, ১৭২৪১。

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 চতুর্থ মন্তব্যকারী পাঠক বলেন

📄 চতুর্থ মন্তব্যকারী পাঠক বলেন


'আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক। তবে যারাই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চায়, তারা সবাই মুশরিক নয়।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00