📄 পর্যালোচনা
কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ব্যাপারে এই বিশ্বাস রাখে যে, তার উদ্দেশ্যে জবাই করলে, তার নৈকট্য অর্জন হবে, যেমন আল্লাহর উদ্দেশ্যে জবাই করলে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হয়ে থাকে—এটা শিরক। তবে, কারও বিশ্বাস যদি এমন হয়, বুজর্গ বা জিন কিছুই করতে পারে না, তাদের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু এভাবে জবাই করলে তারা আল্লাহর অনুমতিক্রমে দোয়া বা সুপারিশ করতে পারে; বাহ্যত এটি শিরকি কাজ হলেও বিশ্বাসগত পার্থক্যের কারণে ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডি থেকে একেবারে বেরিয়ে যাবে না।
কেউ কবরে মানত করল। তার বিশ্বাস, মানতের মাধ্যমে যেমন আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করা যায়, তেমন কবরস্থ বুজর্গেরও নৈকট্য লাভ করা যাবে—এটা শিরক। তবে, এ ধরনের বিশ্বাস যদি না থাকে, অর্থাৎ কবরস্থ বুজর্গ নিজেই সুপারিশ করতে পারে বা নিজেই কিছু করতে পারে, এই বিশ্বাস যদি না থাকে, তা হলে এটি ভয়ংকর বেদআত। বাহ্যিক শিরকি কাজ হলেও ব্যক্তিকে এ বিশ্বাস ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেবে না।
কোনো এক শায়খ শিরক ও শিরকের মাধ্যম সম্পর্কে সতর্ক করার পর বলেন, ‘তদ্রূপ কবরকে ঘিরে তাওয়াফ করা—যখন কবরস্থ ব্যক্তির নৈকট্য অর্জনের জন্য করবে, তা বড় পর্যায়ের শিরক হবে। কবর ঘিরে তাওয়াফ যদি হয় আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে, যেমন মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে কাবা শরিফ তাওয়াফ করে থাকে, মৃত ব্যক্তি নৈকট্য অর্জনের কোনো উদ্দেশ্য না হয়ে থাকে—তবে এটা বেদআত ও শিরকের মাধ্যম।’
কাজ একই, শুধু নিয়ত ও বিশ্বাস ভিন্ন—কেউ মুশরিক হবে, কেউ হবে না। এ কথা আমরা আগেও বলেছি।