📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা ফিল ইসলাম’ কিতাবের পরিচিতি

📄 ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা ফিল ইসলাম’ কিতাবের পরিচিতি


পবিত্র মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত 'উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে'র আকিদা শাখা থেকে মাস্টার্সডিগ্রি লাভের থিসিসরূপে গ্রন্থকার এটি রচনা করেছেন। ১৪০১ হিজরির শাবান মাসের ৪ তারিখে গ্রন্থটি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রন্থকারকে 'মুমতাজ' গ্রেডে মাস্টার্সডিগ্রি প্রদান করেছেন।

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 প্রচলিত তাবলিগ জামাত সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন

📄 প্রচলিত তাবলিগ জামাত সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন


'ফাযায়েলে আমাল' কিতাবের ১০১৩ নং পৃষ্ঠার একটি উদ্ধৃতি এখানে উল্লেখযোগ্য। জিহাদ বিষয়ক ৪টি আয়াতের আলোচনা প্রসঙ্গে উক্ত পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে- 'দ্বিতীয় জিনিস যাহা আমাদের নিকট হইতে চাওয়া হইয়াছে, উহা হইল জেহাদ। জেহাদের আসল যদিও কাফেরদের সহিত যুদ্ধ ও মোকাবিলা করা, তথাপি জেহাদের মূল লক্ষ্য হইল আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা ও তাঁহার হুকুম-আহকাম পূর্ণভাবে চালু করা। আর ইহাই আমাদের কাজের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, আলোচ্য কিতাবের ৯৮১ থেকে ১০১৬ পর্যন্ত পৃষ্ঠাগুলো মূলত 'পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ' [অধঃপতনের একক চিকিৎসা) নামক পৃথক একটি পুস্তিকা। লেখক, মাওলানা ইহতিশামুল হাসান কান্ধলবি রাহিমাহুল্লাহ।
আমাদের উল্লিখিত নীতিটি বড়ই চিন্তনীয়। কারণ, আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা ও তাঁর হুকুম-আহকাম পূর্ণভাবে চালু করার জন্য আল্লাহ তাআলা যে পদ্ধতি কোরআন মাজিদে নির্ধারণ করেছেন, তার পরিবর্তে অন্য একটি পদ্ধতি আমাদের অধঃপতনের একক চিকিৎসা [পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ কী করে হয়?
হাজারো নয়, লাখো নয়, বরং কোটি কোটি মুসলমান ফরজ জিহাদ করছে না, তা তাদের আমলের দুর্বলতা। [২০১-২০২ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য) তা দ্বারা মূল ঈমান ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। কিন্তু একটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহ তাআলা যখন জিহাদের তরিকা প্রবর্তন করেছেন, তখন জিহাদের পরিবর্তে অন্য একটি তরিকাকে ঘোষণা দিয়ে বিধিবদ্ধ মূলনীতি বানিয়ে নেওয়া দ্বারা, আমাদের ঈমান ঝুঁকিতে পড়বে কি-না, তা ভেবে দেখা অতীব জরুরি। তাছাড়া যা আল্লাহর তরিকা নয়, তা নববি তরিকা কী করে হয়, তা-ও ভাবার বিষয়।
বিষয়টি এজন্যও খুবই চিন্তনীয়, নীতিটি নির্ধারিত হয়েছে আমরা যারা নবিওয়ালা মেহনতের দাবিদার, আমাদের একেবারে কেন্দ্রীয় জায়গা থেকে এবং যুক্ত রয়েছে আমাদের প্রধান মানহাজি কিতাবে।
লক্ষণীয়, জামাতের প্রচলিত তরিকা সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লেখা হয়েছে, 'আমরা আমাদের দুর্বল জ্ঞানবুদ্ধি অনুযায়ী مسلمانوں কামিয়াবী ও উন্নতির লক্ষ্যে একটি কর্মপদ্ধতি ঠিক করিয়াছি, প্রকৃতপক্ষে যাহাকে ইসলামী জিন্দেগী অথবা আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গদের জিন্দেগীর নমুনা বলা যাইতে পারে'।
তরিকাটি যখন 'আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা ও তাঁহার হুকুম-আহকাম পূর্ণভাবে চালু করা'র উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত আল্লাহর নির্ধারিত তরিকা নয়, তখন একে 'প্রকৃতপক্ষে ইসলামী জিন্দেগী অথবা আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গদের জিন্দেগীর নমুনা' দাবি করার সুযোগ আছে কি?
বলাবাহুল্য, শুধু নিয়ত সহিহ হলেই কোনো কাজ সহিহ হয়ে যায় না। মূর্তিপূজার ক্ষেত্রে অনেক মুশরিকের নিয়ত আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে তাদের ভাষায় এভাবে ব্যক্ত করেছেন-
مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى.
আমরা তো তাদের উপাসনা কেবল এ জন্য করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। [সুরা যুমার : ৩)
প্রসঙ্গত, তাবলিগ জামাতের চারটি পরিভাষা তথা ১. কালিমার দাওয়াত, ২. নবিওয়ালা কাজ, ৩. আল্লাহর রাস্তার মেহনত, ৪. নবির তরিকা-এর পর্যালোচনা দেখুন পাকিস্তানের বরেণ্য লেখক শায়খ যুবাইর আহমদ সিদ্দিকি দামাত বারাকাতুহুম রচিত 'আদ-দীন আন-নাসিহাহ' নামক বইয়ে। বইটির বাংলা অনুবাদের শিরোনামও এটিই। প্রাপ্তিস্থান : ঢাকাস্থ বাংলাবাজারের ইসলামী টাওয়ার।
কোনো হঠকারী মানুষকে কিছু বলে তো লাভ নেই। তাবলিগি সাথীদের যারা হঠকারী নন তাদেরকে বলব, ভুল বুঝবেন না। এ মেহনত তো আমরা দুনিয়ার জন্য করি না। বরং দীন হিসেবে করি।
দীনি বিষয়ে কারো অন্ধ অনুসরণের-তিনি অনেক বড় হলেও- শরয়ি বৈধতা নেই। আলেম-জাহেল নির্বিশেষে সকলের জন্য আল্লাহ তাআলার আদেশ লক্ষ্য করুন-
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمُ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَبِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
আর যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তর- প্রত্যেকটি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। [সুরা বনি ইসরাঈল: ৩৬]
এ আয়াত থেকে এটাও বুঝে আসে, জ্ঞানার্জন করে যে ব্যক্তি দীনের তাবলিগ করবে, অর্থাৎ আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা ও তাঁর হুকুম-আহকাম পূর্ণভাবে চালু করার জন্য জিহাদের যে তরিকা কোরআন মাজিদে প্রবর্তিত হয়েছে এবং জিহাদের যে কর্মপদ্ধতি খোলাফায়ে রাশেদিন, তাবেঈন ও তাবেঈন প্রমুখ পূর্ববর্তী বুযুর্গদের জিন্দেগীর নমুনা, যে ব্যক্তি সেভাবে তাবলিগ করবে, এবং উল্লিখিত মূলনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে 'ফাযায়েলে আমল', 'মুন্তাখাব হাদীস' প্রভৃতি কিতাবের যে সমস্ত স্থানে তাবলিগ জামাতের আমলের জন্য জিহাদের আয়াত ও হাদিস ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থেকে তাবলিগ করবে, 'কালিমার দাওয়াত', 'নবিওয়ালা কাজ', 'আল্লাহর রাস্তার মেহনত' ও 'নবির তরিকা'- পরিভাষাগুলোর অপব্যবহার না করবে, এককথায় নববি পদ্ধতিতে তাবলিগ করবে, এমন তাবলিগে সমস্যা নেই। বরং সেটাই কাম্য ও প্রত্যাশিত।

টিকাঃ
১. ফাযায়েলে আমল, পৃ. ১০১৩। 'দারুল কিতাব' সংস্করণ। বাংলাবাজার, ঢাকা।
১. তিনি হজরতজি মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রাহিমাহুল্লাহর [১৩০৩-১৩৬৫ হি.] চাচাতো ভাই, ভগ্নিপতি ও তাঁর বিশিষ্ট আস্থাভাজন ছিলেন। তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাত পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্বে ও হজরতজি মুহাম্মদ ইলিয়াস রাহিমাহুল্লাহর সাহচর্যে। জামাতের 'ছয় নম্বর' নামক পুস্তিকার লেখকও তিনি। তিনি হজরতজি মাওলানা এনামুল হাসান রাহিমাহুল্লাহর পিতা।
২. অন্য একটি তরিকা দ্বারা 'পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ' পুস্তিকায় যে তরিকাকে مسلمانوں অধঃপতনের একক চিকিৎসা বলা হয়েছে, তা উদ্দেশ্য।
৩. 'পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ' নামক পুস্তিকাটি জামাতের প্রধান কেন্দ্র তথা দিল্লির নিজামুদ্দিন থেকে প্রকাশিত তাবলিগি মানহাজের পরিচিতি ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
১. ফাযায়েলে আমল, পৃ. ১০০৬

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 ইসলামি দাওয়াতের নববি পদ্ধতি

📄 ইসলামি দাওয়াতের নববি পদ্ধতি


অতএব হতাশার কিছু নেই। আল্লাহর নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করা আপাতত সম্ভব না হলে করণীয় হলো, তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কোনো বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসলামি দাওয়াতের নববি পদ্ধতি
'হিদায়া' কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইনায়া' কিতাবের লেখক আল্লামা মুহাম্মদ বিন মাহমুদ রাহিমাহুল্লাহর [মৃ. ৭৮৬ হি.] একটি উদ্ধৃতি নিম্নে উল্লেখ করা হচ্ছে। উদ্ধৃতিটি দ্বারা দাওয়াতের অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ক্রম যেমন বুঝে আসবে, অনুরূপভাবে কোরআন মাজিদের এ বিষয়ের আয়াতসমূহের মধ্যকার বাহ্যিক বৈপরিত্বের সমাধানও জানা যাবে ইনশাআল্লাহ। 'হিদায়া'র 'কিতাবুস সিয়ার'-এর ব্যাখ্যায় 'ইনায়া'-র লেখক লিখেছেন-
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দিকে মুশরিকদেরকে ক্ষমা করার ও এড়িয়ে চলার জন্য আদিষ্ট ছিলেন। ইরশাদ হয়েছে-
فَأَصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِيلَ.
সুতরাং আপনি সুন্দরভাবে ক্ষমা করুন। [সুরা হিজর: ৮৫]
আরো ইরশাদ হয়েছে-
وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ.
এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। [সুরা আনআম: ১০৬]
তারপর উপদেশদান ও সুন্দর পদ্ধতিতে বিতর্ক করে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ .
আপনি আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন হেকমত ও সদুপদেশ দ্বারা। [সুরা নাহল: ১২৫]
এরপর কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ করার অনুমতিপ্রাপ্ত হন- যদি আক্রমণ তাদের পক্ষ থেকে শুরু হয়। ইরশাদ হয়েছে-
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ.
যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হয়, তাদেরকে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হলো। [সুরা হজ: ৩৯]
আরো ইরশাদ হয়েছে-
فَإِن قَتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ.
যদি তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তোমরা তাদেরকে হত্যা করো। [সুরা বাকারা : ১৯১]
তারপর আল্লাহর শত্রুদের পক্ষ থেকে আক্রমণ না হলেও কিছু সময় তাদের উপর আক্রমণ করার জন্য রাসুল আদিষ্ট হয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
فَإِذَا انْسَلَخَ الأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُم.
অতএব যখন নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হবে, তখন মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও, হত্যা করো। [সুরা তাওবা : ৫]
এরপর সকল সময় এবং সকল স্থানে আল্লাহর শত্রুদের উপর আক্রমণ করার জন্য রাসুল আদিষ্ট হয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ.
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো, যতক্ষণ না ফেতনা [শিরক] দূরীভূত হয়। [সুরা বাকারা : ১৯৩]
আরো ইরশাদ হয়েছে–
قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الآخِرِ
যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান আনে না, তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো। [সুরা তাওবা : ২৯] ['ইনায়া' কিতাবের উদ্ধৃতি সমাপ্ত হয়েছে।]
একজন সিরাত ও হাদিস বিশেষজ্ঞ আলেম দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ অবতীর্ণ হওয়ার পর নববি যুগে ও সাহাবায়ে কেরামের আমলে ইসলামের দিকে দাওয়াত দানকারী এমন কোনো কাফেলার অস্তিত্ব ছিল না, যাদের দাওয়াত গ্রহণ না করলে তারপর জিযিয়া প্রদানের আহ্বান ছিল না, এবং জিযিয়া প্রদান করতে অসম্মত হলে এরপর যুদ্ধের আহ্বান ছিল না! নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন-
عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا بَعَثَ أَمِيرًا عَلَى سَرِيَّةٍ أَوْ جَيْشِ أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللهِ فِي خَاصَّةِ نَفْسِهِ وَبِمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا، وَقَالَ: «إِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلاثِ خِصَالٍ أَوْ خِلَالٍ، فَأَيَّتُهَا أَجَابُوكَ إِلَيْهَا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَكُفَّ عَنْهُمُ : ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ، وَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوْا ذَلِكَ أَنَّ لَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، وَأَنَّ عَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ؛ فَإِنْ أَبَوْا وَاخْتَارُوا دَارَهُمْ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يُجْرَى عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللهِ الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلَا يَكُوْنُ لَهُمْ فِي الْفَيْءِ وَالْغَنِيمَةِ نَصِيبُ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ. فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَادْعُهُمْ إِلَى إِعْطَاءِ الْجِزْيَةِ، فَإِنْ أَجَابُوا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَكُفَّ عَنْهُمْ.
فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللهِ تَعَالَى وَقَاتِلْهُمْ..
হজরত সুলাইমান বিন বুরাইদা রাহিমাহুল্লাহ তাঁর পিতা বুরাইদা বিন হাসিব আসলামি রাজিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো যুদ্ধবাহিনীর আমির বানিয়ে পাঠাতেন, তখন তাঁকে তাঁর নিজের ব্যাপারে এবং তাঁর সঙ্গী مسلمانوں বিষয়ে কল্যাণমূলক আচরণে আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিতেন। এবং বলতেন-
যখন তুমি তোমার মুশরিক শত্রুদের মুখোমুখি হবে, তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের কোনো একটি গ্রহণ করার প্রতি আহ্বান করবে। তারা যদি সাড়া দেয়, তাহলে তা তুমি গ্রহণ করো এবং তাদের থেকে বিরত থাকো।
১. তাদেরকে ইসলামের দিকে ডাকো। যদি তারা সাড়া দেয়, তাহলে তাদের সাড়া দেওয়াকে গ্রহণ করো এবং তাদের থেকে বিরত থাকো। এরপর তাদেরকে আপন এলাকা থেকে বের হয়ে মুহাজিরদের এলাকায় স্থানান্তর হওয়ার কথা বলো। আর তাদেরকে জানিয়ে দাও, যদি তারা এ আহ্বান গ্রহণ করে, তাহলে তারা সেসকল সুবিধা পাবে, যা মুহাজিররা পায়; এবং তাদের উপর সে সব দায়িত্ব বর্তাবে, যা মুহাজিরদের উপর বর্তায়।
যদি তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ না করে এবং নিজেদের বাড়িঘরে থেকে যায়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও, তাদের অবস্থা গ্রাম্য সাধারণ মুসলমানদের মতো হবে। মুমিনদের ক্ষেত্রে আল্লাহর যেসব বিধান প্রয়োগ হয়, তা তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ হবে। তবে 'ফাই' ও গনিমতের মধ্যে তাদের কোনো অংশ থাকবে না; অবশ্য যদি মুসলমানের সঙ্গে যুদ্ধে শরিক হয়।
২. আর যদি ইসলামের দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাদেরকে জিযিয়া দিতে আহ্বান করো। যদি তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে তুমি তা গ্রহণ করো এবং তাদের থেকে বিরত থাকো।
৩. পক্ষান্তরে তারা যদি জিযিয়া দিতেও অস্বীকার করে, তাহলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করো এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। ...(১)

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?

📄 জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?


'জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?' প্রশ্নটির উত্তর প্রসঙ্গে একজন আলেমের নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এখানে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। ‘মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা' থেকে প্রকাশিত একটি পারচায় জিহাদ ও খেলাফত উভয়টির জন্য অভিন্ন শর্তের কথা বলা হয়েছিল। সে সূত্র ধরে উক্ত আলেম লিখেছেন-
জিহাদকে কেনো খেলাফতের সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে বা কেনো এ দুটোর শর্ত বা সামর্থ্যকে এক করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। জিহাদ শুরু করার শক্তি থাকলে আগে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে পরে জিহাদ করতে হবে, একথা আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে। জিহাদ করার সামর্থ্য থাকা মানেই কি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার সামর্থ্য থাকা? যার জিহাদ করার সামর্থ্য আছে, তাকে আগে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হবে বা জিহাদ শুরু করার শর্ত পূরণ হওয়ার অর্থই হলো খেলাফত প্রতিষ্ঠার সকল শর্ত বিদ্যমান থাকা, এটা কি শরিয়তের বক্তব্য? শরিয়ত কি এটা জরুরি সাব্যস্ত করে?
বর্তমানে অধিকাংশ জিহাদই হচ্ছে প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ। প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরাম এতদূর পর্যন্ত বলে ফেলেছেন যে, এর জন্য কোনো শর্ত নেই। বর্তমানের অধিকাংশ জিহাদই হচ্ছে খেলাফত পুনরুদ্ধারের জন্য জিহাদ। এমতাবস্থায় 'খেলাফত প্রতিষ্ঠার সামর্থ্য নেই অথচ জিহাদ করার সামর্থ্য আছে' বলে বিস্ময় প্রকাশ করার কী অর্থ হতে পারে?
শত্রুপক্ষ যখন একটি ইসলামি খেলাফতকে নিশ্চি করে দেবে, তখন মুসলমানদের তাৎক্ষণিক ফরজ দায়িত্ব হচ্ছে, জিহাদের মাধ্যমে সে ইসলামি খেলাফতকে উদ্ধার করা। এখানে স্বভাবসম্মত পদ্ধতিটি কী? জিহাদের জন্য খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করবে?
আমরা যা বুঝি তা হলো, দীন কায়েমের প্রচেষ্টা শুরু হবে দাওয়াত ও জিহাদ দিয়ে। ধাপে ধাপে এর মাধ্যমে দীনের শত্রুদের আক্রমণ ও হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দূরীভূত হওয়ার পর আসবে খলিফা নির্ধারণ করে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার বিষয়।
হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি [১২৩৩-১৩১৭ হি.] ও মুহাম্মদ কাসেম নানুতবি [১২৪৮-১২৯৭ হি.] রাহিমাহুমাল্লাহ খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? সাইয়েদ আহমদ বেরেলভি ও শাহ ইসমাঈল শহিদ রাহিমাহুমাল্লাহ খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? উমাইয়া খলিফাদের বিরুদ্ধে হোসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহুসহ আরো যারা জিহাদ করেছিলেন, তাঁরা খেলাফত প্রতিষ্ঠা না করে জিহাদ করতে গেলেন কেন? ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ এসব জিহাদে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছিলেন কেন? ...
খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই কি খেলাফত বিরোধী শক্তিগুলো বাধা দেবে না? তারা যখন বাধা দেবে, তখন তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য জিহাদ ছাড়া আর কী ব্যবস্থা আছে? খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই তো এর আগে জিহাদ লাগবে। একটি বিলুপ্ত খেলাফত পুনরুদ্ধার করতে গেলে আগে জিহাদ হবে, নাকি আগে বিলুপ্ত খেলাফত পুনরুদ্ধার হবে?
আলোচ্য আলেমের বক্তব্য সমাপ্ত হয়েছে। শুরুতে উল্লেখিত খণ্ডনকৃত অবস্থান 'মারকাযুদ দাওয়াহ'-র হলেও, ব্যক্তিগতভাবে মারকাযের আমিনুত তালিম মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ-এর অবস্থান সম্ভবত ভিন্ন। কারণ তিনি তাঁর প্রবন্ধসমগ্রে লিখেছেন- [তাঁর আলোচ্য লেখাটি ২১০ নং পৃষ্ঠায় পাঠ করুন।]

টিকাঃ
১. দারুল ইসলামে বসবাস করার জন্য আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টানদের 'দারুল ইসলাম কর্তৃপক্ষ'কে প্রতিবছর যে অর্থ দিতে হয়, তাকে জিযিয়া বলে।
১. সুনানু আবি দাউদ, কিতাবুল জিহাদ, বাবুন ফি দুআইল মুশরিকিন দ্রষ্টব্য। হাদিস নং ২৬১৪।
১. ২৭১-২৭৪ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00