📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 শিয়াদের ব্যাপারে বিন বায রহ.-এর ফতোয়া

📄 শিয়াদের ব্যাপারে বিন বায রহ.-এর ফতোয়া


শায়খ আবদুল আজিজ বিন বায রাহিমাহুল্লাহর [১৩৩০-১৪২০ হি.] অফিসিয়াল সাইটে(১) রয়েছে, তিনি বলেছেন, শিয়ারা অনেক প্রকারে বিভক্ত। কারো কারো মতানুযায়ী তারা ২২ টি ফেরকায় বিভক্ত। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা বাতেনি, যেমন- জাফরি এবং ইসনা আশারিয়া আকিদা ধারণকারী খোমিনির অনুসারী ইমামিয়্যা, তাদের কাফের হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, তারা রাফেজি। বিশেষত তাদের ঐসকল নেতৃবৃন্দ ও ইমামগণ, যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার ও নবি পরিবারের উপাসনা করার আহ্বান করে।
তারা হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাঁর ইবাদত করে। হজরত হাসান [৩-৪৯ হি.] ও হোসাইন [৪-৬১ হি.] রাজিয়াল্লাহু আনহুমার ব্যাপারেও তারা বাড়াবাড়ি করে। তারা মনে করে, এঁরা নিষ্পাপ ও গায়ব জানেন। তাদের দাবি, হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুই আল্লাহ। নুসাইরিয়া ও ইসমাঈলিয়্যাদের অবস্থা তাদের অনুরূপ। তারা সবচেয়ে বড় কাফের; তাদের নেতৃবৃন্দ, ইমাম ও গুরুজন সকলে কাফের।
তাদের মধ্যে কিছু মূর্খ শিয়া আছে, যারা নবি পরিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে না, আল্লাহর পরিবর্তে তাঁদের ইবাদত করে না, এবং এ বিশ্বাসও করে না যে, তাঁরা গায়ব জানেন। তবে হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুকে প্রাধান্য দেয়। তারা বলে, হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু হজরত আবু বকর ও ওমর রাজিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে শ্রেষ্ঠ। এটা ভুল, অজ্ঞতা ও অবাধ্যতা। তবে এর কারণে তারা কাফের হবে না। বরং গুনাহগার ও বিদআতি হবে।
তারা কাফের হবে না, তবে যখন অথবা যখন বলবে, তাঁরা নবিগণের তুলনায় শ্রেষ্ঠ এবং হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য নবিগণের ঊর্ধ্বে, যেমনটা খোমেনি তার 'ইসলামি সরকার নামক গ্রন্থে লিখেছে- 'আমাদের ইমামগণ এমন মর্যাদায় উপনীত হয়েছেন, যেখানে কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা ও প্রেরিত নবি উপনীত হয়নি।' আমরা আল্লাহর নিকট চাই ক্ষমা ও সুস্থতা।
ইরানের বর্তমানের শাসকবর্গ সবচেয়ে বড় গোমরাহ এবং সবচেয়ে বড় কাফের, যদিও তারা ইসলামের পোশাকে আত্মপ্রকাশ করছে। আল্লাহর পানাহ! কারণ, তারা শিরক ও গায়রুল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। রাফেজি হওয়ার আহ্বান জানায়। সাহাবিগণকে গালমন্দ ও অভিসম্পাত করার আহ্বান করে। হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু ও নবি পরিবারের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। তাঁদের নিষ্পাপ হওয়ার, গায়ব জানার ও আল্লাহর পরিবর্তে ইবাদতের উপযুক্ত হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করে। তাঁদের সাহায্য কামনা করে, তাঁদের জন্য মানত করে প্রভৃতি। আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও সুস্থতা চাই। [শায়খ বিন বায রাহিমাহুল্লাহর ফতোয়া সমাপ্ত হয়েছে।]

টিকাঃ
১. المَوْقِعُ الرَّسْمِيُّ لِسَمَاحَةِ الشيخ الإمام ابن باز رحمه الله .
১. الحكومة الإسلامية .১

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 কাফেরদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান

📄 কাফেরদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান


কাফেরদের সঙ্গে তথাকথিত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে একটি ইসলামি সাময়িকীতে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। সাময়িকীটির প্রধান দায়িত্বশীলের সঙ্গে একজন আলেম এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তাদের কথোপকথন ছিল নিম্নরূপ-
= সুরা তাওবা-র ১২৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন- [অর্থ] 'হে ঈমানদারগণ! কাফেরদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের নিকটবর্তী, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, এবং তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা পায়। আর জেনে রাখো, আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন'। এ জাতীয় আয়াত ও কাফেরদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যে সমন্বয়সাধনের ধরণ কী হবে?
= = হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাজিআল্লাহু আনহু কি তাঁর ইহুদি প্রতিবেশির খোঁজখবর নেননি যে, তাঁর জন্য যে গোশত রান্না করা হয়েছে, তা থেকে ঐ ইহুদিকে দেওয়া হয়েছে কি-না। এটি কি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নয়?
= আমার ধারণায় ঐ ইহুদি জিম্মি কাফের ছিল; হরবি কাফের ছিল না। [বলাবাহুল্য, ফকিহগণের পরিভাষায় জিম্মির যে সংজ্ঞা, তা এ দেশের কাফেরদের ব্যাপারে প্রযোজ্য হয় না। এ বইয়ের আলেম الْمَوْسُوْعَةُ الفِقْهِيَّةُ الْكُوَيْتِيَّةُ কিতাবে (৭ : ১২৪) ঐ সকল শর্ত দেখে নিতে পারেন, যেগুলো মেনে নেওয়ার শর্তে তখনকার জিম্মিরা সাইয়িদুনা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট তাদেরকে নিরাপত্তাপ্রদানের আবেদন পেশ করেছিলো এবং হজরত ফারুকে আজম রাজিয়াল্লাহু আনহু তাদের দরখাস্ত গ্রহণ করেছিলেন। এই অধ্যয়ন দ্বারা বর্তমানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশের কাফেররা জিম্মি কি-না, তা বুঝা সহজ হবে ।]
= = লেখক সাধারণভাবে কাফেরদের সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন। হরবি কাফেরদের সম্বন্ধে আলোচনা করেননি। [তিনি সম্ভবত বুঝাতে চেয়েছেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি প্রবন্ধে যে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, তা জিম্মি কাফেরদের ব্যাপারে। অতএব আপত্তির কিছু নেই ।]
= আমাদের অঞ্চলের বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে সাধারণ পাঠক প্রবন্ধের উৎসাহদান কাদের ব্যাপারে প্রয়োগ করবেন?
= = [রাগতস্বরে] আপনি বুঝতে চান না, বুঝাতে চান। আপনার অধ্যয়ন অসম্পূর্ণ এবং আপনার বুঝ ভাসাভাসা। গভীর চিন্তার সাথে পাঠ করুন, সকল আপত্তি দূর হয়ে যাবে।
= হয় আপনিই আমাকে বুঝিয়ে দিন। অথবা বিশেষ কোনো কিতাবের বিশেষ কোনো স্থান নির্দেশ করুন, আমি তা পড়ে জেনে নিব ইনশাআল্লাহ।
= = ইতিহাস পাঠ করুন।
[মানসম্মত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে যাতায়াত করে ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থাবলির বৈচিত্র্য, পরিমাণ ও বিস্তৃতি সম্পর্কে যাদের কিছুটা ধারণা আছে, তাঁরা বুঝবেন, এটি এমন এক বিষয় পাঠ করার নির্দেশ, অন্য সবকিছু থেকে অবসর হয়ে কয়েক বছর একটানা করলেও তা সমাপ্ত হওয়ার নয় ।]
উক্ত কথোপকথনকারী আলেমকে তার একজন সহকর্মী প্রশ্ন করলেন, উল্লিখিত দায়িত্বশীলের সাথে আলাপচারিতা সম্পন্ন হওয়ার পর এখন আপনার অনুভূতি কী? উত্তরে তিনি বলেছেন, আমার মনে হয়েছে, দলিল চাইলে তিনি ও তাঁর স্তরের লোকেরা বিরক্ত হন। [বন্ধনীর ভেতরের লেখাগুলো সংলাপের অন্তর্ভুক্ত নয় ।]
এমন কিছু কথা এ বইয়ের ‘অনুবাদকের নিবেদন' শিরোনামের ভূমিকায়ও এসেছে। 'কালিমায়ে তাইয়েবা : বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ' বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণের ৯১ নং পৃষ্ঠায় দেশ-বিদেশের কতিপয় বড় আলেম সম্পর্কে লেখা হয়েছে-
ইলমের শীর্ষ স্তরের কতকের একটি অবস্থা হলো, তাঁদের আচরণ-উচ্চারণ দ্বারা বিভিন্ন প্রমাণিত বাস্তবতা সম্পর্কে সত্যান্বেষীরা ধাঁধাঁয় পড়ে যায় ও সন্দিহান হয়ে উঠে। যেমন তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করা বিষয়ক বিভিন্ন মাসআলার ভুল-নির্ভুল বিভিন্ন দিক আবিষ্কার করে নির্ভুল কোনটি, তা জানার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দলিল বা নির্দেশনা পেশ করার পরিবর্তে, তাঁরা অনির্দিষ্টভাবে উচ্চতর গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করার পরামর্শ দেন। অবস্থা যেন এমন, উচ্চতর ইলমি গ্রন্থসমূহ খুললেই সংশ্লিষ্ট আলোচনা সামনে এসে যাবে। আর সে আলোচনায় দৃষ্টি ফেললে তাদের প্রতিপক্ষের অবস্থানগুলো ভুলই সাব্যস্ত হবে। ওদিকে এ স্তরের ব্যাপক অধ্যয়ন করা অনেকের জন্য সম্ভব হয় না। ফলে তাঁদের ব্যক্তিত্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেকে সেসকল প্রমাণিত বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন।
উল্লিখিত আলেমগণ দীনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ের জন্যও দলিল পেশ করার দায়বদ্ধতা কার্যত অস্বীকার করেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তাঁরা চান, মানুষ শুধু তাঁদের উপর নির্ভর করে তাঁদের কথাগুলো গ্রহণ করে নিক। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সূরা বনি ইসরাঈলের ৩৬ নং আয়াতে এমন কিছু মান্য করতে নিষেধ করেছেন।

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 পশ্চিমা ‘মানবতবাদ’

📄 পশ্চিমা ‘মানবতবাদ’


পশ্চিমাদের 'বিশ্বজনীনতা' ও 'মানবতাবাদ' একই মতবাদের পৃথক দুটি নাম। তারা এ মতবাদ দ্বারা এমন এক চিন্তাধারাকে বুঝায়, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হবে না; বরং সকল ধর্মের মানুষ সমমর্যাদার অধিকারী। কিন্তু মানুষের স্রষ্টা আল্লাহর কাছে সকল মানুষ সমস্তরের নয়। আল্লাহর কাছে কাফেররা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও অধম। সুরা আরাফ ১৭৯ নং আয়াত দ্রষ্টব্য।
পশ্চিমাদের এ মতবাদ ইসলাম ধর্মের শত্রুতা ও মিত্রতার বিধান রহিত করে দিয়েছে; এবং মুসলমান ও কাফেরের মধ্যকার পার্থক্য অনেককে ভুলিয়ে দিয়েছে। তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কয়েকটি বিভ্রান্তিকর শব্দের উপর- স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব, সমতা ও ন্যায়বিচার। তারা এ মতবাদের মাধ্যমে দারুল ইসলাম ও দারুল হরবের বিভাজন উঠিয়ে দিয়ে নববি পদ্ধতিতে খেলাফাত প্রতিষ্ঠার চিন্তাকে পশ্চাদ্গামিতা আখ্যা দেয়। এ মতবাদ মুসলমানদেরকে ইহুদি-খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করতে প্ররোচিত করে। অথচ পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরায় আল্লাহ তাআলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, খ্রিস্টানরা পথভ্রষ্ট এবং ইহুদিরা তাঁর ক্রোধের শিকার।

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদ ধর্ম

📄 দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদ ধর্ম


জাতীয়তাবাদ ও দেশাত্মবোধ ধর্মটি বর্তমান বিশ্বে পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক ব্যাপকতা লাভ করেছে। ইসলামি আকিদার উপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি কাজ জাতীয়তাবাদ ধর্মে পশ্চাদপদতা ও সেকেলে হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধর্মটি مسلمانوںকে তথাকথিত আধুনিক ও প্রগতিশীল করার লক্ষ্যে, ইসলামের অপরিহার্য আকিদা 'ওয়ালা-বারা' [শত্রুতা-মিত্রতা] থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
সাম্প্রতিককালে জাতীয়তাবাদ আল্লাহর দীন ও শরিয়তের স্থান দখল করে, এক নতুন ধর্মের রূপ গ্রহণ করেছে। ফলে মুসলমান নামধারী জাতীয়তাবাদীরা সাহাবা রাজিয়াল্লাহু আনহুমের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে, যারা ছিলেন কাফেরদের ক্ষেত্রে সীমাহীন কঠোর, আর নিজেদের পরস্পরের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল।
অনুরূপভাবে তারা সাইয়িদুনা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গীদের আদর্শকে ভুলে গেছে, যারা নিজ এলাকার কাফেরদের বলেছিলেন- [অর্থ] আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা কর, তাদের থেকে সম্পর্কহীন। আমরা তোমাদের মানি না। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য প্রকাশ্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়ে গেছে, যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আন।
বস্তুত ইসলাম জাতীয়তাবাদের মূলোৎপাটনের জন্য এসেছে। ইসলাম তার প্রথম আহ্বানেই আরবের কুরাইশ বংশের আবু বকর, হাবশার বেলাল ও রোমের সুহাইবকে এক পতাকাতলে নিয়ে এসেছে। তাইতো সাইয়িদুনা ওমর রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'আমরা এমন জাতি যাদেরকে আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। যখন আমরা অন্য কিছুতে সম্মান তালাশ করব, আল্লাহ আমাদের লাঞ্ছিত করবেন।'
আল্লামা মুহাম্মদ বিন সাঈদ কাহতানি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, জাতীয়তাবাদের ব্যাপারে সারকথা হলো, এই বিশ্বাস আল্লাহর সঙ্গে শিরক। কেননা জাতীয়তাবাদ ব্যক্তির কর্ম, ত্যাগ ও সাধনাকে এককভাবে নিজের জন্য সাব্যস্ত করে; এবং নিজের অনুসারীদেরকে এমন সব ব্যক্তিদের ঘৃণা ও শত্রুতা করতে বলে, যারা এ মতবাদ পরিত্যাগ করেছে; আর বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা করতে বলে জাতীয়তাবাদী ও তাদের দোসরদের সঙ্গে।
এ হিসেবে জাতীয়তাবাদ তার অনুসারীদের নিকট আল্লাহর সমকক্ষ এমন এক উপাস্যে পরিণত হয়েছে যে, আল্লাহ ব্যতীত তারা তার উপাসনায় লিপ্ত।
'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র মধ্যে শত্রুতা ও প্রত্যাখ্যান এবং মিত্রতা ও সাব্যস্তকরণ রয়েছে। 'লা-ইলাহা' হলো তাগুত তথা গায়রুল্লাহর সাথে শত্রুতা ও প্রত্যাখ্যান, এবং 'ইল্লাল্লাহ' হলো আল্লাহর সাথে মিত্রতা ও সাব্যস্তকরণ। জাতীয়তাবাদ এ ক্ষেত্রে কালিমার স্থান দখল করে নিয়েছে; যারা আপন ভূখণ্ডের নয়, জাতীয়তাবাদ তাদের সঙ্গে শত্রুতা করে, পক্ষান্তরে যারা এ ভূখণ্ডের, জাতীয়তাবাদ তাদের সঙ্গে মিত্রতা করে।

টিকাঃ
১. 'ওয়ালা-বারা' তথা 'শত্রুতা-মিত্রতা' ইসলামের অপরিহার্য আকিদা হওয়ার বিষয়টি, প্রয়োজনীয় দলিল-প্রমাণসহ জানার জন্য 'কালিমায়ে তাইয়েবা : বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ' বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণের ৮৩-৯৩ পৃষ্ঠা দেখুন।
২. সুরা ফাত্হ: ২৯ দ্রষ্টব্য।
৩. সুরা মুমতাহিনা : ৪
১. الوَلاءُ وَالبَرَاءُ فِي الإسلام পৃ. ৪২৫, ৬ষ্ঠ সংস্করণ। ১.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00