📄 খেলাফতে রাশেদার যুগে বিধান প্রয়োগে পর্যায়ক্রমের অনুসরণ
অনেকে মনে করে, বিধান প্রয়োগে পর্যায়ক্রম অনুসরণের ব্যাপারটি খোলাফায়ে রাশেদার যুগে ছিল না।
ব্যাপারটি আসলে পুরো সঠিক নয়। পঞ্চম খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ.-এর সময়ে এই পন্থা অবলম্বন করতে দেখা যায়। উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ.-এর পুত্র আবদুল মালিক বলেন, 'আমার পিতাকে রাজপরিবারের আত্মসাৎকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে ইতস্তত করতে দেখে এর কারণ জিজ্ঞেস করলাম।' তিনি বললেন, 'হে বৎস, নিশ্চয় মানুষকে অধীনে আনা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। অবশ্যই আমি হক প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পনা করব; কিন্তু ভয় হচ্ছে, যতক্ষণ না তার সঙ্গে কিছু সম্পদের প্রত্যাশা যুক্ত না করি, তা হয়তো মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। যদি তারা এই পরিকল্পনা বিনষ্টের চেষ্টা করে, তো সম্পদের আশা থাকার কারণে তারা এর থেকে দূরে থাকতে পারবে না। যদি আমি বেঁচে থাকি, যা চাই তা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ। আর যদি ইন্তেকাল করি, তা হলে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই আমার নিয়ত জানেন।"১
হিলইয়াতুল আওলিয়ায় আবু নুয়াইম ইস্পাহানি রহ. একই ঘটনা অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য হচ্ছে, উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ.-এর পুত্র আবদুল মালিক বলেন, 'আমি পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, কোন বিষয়টি আপনাকে কাঙ্ক্ষিত ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে ঠেকিয়ে রেখেছে?' তিনি বললেন, 'বৎস, মানুষকে অধীনে আনা অনেক কঠিন। আমি চাই, ন্যায়ের একটি বিষয় বাস্তবায়ন করে একটু বিরতি নেব এবং এর সঙ্গে পার্থিব কিছু লাভের বিষয়ও জুড়ে দেব। যদি তারা ন্যায় থেকে ফিরতে চায়, পার্থিব লাভ থাকায় এতে আগ্রহী হয়ে ফিরতে পারবে না, বরং ন্যায় গ্রহণ করে নেবে।”১
আবু নুয়াইম ইস্পাহানি রহ. অন্য আরেকটি সূত্রে বর্ণনা করেন, আবদুল মালিক ইবনে আবদুল আজিজ তার পিতাকে বলছেন, 'হে আমিরুল মুমিনিন, কাল যখন আপনার রব আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি অনেক বেদআত দেখেছ, তা মিটিয়ে দাওনি, অনেক সুন্নত মিটে যেতে দেখেছ, তা জিন্দা করনি, তখন আপনি কী জবাব দেবেন?' তিনি বললেন, 'বৎস, তোমার জাতি এই বিষয়গুলোর পথ ধীরে ধীরে রুদ্ধ করেছে। একেকটা করে তারা এ সব আমদানি করেছে। যখনই আমি তাদের কাছে যা আছে, তা হস্তগত করার উদ্যোগ নেব, তখন তারা আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে না, এর নিশ্চয়তা কী? তখন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হবে। খোদার শপথ, আমার কারণে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার চেয়ে পার্থিব ক্ষতি সহ্য করে নেওয়া আমার জন্য অধিকতর সহজ। তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমার পিতা একেকটি দিন অতিবাহিত করবে, আর সেই দিনটিতে সে একটি বেদআত মিটিয়ে দেবে ও একটি সুন্নত জিন্দা করবে! এভাবে এমন এক দিন এসে যাবে, যে দিন আমাদের ও আমাদের জাতির মাঝে আল্লাহ তায়ালা হকের ফয়সালা করবেন। তিনিই উত্তম ফয়সালাকারী।'
ইবনে আসাকির তার সনদে খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'আবদুল মালিক ইবনে উমর ইবনে আবদুল আজিজ তার পিতার কাছে এসে বললেন, 'আপনি যে ক্ষমতা গ্রহণের পর, বাতিল দেখেও তার প্রতিরোধ করেননি, হক দেখেও তা প্রতিষ্ঠা করেননি-কী জবাব দেবেন রবের কাছে?' তিনি বললেন, 'বৎস, বসো। তোমার বাপ-দাদারা মানুষকে হকের নামে ধোঁকা দিয়েছে। সর্বশেষ বিষয়গুলো আমার উপর এসে পড়েছে। অকল্যাণ ধেয়ে এসেছে। কল্যাণ পিছে সরে গেছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এটাই কি সুন্দর নয় যে, একেকটা সূর্য উদিত হবে, আর সেই দিনটিতে আমি একটি হক জিন্দা করব ও একটি বাতিল মিটিয়ে দেব আর এভাবেই একদিন আমার মৃত্যু এসে উপস্থিত হবে।"১
উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ.। খোলাফায়ে রাশেদার পঞ্চম ব্যক্তিত্ব। বড় মাপের তাবেয়ি। তার খেলাফত লাভের পূর্বে রাজপরিবারের লোকেরা বায়তুল মাল থেকে অনেক সম্পদ আত্মসাৎ করে রেখেছিল। তিনি কিন্তু খলিফা হয়েই সেগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। তিনি অনেক বেদআত দেখেছেন। বাতিল বিষয় দেখেছেন। একসঙ্গে সব কিন্তু মিটিয়ে দিতে যাননি। অনেক সুন্নত অবহেলিত হতে দেখেছেন। সব একসঙ্গে জিন্দা করতে যাননি। এর জন্য তিনি পর্যায়ক্রমে পন্থা অবলম্বন করেছেন। একেক দিন একেকটা বেদআত দূর করেছেন। একেকটা সুন্নত জিন্দা করেছেন। বাতিল মিটিয়ে দেওয়া ও হককে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে এই ছিল তার কর্মপন্থা।
যদি বেঁচে থাকেন, কাজ চালিয়ে যাবেন। ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই মনের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। এবং এখানে এই অবকাশও তার সামনে রয়েছে যে, মৃত্যুকালে এমন কাউকে খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে যাবেন, যে তারই পথ ধরে অবশিষ্ট কাজ শেষ করবে। এটাই ছিল পঞ্চম খলিফার ফিকহ ও দৃষ্টিভঙ্গি। আল্লাহ তায়ালা তার উপর করুণা বর্ষণ করুন।
শরিয়তের বিধান বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রম অবলম্বনের ব্যাপারে একটা হাদিসেও কিছুটা ইশারা পাওয়া যায়। অবশ্য এই বিষয়ের সঙ্গে তার একটু ভিন্নতা আছে। বিষয়টি হচ্ছে, উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ার কারণে কোনো কাজ বাস্তবায়নে দেরি করা। বুখারি শরিফে হজরত আয়েশা রাজি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, 'যদি তোমার কওমের যুগ জাহেলিয়াতের নিকটবর্তী না হত, তা হলে আমি কাবাঘর সম্পর্কে নির্দেশ দিতাম এবং তা ভেঙে ফেলা হত। তারপর বাদ দেওয়া অংশটুকু আমি ঘরের অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম ও পূর্ব পশ্চিমে এর দুটি করে দরজা দিতাম। এভাবে কাবাকে ইবরাহিম আ.-এর নির্মিত ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনতাম।"১
আমাদের আলোচিত বিধানের সঙ্গে এর ভিন্নতাটুকু হচ্ছে, কাবাকে ইবরাহিম আ.-এর নির্মিত ভিত্তির উপর ফিরিয়ে দেওয়া অথবা যে অবস্থায় আছে, সেভাবে রেখে দেওয়া একটি ইতিহাস-আশ্রিত সংশোধনের বিষয়, এটি কোনো শরয়ি বিধানের বিষয় নয়। তবুও এর মধ্য দিয়ে আমাদের আলোচিত মাসআলার কারণের দিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তা হচ্ছে, কিছু করার পূর্বে তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া বা করে নেওয়াটা ভালো।২
টিকাঃ
১. তারিখে দিমাশক, ইবনে আসাকির, খ. ৩৭, পৃ. ৪৭。
১. হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াইম ইস্পাহানি, খ. ৫, পৃ. ৩৫৪。
১. বুখারি, ১৫৮৬।
২. পর্যায়ক্রম অবলম্বন বাস্তবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে হতে পারে। কিন্তু এর নাম নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের স্বতঃসিদ্ধ কোনো বিশ্বাস বা আমল ঢেকে রাখা বা অগুরুত্বপূর্ণ মনে করার সুযোগ নেই। (অনুবাদক)
📄 শরিয়তের বিধানের জন্য সুবিন্যস্ত সংবিধান প্রণয়ন
এটি অবশ্যই অভিজ্ঞ আলেমদের কাজ। যারা জ্ঞান-গবেষণায় নিজেদের নিয়োজিত করে রেখেছেন, কুরআন-সুন্নাহর গভীর জ্ঞান আছে, ফিকহ ও উসুলে ফিকহে পারদর্শী, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সিরাত সম্পর্কে রয়েছে অতলস্পর্শী বোধ এবং যে যুগে আইন প্রণয়ন করছেন, সেই যুগের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল—এই কাজটা তাদেরই সাজে। শিক্ষানবিশ কেউ, যার গবেষণা ও ইজতিহাদের যোগ্যতা নেই, যে শুধু পারে অন্যের অনুসরণ-অনুকরণ করতে, তার এতে হাত দেওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তায়ালাই উত্তম তাওফিকদাতা।
📄 সারসংক্ষেপ
• ঈমান দ্বারা উদ্দেশ্য—আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, তাকদির ও পরকালে বিশ্বাস করা। ঈমানের অর্থ হচ্ছে, ঈমানের বিষয়গুলোকে আন্তরিকভাবে মেনে নেওয়া ও গ্রহণ করা এবং সত্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া। অন্তরে মেনে নেওয়া ও গ্রহণ করা ছাড়া শুধু সত্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া ঈমান নয়।
• ইসলাম হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা যে সব আমল ওয়াজিব করেছেন, তা পালন করা। যেমন, এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল। নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, রমজানে রোজা রাখা, হজ করা। ইসলাম অর্থ—আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা করা ও যা নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা।
• শুধু আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করলেই তাকে ঈমান বলা হয় না। আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বড়ত্ব, মহত্ত্ব, জ্ঞান, শক্তি এবং পালনকর্তা ও উপাস্য হিসেবে তিনি যে সত্তাগতভাবে এক এবং আপন গুণাবলিতে একক, এ কথাও বিশ্বাস করতে হবে।
• তাওহিদুর রবুবিইয়্যার মর্ম এ কথা বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তায়ালাই সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা; তিনি দেন, তিনিই বঞ্চিত করেন; ক্ষতি করলেও তিনি করেন, উপকার করলেও তিনি করেন; তিনিই সকল রাজত্বের মালিক।
• তাওহিদুল উলুহিইয়্যার দাবি এ কথা বিশ্বাস করা যে, একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ইবাদতের উপযুক্ত, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। যার হৃদয়ে তাওহিদুর রবুবিইয়্যা ও তাওহিদুল উলুহিইয়্যার কোনো একটি অনুপস্থিত থাকবে কিংবা এর স্পষ্ট বিরোধী কিছু পাওয়া যাবে-সে মুশরিক।
• তাওহিদের এই উভয় প্রকারের আলোচনা অবিচ্ছিন্ন সূত্রে চলে আসছে। অনেকে যে মনে করেন, সোনালি যুগের পর তাওহিদুল উলুহিইয়্যার আলোচনা কমে গিয়েছিল, এটি সঠিক নয়। সোনালি যুগের পরও যে সব আলেম তাওহিদুল উলুহিয়্যা বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের সামান্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হল: ইমাম আবু মানসুর মাতুরিদি (মৃত্যু: ৩৩৩), ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে তাবি আল- বাকিল্লানি (মৃত্যু: ৪০৩), ইমাম ফখরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে উমর আর- রাজি (মৃত্যু: ৬০৬), ইমাম ইজুদ্দিন আবদুল আজিজ বিন আবদুস সালাম (মৃত্যু: ৬৬০), ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববি (মৃত্যু: ৬৭৬), শায়খ আহমদ বিন আবদুল হালিম ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু: ৭৬৮)। রহিমাহুমুল্লাহু তায়ালা রহমাতান ওয়াসিয়া।
• ঈমানের স্থান অন্তর। নেক আমল ঈমানের সুফল।
• ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর আল্লাহর আদেশ পালন করা ও নিষেধ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সুফল বয়ে আনা। ঈমান যত শক্তিশালী হয়, তার ফলাফল তত সুন্দর হয়। এই ফলাফলটাই হচ্ছে নেক আমল। ফলাফলের দিকে লক্ষ করলে অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে আমল করা-এই তিনের সমষ্টির নাম ঈমান।
• ঈমান যখন নিম্ন স্তরগুলোতে থাকে, তখন নেক আমল কম হতে দেখা যায়, ঈমানের সুফল তখন স্বল্প ও দুর্বল হয়ে যায়। ঈমানের এই স্তরে যে থাকে, সে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তাকে জাহান্নামের ভয় দেখানো হয়েছে; তবে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে না।
• ঈমান যখন একেবারে নিম্ন স্তরে চলে যাবে, সেই ঈমানের দ্বারা কোনো নেক আমল সাধিত হবে না। এমন ঈমানের অধিকারী জাহান্নামে যাবে। আল্লাহ তায়ালা যত দিন চান, সেখানে থাকবে। প্রথম তিন স্তরের সুপারিশের আওতায় সে আসবে না। এরপর আল্লাহ তায়ালার সুপারিশ ও দয়ার বরকতে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে।
• কুফর একটি বিশ্বাসগত ব্যাপার। এটি ঈমানের বিপরীত। যার কোনো স্তরেরই ঈমান নেই অথবা যে নিজের ঈমানকে শিরকের সঙ্গে মিশ্রিত করার কারণে ভেঙে ফেলেছে, নষ্ট করে ফেলেছে, কাফের বলতে আমরা তাকেই বুঝি।
কাউকে কাফের বলার বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ যদি কোনো মুসলমানকে কাফের বলে, বক্তা বা সম্বোধিত ব্যক্তি—দুজনের যে কোনো একজনের উপর এই বক্তব্য আরোপিত হবে। কোনো মুসলমানের যদি ঈমান থাকে আর সেই ঈমানকে ঈমান গণ্য না করে, ইচ্ছা করে বুঝে-শুনে তাকে কেউ কাফের বলে, তা হলে খোদ বক্তাই কাফের হয়ে যাবে। অন্যথায় বক্তা কাফের হবে না। যেমন, ভুল ধারণায় বা ইজতিহাদে ভুল করে কেউ কাউকে কাফের বলল—এই ব্যক্তিকে কাফের বলা ঠিক হবে না; কিন্তু কাউকে কাফের বলায় তাড়াহুড়োর কারণে সে ভয়ংকর কবিরা-গুনাহকারী সাব্যস্ত হবে।
• বাহ্যিক আমল ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মতো কুফরি হয় না, যতক্ষণ তার সঙ্গে অন্তরের ক্রিয়ার সংযোগ না ঘটে। অর্থাৎ যতক্ষণ কর্মের সঙ্গে কুফরি বিশ্বাস না পাওয়া যায়, ততক্ষণ শুধু কর্মের দ্বারা কেউ কাফের হয় না। বাহ্যিকভাবে মুসলমান কারও থেকে যদি এমন কুফরি কর্ম প্রকাশ পায়, যা বিন্দু-পরিমাণ ঈমান থাকলে প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব, এর অর্থ হচ্ছে, এই ব্যক্তি মুমিনই ছিল না। এই কাজ প্রকাশ পাওয়াটা তার ভিতরে থাকা কুফরির প্রমাণ।'১
• কোনো কাজ তখনই ইবাদত বলে গণ্য হবে, যখন যার উদ্দেশ্যে কাজটি করা হচ্ছে, তাকে রব ও ইলাহ হিসেবে কিংবা রব ও ইলাহের বিশেষ কোনো গুণে গুণান্বিত হিসেবে বিশ্বাস করবে।
• তাওহিদ ও শিরকের বিধান ধর্মভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয় না। ধর্ম দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর নাজিলকৃত ধর্ম। এ কারণে কুফর-শিরকের কোনো বিষয় ধর্মের বিভিন্নতার কারণে রহিত হয় না। এটা বলা সম্ভব নয় যে, একটি কাজ আল্লাহর নাজিলকৃত কোনো ধর্মে বৈধ ছিল, অন্য ধর্মে এসে তা বড় পর্যায়ের শিরক হয়ে গেছে।
• যে বিশ্বাস করে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ থেকে অন্য কোনো আদর্শ অধিক পরিপূর্ণ, অন্য কারও আদেশ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশের চেয়ে বেশি সুন্দর কিংবা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, তার কোনো বিষয়ের প্রতি বিদ্বেষ রাখে, কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করে-সে বড় পর্যায়ের কাফের, ইসলামের গণ্ডি থেকে বহিষ্কৃত।
• কোনো কাজ বৈধ বা অবৈধ হওয়া এক কথা আর সেটি ইসলাম থেকে বের করে দেওয়ার মতো বড় পর্যায়ের শিরক হওয়া আরেক কথা। দুটো বিষয়ের মাঝে রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।
মৃত কাউকে এই বিশ্বাস নিয়ে ডাকা যে, সে নিজেই উপকার, ক্ষতি কিংবা সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে-এটা বড় পর্যায়ের শিরক।
কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকে, তার বিশ্বাস এমন যে, যাকে ডাকা হচ্ছে, সে নিজে কিছু করতে পারে না, আল্লাহ তায়ালা তাকে কোনো ব্যাপারে কিছু কাজ করার অনুমতি দিয়ে রেখেছেন, তাই তাকে ডাকা হচ্ছে; যদিও মৃত্যুর পর কবরে কারও কিছু করার ক্ষমতা থাকে না এবং এই বিশ্বাস ভ্রান্ত বিশ্বাস, তার পরও এর দ্বারা সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে, এই কথা বলা যায় না।
• ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন, 'কোনো এক হজে আমি পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি চলছিলাম পায়ে হেঁটে। তখন আমি বলতে শুরু করলাম, 'হে আল্লাহর বান্দারা, আমাকে পথ দেখিয়ে দাও।' এটা বলতে বলতেই আমি পথের দিশা পেয়ে গেলাম।' এই কথার ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেন তিনি বলছিলেন, 'হে আমার রব, আপনি আপনার যে সব বান্দার মাঝে বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করার যে ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন, তাদের মাধ্যমে আপনার অনুগ্রহে আমার বিপদ দূর করুন।'
• শপথ করাটা যার নামে শপথ করা হচ্ছে তার সম্মান ও বড়ত্ব বোঝায়। যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে এই বিশ্বাস নিয়ে শপথ করে যে, যার নামে শপথ করা হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা যেমন শপথের উপযুক্ত, সেও তেমনি শপথের উপযুক্ত—এই ব্যক্তি নিঃসন্দেহে কাফের। তবে, যদি কেউ গাইরুল্লাহর প্রতি এ ধরনের বিশ্বাস ছাড়া শপথ করে, সে কাফের নয়। এ ধরনের একটি মাসআলা রয়েছে হাম্বলি মাজহাবে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও হাম্বলি মাজহাবের ফকিহগণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর নামে শপথকে বৈধ মনে করেন।
• জাহেলি যুগের মুশরিকরা তাদের পূর্ববর্তী নেককারদের ডাকত। তারা বিশ্বাস করত—সেজদা করা, নত হওয়া, সম্মান প্রদর্শন করা ও দোয়া করাসহ যে সব ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার প্রাপ্য, ওই সব নেককারও সে সব ইবাদতের হকদার। এটি শিরক ফিল উলুহিয়্যা অর্থাৎ উপাসনার ক্ষেত্রে শরিক সাব্যস্ত করা। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়।
• তদ্রূপ তারা যে নেককারদের মূর্তিকে সেজদা করত, তাদের কাছে দোয়া করত, তাদের নামে শপথ করত— সেগুলো ইবাদত ও বড় পর্যায়ের শিরক ছিল। তারা বিশ্বাস করত, তাদের সে সব উপাস্যরা নিজেরাই সুপারিশ করতে সক্ষম এবং তারা নিজ ক্ষমতাবলে উপকার বা ক্ষতি করতে পারে। এটা শিরক ফির রবুবিইয়্যা অর্থাৎ পালনকর্তা সাব্যস্ত করার শিরক।
কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে এই বিশ্বাস নিয়ে জবাই করল যে, জবাই করার মাধ্যমে যেমন আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়, তেমন যার নামে জবাই করা হচ্ছে, তারও নৈকট্য লাভ হবে—এটা শিরক। তবে কেউ যদি কোনো প্রসিদ্ধ বুজর্গের নামে এই বিশ্বাস নিয়ে জবাই করে যে, সে নিজে কিছু করতে পারে না, কিন্তু এই জবাইটা উক্ত বুজর্গ কর্তৃক আল্লাহর কাছে দোয়া ও সুপারিশের কারণ হতে পারে, এটা বাহ্যত শিরকি কাজ ও মারাত্মক পর্যায়ের গুনাহ হলেও ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেবে না।'১
• ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর পুত্র আবদুল্লাহ রহ. বলেন, 'আমি আমার পিতাকে জুহরা তারকার নামে জবাইকারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, 'এটা আমার পছন্দ নয়।' আমি জানতে চাইলাম, 'এটা খাওয়া কি হারাম?' তিনি বললেন, 'আমি হারাম বলি না, কিন্তু আমার কাছে এটা ভালো লাগে না।' আমি বললাম, 'সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন, যে তারকার নামে জবাই করে?' তিনি বললেন, 'আমার ভালো লাগে না। গাইরুল্লাহর নামে জবাইকৃত যে কোনো জিনিস আমার কাছে অপছন্দনীয়।"
কেউ যদি বিশ্বাস করে, কোনো ফেরেশতা, নবী, ওলি বা অন্য কেউ নিজে নিজেই সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে, সে কুফরি করল।
• কাফেরদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা নিয়ে কিংবা কুফরকে ভালোবেসে যদি কেউ مسلمانوں বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য করে, সেটা বড় পর্যায়ের শিরক হবে। তবে অন্য অনেক ক্ষেত্রে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য করলে (গর্হিত অপরাধ হওয়াসত্ত্বেও) বড় পর্যায়ের শিরক হয় না। যেমন, কেউ কাফের ও কুফরকে আন্তরিকভাবে ঘৃণা করে। সে যে কাজটি করছে, জানে যে, তা পাপ কাজ, কাজটি প্রবৃত্তির তাড়নায় করছে—এমন হলে সেটি বড় ধরনের গুনাহ হলেও ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেবে না।
• নামাজ ইসলামের রোকন। কালেমায়ে শাহাদাতের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন।
• নামাজ ফরজ হওয়া অস্বীকার করে যদি কেউ নামাজ তরক করে, সে অন্তর থেকেই কাফের। এ ধরনের কুফর ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। অলসতার কারণে নামাজ ত্যাগ করলে কর্মগতভাবে কুফরি হয়, এটি বিশ্বাসগত কুফরির মতো ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় না। এ সব ক্ষেত্রে সালাফের বক্তব্য হচ্ছে, ‘কুফর দুনা কুফর’, অর্থাৎ এমন কুফর, যা বড় পর্যায়ের কুফর নয় বরং তার চেয়ে ছোট কুফর।
• শিরকের মাধ্যম হতে পারে, মুশরিকদের কাজের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে, এমন কোনো কাজে শিথিলতা প্রদর্শনের অবকাশ নেই; যদিও সে সব কাজ ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেওয়ার মতো শিরক নাও হয়। অবশ্যই এ সব কাজ থেকে পূর্ণ সতর্ক থাকতে হবে।
• আল্লাহ তায়ালার নাজিলকৃত আইন ব্যতীত শাসনকারীকে কাফের বলার ক্ষেত্রে লক্ষ করতে হবে, যদি সে বিশ্বাস করে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শের চেয়ে অন্য কোনো আদর্শ অধিক পরিপূর্ণ ও মানবকল্যাণের অধিক উপযোগী—তা হলে কাফের হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি দুর্বলতা বা অক্ষমতাবশত এমন আইনে শাসন করে, সে গুনাহগার হবে, কাফের হবে না।
• যে এ কারণে কুরআনের শাসন ব্যতীত অন্য আইনে শাসন করতে বাধ্য হয় যে, তার জাতি সেটা মেনে নিতে চায় না, তো আল্লাহ তায়ালা কারও উপর তার সাধ্যাতীত কোনো বিষয় চাপিয়ে দেন না। এমতাবস্থায় তারা জান্নাতি হবে, যদিও সাধ্যের বাইরে গিয়ে ইসলামি শরিয়ত বাস্তবায়নে তারা সক্ষম হয়নি; বরং এমন আইনে শাসন করেছে, যা তাদের সক্ষমতায় ছিল।
• মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশের মানুষ যদি এমন হয় যে, তাদের অধিকাংশই সন্তুষ্টির সঙ্গে পরিপূর্ণ ইসলামি আইন মেনে নিতে চায় না, এমন দেশে বাতিল প্রতিরোধ করা বা নিয়ন্ত্রণ রাখার স্বার্থে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধের ক্ষেত্র প্রশস্ত করার লক্ষ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইনশাআল্লাহ, সওয়াব পাওয়া যাবে। শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আইনে শাসনের প্রতি সন্তুষ্টি বোঝাবে না। তবে, এ সব করতে গিয়ে গণতন্ত্রের কদর্য দিকগুলো বিস্মৃত হওয়া বা গণতন্ত্রের তরফদারি করার কোনো সুযোগ নেই।'১
• কোনো দেশে শরিয়তের বিধি-বিধান অপ্রচলিত ও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর সে দেশে আবার শরিয়ত পুনর্জীবিত করার সময় মুসলমান শাসক আইন প্রয়োগে পর্যায়ক্রমের অনুসরণ করতে পারেন। কারণ, আল্লাহ তায়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর বিধান প্রণয়নে এই পন্থা অবলম্বন করেছিলেন।
• শরিয়তের বিধান অবতরণে পর্যায়ক্রমের ব্যাপারটি সর্ববাদিসম্মত। কারও সংশয় নেই এ ব্যাপারে। কারণ, প্রথমে মুসলমানদের ঈমান-আকিদা মজবুত করার প্রয়োজন বেশি ছিল। এরপর আস্তে আস্তে আদেশ-নিষেধের বিধান অধিক পরিমাণে অবতীর্ণ হয়েছে।
• দাওয়াত ও বিধান প্রয়োগে পর্যায়ক্রম অনুসরণের নির্দেশ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেও পাওয়া যায়। তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল রাজি.-কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় এভাবে আদেশ করেছিলেন। তাওহিদ গ্রহণের পর একসঙ্গেই তাদের সকল আদেশ বলে দিতে হবে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পন্থা অবলম্বন করতে বলেননি তাকে। প্রথমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ-নিষেধগুলো বলতে বলেছেন, এরপর পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো। অথচ সেটি ছিল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাদানি যুগের শেষ পর্যায়ে। তখন শরিয়তের বিধানগুলো প্রায় সবই অবতীর্ণ হয়ে গেছে।
বিধান প্রয়োগে পর্যায়ক্রমের অনুসরণ খোলাফায়ে রাশেদার পঞ্চম ব্যক্তিত্ব হজরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ.-ও অনুসরণ করেছেন।
• শরিয়তের আইনগুলোকে বিধিবদ্ধ সংবিধান আকারে প্রস্তুত করার কাজে অবশ্যই এমন বড় বড় উলামায়ে কেরাম অংশগ্রহণ করবেন, যারা নিজেদের জীবনে বড় একটা অংশ গবেষণা ইজতেহাদ ও পঠন-পাঠনে ব্যয় করেছেন। একেবারে শিক্ষানবিশ কারও এ ধরনের কাজে হাত দেওয়া উচিত নয়।
আল্লাহ তায়ালাই তাওফিকদাতা। সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য।
টিকাঃ
১. কুফর যেহেতু অন্তরের বিষয়, যা দেখা যায় না, তাই এ ধরনের কাজ প্রকাশ পাওয়ার পরই বিচারিকভাবে তার উপর কুফরের বিধান আরোপ করা হয়। কিন্তু ঈমানহারা সে এই কাজ করার আগেই ছিল। না হলে এমন কাজ তার দ্বারা হল কী করে? (অনুবাদক)
১. জীবিতের কাছে উপায়-উপকরণের উর্ধ্বের এবং মৃতের কাছে যে কোনো ধরনের。
১. তবে এখানে বাস্তবতা যেহেতু অনেক কঠিন, যারা মাজারে যাতায়াত করে, তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসগত সীমালঙ্ঘন করে থাকে, এ জন্য এ ধরনের কাজকে কোনো অবস্থায়ই শিথিল দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। (অনুবাদক)
১. লেখককে প্রশ্ন করা হয়েছে, 'গণতন্ত্র সম্পর্কে আপনার মত কী? এখানে গণতন্ত্রকে শিথিলভাবে উপস্থাপন করা হল কেন?' উত্তরে তিনি বলেন, 'গণতন্ত্রকে শিথিলভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এটা আমার উদ্দেশ্যও নয়। আমার উদ্দেশ্য, সে সব মানুষের কথা প্রত্যাখ্যান করা, যারা পার্লামেন্ট নির্বাচনে কেউ অংশগ্রহণ করলেই তার উপর কুফর, শিরক ও মুরতাদ হওয়ার বিধান আরোপ করে। তারা বলে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানেই কুফরের প্রতি সন্তুষ্টি পোষণ। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী চাই যত বড় বুজর্গ হোক না কেন।' (অনুবাদক)