📄 আমাদের কথা
পুরো আলোচনায় আমরা কারও নাম নিইনি। কারও দিকে ইঙ্গিতও করিনি। না সমকালীন কারও নাম নিয়েছি, না পূর্ববর্তী কারও। বর্তমান সময়ে 'তাকফির' বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি। مسلمانوں মাঝে এ ব্যাপারে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ধারণার প্রচার সীমাহীন গুরুত্ব রাখে। দিন দিন গোঁড়ামি বেড়েই চলছে। মানুষের মেধা ও মনন হয়ে পড়ছে বিক্ষিপ্ত।
আমরা কখনও কারও নাম নিইনি। আমাদের মনে উদয়ও হয়নি নির্দিষ্ট কারও কথা যে, তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করলে তাকে সর্বক্ষেত্রেই কাফের ও ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত বলে দেন। এটা বক্তার বিভ্রমমাত্র। মানুষের মনে কী আছে, তা আল্লাহ ছাড়া আর কে বলতে পারে? মনের কথা ধরে এমন মন্তব্য কীভাবে সঠিক হতে পারে? যার হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি সম্মানবোধ আছে, যে জানে, আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র অদৃশ্যের সংবাদ রাখেন এবং এও জানে যে, আল্লাহ আমার এই কাজ দেখছেন, জানছেন—তার জন্য এ ধরনের কাজ সমীচীন নয়।
এখানে ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর কথা উল্লেখ করে লাভ কী? ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর উপর্যুক্ত বক্তব্যের ('সকল মুসলমান এ ব্যাপারে একমত, যে কোনো সম্মানিত সৃষ্টির নামে শপথ করবে অথবা নিজে যাকে সম্মানিত মনে করে তার নামে শপথ করবে, তার সে শপথ সংঘটিত হবে না। তা ভঙ্গ করলে কোনো কাফফারাও দিতে হবে না।') দ্বারা বোঝা যায়, এই মাসআলায় মুসলমানদের ঐকমত্য রয়েছে। মন্তব্যকারীও সেটা উল্লেখ করলেন। এই দাবি কি শুদ্ধ? এটা তো বাস্তবতার বিপরীত দাবি। যেখানে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. ও হাম্বলি মাজহাবের অনেক ফকিহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে শপথ করাকে বৈধ বলেন এবং এও বলেন যে, এমন শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা দিতে হবে—সেখানে এই মাসআলায় ঐকমত্যের দাবি কীভাবে সঠিক হতে পারে? তা হলে কি তারা দাবি করতে চান, হাম্বলিরা মুসলমান নয়! ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর এমন স্পষ্ট বক্তব্য কি কোনো হাম্বলি ফকিহ না জেনে পারেন?
ইবনে তাইমিয়া রহ. হাম্বলি মাজহাবের বিশিষ্ট ফকিহ। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। তিনি এমন কথা জানবেন না, এটা আমরা মনে করি না। কখনও একজন মানুষ কিছু লেখেন। কিছু সম্পূরক মন্তব্য বা উল্লিখিত বিধানে ব্যতিক্রম কিছু থাকলে তা তার মাথায় থাকে, লেখার ক্ষেত্রে সেটা হয়তো ছুটে গিয়ে থাকবে। (আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।)
তাকফিরিরা' যখনই কোনো আয়াত-হাদিসে শিরক-কুফর শব্দ দেখে, খুশিতে আটখানা হয়ে পড়ে! অধিকাংশ مسلمانوں উপরই তারা এর দ্বারা কুফরের বিধান আরোপ করে বসে। আবার তাদের অধিকাংশই আবার বাহ্যিকভাবে ভালোবাসে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. ও তার অনুসারীদের।
তো আমরা যখন একটা হাদিস পেলাম, যেখানে কোনো একটা কাজ করার কারণে তার উপর শিরক শব্দের প্রয়োগ এসেছে, আবার ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-কে দেখছি, তিনি এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করছেন না—তখনই আমাদের মনে হল, এখানে এই আলোচনাটা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক। হয়তো এর মাধ্যমে সে সব তাকফিরিরা নিজেদের কুরআন-হাদিস বোঝাপড়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করবেন। হয়তো তারা যখন দেখবে যে, কোনো মানুষ কোনো আয়াত-হাদিস বুঝতে ভুল করেছে, তার সম্পর্কে তারা বলবে, 'সে বুঝতে ভুল করেছে।' তাকে ধরেই কাফের, মুশরিক ও ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত বলে বসবে না।
মন্তব্যকারী ইবনে তাইমিয়া রহ. সম্পর্কে বলেন, 'আল্লাহ তার আত্মাকে আলোকিত করুন, তার কবরকে পবিত্র করুন'—এ তো এক আশ্চর্য ব্যাপার! এ ধরনের দোয়া সালাফের থেকে প্রমাণিত নয়। এগুলো আশআরি ও সুফিরা' তাদের উলামায়ে কেরাম থেকে বর্ণনা করে থাকে। কিছু মানুষ আবার খুব সহজেই তাদের বেদআতি বলে থাকেন! ইবনে তাইমিয়া রহ. সম্পর্কে এ ধরনের দোয়া কিন্তু তাদের কাছে শিরক বা শিরকে মাধ্যম বলে মনে হয় না!
টিকাঃ
১. যাদের অধিকাংশ চিন্তাই আবর্তিত হয় مسلمانوں মাঝে কে কাফের হয়ে গেল, সেটা নিয়ে। নিজেদের আমলের দিকে তাদের খুব কমই লক্ষ থাকে। (অনুবাদ)
১. এখানে আশআরি ও সুফিদের হেয় করা উদ্দেশ্য নয়। মূলত মন্তব্যকারীর দৃষ্টিভঙ্গিতে নেমে গিয়ে লেখক এই ভাষা ব্যবহার করেছেন। (অনুবাদক)
📄 তৃতীয় মন্তব্যকারী পাঠক বলেন
'সালাহুদ্দিন বিন আহমদ ইদলিবি দাবি করেন, মৃতদের ডাকা ও তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক নয়।'
📄 আমাদের কথা
এটা মন্তব্যকারীর কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য। সম্পূর্ণ বাস্তবতাবিরোধী। আমরা সরাসরি এমন বলিনি যে, মৃতদের ডাকা ও তাদের থেকে সাহায্য চাওয়া শিরক নয়। আমরা বলেছি, 'কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে এই বিশ্বাস নিয়ে ডাকে যে, সে নিজেই উপকার ও ক্ষতিসাধনের ক্ষমতা রাখে, সে শিরক করল। তবে কেউ যদি এই বিশ্বাস নিয়ে ডাকে যে, যাকে ডাকা হচ্ছে, সে নিজে কিছু করতে পারে না, আল্লাহ তায়ালা তাকে কিছু কাজ করার অনুমতি দিয়ে রেখেছেন, তাই কেবল তাকে ডাকা হচ্ছে—এটাকে শিরক বলার সুযোগ নেই। হ্যাঁ, কাজটির বৈধতা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে।' মনে হচ্ছে, মন্তব্যকারী দুটো কথার পার্থক্য ধরতে পারেননি।
📄 মন্তব্যকারী এরপর বলেন
'তারা দাবি করে, ওলি-আওলিয়া, পির-বুজর্গ বিপদগ্রস্তের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। এভাবে তারা যা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই পারেন, সৃষ্টির কাছে তার প্রার্থনা করে থাকে। এতে তো তাদের আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্য গ্রহণ করা হয়। এর চেয়ে বড় শিরক আর কী হতে পারে?'