📄 ইমাম নববি রহ.
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববি রহ. (মৃত্যু: ৬৭৬ হি.) বলেন, 'কুরআন তেলাওয়াতের পর সবচেয়ে উত্তম জিকির, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর জিকির করা। এর অর্থ, আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য অস্তিত্বে নেই।'
📄 শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ তিলিমসানি রহ.
শায়খ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন উমার তিলিমসানি আস-সানুসি রহ. (মৃত্যু: ৭৯৫) বলেন, 'ইলাহ অর্থ অবধারিত অস্তিত্বের অধিকারী ইবাদতের উপযুক্ত সত্তা। এটাই ইলাহ শব্দের বাস্তব মর্ম। এর অর্থ দাঁড়ায় এই যে, সেই একক সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কারও অস্তিত্ব নেই। কারণ, ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র তিনিই হতে পারেন, যিনি চির-অমুখাপেক্ষী এবং তিনি ছাড়া আর সবই যাঁর কাছে মুখাপেক্ষী। ও
মুকাদ্দিমাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থে তিনি আরও বলেন, 'শিরক ছয় প্রকার:
এক. শিরকে ইস্তেকলাল - একাধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রভুর অস্তিত্ব মানা। যেমন, অগ্নিপূজারিদের শিরক।
দুই. শিরকে তাবয়িজ-কয়েকজন প্রভুর সমষ্টিকে একজন প্রভু বলা। যেমন, খ্রিষ্টানদের শিরক।
তিন. শিরকে তাকরিব-আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ব্যাপারে এই বিশ্বাস রাখা যে, তার ইবাদত করলে সে আল্লাহর কাছে ইবাদতকারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করার সক্ষমতা রাখে। জাহেলি যুগে এ ধরনের শিরকের প্রমাণ পাওয়া যায়।'
এরপর তিনি শিরকের অন্যান্য প্রকারেরও উল্লেখ করেন।'১
টিকাঃ
৪. শরহুল উম্মিল বারাহিন লিস সানুসি。
১. শরুহল মুকাদ্দিমাত লিস সানুসি।
📄 শায়খ ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বাজুরি রহ.
শায়খ ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-বাজুরি রহ. (মৃত্যু: ১২৮৬) বলেন, 'ইলাহ অর্থ সত্য উপাস্য। যেহেতু ইলাহ অর্থ সত্য উপাস্য, তাই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' অর্থ 'আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কোনো সত্য মাবুদ নেই'।'২
টিকাঃ
২. হাশিয়াতুল বাজুরি আলা মতনিস সানুসিয়্যা।
📄 ঈমানের স্তরবিন্যাস ও সুফল
ঈমান অর্থ বিশ্বাস। বিশ্বাস হৃদয়জাত ক্রিয়া। তাই মূল ঈমানের স্থান হৃদয়। কুরআনের অনেক আয়াতে এ ব্যাপারে ইঙ্গিত রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيْمَانَ
তারাই এমন লোক, যাদের হৃদয়ে আল্লাহ ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন।১
কুরআনে আরও এসেছে-
قَالَتِ الْأَعْرَابُ أَمَنَّا قُلْ لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُوْلُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيْمَانُ فِي قُلُوْبِكُمْ
বেদুইনরা বলে, আমরা ঈমান এনেছি। বলুন, তোমরা ঈমান আনোনি; বরং বলো, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি; এখনও তোমাদের হৃদয়ে ঈমান প্রবেশ করেনি।২
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-
مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيْمَانِهَ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنَّ بِالْإِيْمَانِ وَ لكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِّنَ اللَّهِ ،
কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং কুফরির জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার উপর আল্লাহর গজব আপতিত হবে আর তার জন্য রয়েছে মহা শান্তি; তবে, তার জন্য নয়, যাকে কুফরির জন্য বাধ্য করা হয়, কিন্তু তার মন থাকে ঈমানে অবিচল।১
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَتِ
নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীরা, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা।
এখানে মুমিনকে মুসলিমের উপর আতফ করা হয়েছে।
অনেক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সৎ কর্ম সম্পাদনকে ঈমান আনার উপর আতফ করেছেন। মাতুফ ও মাতুফ আলাইহি একটি আরেকটির বিপরীত হয়। অতএব, বোঝা গেল, ঈমান এক বিষয়, ইসলাম আরেক বিষয়। ঈমান অন্তরের বিশ্বাসের নাম আর ইসলাম বাহ্যিক ক্রিয়াকর্মের। দুটোর মাঝে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান।
মোদ্দাকথা, রোকনসমূহ ও ইসলামের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ঈমানের অংশ নয়, তবে এগুলো দ্বীনের অংশ। ঈমান ও ইসলাম উভয়ের সমন্বিত রূপকে দ্বীন বলে।
টিকাঃ
১. সুরা মুজাদালা, ২২।
২. সুরা হুজুরাত, ১৪。
১. সুরা নাহল, ১০৬।