📄 ইমাম আবু মানসূর মাতুরিদি রহ.
ইমাম আবু মানসুর মাতুরিদি (মৃত্যু: ৩৩৩ হি.)। মাতুরিদি মাজহাবের ইমাম। আকিদার একটি প্রসিদ্ধ মাজহাব এটি। তিনি নিজের কিতাব তাওয়িলাতু আহলিস সুন্নাহতে বলেন, 'আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন—
قَالَ يُقَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مِّنْ إِلَهِ غَيْرُهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا مُفْتَرُوْنَ.
সে বলল, হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই।'১
আমরা উল্লেখ করেছি, রাসুলগণ একমাত্র আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বানের জন্যই প্রেরিত হয়েছেন। ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো মাবুদ নেই। এটাই রাসুলদের দাওয়াতের মূল প্রতিপাদ্য। এই দিকে আহ্বানের জন্যই তারা প্রেরিত হয়েছেন।'
তিনি কুরআনের আয়াত—
وهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ الهُ وَ فِي الْأَرْضِ إِلهُ
'তিনি আসমানেও প্রভু, জমিনেও প্রভু'-এর ব্যাখ্যায় বলেন, "ইলাহ' শব্দের আভিধানিক অর্থ মাবুদ, উপাস্য। যেন আল্লাহ তায়ালা বলছেন, তোমরা জানো যে, আল্লাহ তায়ালা যেমন নভোমণ্ডলে উপাস্য, তেমন উপাস্য তিনি ভূমণ্ডলেও।'
আরেকটি আয়াত—
رَبِّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُّوْقِنِينَ ﴿4﴾ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ
তিনি নভোমণ্ডল ভূমণ্ডল ও এর মধ্যস্থিত সব কিছুর প্রতিপালক। যদি তোমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে, (তা হলে বুঝতে যে, তিনিই প্রতিপালক।) তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নাই।১
এ আয়াতের ব্যাখায় তিনি বলেন, 'এরপর আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষণ উল্লেখ করছেন এই বলে যে, 'তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই'; যেন তিনি বলছেন, তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো মাবুদ নেই। কারণ, আরবদের কাছে ইলাহ অর্থ উপাস্য। তিনি বলছেন, তারা যে সব জিনিসের উপাসনা করে, তার কোনোটাই উপাস্য হওয়ার উপযুক্ত নয়। উপাস্য হওয়ার একমাত্র উপযুক্ত আল্লাহ তায়ালা, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।'
টিকাঃ
১. সুরা হুদ, ৫০।
২. সুরা, ৮৪。
১. সুরা দুখান, ৭।
📄 আবু বকর বাকিল্লানি আল-আশআরি রহ.
ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুত তাইয়েব আল-বাকিল্লানি আল-আশআরি (মৃত্যু: ৪০৩ হি.) বলেন, 'আমাদের জানতে হবে, পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা একজনই। তিনি একক। অর্থাৎ, তিনি ছাড়া এতে আর কেউ অংশীদার নেই, ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র তিনিই।'২
টিকাঃ
২. আল-ইনসাফ, পৃ. ৯।
📄 ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি রহ.
ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি আল-আশআরি (মৃত্যু: ৬০৬) রহ. বলেন, 'আল্লাহর বাণী: 'আমরা তোমারই ইবাদত করি' প্রমাণ করে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ তায়ালা ছাড়া যেহেতু কোনো মাবুদ নেই, তিনি ছাড়া কোনো প্রভুও নেই। 'আমরা তোমারই ইবাদত করি, তোমারই কাছে সাহায্য চাই'-কুরআনের এই বাণী বিশুদ্ধ তাওহিদের অনন্য দলিল।"৩
কুরআনের আয়াত: 'তারা যা কিছু তার সঙ্গে শরিক করে, তা থেকে তিনি পবিত্র'-এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'আদেশ করা ও বিধান আরোপে কোনো অংশীদারের বিদ্যমানতা থেকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র। সেজদা, উপাসনা ও সর্বোচ্চ সম্মানপ্রাপ্তির অধিকারী হওয়ার ক্ষেত্রেও তার কোনো শরিক নেই।"১
তিনি আরও বলেন, 'আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করাই শিরক। '২
টিকাঃ
৩. মাফাতিহুল গাইব, খ. ১, পৃ. ২১০。
১. প্রাগুক্ত, খ. ১৬, পৃ. ৩১।
২. প্রাগুক্ত, খ. ১৬, পৃ. ১৬।
📄 ইমাম ইজ্জুদ্দিন আবদুস সালাম রহ.
ইমাম ইজুদ্দিন আবদুল আজিজ বিন আবদুস সালাম (মৃত্যু: ৬৬০ হি.) বলেন, 'কারও প্রভু হওয়ার ভিত্তি তার উপাস্য হওয়ার অধিকারী হওয়ার উপর। কেবল সে-ই উপাস্য হওয়ার অধিকারী, যে উল্লিখিত গুণসমূহে গুণান্বিত।' অন্যত্র তিনি বলেন, 'প্রভুত্বের অধিকারী কেবল সে-ই হবে, যে আমাদের বর্ণিত গুণসমূহে গুণান্বিত হবে।"৩
টিকাঃ
৩. বর্ণিত গুণসমূহ দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য, আশআরি উলামায়ে কেরাম কর্তৃক আল্লাহর নিরানব্বইটি গুণবাচক নামকে চারটি ব্যাপকার্থবোধক বাক্যের মাধ্যমে বোঝার প্রচেষ্টা। তারা বলেন, 'আল্লাহর সকল গুণবাচক নাম 'সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'- এই চারটি মৌলিক বাক্যের মাঝে পাওয়া যায়। 'সুবহানাল্লাহ' দ্বারা উদ্দেশ্য, আল্লাহর সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র হওয়া। 'আলহামদলিল্লাহ' দ্বারা উদ্দেশ্য, তাঁর সকল পরিপূর্ণতার গুণের ধারক হওয়া। 'আল্লাহু আকবার' দ্বারা উদ্দেশ্য, উচ্চতা ও মর্যাদার যত বড় স্তর আমরা কল্পনা করতে পারি, তিনি তাঁর সব কিছুর ঊর্ধ্বে। আর যিনি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র, সকল গুণের আধার, বড়ত্বে যার সমকক্ষ কেউ নেই, তিনি ছাড়া আর কেউ প্রভু বা উপাস্য হওয়ার উপযুক্ত নয়। (তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতুল কুবরা [সংক্ষেপিত), খ. ৮, পৃ. ২২০-২২১)