📄 জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?
'জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?' প্রশ্নটির উত্তর প্রসঙ্গে একজন আলেমের নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এখানে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। ‘মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা' থেকে প্রকাশিত একটি পারচায় জিহাদ ও খেলাফত উভয়টির জন্য অভিন্ন শর্তের কথা বলা হয়েছিল। সে সূত্র ধরে উক্ত আলেম লিখেছেন-
জিহাদকে কেনো খেলাফতের সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে বা কেনো এ দুটোর শর্ত বা সামর্থ্যকে এক করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। জিহাদ শুরু করার শক্তি থাকলে আগে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে পরে জিহাদ করতে হবে, একথা আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে। জিহাদ করার সামর্থ্য থাকা মানেই কি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার সামর্থ্য থাকা? যার জিহাদ করার সামর্থ্য আছে, তাকে আগে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হবে বা জিহাদ শুরু করার শর্ত পূরণ হওয়ার অর্থই হলো খেলাফত প্রতিষ্ঠার সকল শর্ত বিদ্যমান থাকা, এটা কি শরিয়তের বক্তব্য? শরিয়ত কি এটা জরুরি সাব্যস্ত করে?
বর্তমানে অধিকাংশ জিহাদই হচ্ছে প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ। প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরাম এতদূর পর্যন্ত বলে ফেলেছেন যে, এর জন্য কোনো শর্ত নেই। বর্তমানের অধিকাংশ জিহাদই হচ্ছে খেলাফত পুনরুদ্ধারের জন্য জিহাদ। এমতাবস্থায় 'খেলাফত প্রতিষ্ঠার সামর্থ্য নেই অথচ জিহাদ করার সামর্থ্য আছে' বলে বিস্ময় প্রকাশ করার কী অর্থ হতে পারে?
শত্রুপক্ষ যখন একটি ইসলামি খেলাফতকে নিশ্চি করে দেবে, তখন মুসলমানদের তাৎক্ষণিক ফরজ দায়িত্ব হচ্ছে, জিহাদের মাধ্যমে সে ইসলামি খেলাফতকে উদ্ধার করা। এখানে স্বভাবসম্মত পদ্ধতিটি কী? জিহাদের জন্য খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করবে?
আমরা যা বুঝি তা হলো, দীন কায়েমের প্রচেষ্টা শুরু হবে দাওয়াত ও জিহাদ দিয়ে। ধাপে ধাপে এর মাধ্যমে দীনের শত্রুদের আক্রমণ ও হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দূরীভূত হওয়ার পর আসবে খলিফা নির্ধারণ করে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার বিষয়।
হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি [১২৩৩-১৩১৭ হি.] ও মুহাম্মদ কাসেম নানুতবি [১২৪৮-১২৯৭ হি.] রাহিমাহুমাল্লাহ খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? সাইয়েদ আহমদ বেরেলভি ও শাহ ইসমাঈল শহিদ রাহিমাহুমাল্লাহ খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? উমাইয়া খলিফাদের বিরুদ্ধে হোসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহুসহ আরো যারা জিহাদ করেছিলেন, তাঁরা খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ এসব জিহাদে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছিলেন কেন? ...
খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই কি খেলাফত বিরোধী শক্তিগুলো বাধা দেবে না? তারা যখন বাধা দেবে, তখন তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য জিহাদ ছাড়া আর কী ব্যবস্থা আছে? খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই তো এর আগে জিহাদ লাগবে। একটি বিলুপ্ত খেলাফত পুনরুদ্ধার করতে গেলে আগে জিহাদ হবে, নাকি আগে বিলুপ্ত খেলাফত পুনরুদ্ধার হবে?
আলোচ্য আলেমের বক্তব্য সমাপ্ত হয়েছে। শুরুতে উল্লেখিত খণ্ডনকৃত অবস্থান 'মারকাযুদ দাওয়াহ'-র হলেও, ব্যক্তিগতভাবে মারকাযের আমিনুত তালিম মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ-এর অবস্থান সম্ভবত ভিন্ন। কারণ তিনি তাঁর প্রবন্ধসমগ্রে লিখেছেন- [তাঁর আলোচ্য লেখাটি ২১০ নং পৃষ্ঠায় পাঠ করুন।]
টিকাঃ
১. দারুল ইসলামে বসবাস করার জন্য আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টানদের 'দারুল ইসলাম কর্তৃপক্ষ'কে প্রতিবছর যে অর্থ দিতে হয়, তাকে জিযিয়া বলে।
১. সুনানু আবি দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, বাবুন ফি দুআইল মুশরিকিন দ্রষ্টব্য। হাদিস নং ২৬১৪।
১. ২৭১-২৭৪ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
📄 তাগুতের সংজ্ঞা
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহর ভাষায়- তাগুত হলো প্রত্যেক ঐ উপাস্য, অনুসৃত ও মান্যবর সত্তা, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে। অতএব প্রত্যেক জাতির তাগুত হলো ঐ ব্যক্তি, যার নিকট লোকেরা কোরআন ও সুন্নাহর পরিবর্তে বিচারের জন্য গমন করে। অথবা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার উপাসনা করে। অথবা আল্লাহর সঠিক নির্দেশনা গ্রহণ না করে যার অনুসরণ করে। অথবা প্রত্যেক এমন ক্ষেত্রে মান্য করে, যা সম্বন্ধে তারা জানে না যে, এটা আল্লাহর আনুগত্য।(১)
প্রসঙ্গত তাগুতের আরেকটি সংজ্ঞা নিম্নরূপ- آسان ترجمه قرآن কিতাবে সুরা নিসা-র আলোচ্য ৬০ নং আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে-
'তাগুতের আভিধানিক অর্থ ঘোর অবাধ্য। কিন্তু শব্দটি শয়তানের জন্যও ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক বাতিলপন্থির জন্যও ব্যবহৃত হয়। এখানে শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য এমন শাসক, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধানাবলি থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে বিচার করে; অথবা তাঁদের বিপরীত আইন দ্বারা বিচার করে। আয়াতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি মুখে নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করে, কিন্তু আল্লাহ ও রাসুলের বিধানাবলির উপর অন্য কোনো বিধানকে প্রাধান্য দেয়, তার মুসলমান থাকার সুযোগ নেই।'(২)
২০১ নং পৃষ্ঠায় আরেকটি সংজ্ঞা দেখুন। 'কালিমায়ে তাইয়েবা : বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ' বইয়ের 'তাগুতদের কূটকৌশল' লেখাটিও এখানে প্রাসঙ্গিক।
টিকাঃ
১. إِعْلَامُ الْمُوَقِّعِينَ দ্রষ্টব্য। খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯২। দারু ইবনিল জাওযি সংস্করণ।
২. آسان ترجمه قرآن সুরা নিসা : ৬০
📄 শিয়াদের ব্যাপারে বিন বায রহ.-এর ফতোয়া
শায়খ আবদুল আজিজ বিন বায রাহিমাহুল্লাহর [১৩৩০-১৪২০ হি.] অফিসিয়াল সাইটে(১) রয়েছে, তিনি বলেছেন, শিয়ারা অনেক প্রকারে বিভক্ত। কারো কারো মতানুযায়ী তারা ২২ টি ফেরকায় বিভক্ত। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা বাতেনি, যেমন- জাফরি এবং ইসনা আশারিয়া আকিদা ধারণকারী খোমিনির অনুসারী ইমামিয়্যা, তাদের কাফের হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, তারা রাফেজি। বিশেষত তাদের ঐসকল নেতৃবৃন্দ ও ইমামগণ, যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার ও নবি পরিবারের উপাসনা করার আহ্বান করে।
তারা হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাঁর ইবাদত করে। হজরত হাসান [৩-৪৯ হি.] ও হোসাইন [৪-৬১ হি.] রাজিয়াল্লাহু আনহুমার ব্যাপারেও তারা বাড়াবাড়ি করে। তারা মনে করে, এঁরা নিষ্পাপ ও গায়ব জানেন। তাদের দাবি, হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুই আল্লাহ। নুসাইরিয়া ও ইসমাঈলিয়্যাদের অবস্থা তাদের অনুরূপ। তারা সবচেয়ে বড় কাফের; তাদের নেতৃবৃন্দ, ইমাম ও গুরুজন সকলে কাফের।
তাদের মধ্যে কিছু মূর্খ শিয়া আছে, যারা নবি পরিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে না, আল্লাহর পরিবর্তে তাঁদের ইবাদত করে না, এবং এ বিশ্বাসও করে না যে, তাঁরা গায়ব জানেন। তবে হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুকে প্রাধান্য দেয়। তারা বলে, হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু হজরত আবু বকর ও ওমর রাজিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে শ্রেষ্ঠ। এটা ভুল, অজ্ঞতা ও অবাধ্যতা। তবে এর কারণে তারা কাফের হবে না। বরং গুনাহগার ও বিদআতি হবে।
তারা কাফের হবে না, তবে যখন অথবা যখন বলবে, তাঁরা নবিগণের তুলনায় শ্রেষ্ঠ এবং হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য নবিগণের ঊর্ধ্বে, যেমনটা খোমেনি তার 'ইসলামি সরকার নামক গ্রন্থে লিখেছে- 'আমাদের ইমামগণ এমন মর্যাদায় উপনীত হয়েছেন, যেখানে কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা ও প্রেরিত নবি উপনীত হয়নি।' আমরা আল্লাহর নিকট চাই ক্ষমা ও সুস্থতা।
ইরানের বর্তমানের শাসকবর্গ সবচেয়ে বড় গোমরাহ এবং সবচেয়ে বড় কাফের, যদিও তারা ইসলামের পোশাকে আত্মপ্রকাশ করছে। আল্লাহর পানাহ! কারণ, তারা শিরক ও গায়রুল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। রাফেজি হওয়ার আহ্বান জানায়। সাহাবিগণকে গালমন্দ ও অভিসম্পাত করার আহ্বান করে। হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু ও নবি পরিবারের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। তাঁদের নিষ্পাপ হওয়ার, গায়ব জানার ও আল্লাহর পরিবর্তে ইবাদতের উপযুক্ত হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করে। তাঁদের সাহায্য কামনা করে, তাঁদের জন্য মানত করে প্রভৃতি। আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও সুস্থতা চাই। [শায়খ বিন বায রাহিমাহুল্লাহর ফতোয়া সমাপ্ত হয়েছে।]
টিকাঃ
১. المَوْقِعُ الرَّسْمِيُّ لِسَمَاحَةِ الشيخ الإمام ابن باز رحمه الله .
১. الحكومة الإسلامية .১
📄 কাফেরদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান
কাফেরদের সঙ্গে তথাকথিত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে একটি ইসলামি সাময়িকীতে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। সাময়িকীটির প্রধান দায়িত্বশীলের সঙ্গে একজন আলেম এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তাদের কথোপকথন ছিল নিম্নরূপ-
= সুরা তাওবা-র ১২৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন- [অর্থ] 'হে ঈমানদারগণ! কাফেরদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের নিকটবর্তী, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, এবং তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা পায়। আর জেনে রাখো, আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন'। এ জাতীয় আয়াত ও কাফেরদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যে সমন্বয়সাধনের ধরণ কী হবে?
= = হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাজিআল্লাহু আনহু কি তাঁর ইহুদি প্রতিবেশির খোঁজখবর নেননি যে, তাঁর জন্য যে গোশত রান্না করা হয়েছে, তা থেকে ঐ ইহুদিকে দেওয়া হয়েছে কি-না। এটি কি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নয়?
= আমার ধারণায় ঐ ইহুদি জিম্মি কাফের ছিল; হরবি কাফের ছিল না। [বলাবাহুল্য, ফকিহগণের পরিভাষায় জিম্মির যে সংজ্ঞা, তা এ দেশের কাফেরদের ব্যাপারে প্রযোজ্য হয় না। এ বইয়ের আলেম الْمَوْسُوْعَةُ الفِقْهِيَّةُ الْكُوَيْتِيَّةُ কিতাবে (৭ : ১২৪) ঐ সকল শর্ত দেখে নিতে পারেন, যেগুলো মেনে নেওয়ার শর্তে তখনকার জিম্মিরা সাইয়িদুনা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট তাদেরকে নিরাপত্তাপ্রদানের আবেদন পেশ করেছিলো এবং হজরত ফারুকে আজম রাজিয়াল্লাহু আনহু তাদের দরখাস্ত গ্রহণ করেছিলেন। এই অধ্যয়ন দ্বারা বর্তমানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভিন্ন দেশের কাফেররা জিম্মি কি-না, তা বুঝা সহজ হবে ।]
= = লেখক সাধারণভাবে কাফেরদের সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন। হরবি কাফেরদের সম্বন্ধে আলোচনা করেননি। [তিনি সম্ভবত বুঝাতে চেয়েছেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি প্রবন্ধে যে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, তা জিম্মি কাফেরদের ব্যাপারে। অতএব আপত্তির কিছু নেই ।]
= আমাদের অঞ্চলের বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে সাধারণ পাঠক প্রবন্ধের উৎসাহদান কাদের ব্যাপারে প্রয়োগ করবেন?
= = [রাগতস্বরে] আপনি বুঝতে চান না, বুঝাতে চান। আপনার অধ্যয়ন অসম্পূর্ণ এবং আপনার বুঝ ভাসাভাসা। গভীর চিন্তার সাথে পাঠ করুন, সকল আপত্তি দূর হয়ে যাবে।
= হয় আপনিই আমাকে বুঝিয়ে দিন। অথবা বিশেষ কোনো কিতাবের বিশেষ কোনো স্থান নির্দেশ করুন, আমি তা পড়ে জেনে নিব ইনশাআল্লাহ।
= = ইতিহাস পাঠ করুন।
[মানসম্মত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে যাতায়াত করে ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থাবলির বৈচিত্র্য, পরিমাণ ও বিস্তৃতি সম্পর্কে যাদের কিছুটা ধারণা আছে, তাঁরা বুঝবেন, এটি এমন এক বিষয় পাঠ করার নির্দেশ, অন্য সবকিছু থেকে অবসর হয়ে কয়েক বছর একটানা করলেও তা সমাপ্ত হওয়ার নয় ।]
উক্ত কথোপকথনকারী আলেমকে তার একজন সহকর্মী প্রশ্ন করলেন, উল্লিখিত দায়িত্বশীলের সাথে আলাপচারিতা সম্পন্ন হওয়ার পর এখন আপনার অনুভূতি কী? উত্তরে তিনি বলেছেন, আমার মনে হয়েছে, দলিল চাইলে তিনি ও তাঁর স্তরের লোকেরা বিরক্ত হন। [বন্ধনীর ভেতরের লেখাগুলো সংলাপের অন্তর্ভুক্ত নয় ।]
এমন কিছু কথা এ বইয়ের ‘অনুবাদকের নিবেদন' শিরোনামের ভূমিকায়ও এসেছে। 'কালিমায়ে তাইয়েবা : বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ' বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণের ৯১ নং পৃষ্ঠায় দেশ-বিদেশের কতিপয় বড় আলেম সম্পর্কে লেখা হয়েছে-
ইলমের শীর্ষ স্তরের কতকের একটি অবস্থা হলো, তাঁদের আচরণ-উচ্চারণ দ্বারা বিভিন্ন প্রমাণিত বাস্তবতা সম্পর্কে সত্যান্বেষীরা ধাঁধাঁয় পড়ে যায় ও সন্দিহান হয়ে উঠে। যেমন তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করা বিষয়ক বিভিন্ন মাসআলার ভুল-নির্ভুল বিভিন্ন দিক আবিষ্কার করে নির্ভুল কোনটি, তা জানার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দলিল বা নির্দেশনা পেশ করার পরিবর্তে, তাঁরা অনির্দিষ্টভাবে উচ্চতর গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করার পরামর্শ দেন। অবস্থা যেন এমন, উচ্চতর ইলমি গ্রন্থসমূহ খুললেই সংশ্লিষ্ট আলোচনা সামনে এসে যাবে। আর সে আলোচনায় দৃষ্টি ফেললে তাদের প্রতিপক্ষের অবস্থানগুলো ভুলই সাব্যস্ত হবে। ওদিকে এ স্তরের ব্যাপক অধ্যয়ন করা অনেকের জন্য সম্ভব হয় না। ফলে তাঁদের ব্যক্তিত্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেকে সেসকল প্রমাণিত বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন।
উল্লিখিত আলেমগণ দীনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ের জন্যও দলিল পেশ করার দায়বদ্ধতা কার্যত অস্বীকার করেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তাঁরা চান, মানুষ শুধু তাঁদের উপর নির্ভর করে তাঁদের কথাগুলো গ্রহণ করে নিক। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সূরা বনি ইসরাঈলের ৩৬ নং আয়াতে এমন কিছু মান্য করতে নিষেধ করেছেন।