📘 ঈমান ভঙ্গের কারণ ও তাকফিরের ভুলনীতি > 📄 পর্যালোচনা

📄 পর্যালোচনা


জাহেলি যুগের লোকেরা মৃত নেককারদের ডাকত একটা বিশেষ বিশ্বাস নিয়ে। তারা বিশ্বাস করত—সেজদা, বিনয় প্রদর্শন, সম্মান দেখানো, ডাকা ইত্যাদি—যার ক্ষেত্র একমাত্র আল্লাহ তায়ালা—তারাও সেগুলোর উপযুক্ত। এ সবের মাধ্যমে যেমন আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন করা যায়, তাদেরও নৈকট্য হাসিল করা যায়। এটা শিরক ফিল উলুহিয়্যা বা ইবাদতের মাঝে শরিক করার নামান্তর। এ কারণে, মৃত নেককারদের উদ্দেশ্যে সেজদা করা, তাদের ডাকা, তাদের নামে শপথ করা তাদের ইবাদত বলে গণ্য হবে; কাজটি হবে বড় পর্যায়ের শিরক। তারা বিশ্বাস করত, তাদের এ সব মনগড়া উপাস্যরা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নিজেরাই সুপারিশে সক্ষম। তারা উপকার করতে পারে, ক্ষতি করতে পারে। এটা শিরক ফির রবুবিয়্যা বা কাউকে পালনকর্তা বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে শিরক। কুরআনে এসেছে, তারা বলত—
مَا نَعْبُদুُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُوْنَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى *
আমরা তাদের ইবাদত কেবল এ জন্য করি, যাতে আল্লাহর কাছে তারা আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়’।১
তারা তাদের ইবাদত করত। ইসলামে ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি এক ও একক, চির অমুখাপেক্ষী। তারা বরং আশ্চর্য হয়ে ও অভিনব মনে করে বলত—
أَجَعَلَ الْأَلِهَةَ إِلهَا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٍ عُجَابٌ .
সে কি অনেক উপাস্যকে এক উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে? এ তো অত্যাশ্চর্য ব্যাপার’!২
অতএব, যারা ওলি-আওলিয়ার কবরে যায়, জিয়ারত করে, কবরের চারপাশে ঘোরে, তাদের কাছে সাহায্য চায়, তাদের বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মনে করে, বিশ্বাস করে: তারা উপকার ও ক্ষতি করতে পারে—এরা অবশ্যই কাফের হবে।
কিন্তু মুসলমানদের যারা ওলি-আওলিয়াদের কবরে যায়, জিয়ারত করে, তার চারপাশে ঘোরে, কবরবাসীদের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা চায়, তাদের উদ্দেশ্য—কবরের লোকেরা আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সুপারিশ করবে। এ সব লোকদের বিশ্বাস যদি এমন হয় যে, কবরের লোকেরা নিজেরা কিছু করতে পারে না—না নিজেদের জন্য, না অন্যের জন্য। কবরের লোকদের জন্য তারা রব হওয়ারও বিশ্বাস করে না, ইলাহ হওয়ারও না। তারা বিশ্বাস করে—তারা হলেন আল্লাহর সম্মানিত বান্দা, আল্লাহ যদি তাদের সুপারিশের অনুমতি দেন, আর তারা সুপারিশ করে, তা হলে তিনি তাদের সুপারিশ শুনবেন। বিশ্বাস যদি এমনই হয়, এ সব লোকেরা তা হলে মুশরিক হবে না।'১
তবে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতে এ ধরনে কাজ বৈধ নয়। এতে শিরকের দিকে ধাবিত করার শঙ্কা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য উলামায়ে কেরামের কাছে এটা বড় পর্যায়ের গুনাহ।
কথা বললে কুরআন-সুন্নাহর প্রমাণসহ বলতে হবে। সঠিক প্রমাণসমৃদ্ধ কথা হলে মেনে নিতে আপত্তি নেই। অন্যথায় তা নির্দ্বিধায় ছুঁড়ে ফেলতে কুণ্ঠাবোধ করা উচিত নয়।

টিকাঃ
১. সুরা জুমার, ৩।
২. সুরা সোয়াদ, ৫。
১. কথা আপন জায়গায় ঠিক। তবে, বাস্তবতা হচ্ছে, মাজারে যাতায়াতকারীদের বিশ্বাস সাধারণত এমন পরিষ্কার হয় না। বরং তারা কবরস্থ ব্যক্তির ব্যাপারে বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে থাকে। সে জন্য নির্দিষ্টভাবে ব্যক্তিবিশেষকে তাকফির করতে হলে তার বিশ্বাস তার কাছে শুনে যাচাই করে নিতে হবে; শুধু কর্মের ভিত্তিতে কাফের বলে দেওয়ার সুযোগ নেই। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি সমাধান হতে হবে তাকফির-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলেমদের তত্ত্বাবধানে। আল্লাহ সকলের ঈমানকে হেফাজত করুন। (অনুবাদক)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00