📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 আমাদের কথা

📄 আমাদের কথা


মন্তব্যকারী পাঠক যে বললেন, 'ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর কথা দ্বারা দলিল গ্রহণ' —এই কথায় বিরাট ভুল রয়েছে। কারণ, আমরা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর কথা দ্বারা দলিল দিইনি। আমাদের বক্তব্য ও লেখার মাঝে কোথাও কোনো ইমামের কথা বা কাজের মাধ্যমে দলিল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি।
ইমামদের মর্যাদা আপন জায়গায় স্বীকৃত। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. অনেক বড় ইমাম। কিন্তু তার কথা ও কাজ শরিয়তের দলিল নয়। দলিল কুরআন-সুন্নাহ ও তা থেকে উন্মোচিত বিভিন্ন বিষয়।২
আলেমদের কথার মাধ্যমে দলিল দেওয়া চলে না। তবে কোনো ইমামের কথা যদি ভুল না হয়, তা দ্বারা কুরআন-সুন্নাহর দলিলের আলোকে প্রমাণিত কোনো বিষয়ের সমর্থন গ্রহণ করা যায়। প্রথমে আমাদের বক্তব্যের সপক্ষে দলিল উল্লেখ করেছি। এরপর বক্তব্যকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য এর সমর্থনে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর কথা উল্লেখ করেছি। তার কথা দ্বারা দলিল দিইনি। একটা হল দলিল দেওয়া, আরেকটা হল বক্তব্যের সমর্থনে কারও কথা বা কাজ উল্লেখ করা—দুটোর মাঝে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।
মন্তব্যকারী বক্তব্যে যে বলেছেন, 'আপনি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর বক্তব্যের মাধ্যমে মৃতদের কাছে সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারটি হালকা করে উপস্থাপন করেছেন। ইমাম সাহেবের বক্তব্য এ ব্যাপারে দলিল হতে পারে না'—এই কথাতেও পূর্বের মতো বিরাট ভুল আছে। কারণ, আমি শুধু মৃত নেককারদের কাছে সাহায্য চাওয়ার দুটো অবস্থার মাঝে পার্থক্য বর্ণনা করেছি। যার একটিকে শিরক বলেছি, অপরটিকে বলিনি। সেখানে আমার বক্তব্য ছিল, 'এ ধরনের কথার দুটো অবস্থা হতে পারে। তার একটি বড় পর্যায়ের শিরক। অতএব এ ধরনের কথা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।' এ কথার মাঝে তো সতর্কীকরণ পাওয়া গেছে, হালকাভাবে উপস্থাপন হল কোথায়?
মন্তব্যকারী আরও বলেন, 'ঘটনা ও হাদিস যদি শুদ্ধ হয়ে থাকে, সেখানে 'হে আল্লাহর বান্দারা' দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল ফেরেশতারা। এখানে মৃত বা জীবিত, জিন, নেককার ও ওলি-আওলিয়াদের ফেরেশতাদের সঙ্গে মেলানোর সুযোগ নেই'—এই বক্তব্যেও সমস্যা আছে। তার বক্তব্যের ধারা প্রমাণ করে, যে বলবে, 'হে আল্লাহর বান্দারা আমাকে সাহায্য করো' আর এর দ্বারা ফেরেশতাদের উদ্দেশ্য নেবে, সে মুশরিক নয়। আর যে ফেরেশতা ছাড়া অন্য নেককারদের উদ্দেশ্য নেবে, সে মুশরিক। সব সময়ের জন্য এই সাধারণ বক্তব্য।
সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ, এখানে বক্তব্যের দুটো অবস্থা হতে পারে। এ ধরনের কথাই কেউ যখন বলবে এই বিশ্বাস নিয়ে যে, ফেরেশতা, নেককার জিন, ওলি-আওলিয়া ইত্যাদি নিজেরাই দেওয়া বা না-দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, উপকার করতে পারে, ক্ষতি করতে পারে—তার এই বক্তব্য জাহেলি যুগের মুশরিকদের মতো। সে মুশরিক।
কিন্তু এ ধরনের কথা কেউ যদি ফেরেশতা ও অনুপস্থিত মৃত-জীবিত নেককারদের উদ্দেশ্যে এই বিশ্বাস নিয়ে বলে যে, তারা নিজেরা কিছুই করতে পারে না, তাদের আত্মারা ঊর্ধ্বজগতে বিচরণ করে, আল্লাহর আদেশে তারা বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করে—তবে এই বক্তব্যকে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো শিরক বলা সম্ভব নয়। কারণ, সে এই বক্তব্যের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করেনি। না পালনকর্তা হিসেবে, না উপাস্য হিসেবে। তবে, এ ধরনের কাজ যেহেতু শিরকি কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং উলামায়ে কেরাম কর্তৃক নিষিদ্ধ, তাই এর থেকে বেঁচে থাকা কর্তব্য।
কাজটাকে বড় পর্যায়ের শিরক প্রমাণ করার জন্য তিনি দুটো আয়াত দিয়ে দলিল পেশ করেছেন। দুটোর একটিও এখানে খাটে না। আয়াতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কারণ আল্লাহ এই আয়াতে একটু আগেই বলেছেন— ‘হে লোকসকল, তোমাদের উপর আল্লাহর যে নেয়ামত রয়েছে, তা স্মরণ করো। তিনি ছাড়া কি আর কোনো সৃষ্টিকর্তা আছে?’১
এরপর বলছেন— যদি তারা আপনাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, তো তারা আপনার আগেও অনেক রাসুলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে।২
এরপর আল্লাহ তায়ালা বলেন— আল্লাহ তিনি, যিনি বাতাস প্রেরণ করেন, তারা মেঘমালাকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়; এরপর আমি তা নির্জীব ভূখণ্ডের দিকে পরিচালিত করি আর তার মাধ্যমে সেই ভূখণ্ডকে নির্জীবতার পর সজীব করে তুলি।১
আরও বলেন- আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।২
এরপর বলেন- দুটো নদী সমান নয়। একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা ও ক্ষারবিশিষ্ট।৩ তিনি সূর্য ও চন্দ্র নিয়োজিত করে রেখেছেন।
এই সব কথার পর আল্লাহ তায়ালা বলেন- তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব, সকল ক্ষমতা তাঁরই। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাক, তারা তো খেজুরের আঁটির খোসারও মালিক নয়। তোমরা তাদের ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না। শুনলেও তাতে সাড়া দেবে না। তোমরা যে তাদের শরিক করেছ, কেয়ামতের দিন তারা এটা অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞের (আল্লাহ) মতো করে কেউ তোমাদের অবহিত করতে পারবে না।৪
উল্লিখিত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তায়ালা তাদের আলোচনা করেছেন, যারা নিজেদের স্রষ্টাকে অস্বীকার করে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। এখানে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কুদরতের কিছু নিদর্শনও উল্লেখ করেছেন। এরপর বলছেন-'তিনিই তোমাদের রব, সকল ক্ষমতা তাঁরই, তাঁকে ছাড়া তোমরা যাদের ডাক, তারা খেজুরের আঁটির আবরণেরও মালিক নয়।'
আয়াতে সম্বোধন করা হয়েছে মুশরিকদের। যারা মূর্তির কাছে প্রার্থনা করে। আল্লাহর বিশেষ বিশেষ গুণ মূর্তিদেরও আছে বলে বিশ্বাস করে।
ইবনে আবি হাতিম সুদ্দি রহ. থেকে বর্ণনা করেন, 'কুরআনের আয়াত 'যদি তোমরা তাদের ডাক, তারা তোমাদের ডাক শুনবে না'- এখানে বাতিল উপাস্যদের কথা বলা হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত আর যাদের তারা ডাকে, তারা না প্রার্থনা শুনতে পারে, না ইবাদতের কথা জানতে পারে। 'যদি শোনেও, তোমাদের ডাকে তারা সাড়া দেবে না'-অর্থাৎ, তারা যদি তোমাদের ডাক শোনেও, তোমাদের কোনো কল্যাণ সাধনের জন্য তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না। 'কেয়ামতে তোমাদের শিরককে তারা অস্বীকার করবে'-অর্থাৎ, তোমরা যে তাদের ইবাদত করতে, এটা তারা অস্বীকার করবে। এখানে উপাস্য দ্বারা উদ্দেশ্য তাদের কথিত উপাস্য।
যারা নিজেদের রবের উপর বিশ্বাস রাখে, পালনকর্তা ও উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তার একত্বের স্বীকৃতি দেয়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সত্য বলে গ্রহণ করে নেয়, যারা রবকে এই বিশ্বাস থেকে ডাকে যে, তিনি এক ও একক, সব কিছু তাঁরই হাতে-এ ধরনের বান্দারা যখন আল্লাহর কোনো নেককার বান্দাদের ডাকে, আর সে ডাকও এই বিশ্বাস থেকে যে, সেই নেককাররা নিজেরা কিছু করতে পারে না; না তারা দিতে পারে, না ঠেকাতে পারে, না উপকার করতে পারে, না ক্ষতি করতে পারে; হ্যাঁ, তারা বিশ্বাস করে, নেককার মৃতদের আত্মরা আত্মাজগতে সন্তরণ করে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তারা বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করে থাকে-উল্লিখিত আয়াতে এ সব লোকদের উদ্দেশ্য করে কিছু বলাই হয়নি। এই আয়াত দিয়ে তাদের উপর একেবারে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো বিধান আরোপের সুযোগ নেই।
যে প্রসঙ্গের আয়াত সেই প্রসঙ্গেই ব্যবহার করা উচিত। আয়াতের পূর্বাপর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে তা নিজের ইচ্ছেমতো দলিল বানানোর চেষ্টায় লিপ্ত হওয়া সঠিক কাজ নয়।
এ প্রসঙ্গেই খেটে যায় ধিকৃত খারিজয়্যা খাওয়ারিজদের নিয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাজি.-এর মন্তব্যটি। তিনি বলেন, 'তারা কাফেরদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হওয়া কিছু আয়াত নিয়ে মুমিনদের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করেছে।১
এরপরও এখানে প্রশ্ন থেকেই যায় যে, কোনো মুসলমানের জন্য কি এটা জায়েজ আছে, সে আল্লাহর কোনো নেককার বান্দাকে এই নিয়ত নিয়ে ডাকবে যে, সে নিজে কিছু করতে পারে না, দিতে পারে না, ঠেকাতে পারে না, উপকার করতে পারে না, ক্ষতি করতে পারে না; কিন্তু আল্লাহ তাকে কিছু অনুগ্রহ করেছেন, ফলে তার হাতে এমন কিছু বিষয় আছে, যা মানুষের উপকার করতে পারে?
আমরা বলব, জায়েজ-নাজায়েজ এক বিষয় আর কোনো কাজ বড় পর্যায়ের শিরক হওয়া আরেক বিষয়। প্রথমটি এই কিতাবের আলোচ্য বিষয় নয়। কেউ যদি কাজটির ফিকহি বিধান জানতে চান, সেটি কি জায়েজ, হারাম নাকি মাকরুহ, এর জন্য তাকে ফিকহের কিতাবাদি খুঁজে দেখতে হবে এবং সেখানেই এটা দলিল-প্রমাণসহ পাওয়া যাবে।২

টিকাঃ
২. এই বাক্য পড়ে দ্বিধান্বিত হওয়ার কিছু নেই। কেননা, পরের বাক্যেই এর সমাধান রয়েছে। 'দলিল কুরআন-সুন্নাহ ও তা থেকে উন্মোচিত বিভিন্ন বিষয়'; আর কুরআন-সুন্নাহ থেকে ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুল নীতি-১৬৬ শরিয়তের বিভিন্ন বিষয় উন্মোচন করেছেন ইমাম আহমদ রহ. ও তার মতন মহান মুজতাহিদ ইমামগণ। এই বাক্যে এ কথার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে যে, কারও ব্যক্তিগত রায়-রুচি-অভিমত এই আলোচনার ভিত্তি নয়, এর ভিত্তি নিরেট কুরআন-সুন্নাহর দলিল। (অনুবাদক)
১. সুরা ফাতির, ৩।
২. সুরা ফাতির, ৪。
১. সুরা ফাতির, ৯।
২. সুরা ফাতির, ১১।
৩. সুরা ফাতির, ১২।
৪. সুরা ফাতির, ১৩-১৪。
১. বুখারি, প্রমাণ সাব্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর খাওয়ারিজ ও মুলহিদদের হত্যা অধ্যায়, খ. ৯, পৃ. ১৬।
২. মূল মাসআলার আলোচনার সময় আমরা এর বিধান বর্ণনা করে এসেছি।

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 দ্বিতীয় মন্তব্যকারী পাঠক বলেন

📄 দ্বিতীয় মন্তব্যকারী পাঠক বলেন


'কেউ যদি এ ধরনের কাজকে কুফর বা শিরক বলে কিংবা এ ধরনের কাজের কর্তাকে কাফের-মুশরিক বলে, তাকে নিষেধ করাও তো ঠিক না। কারণ, ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজি রহ.-এর সমর্থনে বলেন, 'কেউ যদি কোনো মুসলমানকে মুনাফিক বা কাফের বলে আর এটা বলে সে কোনো ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে এবং আল্লাহ তায়ালা ও রাসুলের পক্ষ নিয়ে, নিজের কোনো স্বার্থে নয়, প্রবৃত্তির অনুসরণেও নয়—এর কারণে তাকে কাফের বলা যাবে না। সে গুনাহগারও হবে না। বরং তার এই নিয়তের কারণে তাকে সওয়াব দেওয়া হবে।

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 আমাদের কথা

📄 আমাদের কথা


যারা কোনো কাজকে কুফর-শিরক বলে, কিন্তু বাস্তবে কাজটি এমন নয় আর কোনো মানুষকে কাফের-মুশরিক বলে, কিন্তু সে কাফের-মুশরিক নয়-এই দুইটি বিষয় একটু বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
কখনও এমন হয় যে, আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ হয়ে কেউ এমন কথা বলে থাকে কিংবা বিশেষ কোনো ব্যাখ্যার আলোকে কথাটি সে বলে ফেলেছে, প্রবৃত্তির অনুসরণে নয় এবং সে বারবারও বলেনি, যেমনটি উমর রাজি. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে করেছিলেন, এই ব্যক্তিকে কাফের বলা যাবে না, সে গুনাহগারও হবে না, বরং তাকে নিয়তের বিশুদ্ধতার কারণে সওয়াব দেওয়া হবে। এটাকে বাধা দেওয়া যায় না, অস্বীকারও করা যায় না।
কিন্তু কেউ যদি এমন করতেই থাকে, তার অবস্থান ভুল, এটা বোঝার পরও নিজেকে সংশোধন না করে, প্রবৃত্তির তাড়নায় বারবার একই কাজ করেই চলে—যেমনটি করেছিল খাওয়ারিজরা, যারা আলি রাজি.-এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল—এরা পথভ্রষ্ট, বেদআতি। শ্রোতাদের তার কথা এড়িয়ে চলা উচিত, প্রত্যাখ্যান করা উচিত। সেও যদি প্রবৃত্তিপূজারি না হয়, উপদেশদাতার উপদেশে তার কান দেওয়া উচিত।
ইবনুল কাইয়িম রহ.-এর বক্তব্য সাধারণভাবে গ্রহণ করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বেশ কিছু হাদিসের উপর আমল থেকে দূরে সরে যেতে হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপর মুসলমান ভাইকে কাফের বলা থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক করেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে কেউ তার অপর মুসলমান ভাইকে বলবে, 'হে কাফের'—এই বক্তব্য তাদের দুজনের যে কোনো একজনের উপর অবশ্যই প্রয়োগ হবে। সে যেমনটি বলেছে, বাস্তবে যদি বিষয়টি এমনই হয়, তা হলে তো কথা নেই; কিন্তু এমনটি যদি না হয়, তা হলে এই বক্তব্য খোদ বক্তার উপরই প্রয়োগ হবে।' যে মুসলমান অপর মুসলমানকে কাফের বলে, সে নিজেই তো কাফের হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে!
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্তব্যই দলিল ও সত্যের মাপকাঠি, ইবনুল কাইয়িম রহ.-এর বক্তব্য নয়।
খাওয়ারিজরা শ্রেষ্ঠতম সাহাবি ও তার পক্ষাবলম্বনকারী ব্যক্তিদের কাফের বলেছিল। তারা প্রবৃত্তির অনুসরণ বা ব্যক্তিস্বার্থে বলেনি, তাদের বুঝমতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ হয়েই বলেছিল। কিন্তু এর পরও তাদের বলা হয়েছে, তারা হল সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানুষ। অতএব কাউকে কাফের বলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন অপরিহার্য।

📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 দ্বিতীয় মন্তব্যকারী পাঠক আরও বলেন

📄 দ্বিতীয় মন্তব্যকারী পাঠক আরও বলেন


'এই কিতাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথের ব্যাপারটি আনার কোনো যুক্তি নেই। আপনি বলেছেন, 'আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করা ছোট পর্যায়ের শিরক, বড় পর্যায়ের শিরক নয়; এর মাধ্যমে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় না।' অথচ এই মাসআলায় এমনটি কেউ বলেন না। পরিষ্কার হাদিস আছে এ ব্যাপারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করে, সে শিরক করল।' হাদিসের বাহ্যিক অর্থে এমন কাজ শিরক হওয়ার কথা বোঝা যায়। ইমাম তিরমিজি রহ. এই হাদিস উল্লেখ করে এর মান সম্পর্কে বলেন, 'এটি একটি হাসান পর্যায়ের হাদিস।' কিছু কিছু আলেমের কাছে এর ব্যাখ্যা হচ্ছে, এখানে শিরক শব্দ ধমক ও কঠোরতা বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00