📄 ইসলামি দাওয়াতের নববি পদ্ধতি
অতএব হতাশার কিছু নেই। আল্লাহর নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করা আপাতত সম্ভব না হলে করণীয় হলো, তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কোনো বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসলামি দাওয়াতের নববি পদ্ধতি
'হিদায়া' কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইনায়া' কিতাবের লেখক আল্লামা মুহাম্মদ বিন মাহমুদ রাহিমাহুল্লাহর [মৃ. ৭৮৬ হি.] একটি উদ্ধৃতি নিম্নে উল্লেখ করা হচ্ছে। উদ্ধৃতিটি দ্বারা দাওয়াতের অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ক্রম যেমন বুঝে আসবে, অনুরূপভাবে কোরআন মাজিদের এ বিষয়ের আয়াতসমূহের মধ্যকার বাহ্যিক বৈপরিত্বের সমাধানও জানা যাবে ইনশাআল্লাহ। 'হিদায়া'র 'কিতাবুস সিয়ার'-এর ব্যাখ্যায় 'ইনায়া'-র লেখক লিখেছেন-
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দিকে মুশরিকদেরকে ক্ষমা করার ও এড়িয়ে চলার জন্য আদিষ্ট ছিলেন। ইরশাদ হয়েছে-
فَأَصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِيلَ.
সুতরাং আপনি সুন্দরভাবে ক্ষমা করুন। [সুরা হিজর: ৮৫]
আরো ইরশাদ হয়েছে-
وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ.
এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। [সুরা আনআম: ১০৬]
তারপর উপদেশদান ও সুন্দর পদ্ধতিতে বিতর্ক করে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ .
আপনি আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন হেকমত ও সদুপদেশ দ্বারা। [সুরা নাহল: ১২৫]
এরপর কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ করার অনুমতিপ্রাপ্ত হন- যদি আক্রমণ তাদের পক্ষ থেকে শুরু হয়। ইরশাদ হয়েছে-
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ.
যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হয়, তাদেরকে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হলো। [সুরা হজ: ৩৯]
আরো ইরশাদ হয়েছে-
فَإِن قَتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ.
যদি তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তোমরা তাদেরকে হত্যা করো। [সুরা বাকারা : ১৯১]
তারপর আল্লাহর শত্রুদের পক্ষ থেকে আক্রমণ না হলেও কিছু সময় তাদের উপর আক্রমণ করার জন্য রাসুল আদিষ্ট হয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
فَإِذَا انْسَلَخَ الأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُم.
অতএব যখন নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হবে, তখন মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও, হত্যা করো। [সুরা তাওবা : ৫]
এরপর সকল সময় এবং সকল স্থানে আল্লাহর শত্রুদের উপর আক্রমণ করার জন্য রাসুল আদিষ্ট হয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ.
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো, যতক্ষণ না ফেতনা [শিরক] দূরীভূত হয়। [সুরা বাকারা : ১৯৩]
আরো ইরশাদ হয়েছে–
قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الآخِرِ
যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান আনে না, তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো। [সুরা তাওবা : ২৯] ['ইনায়া' কিতাবের উদ্ধৃতি সমাপ্ত হয়েছে।]
একজন সিরাত ও হাদিস বিশেষজ্ঞ আলেম দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ অবতীর্ণ হওয়ার পর নববি যুগে ও সাহাবায়ে কেরামের আমলে ইসলামের দিকে দাওয়াত দানকারী এমন কোনো কাফেলার অস্তিত্ব ছিল না, যাদের দাওয়াত গ্রহণ না করলে তারপর জিযিয়া প্রদানের আহ্বান ছিল না, এবং জিযিয়া প্রদান করতে অসম্মত হলে এরপর যুদ্ধের আহ্বান ছিল না! নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন-
عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا بَعَثَ أَمِيرًا عَلَى سَرِيَّةٍ أَوْ جَيْشِ أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللهِ فِي خَاصَّةِ نَفْسِهِ وَبِمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا، وَقَالَ: «إِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلاثِ خِصَالٍ أَوْ خِلَالٍ، فَأَيَّتُهَا أَجَابُوكَ إِلَيْهَا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَكُفَّ عَنْهُمُ : ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ، وَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوْا ذَلِكَ أَنَّ لَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، وَأَنَّ عَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ؛ فَإِنْ أَبَوْا وَاخْتَارُوا دَارَهُمْ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يُجْرَى عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللهِ الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلَا يَكُوْنُ لَهُمْ فِي الْفَيْءِ وَالْغَنِيمَةِ نَصِيبُ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ. فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَادْعُهُمْ إِلَى إِعْطَاءِ الْجِزْيَةِ، فَإِنْ أَجَابُوا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَكُفَّ عَنْهُمْ.
فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللهِ تَعَالَى وَقَاتِلْهُمْ..
হজরত সুলাইমান বিন বুরাইদা রাহিমাহুল্লাহ তাঁর পিতা বুরাইদা বিন হাসিব আসলামি রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো যুদ্ধবাহিনীর আমির বানিয়ে পাঠাতেন, তখন তাঁকে তাঁর নিজের ব্যাপারে এবং তাঁর সঙ্গী مسلمانوں বিষয়ে কল্যাণমূলক আচরণে আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিতেন। এবং বলতেন-
যখন তুমি তোমার মুশরিক শত্রুদের মুখোমুখি হবে, তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের কোনো একটি গ্রহণ করার প্রতি আহ্বান করবে। তারা যদি সাড়া দেয়, তাহলে তা তুমি গ্রহণ করো এবং তাদের থেকে বিরত থাকো।
১. তাদেরকে ইসলামের দিকে ডাকো। যদি তারা সাড়া দেয়, তাহলে তাদের সাড়া দেওয়াকে গ্রহণ করো এবং তাদের থেকে বিরত থাকো। এরপর তাদেরকে আপন এলাকা থেকে বের হয়ে মুহাজিরদের এলাকায় স্থানান্তর হওয়ার কথা বলো। আর তাদেরকে জানিয়ে দাও, যদি তারা এ আহ্বান গ্রহণ করে, তাহলে তারা সেসকল সুবিধা পাবে, যা মুহাজিররা পায়; এবং তাদের উপর সে সব দায়িত্ব বর্তাবে, যা মুহাজিরদের উপর বর্তায়।
যদি তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ না করে এবং নিজেদের বাড়িঘরে থেকে যায়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও, তাদের অবস্থা গ্রাম্য সাধারণ মুসলমানদের মতো হবে। মুমিনদের ক্ষেত্রে আল্লাহর যেসব বিধান প্রয়োগ হয়, তা তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হবে। তবে 'ফাই' ও গনিমতের মধ্যে তাদের কোনো অংশ থাকবে না; অবশ্য যদি মুসলমানের সঙ্গে যুদ্ধে শরিক হয়।
২. আর যদি ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদেরকে জিযিয়া দিতে আহ্বান করো। যদি তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে তুমি তা গ্রহণ করো এবং তাদের থেকে বিরত থাকো।
৩. পক্ষান্তরে তারা যদি জিযিয়া দিতেও অস্বীকার করে, তাহলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করো এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। ...(১)
📄 জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?
'জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?' প্রশ্নটির উত্তর প্রসঙ্গে একজন আলেমের নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এখানে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। ‘মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা' থেকে প্রকাশিত একটি পারচায় জিহাদ ও খেলাফত উভয়টির জন্য অভিন্ন শর্তের কথা বলা হয়েছিল। সে সূত্র ধরে উক্ত আলেম লিখেছেন-
জিহাদকে কেনো খেলাফতের সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে বা কেনো এ দুটোর শর্ত বা সামর্থ্যকে এক করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। জিহাদ শুরু করার শক্তি থাকলে আগে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে পরে জিহাদ করতে হবে, একথা আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে। জিহাদ করার সামর্থ্য থাকা মানেই কি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার সামর্থ্য থাকা? যার জিহাদ করার সামর্থ্য আছে, তাকে আগে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হবে বা জিহাদ শুরু করার শর্ত পূরণ হওয়ার অর্থই হলো খেলাফত প্রতিষ্ঠার সকল শর্ত বিদ্যমান থাকা, এটা কি শরিয়তের বক্তব্য? শরিয়ত কি এটা জরুরি সাব্যস্ত করে?
বর্তমানে অধিকাংশ জিহাদই হচ্ছে প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ। প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরাম এতদূর পর্যন্ত বলে ফেলেছেন যে, এর জন্য কোনো শর্ত নেই। বর্তমানের অধিকাংশ জিহাদই হচ্ছে খেলাফত পুনরুদ্ধারের জন্য জিহাদ। এমতাবস্থায় 'খেলাফত প্রতিষ্ঠার সামর্থ্য নেই অথচ জিহাদ করার সামর্থ্য আছে' বলে বিস্ময় প্রকাশ করার কী অর্থ হতে পারে?
শত্রুপক্ষ যখন একটি ইসলামি খেলাফতকে নিশ্চি করে দেবে, তখন মুসলমানদের তাৎক্ষণিক ফরজ দায়িত্ব হচ্ছে, জিহাদের মাধ্যমে সে ইসলামি খেলাফতকে উদ্ধার করা। এখানে স্বভাবসম্মত পদ্ধতিটি কী? জিহাদের জন্য খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করবে?
আমরা যা বুঝি তা হলো, দীন কায়েমের প্রচেষ্টা শুরু হবে দাওয়াত ও জিহাদ দিয়ে। ধাপে ধাপে এর মাধ্যমে দীনের শত্রুদের আক্রমণ ও হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দূরীভূত হওয়ার পর আসবে খলিফা নির্ধারণ করে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার বিষয়।
হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি [১২৩৩-১৩১৭ হি.] ও মুহাম্মদ কাসেম নানুতবি [১২৪৮-১২৯৭ হি.] রাহিমাহুমাল্লাহ খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? সাইয়েদ আহমদ বেরেলভি ও শাহ ইসমাঈল শহিদ রাহিমাহুমাল্লাহ খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? উমাইয়া খলিফাদের বিরুদ্ধে হোসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহুসহ আরো যারা জিহাদ করেছিলেন, তাঁরা খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ এসব জিহাদে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছিলেন কেন? ...
খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই কি খেলাফত বিরোধী শক্তিগুলো বাধা দেবে না? তারা যখন বাধা দেবে, তখন তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য জিহাদ ছাড়া আর কী ব্যবস্থা আছে? খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই তো এর আগে জিহাদ লাগবে। একটি বিলুপ্ত খেলাফত পুনরুদ্ধার করতে গেলে আগে জিহাদ হবে, নাকি আগে বিলুপ্ত খেলাফত পুনরুদ্ধার হবে?
আলোচ্য আলেমের বক্তব্য সমাপ্ত হয়েছে। শুরুতে উল্লেখিত খণ্ডনকৃত অবস্থান 'মারকাযুদ দাওয়াহ'-র হলেও, ব্যক্তিগতভাবে মারকাযের আমিনুত তালিম মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ-এর অবস্থান সম্ভবত ভিন্ন। কারণ তিনি তাঁর প্রবন্ধসমগ্রে লিখেছেন- [তাঁর আলোচ্য লেখাটি ২১০ নং পৃষ্ঠায় পাঠ করুন।]
টিকাঃ
১. দারুল ইসলামে বসবাস করার জন্য আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টানদের 'দারুল ইসলাম কর্তৃপক্ষ'কে প্রতিবছর যে অর্থ দিতে হয়, তাকে জিযিয়া বলে।
১. সুনানু আবি দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, বাবুন ফি দুআইল মুশরিকিন দ্রষ্টব্য। হাদিস নং ২৬১৪।
১. ২৭১-২৭৪ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
📄 তাগুতের সংজ্ঞা
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহর ভাষায়- তাগুত হলো প্রত্যেক ঐ উপাস্য, অনুসৃত ও মান্যবর সত্তা, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে। অতএব প্রত্যেক জাতির তাগুত হলো ঐ ব্যক্তি, যার নিকট লোকেরা কোরআন ও সুন্নাহর পরিবর্তে বিচারের জন্য গমন করে। অথবা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার উপাসনা করে। অথবা আল্লাহর সঠিক নির্দেশনা গ্রহণ না করে যার অনুসরণ করে। অথবা প্রত্যেক এমন ক্ষেত্রে মান্য করে, যা সম্বন্ধে তারা জানে না যে, এটা আল্লাহর আনুগত্য।(১)
প্রসঙ্গত তাগুতের আরেকটি সংজ্ঞা নিম্নরূপ- آسان ترجمه قرآن কিতাবে সুরা নিসা-র আলোচ্য ৬০ নং আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে-
'তাগুতের আভিধানিক অর্থ ঘোর অবাধ্য। কিন্তু শব্দটি শয়তানের জন্যও ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক বাতিলপন্থির জন্যও ব্যবহৃত হয়। এখানে শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য এমন শাসক, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধানাবলি থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে বিচার করে; অথবা তাঁদের বিপরীত আইন দ্বারা বিচার করে। আয়াতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি মুখে নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করে, কিন্তু আল্লাহ ও রাসুলের বিধানাবলির উপর অন্য কোনো বিধানকে প্রাধান্য দেয়, তার মুসলমান থাকার সুযোগ নেই।'(২)
২০১ নং পৃষ্ঠায় আরেকটি সংজ্ঞা দেখুন। 'কালিমায়ে তাইয়েবা : বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ' বইয়ের 'তাগুতদের কূটকৌশল' লেখাটিও এখানে প্রাসঙ্গিক।
টিকাঃ
১. إِعْلَامُ الْمُوَقِّعِينَ দ্রষ্টব্য। খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯২। দারু ইবনিল জাওযি সংস্করণ।
২. آسان ترجمه قرآن সুরা নিসা : ৬০
📄 শিয়াদের ব্যাপারে বিন বায রহ.-এর ফতোয়া
শায়খ আবদুল আজিজ বিন বায রাহিমাহুল্লাহর [১৩৩০-১৪২০ হি.] অফিসিয়াল সাইটে(১) রয়েছে, তিনি বলেছেন, শিয়ারা অনেক প্রকারে বিভক্ত। কারো কারো মতানুযায়ী তারা ২২ টি ফেরকায় বিভক্ত। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা বাতেনি, যেমন- জাফরি এবং ইসনা আশারিয়া আকিদা ধারণকারী খোমিনির অনুসারী ইমামিয়্যা, তাদের কাফের হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, তারা রাফেজি। বিশেষত তাদের ঐসকল নেতৃবৃন্দ ও ইমামগণ, যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার ও নবি পরিবারের উপাসনা করার আহ্বান করে।
তারা হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাঁর ইবাদত করে। হজরত হাসান [৩-৪৯ হি.] ও হোসাইন [৪-৬১ হি.] রাজিয়াল্লাহু আনহুমার ব্যাপারেও তারা বাড়াবাড়ি করে। তারা মনে করে, এঁরা নিষ্পাপ ও গায়ব জানেন। তাদের দাবি, হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুই আল্লাহ। নুসাইরিয়া ও ইসমাঈলিয়্যাদের অবস্থা তাদের অনুরূপ। তারা সবচেয়ে বড় কাফের; তাদের নেতৃবৃন্দ, ইমাম ও গুরুজন সকলে কাফের।
তাদের মধ্যে কিছু মূর্খ শিয়া আছে, যারা নবি পরিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করে না, আল্লাহর পরিবর্তে তাঁদের ইবাদত করে না, এবং এ বিশ্বাসও করে না যে, তাঁরা গায়ব জানেন। তবে হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুকে প্রাধান্য দেয়। তারা বলে, হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু হজরত আবু বকর ও ওমর রাজিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে শ্রেষ্ঠ। এটা ভুল, অজ্ঞতা ও অবাধ্যতা। তবে এর কারণে তারা কাফের হবে না। বরং গুনাহগার ও বিদআতি হবে।
তারা কাফের হবে না, তবে যখন অথবা যখন বলবে, তাঁরা নবিগণের তুলনায় শ্রেষ্ঠ এবং হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য নবিগণের ঊর্ধ্বে, যেমনটা খোমেনি তার 'ইসলামি সরকার নামক গ্রন্থে লিখেছে- 'আমাদের ইমামগণ এমন মর্যাদায় উপনীত হয়েছেন, যেখানে কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা ও প্রেরিত নবি উপনীত হয়নি।' আমরা আল্লাহর নিকট চাই ক্ষমা ও সুস্থতা।
ইরানের বর্তমানের শাসকবর্গ সবচেয়ে বড় গোমরাহ এবং সবচেয়ে বড় কাফের, যদিও তারা ইসলামের পোশাকে আত্মপ্রকাশ করছে। আল্লাহর পানাহ! কারণ, তারা শিরক ও গায়রুল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। রাফেজি হওয়ার আহ্বান জানায়। সাহাবিগণকে গালমন্দ ও অভিসম্পাত করার আহ্বান করে। হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু ও নবি পরিবারের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। তাঁদের নিষ্পাপ হওয়ার, গায়ব জানার ও আল্লাহর পরিবর্তে ইবাদতের উপযুক্ত হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করে। তাঁদের সাহায্য কামনা করে, তাঁদের জন্য মানত করে প্রভৃতি। আমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও সুস্থতা চাই। [শায়খ বিন বায রাহিমাহুল্লাহর ফতোয়া সমাপ্ত হয়েছে।]
টিকাঃ
১. المَوْقِعُ الرَّسْمِيُّ لِسَمَاحَةِ الشيخ الإمام ابن باز رحمه الله .
১. الحكومة الإسلامية .১