📄 মুশরিক ও মুনাফিকের ব্যাপারে আয়াত নাজিল হওয়ার বর্ণনা
এর বিপরীত বক্তব্য পাওয়া যায় মুজাহিদ ইবনে জাবর, জাহহাক, আবদুর রহমান ইবনে জায়েদ ইবনে আসলাম প্রমুখ বর্ণনাকারী থেকে।
তাদের মতে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে বদরে নিহত দুর্বল কুরাইশ কাফেরদের ব্যাপারে।১
সালাবি রহ. আল-কাশফু ওয়াল বয়ানে বলেন, 'এই আয়াত মক্কার এমন কিছু লোকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, কিন্তু হিজরত করেনি। তারা ইসলাম বাইরে প্রকাশ করেছে, ভেতরে ছিল মুনাফিকি। বদরের যুদ্ধের সময় তারা কাফেরদের পক্ষে লড়াইয়ে বের হয়েছে। যখন উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়েছে, মুসলমানদের সংখ্যা কম দেখে তাদের নিয়ে এমনও মন্তব্য করেছে যে, 'এদের দ্বীন এদের প্রবঞ্চিত করেছে।' এরপর তারা বদরে নিহত হয়েছে। তাদের নিয়ে কুরআন বলছে, 'ফেরেশতারা তাদের চেহারা ও পশ্চাদ্দেশে প্রহার করেছে।"
মাক্কি ইবনে আবু তালিব আল-হিদায়া ইলা বুলুগিন নিহায়াতে বলেন, 'বর্ণিত আছে, এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এমন কিছু লোকের ব্যাপারে, যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় থাকতেই মুসলমান হয়েছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করলে তারা ইসলাম ত্যাগ করে। তাদের মাতা-পিতা, পরিবার-পরিজনের কারণে তারা এই ফেতনায় পড়ে যায়। তাদের কেউ কেউ এই অবস্থায় বহাল থাকে। ইতিমধ্যে বদর যুদ্ধের সময় আসে। মুশরিকরা তাদের বাণিজ্য-কাফেলার হেফাজতে বের হলে তারাও মুশরিকদের সঙ্গে বের হয়। তারা বলে, যদি দেখি, মুহাম্মদের দল ভারী, আমরা তার সঙ্গে যোগ দেব। আর তারা যদি সংখ্যায় স্বল্প হয়, আমরা থেকে যাব আমাদের দলের সঙ্গেই। বদরে যখন উভয় পক্ষ মুখোমুখি হল, তারা দেখল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দলে লোক কম। ফলে তারা মুশরিকদের সঙ্গেই থেকে গেল। তাদের অনেকে নিহত হল। এই উপলক্ষ্যেই বলা হয়েছে, ‘...নিজেদের উপর জুলুম করা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের জান কবজ করেছে...।"
ইবনে কাসির রহ. তাফসিরে ইবনে কাসিরে বলেন, ‘এই আয়াত মক্কায় মুশরিকদের মাঝে থেকে যাওয়া মানুষের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আয়াতের ক্ষেত্র ব্যাপক। হিজরতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যারা দ্বীনের ক্ষেত্রে দুর্বল হওয়ার কারণে হিজরত করেনি, তারা এর অন্তর্ভুক্ত। সর্বসম্মতিক্রমে তারা হারাম কাজ করে জুলুম করেছে।
টিকাঃ
১. তাফসিরে তাবারিতে মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এই আয়াত বদর যুদ্ধে নিহত হওয়া দুর্বল কুরাইশ কাফেরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।' জাহহাক রহ.-এর বর্ণনাটিও এসেছে তাফসিরে তাবারিতে, তিনি এই আয়াত সম্পর্কে বলেন, 'তারা ছিল কিছু মুনাফিক। রাসুল সা.-এর পিছনে থেকে গিয়েছিল। হিজরত করেনি মদিনায়। কুরাইশদের সঙ্গে বদর যুদ্ধে শরিক হয়েছে। এরপর বদরে যা হওয়ার তা হয়েছে।' আবদুর রহমান ইবনে জায়েদ বলেন, 'রাসুল সা. নবুওতপ্রাপ্ত হলে ইসলাম গ্রহণ যেমন বৃদ্ধি পেতে লাগল, অন্য দিকে কিছু মানুষের মাঝে মুনাফিকিও দেখা দিতে লাগল। তারা রাসুল সা.-এর কাছে এসে বলল, আমরা এই লোকদের (কুরাইশ) ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করতে পারছি না। ইসলাম গ্রহণ করলে তারা আমাদের শান্তি দেবে, এই করবে, সেই করবে। বদর যুদ্ধের সময় মুশরিকরা বলল, কেউ যদি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত থাকে, তার বাড়িঘর ভেঙে দেব, সম্পদ জব্দ করে নেব। তখন যারা রাসুল সা.-এর কাছে এসে এই কথা বলেছিল, তারাও কুরাইশদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তাদের কিছু যুদ্ধে নিহত হয়, কিছু হয় বন্দি। যারা বন্দি হল, তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি জানেন, আমরা আপনার কাছে এসেছিলাম। আমরা সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আপনি আল্লাহর রাসুল। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমরা বের হয়েছি ভয়ে। এরপর তাদের ব্যাপারে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। (তাফসিরে তাবারি, খ. ৯, পৃ. ১০৬-১১০)
📄 আয়াতের তাফসির
তা হলে আয়াতের অর্থ কী? কুরআনের যে আয়াত (আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ ওদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, সে ওদেরই মধ্যে গণ্য হবে), এর অর্থ হচ্ছে, যে তাদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। যদি কেউ বাহ্যিকভাবে তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করে, লেনদেন করে, কিন্তু আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপন না করে, সে ঈমানের গণ্ডিতেই থাকবে। কিন্তু তার ঈমান হবে অনেক দুর্বল। হাদিসের ভাষায়, 'যদি তাও সক্ষম না হও, তা হলে হৃদয় দ্বারা (ঘৃণা করো)। এটা ঈমানের দুর্বলতম স্তর।'২
ইবনে জারির তাবারি রহ. সুদ্দি রহ. থেকে বর্ণনা করেন, 'উহুদ যুদ্ধের সাময়িক বিপর্যয় কিছু মানুষের কাছে খুব ভারী হয়ে দেখা দিল। তারা তাদের উপর কাফেরদের চেপে বসার ভয় পাচ্ছিল। তাদের একজন নিজের সঙ্গীকে বলল, আমি ইহুদিদের বসতিতে চলে যাব, তাদের থেকে নিরাপত্তা গ্রহণ করব ও ইহুদি হয়ে যাব। আমার ভয় হচ্ছে, ইহুদিরা আমাদের উপর চেপে বসবে। আরেকজন বলল, শাম দেশের অমুক খ্রিষ্টানের সঙ্গে মিলিত হব, তার থেকে নিরাপত্তা গ্রহণ করব আর তার সঙ্গে গ্রহণ করে নেব খ্রিষ্টান ধর্মকে। এরপর আল্লাহ তায়ালা তাদের এমন ক্রিয়াকলাপ নিষেধ করে আয়াত নাজিল করলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُوْدَ وَ النَّصْرَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَ مَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ.
হে ঈমানদারগণ, তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। যে তাদের কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে, সে তাদেরই মধ্য থেকে গণ্য হবে। নিশ্চয় আল্লাহ জালেমদের হেদায়েত দান করেন না।"১
ইবনে তাইমিয়া রহ. কাফেরদের সঙ্গে সম্পর্কের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, 'কখনও কারও কোনো কাফেরের সঙ্গে ভালোবাসা থাকে আত্মীয়তা সম্পর্কের কারণে কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে, এটা গুনাহ, ঈমানে ঘাটতি আসে এর দ্বারা; কিন্তু এতটুকু ভালোবাসায় মানুষ কাফের হয়ে যায় না।' ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর বক্তব্য আর তার অনুসারী হিসেবে পরিচিতদের বক্তব্যের মাঝে কত ব্যবধান! তারা বলে, যার হৃদয়ে কাফেরদের প্রতি ভালোবাসা থাকবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে, আর এটা বলে সাধারণভাবে, কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই। এই বক্তব্য সঠিক নয়।
টিকাঃ
২. মুসলিম, ৭৮。
১. তাফসিরে তাবারি, খ. ১০, পৃ. ৩৯৭。
📄 ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর অবস্থান
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবর ও মিম্বার স্পর্শ ও চুম্বনের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ বৈধ মনে করতেন। বৈধ মনে করতেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চুল মোবারকের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের প্রত্যাশাকেও।
আবদুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমদ রহ. বলেন, 'আমি আমার পিতার কাছে জিজ্ঞেস করলাম, 'যে ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মিম্বার ও কবর স্পর্শ বা চুম্বনের মাধ্যমে বরকত লাভের প্রত্যাশা করে অথবা এ ধরনের কোনো কাজ করে প্রত্যাশা করে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের, তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন?' তিনি বললেন, 'এতে কোনো সমস্যা নেই।"'৩
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.-এর বক্তব্যের পর ইবনে তাইমিয়া রহ. বক্তব্যকে অদ্ভুত ছাড়া আর কী বলা যায়? তিনি বলেন, 'কবরে হাত রাখা, চুমু খাওয়া, কবরে চেহার ঘষা সর্বসম্মতভাবে নিষিদ্ধ, যদিও তা নবীদের কবর হোক না কেন। পূর্বসূরি আলেম ও ইমামদের কেউ এমনটি করেননি। এটা শিরক।"১
ইবনুল জাওজি রহ. মানাকিবুল ইমাম আহমদে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমদ রহ. বলেন, 'আমি আমার পিতাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চুল মুখের উপর রেখে চুমু খেতে দেখেছি। মনে পড়ে, তাকে সেটি চোখের উপরও রাখতে দেখেছি। তিনি তা পানিতে ডুবিয়ে সেই পানি পান করে আরোগ্য প্রত্যাশা করতেন।'২
এখানে আমরা পাঠকের সামনে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই! ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের একজন বড় ইমাম, বাস্তবেও তিনি অনেক বড়। আচ্ছা, তিনি যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মিম্বার ও কবর থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশ্বাস নিয়ে বরকত গ্রহণকে বৈধতা দিলেন, তিনি কি শিরক ও শিরকের মাধ্যম সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন? কীসে শিরক হয় আর কীসে হয় না, এটা না জেনেই কি তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চুল মোবারকের মাধ্যমে আরোগ্য কামনা করেছেন?৩
টিকাঃ
৩. আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল, খ. ২, পৃ. ৪৯২。
১. মাজমুউল ফাতাওয়া, খ. ২৭, পৃ. ৯১-৯২।
২. মানাকিবুল ইমাম আহমদ, আবুল ফারাজ, আবদুর রহমান ইবনুল জাওজি, পৃ. ২৫৫।
৩. অবশ্য এগুলো দিয়ে ওলি-আওলিয়ার মাজারে গিয়ে তাদের কবরে চুমু খাওয়া বা মুখ ঘষার বৈধতা খোঁজার কোনো সুযোগ নেই। তাদেরকে সত্তাগতভাবে বরকতের মাধ্যম মনে করলে সেটা শিরক হবে। আর তা মনে না করলেও মাজার ও কবরে গিয়ে এমন ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এগুলো শিরকের দরজা খুলে দেয়। (অনুবাদক)
📄 অলসতাবশত নামাজ-ত্যাগকারী কাফের না হওয়ার দলিল
হাদিসে জিবরাইলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজকে ইসলামের রোকন বলেছেন, ঈমানের নয়। পূর্বে শাফায়াতের ব্যাপারে সহিহ হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে, তিনি বলেন, 'এরপর আমি চতুর্থবার সে সব প্রশংসাবাক্যে আল্লাহর প্রশংসা করব। আমি বলব, 'হে আমার রব, যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে, আমাকে তার ব্যাপারে অনুমতি দিন।' আল্লাহ তায়ালা বলবেন, 'আমার ইজ্জত, সম্মান ও বড়ত্বের শপথ, যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে, অবশ্যই আমি তাকে জাহান্নাম থেকে বের করব।' রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'এরপর আল্লাহ তায়ালা বলবেন-'ফেরেশতারা সুপারিশ করেছে, নবীরা সুপারিশ করেছে, সুপারিশ করেছে মুমিনরাও, এখন শুধু বাকি আছে পরম করুণাময়।' এরপর আল্লাহ তায়ালা তার কুদরতি থাবার এক থাবা-পরিমাণ মানুষ জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন। তাতে এমন সব মানুষ মুক্তি পাবে, যারা কখনও কোনো ভালো কাজ করেনি।' তিনি বলেন, 'তখন জান্নাতিরা বলবে-'এরা হল দয়াময় কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত দল।' আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে কোনো নেক আমল ও কল্যাণকর কাজ পরকালের জন্য সঞ্চিত না থাকাসত্ত্বেও মুক্তি দিয়েছেন।"১
বুখারি শরিফে আবু জর গিফারি রাজি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'জিবরাইল আমার কাছে এসে বললেন, 'আপনার উম্মতকে সুসংবাদ দিন, যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছু শরিক না করে ইন্তেকাল করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
মুসলিম শরিফে উসমান ইবনে আফফান রাজি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, এই জ্ঞান নিয়ে (বিশ্বাস নিয়ে) মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'২
মুসলিম শরিফে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাজি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছু শরিক না করে ইন্তেকাল করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'৩
হজরত আবু হুরায়রা রাজি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'প্রত্যেক নবীর একটি দোয়ার সুযোগ রয়েছে, যা কবুল করা হবে। সব নবীই নিজের দোয়াটি দ্রুত করে ফেলবেন। আমি নিজের দোয়াটি গোপন রেখেছি। আমার দোয়া হবে, কেয়ামতের দিন উম্মতের সুপারিশের জন্য। আমার উম্মতের মাঝে যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করে ইন্তেকাল করবে, সে এই দোয়াটি লাভ করবে।"১
এর অর্থ হচ্ছে, যে শুধু কালেমায়ে তাওহিদ নিয়ে আল্লাহর দরবারে আসবে, যদিও সে কখনও কোনো নেক আমল না করে থাকে, সর্বশেষ সে এই শাফায়াত লাভ করবে এবং সে চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে না।
নামাজ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আরও কিছু গুনাহকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুফর বলেছেন। সামনে ইবনে আবিল ইজ্জ রহ.- এর বক্তব্য উল্লেখ করার সময় সেটি আসবে। উম্মতের সকলে একমত যে, সে সব হাদিসে কুফর দ্বারা উদ্দেশ্য কর্মগত কুফর, যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয় না।
নামাজ তরক ছাড়া সাহাবায়ে কেরাম আর কোনো গুনাহের কারণে, সে গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, কোনো মুসলমানকে কাফের বলতেন না। নামাজ তরকের কারণে কাফের বলতেন; নামাজের সীমাহীন গুরুত্ব ও নামাজ ইসলামের রোকন হওয়া বোঝানোর জন্য তারা এই মারাত্মক গুনাহের জন্য সেই শব্দটিই প্রয়োগ করতেন, যা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এর দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, নামাজ-ত্যাগকারী ওই মুসলিম মুরতাদ হয়ে গেছে, ফলে তার জানাজার নামাজ পড়া হবে না এবং মুসলমানদের করবস্থানে তাকে দাফনও করা যাবে না।
টিকাঃ
১. বুখারি, ৬৪৪৩; মুসলিম, ৩৩।
২. মুসলিম, ৪৩।
৩. মুসলিম, ১৫০。
১. মুসলিম, ৩৩৮。