📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 আমাদের কথা

📄 আমাদের কথা


যারা কোনো কাজকে কুফর-শিরক বলে, কিন্তু বাস্তবে কাজটি এমন নয় আর কোনো মানুষকে কাফের-মুশরিক বলে, কিন্তু সে কাফের-মুশরিক নয়-এই দুইটি বিষয় একটু বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
কখনও এমন হয় যে, আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ হয়ে কেউ এমন কথা বলে থাকে কিংবা বিশেষ কোনো ব্যাখ্যার আলোকে কথাটি সে বলে ফেলেছে, প্রবৃত্তির অনুসরণে নয় এবং সে বারবারও বলেনি, যেমনটি উমর রাজি. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে করেছিলেন, এই ব্যক্তিকে কাফের বলা যাবে না, সে গুনাহগারও হবে না, বরং তাকে নিয়তের বিশুদ্ধতার কারণে সওয়াব দেওয়া হবে। এটাকে বাধা দেওয়া যায় না, অস্বীকারও করা যায় না।
কিন্তু কেউ যদি এমন করতেই থাকে, তার অবস্থান ভুল, এটা বোঝার পরও নিজেকে সংশোধন না করে, প্রবৃত্তির তাড়নায় বারবার একই কাজ করেই চলে—যেমনটি করেছিল খাওয়ারিজরা, যারা আলি রাজি.-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল—এরা পথভ্রষ্ট, বেদআতি। শ্রোতাদের তার কথা এড়িয়ে চলা উচিত, প্রত্যাখ্যান করা উচিত। সেও যদি প্রবৃত্তিপূজারি না হয়, উপদেশদাতার উপদেশে তার কান দেওয়া উচিত।
ইবনুল কাইয়িম রহ.-এর বক্তব্য সাধারণভাবে গ্রহণ করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বেশ কিছু হাদিসের উপর আমল থেকে দূরে সরে যেতে হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপর মুসলমান ভাইকে কাফের বলা থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক করেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে কেউ তার অপর মুসলমান ভাইকে বলবে, 'হে কাফের'—এই বক্তব্য তাদের দুজনের যে কোনো একজনের উপর অবশ্যই প্রয়োগ হবে। সে যেমনটি বলেছে, বাস্তবে যদি বিষয়টি এমনই হয়, তা হলে তো কথা নেই; কিন্তু এমনটি যদি না হয়, তা হলে এই বক্তব্য খোদ বক্তার উপরই প্রয়োগ হবে।' যে মুসলমান অপর মুসলমানকে কাফের বলে, সে নিজেই তো কাফের হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে!
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্তব্যই দলিল ও সত্যের মাপকাঠি, ইবনুল কাইয়িম রহ.-এর বক্তব্য নয়।
খাওয়ারিজরা শ্রেষ্ঠতম সাহাবি ও তার পক্ষাবলম্বনকারী ব্যক্তিদের কাফের বলেছিল। তারা প্রবৃত্তির অনুসরণ বা ব্যক্তিস্বার্থে বলেনি, তাদের বুঝমতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ হয়েই বলেছিল। কিন্তু এর পরও তাদের বলা হয়েছে, তারা হল সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানুষ। অতএব কাউকে কাফের বলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন অপরিহার্য।

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 দ্বিতীয় মন্তব্যকারী পাঠক আরও বলেন

📄 দ্বিতীয় মন্তব্যকারী পাঠক আরও বলেন


'এই কিতাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথের ব্যাপারটি আনার কোনো যুক্তি নেই। আপনি বলেছেন, 'আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করা ছোট পর্যায়ের শিরক, বড় পর্যায়ের শিরক নয়; এর মাধ্যমে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় না।' অথচ এই মাসআলায় এমনটি কেউ বলেন না। পরিষ্কার হাদিস আছে এ ব্যাপারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করে, সে শিরক করল।' হাদিসের বাহ্যিক অর্থে এমন কাজ শিরক হওয়ার কথা বোঝা যায়। ইমাম তিরমিজি রহ. এই হাদিস উল্লেখ করে এর মান সম্পর্কে বলেন, 'এটি একটি হাসান পর্যায়ের হাদিস।' কিছু কিছু আলেমের কাছে এর ব্যাখ্যা হচ্ছে, এখানে শিরক শব্দ ধমক ও কঠোরতা বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।'

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 আমাদের কথা

📄 আমাদের কথা


ঈমান ভঙ্গের কারণের এই কিতাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করার বিষয়টি অবশ্যই প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হাদিসে এসেছে, 'যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করল, সে শিরক করল।' কেউ কেউ এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নিতে পারে। বলতে পারে, এখানে কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলবে না। ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণের উপযুক্ত প্রমাণ থাকলেও না। যদি এ কথা বলা হয়, তা হলে দুটো সম্ভবানার যে কোনো একটি গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে:
এক. যারাই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করাকে বৈধ বলবে, তারাই কাফের। এরই ফলে কাফের বলতে হবে, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-কেও (নাউজুবিল্লাহ)। কারণ, তিনিও কোনো কোনো অবস্থায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ বৈধ বলেন।
দুই. অথবা অবশেষে তারা বাধ্য হয়েই বলবেন, না বিশুদ্ধ কোনো প্রমাণ থাকলে এখানে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
অন্যকে কাফের বলায় তৎপর লোকেরা যদি প্রথম সম্ভাবনাকে গ্রহণ করে, তা হলে তারা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও হাম্বলি মাজহাবের ফকিহদের কাফের সাব্যস্ত করে বসবে। এমনকি তাদের যারা কাফের মনে করবে না, তাদেরও কাফের সাব্যস্ত করতে হবে। কিন্তু এর থেকে বাঁচার জন্য তারা যদি দ্বিতীয় সম্ভবানাকে গ্রহণ করে, তা হলে তাদের বিরোধীরা বলবে, এখানে যেহেতু ব্যাখ্যা করা হচ্ছে—এমন যত আয়াত-হাদিস আছে, যেখানে বিশুদ্ধ প্রমাণের আলোকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অবকাশ আছে, সব জায়গায় ব্যাখ্যা করতে হবে, বাহ্যিক অবস্থার উপর বিধান আরোপ করা যাবে না।
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনেক বড় ইমাম। তিনি নিজের কিতাবে এই হাদিস উল্লেখ করেছেন। হাদিসের বাহ্যিক অর্থের দিকে লক্ষ করলে অবশ্যই গাইরুল্লাহর নামে শপথকারীকে মুশরিক বলতে হয়। কিন্তু সেই তিনিই আবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে শপথ করাকে বৈধ বলেছেন। অতএব আমাদেরকে তার হাদিস বোঝাপড়ার ধরনটা বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। তার কথাকে আমাদের মাসআলার সমর্থনে নিয়ে আসতে হবে। যদিও আমরা জানি, তিনি ভুল থেকে নিরাপদ নন। মূলত দলিল কুরআন-সুন্নাহ এবং তা থেকে উন্মোচিত বিষয়াবলি।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করার মাসআলা প্রাসঙ্গিক হওয়ার আরও একটি কারণ হচ্ছে, কিছু লোক অন্যকে কাফের বলায় খুব তৎপর। তারা হাদিসে কুফর-শিরক শব্দ পেয়েই মানুষকে কাফের বলে বসে, কোনো ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ধার ধারে না। ঠিক তারাই আবার যখন দেখে, হাদিসের বাহ্যিক অর্থ নিলে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-কেও কাফের সাব্যস্ত করতে হয়, তখন আবার ব্যাখ্যা খোঁজে! অতএব এখানে এই বিধান নিয়ে আলোচনা অবশ্যই জরুরি। এর প্রাসঙ্গিকতাও আছে।
মন্তব্যকারী উল্লেখ করেছেন, 'ইমাম তিরমিজি রহ. প্রথমে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, 'যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করল, সে শিরক করল।' এরপর হাদিসের উপর মন্তব্য করেছেন এই বলে যে, হাদিসটি হাসান পর্যায়ের। অনেক আলেম এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, কাজটির ব্যাপারে কঠোরতা বোঝাতেই মূলত হাদিসে শিরক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।'
আমাদের কথা হল, ইমাম তিরমিজি রহ.-এর কথা লক্ষ করলেই তো সমাধান হয়ে যায়! তিনি যখন বলছেন, 'কঠোরতা বোঝাতেই শিরক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে', তার মানে, তিনি এখানে শিরক-কুফরের প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করেননি। সব সময় যে কুফর-শিরক শব্দ দ্বারা এর প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য হয় না, কখনও কোনো কাজের নিষিদ্ধতার গুরুত্ব বোঝাতেও এই শব্দ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে—এই বাস্তবতা যদি তারা বুঝত!

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 মন্তব্যকারী লেখককে উদ্দেশ্য করে বলেন

📄 মন্তব্যকারী লেখককে উদ্দেশ্য করে বলেন


'লেখক কাদেরকে অন্যকে কাফের বলায় তৎপর বলছেন? শায়খ বিন বাজ রহ.-সহ অন্যান্য সালাফি শায়খদেরই তো! তিনি প্রমাণ করে দেখান যে, সালাফি শায়খদের কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করলে সর্বক্ষেত্রেই তাকে কাফের সাব্যস্ত করেন। লেখক কোথায় পাবে এমন বক্তব্য? তারা কেউ বলেননি এমন কথা!'
মন্তব্যকারী আরও বলেন, 'শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তার আত্মা আলোকিত করুন, তার কবরকে পবিত্র করুন) বলেন, 'সকল মুসলমান এ ব্যাপারে একমত, যে ব্যক্তি কোনো সম্মানিত সৃষ্টির নামে শপথ করবে অথবা নিজে যাকে সম্মানিত মনে করে, তার নামে শপথ করবে, তার সে শপথ সংঘটিত হবে না। তা ভঙ্গ করলে কোনো কাফফারাও দিতে হবে না। সৃষ্টির কোনো কিছুর নামে শপথ করা অধিকাংশ আলেমের কাছে হারাম।" (অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়া রহ. থেকেও কাফের শব্দের উল্লেখ নেই।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00