📄 পর্যালোচনা
মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাহায্য করার সময় দেখতে হবে, সাহায্যকারীর উদ্দেশ্য ও মানসিক অবস্থা কেমন ছিল! সে যদি কাফের ও কুফরের প্রতি ভালোবাসা থেকে সাহায্য করে থাকে, অবশ্যই সেটা বড় পর্যায়ের শিরক হবে। কিন্তু অমুসলিমদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে এমন কিছু অবস্থাও আছে, যখন ব্যক্তির কাজকে নিন্দনীয় ও অপরাধ গণ্য করেও তাকে ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে, এমনটি বলা যায় না। যেমন: কোনো মুসলমান কাফেরদের পছন্দ করে না, কুফরকে চরম পর্যায়ের ঘৃণা করে এবং সে জানে, যে কাজটা করতে যাচ্ছে, এটা কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় করছে—কাজটি পাপ, অবাধ্যতা; এরপরও যদি বিশেষ কোনো কারণে কাফেরদের সাহায্য করে, এই কাজকে বড় পর্যায়ের শিরক বলা যায় না। তদ্রূপ এ ধরনের কাজ যদি সংঘটিত হয় এবং কর্তা যদি কাজটির কুফরি দিক সম্পর্কে উদাসীন থাকে বা ভুলে যায়, তা হলেও তাকে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত বলা যায় না। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে। ঘটনা হাতিব ইবনে আবু বালতায়া রা.-এর। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবি। বুখারি, মুসলিমসহ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
আলি রাজি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিকদাদ, জুবায়ের ও আমাকে (রাজিয়াল্লাহু আনহুম) এক দিকে প্রেরণ করলেন। আমাদের বললেন, 'তোমরা রওনা হও। খাখ নামক স্থানে গেলে সেখানে একজন উষ্ট্রারোহী নারীকে পাবে। তার কাছে একটি চিঠি আছে। সেটি তোমরা তার থেকে নিয়ে নাও।' আমরা সেটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এলাম। তাতে একটি চিঠি ছিল। চিঠিটি ছিল হাতিব ইবনে আবি বালতায়া রা.-এর পক্ষ থেকে মক্কার মুশরিকদের উদ্দেশে। সে চিঠিতে তিনি মক্কার মুশরিকদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কিছু বিষয় জানিয়ে দিয়েছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, 'হে হাতিব, এগুলো কী?' তিনি বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে জলদি করবেন না। কুরাইশ গোত্রে আমি একজন বহিরাগত ব্যক্তি। আপনার সঙ্গী মুহাজিরদের সেখানে অনেক আত্মীয়-স্বজন আছে। তারা এদের পরিবার-পরিজনকে হেফাজত করে। আমার মনে হল, বংশীয় দিক দিয়ে যদিও আমার এই সুযোগ নেই, কিন্তু তাদের কোনো সহযোগিতা করে, তাদের মাঝে একটা অবস্থান করে নিই; তাতে তারা আমার পরিবার-পরিজনের হেফাজত করবে। এটা দ্বীন থেকে ফিরে যাওয়া বা কুফরের প্রতি সন্তুষ্টিবশত করিনি।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'যা-ই হোক, সে তোমাদের কাছে সত্যই বলেছে।' উমর রাজি. বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, সুযোগ দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিই!' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তুমি কি জানো না, সে বদরে অংশগ্রহণ করেছে? আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয় বদরে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে জানেন, তিনি বলেছেন—'তোমরা যা ইচ্ছে কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব।"১
এই হাদিসে উমর রাজি, হাতিব ইবনে আবু বালতায়া রাজি.-কে মুনাফিক ধারণা করেছেন, অনুমতি চাচ্ছেন তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার। আর হাতিব ইবনে আবু বালতায়া বলছেন, তিনি ইসলাম ত্যাগ করা ও কুফরের প্রতি সন্তুষ্টিবশত এই কাজ করেননি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমরা রাজি.-কে তিনি যা করতে চাচ্ছিলেন, তা থেকে নিষেধ করলেন। আর হাতিব ইবনে আবু বালতায়া রাজি.-এর আত্মপক্ষ সমর্থনকে গ্রহণ করে নিলেন।
কাজটিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি গুনাহ হিসেবে নিলেন, কাজটিকে শিরক বললেন না এবং বদরে অংশগ্রহণের কারণে তার জন্য ক্ষমা পাওয়ার আশার কথা ব্যক্ত করলেন। তিনি যেটা করেছেন, তা যদি শিরক হত, পূর্বের কোনো নেক কাজের মাধ্যমে তার ক্ষমা পাওয়ার আশা ছিল না। কারণ, শিরক পূর্বের সকল নেক আমল বাতিল করে দেয়।
টিকাঃ
১. বুখারি, ৩০০৭।