📄 প্রথম মন্তব্যকারী পাঠক বলেন
'কুফর শুধু বিশ্বাসগত কারণেই হয় না। বরং কথা ও কাজের মাধ্যমেও কুফর হয়। কুফরকে শুধু বিশ্বাসগত বিষয়ের সঙ্গে সীমাবদ্ধ করাটা চরম ভুল।'
📄 আমাদের কথা
ভাইটি মন্তব্য উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। হয়তো তিনি মনে করেছেন, বিষয়টি স্পষ্ট একেবারে। অনেক ভাইকেই দেখা যায়, তারা যে কোনো কথা না বুঝেই তা প্রত্যাখ্যানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপরও মনে হচ্ছে, বিষয়টি কয়েকটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে একটু পরিষ্কার করা দরকার।
কোনো ব্যক্তি বাহ্যত মুসলমান। স্পষ্ট বোঝা যায়, কাজটি সে বাধ্য হয়ে করেনি, তার উদ্দেশ্য ইসলামকে হেয় করা—এমন কোনো ব্যক্তি যদি বলে যে, তার কাবা শরিফকে নাপাক করতে ভালো লাগে, কাজটি করতে সে উদ্যোগীও হল (নাউজুবিল্লাহ), তা হলে এই লোকটি কাফের হবে, তা তো নিশ্চিতই। তবে, এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়:
এক. এই কথাটি কুফরি কথা, কাজটিও কুফরি কাজ। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অন্য কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অবকাশ নেই এখানে। যে এমন কিছু বলবে বা করবে—সে কাফের। এর মাধ্যমে সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাবে। কোনো সন্দেহ নেই তাতে।
দুই. যে বলবে, 'এই কথা ও কাজ কুফর নয় এবং যে এমন বলবে ও করবে, সে কাফের নয়' অথবা যে এমন ব্যক্তির কাফের হওয়া নিয়ে সন্দেহ করবে—সেও কাফের, ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত; এতেও কোনো সন্দেহ নেই।
তিন. যারা বলেন, কুফর বিশ্বাসের মাধ্যমে যেমন হতে পারে, হতে পারে কথা বা কাজের মাধ্যমেও তারা বলেন, যে এ ধরনের কথা বলেছে, এমন কোনো কাজ করেছে, সে এই কথা ও কাজের মাধ্যমেই ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে।
কিন্তু, আমরা এই কথাটি আরেকটু ব্যাখ্যাসাপেক্ষে বলি, সে ইসলাম থেকে বের হয়েছে, এ ব্যাপারটি সর্বসম্মত। তবে, এই কথা বা কাজের দ্বারাই কি সে ইসলাম থেকে বের হয়েছে? এটি একটু আলোচনার বিষয়। কারণ, আমাদের কাছে সে ইসলাম থেকে বের হয়েছে এই কথা বা কাজের আগেই। এই কথা বা কাজের মাধ্যমে নয়।
কারণ, এ ধরনের কথা বা কাজের কুফর ছাড়া অন্য কোনো অর্থের সম্ভাবনা নেই। যার হৃদয়ে কোনো একটা স্তরের ঈমান রয়েছে, তার দ্বারা এ ধরনের কাজ হতে পারে না। যদি তার মনে আল্লাহ তায়ালা ও ইসলামের নিদর্শনের প্রতি বিন্দু-পরিমাণ সম্মানবোধ থাকত, এ ধরনের কথা বা কাজের দিকে সে অগ্রসর হত না। সে তো সেই সময়েই ঈমানহারা হয়ে গেছে, যখন তার হৃদয় থেকে আল্লাহ তায়ালা ও ইসলামের নিদর্শনের প্রতি সম্মানবোধ বেরিয়ে গেছে। এরপর যখন সে এই কথা ও কাজে অগ্রসর হয়েছে, তখন তো তার ঈমান নেই-ই, তা হলে এই কথা বা কাজের মাধ্যমে সে ঈমানহারা কীভাবে হয়?
তা হলে ফকিহগণ যে ফিকহের কিতাবে বলেন, কুফর যেমন বিশ্বাসের মাধ্যমে হয়, তেমন কথা বা কাজের দ্বারাও হয়ে থাকে—এ কথার অর্থ কী? এর অর্থ হচ্ছে, কুফর বিশ্বাসগত বিষয়। বিশ্বাস মনের ব্যাপার। কারও মন কেউ দেখতে পায় না। এ জন্য কথা বা কাজের মাধ্যমেই ব্যক্তির অবস্থা বোঝা যায় যে, সে আগে থেকে মুসলমান ছিল, না কাফের! ব্যক্তিকে বাহ্যিকভাবে কুফরের হুকুম এই কাজের মাধ্যমেই আরোপ করা হবে। ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এর আগে তাকে কাফের বলার সুযোগ নেই। কিন্তু বিশ্বাসগতভাবে সে এর আগেই কাফের হয়ে গেছে। ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এই কথাটি সঠিক যে, কুফর কথা বা কাজের মাধ্যমেও হতে পারে। কিন্তু আকিদার দিক দিয়ে কথাটি একটু সূক্ষ্ম এবং বাস্তবতা তা-ই, যা আমরা বলেছি।'১
টিকাঃ
১. তবে, (ব্যক্তির কাজ) সেজদা বা সম্মান প্রদর্শন যদি এমন প্রকারের হয়, কুফরি ছাড়া যার অন্য কোনো ব্যাখ্যা সম্ভব হয় না, যেমন: কেউ মূর্তিকে সেজদা করল, মন্দিরে গিয়ে মূর্তির উদ্দেশ্যে সম্মান প্রদর্শন করল, তা হলে দুনিয়ার বিচারে তাকে কাফের বলা হবে। তার উপর কুফরির যাবতীয় বিধান আরোপিত হবে। অন্তরের অবস্থা আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন, সেটা তার ও আল্লাহর তায়ালার মধ্যকার ব্যাপার। (জওয়াহিরুল ফিকহ, মুফতি শফি রহ., পৃ. ৫৬৭)
📄 প্রথম মন্তব্যকারী পাঠক আরও বলেন
'বিশুদ্ধ প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হওয়া ছাড়া মাখলুকের অদৃশ্য জগৎ থেকে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই।'
📄 আমাদের কথা
এই কিতাবটি ঈমান ভঙ্গের কারণ সম্পর্কে। আমরা বারবার বলেছি, 'বিষয় এখানে কাজটির বৈধতা প্রমাণ করা নয়; বিষয় হল, এ ধরনের কাজ বড় পর্যায়ের শিরক কি না, তা খতিয়ে দেখা।'
আমরা মনে করি, আমাদের কথা যথেষ্ট পরিমাণে স্পষ্ট। লেখক যেখানে বারবার একটা কথা বলে যাচ্ছে, মন্তব্যকারী পাঠক সেখানে লেখককে বিষয়ের বাইরে টেনে নিতে চাচ্ছেন। লেখকের কথা চলছে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আর মন্তব্য হচ্ছে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে। আলোচনার সময় মূল পয়েন্টে থাকা সকলের কর্তব্য।