📄 কোনো এক শায়েখের অভিমত
'দ্বীন থেকে বিমুখ থাকা, এমনভাবে যে, সে দ্বীন শিখতে চেষ্টাও করে না, তার উপর আমলও করে না- এটা শিরক। কুরআনের আয়াত এর দলিল। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَ مَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِرَ بِأَيْتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُوْنَ .
'ওর চেয়ে বড় জালেম আর কে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ দ্বারা নসিহত করা হয়েছে, তা সত্ত্বেও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে? আমি অবশ্যই এই অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব।১
টিকাঃ
১. সুরা সাজদা, ২২。
📄 পর্যালোচনা
কেউ যদি মনের দিক থেকেই ঈমানবিমুখ হয়, মনে যদি ঈমানের ছিটে-ফোঁটাও না থাকে, এতে প্রমাণ হয়, সে মুমিন নয়। কিন্তু মন থেকে যদি কেউ ঈমানবিমুখ না হয়, ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর হলেও তার থাকে, তাকে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত কাফের বলা যায় না। দ্বীন শেখার চেষ্টা ও আমল থেকে বিমুখতা সব সময় মূল ঈমান থেকে বিমুখতার প্রমাণ বহন করে না। কারণ, এ সময়ও তার মাঝে ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরটা থাকতে পারে। আর এই সর্বনিম্ন স্তর তাকে শাফায়াতের সর্বশেষ স্তরের উপযুক্ত রাখবে, যা তার চিরস্থায়ী জাহান্নামি হওয়া থেকে মুক্তির কারণ হবে। এখন তাকে যদি আমরা মুশরিক বলি, এর অর্থ হচ্ছে, সে চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে, কোনো ধরনের সুপারিশই সে পাবে না। যার সামান্য হলেও ঈমান আছে এবং সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় না যে, সে ঈমানের কোনো রোকন ভঙ্গ করেছে, তার উপর এই বিধান আরোপ শুদ্ধ নয়।
হ্যাঁ, সে জালেম, এ কারণে আল্লাহর শাস্তির মুখোমুখি হবে, কোনো সন্দেহ নেই এতে। কিন্তু যে জালেম হবে, সে মুশরিকও হবে, এটা সর্বদা খাটে না।