📄 তাওহিদুর রবুবিয়্যা ও তাওহিদুল উলুহিয়্যা
আল্লাহ তায়ালাই সৃষ্টিকর্তা। তিনিই রিজিকদাতা। তিনিই দানকারী। তিনিই বঞ্চিতকারী। উপকার করলেও তিনি করেন, ক্ষতি করলেও তিনি। সকল ক্ষমতার মালিক একমাত্র তিনিই। এই সকল বিষয়ে বিশ্বাস করা তাওহিদুর রবুবিয়্যার অপরিহার্য দাবি।
একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ইবাদতের উপযুক্ত। তিনিই সত্য উপাস্য। তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। এই বিষয়গুলো বিশ্বাস করার নাম তাওহিদুল উলুহিয়্যা।
যার হৃদয়ে এই দুই প্রকারের তাওহিদের কোনো একটি অনুপস্থিত থাকবে, সে মুশরিক, মুমিন নয়। এটি সর্ববাদিসম্মত অভিমত। উম্মতের কারও দ্বিমত নেই এ ব্যাপারে।
📄 একটি সংশয়ের অপনোদন
কিছু মানুষ মনে করে, প্রথম তিন যুগৎ-হাদিসের ভাষায় যাকে সোনালি যুগ বলে অভিহিত করা হয়েছে-অতিবাহিত হওয়ার পর অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম শুধু তাওহিদুর রবুবিয়্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাওহিদ বলতে তারা কেবল তাওহিদুর রবুবিয়্যাই বুঝতেন। তাওহিদুল উলুহিয়্যা সম্পর্কে তারা ছিলেন একেবারেই উদাসীন। এই ধারণা শুদ্ধ নয়। এমন ধারণা জ্ঞান-স্বল্পতার পরিচায়ক। বস্তুত উলামায়ে কেরাম অবিচ্ছিন্ন ধারায় উভয় প্রকার তাওহিদ নিয়েই সমান আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্য থেকে উদাহরণস্বরূপ আমরা অল্প কয়েকজন আলেমের বক্তব্য উল্লেখ করছি।
টিকাঃ
১. রব ও ইলাহ হিসেবে আল্লাহকে এক ও একক বিশ্বাস করা।
২. উদ্দেশ্য খাইরুল কুরুন, অর্থাৎ রাসুল সা., সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িদের যুগ।
📄 ইমাম আবু মানসূর মাতুরিদি রহ.
ইমাম আবু মানসুর মাতুরিদি (মৃত্যু: ৩৩৩ হি.)। মাতুরিদি মাজহাবের ইমাম। আকিদার একটি প্রসিদ্ধ মাজহাব এটি। তিনি নিজের কিতাব তাওয়িলাতু আহলিস সুন্নাহতে বলেন, 'আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন—
قَالَ يُقَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مِّنْ إِلَهِ غَيْرُهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا مُفْتَرُوْنَ.
সে বলল, হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই।'১
আমরা উল্লেখ করেছি, রাসুলগণ একমাত্র আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বানের জন্যই প্রেরিত হয়েছেন। ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো মাবুদ নেই। এটাই রাসুলদের দাওয়াতের মূল প্রতিপাদ্য। এই দিকে আহ্বানের জন্যই তারা প্রেরিত হয়েছেন।'
তিনি কুরআনের আয়াত—
وهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ الهُ وَ فِي الْأَرْضِ إِلهُ
'তিনি আসমানেও প্রভু, জমিনেও প্রভু'-এর ব্যাখ্যায় বলেন, "ইলাহ' শব্দের আভিধানিক অর্থ মাবুদ, উপাস্য। যেন আল্লাহ তায়ালা বলছেন, তোমরা জানো যে, আল্লাহ তায়ালা যেমন নভোমণ্ডলে উপাস্য, তেমন উপাস্য তিনি ভূমণ্ডলেও।'
আরেকটি আয়াত—
رَبِّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُّوْقِنِينَ ﴿4﴾ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ
তিনি নভোমণ্ডল ভূমণ্ডল ও এর মধ্যস্থিত সব কিছুর প্রতিপালক। যদি তোমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে, (তা হলে বুঝতে যে, তিনিই প্রতিপালক।) তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নাই।১
এ আয়াতের ব্যাখায় তিনি বলেন, 'এরপর আল্লাহ তায়ালা নিজের বিশেষণ উল্লেখ করছেন এই বলে যে, 'তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই'; যেন তিনি বলছেন, তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো মাবুদ নেই। কারণ, আরবদের কাছে ইলাহ অর্থ উপাস্য। তিনি বলছেন, তারা যে সব জিনিসের উপাসনা করে, তার কোনোটাই উপাস্য হওয়ার উপযুক্ত নয়। উপাস্য হওয়ার একমাত্র উপযুক্ত আল্লাহ তায়ালা, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।'
টিকাঃ
১. সুরা হুদ, ৫০।
২. সুরা, ৮৪。
১. সুরা দুখান, ৭।
📄 আবু বকর বাকিল্লানি আল-আশআরি রহ.
ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুত তাইয়েব আল-বাকিল্লানি আল-আশআরি (মৃত্যু: ৪০৩ হি.) বলেন, 'আমাদের জানতে হবে, পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা একজনই। তিনি একক। অর্থাৎ, তিনি ছাড়া এতে আর কেউ অংশীদার নেই, ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র তিনিই।'২
টিকাঃ
২. আল-ইনসাফ, পৃ. ৯।