📄 ‘আকিদা ও তাওহিদ বিজ্ঞান’ পরিচিতি
মাহাদের 'আקיদা ও তাওহিদ বিভাগ' দেওবন্দি মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত। এর বিবরণ হলো, উলামায়ে দেওবন্দের আকিদার প্রকৃত মুখপত্র হিসেবে লিখিত কিতাব হলো দুটো-(১) ১. হজরত খলিল আহমদ সাহারানপুরি রাহিমাহুল্লাহ [১২৬৯-১৩৪৬ হি.] প্রণীত المُهَنَّدُ عَلَى الْمُفَنَّدِ, ২. হজরত কারি মুহাম্মদ তাইয়েব রাহিমাহুল্লাহ [১৩১৫-১৪০৩ হি.] রচিত عقائد علماء دیوبند। পরবর্তীতে مسلک علماء دیوبند নামে তিনি তুলনামূলক বড় আরেকটি কিতাব রচনা করেছেন।
কিতাব দুটোসহ দেওবন্দি অন্যান্য আকাবিরের বিভিন্ন কিতাব ও রিসালায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আকিদা বিষয়ক আলোচনাগুলো, নিজস্ব বিন্যাসে উপস্থাপিত হয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দের 'শায়খুল হিন্দ একাডেমি' থেকে প্রকাশিত دار العلوم دیوبند : مَدْرَسَةٌ فِكْرِيَّة ...توجيهية নামক কিতাবে। লেখক মাওলানা উবায়দুল্লাহ আসআদি কাসেমি হাফিজাহুল্লাহ। কিতাবটির মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮৩৯। আקיদা বিষয়ক পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৩৫। কিতাবের এ অংশটুকু মাহাদের 'আקיদা ও তাওহিদ বিভাগে'র সিলেবাসভুক্ত- কিছু অংশ দরসের, কিছু অংশ মুতালাআর।
টিকাঃ
১. পৃ. ৮৯০-৮৯৮ দ্রষ্টব্য। دار العلوم دیوبند : مَدْرَسَةٌ فِكْرِيَّة توجيهية ...।
📄 মাযহাবের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক
এ মাদরাসার সঙ্গে আমার সম্পর্ক এটুকুই যে, তা আমার একজন প্রিয় ছাত্র মাওলানা আবদুল আজিজ [গোপালগঞ্জ] আমার নামে প্রতিষ্ঠা করে এর শিক্ষাবিষয়ক তত্ত্বাবধান আমার উপর ন্যস্ত করেছেন। এর মুদিরও [পরিচালক] তিনিই। আল্লাহ তাআলা প্রতিষ্ঠানটির সকল প্রয়োজন সহজে পূরণ করুন এবং একে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন। আমিন!
📄 ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা ফিল ইসলাম’ কিতাবের পরিচিতি
পবিত্র মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত 'উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে'র আকিদা শাখা থেকে মাস্টার্সডিগ্রি লাভের থিসিসরূপে গ্রন্থকার এটি রচনা করেছেন। ১৪০১ হিজরির শাবান মাসের ৪ তারিখে গ্রন্থটি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রন্থকারকে 'মুমতাজ' গ্রেডে মাস্টার্সডিগ্রি প্রদান করেছেন।
📄 প্রচলিত তাবলিগ জামাত সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন
'ফাযায়েলে আমাল' কিতাবের ১০১৩ নং পৃষ্ঠার একটি উদ্ধৃতি এখানে উল্লেখযোগ্য। জিহাদ বিষয়ক ৪টি আয়াতের আলোচনা প্রসঙ্গে উক্ত পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে- 'দ্বিতীয় জিনিস যাহা আমাদের নিকট হইতে চাওয়া হইয়াছে, উহা হইল জেহাদ। জেহাদের আসল যদিও কাফেরদের সহিত যুদ্ধ ও মোকাবিলা করা, তথাপি জেহাদের মূল লক্ষ্য হইল আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা ও তাঁহার হুকুম-আহকাম পূর্ণভাবে চালু করা। আর ইহাই আমাদের কাজের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, আলোচ্য কিতাবের ৯৮১ থেকে ১০১৬ পর্যন্ত পৃষ্ঠাগুলো মূলত 'পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ' [অধঃপতনের একক চিকিৎসা) নামক পৃথক একটি পুস্তিকা। লেখক, মাওলানা ইহতিশামুল হাসান কান্ধলবি রাহিমাহুল্লাহ।
আমাদের উল্লিখিত নীতিটি বড়ই চিন্তনীয়। কারণ, আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা ও তাঁর হুকুম-আহকাম পূর্ণভাবে চালু করার জন্য আল্লাহ তাআলা যে পদ্ধতি কোরআন মাজিদে নির্ধারণ করেছেন, তার পরিবর্তে অন্য একটি পদ্ধতি আমাদের অধঃপতনের একক চিকিৎসা [পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ কী করে হয়?
হাজারো নয়, লাখো নয়, বরং কোটি কোটি মুসলমান ফরজ জিহাদ করছে না, তা তাদের আমলের দুর্বলতা। [২০১-২০২ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য) তা দ্বারা মূল ঈমান ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। কিন্তু একটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহ তাআলা যখন জিহাদের তরিকা প্রবর্তন করেছেন, তখন জিহাদের পরিবর্তে অন্য একটি তরিকাকে ঘোষণা দিয়ে বিধিবদ্ধ মূলনীতি বানিয়ে নেওয়া দ্বারা, আমাদের ঈমান ঝুঁকিতে পড়বে কি-না, তা ভেবে দেখা অতীব জরুরি। তাছাড়া যা আল্লাহর তরিকা নয়, তা নববি তরিকা কী করে হয়, তা-ও ভাবার বিষয়।
বিষয়টি এজন্যও খুবই চিন্তনীয়, নীতিটি নির্ধারিত হয়েছে আমরা যারা নবিওয়ালা মেহনতের দাবিদার, আমাদের একেবারে কেন্দ্রীয় জায়গা থেকে এবং যুক্ত রয়েছে আমাদের প্রধান মানহাজি কিতাবে।
লক্ষণীয়, জামাতের প্রচলিত তরিকা সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লেখা হয়েছে, 'আমরা আমাদের দুর্বল জ্ঞানবুদ্ধি অনুযায়ী مسلمانوں কামিয়াবী ও উন্নতির লক্ষ্যে একটি কর্মপদ্ধতি ঠিক করিয়াছি, প্রকৃতপক্ষে যাহাকে ইসলামী জিন্দেগী অথবা আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গদের জিন্দেগীর নমুনা বলা যাইতে পারে'।
তরিকাটি যখন 'আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা ও তাঁহার হুকুম-আহকাম পূর্ণভাবে চালু করা'র উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত আল্লাহর নির্ধারিত তরিকা নয়, তখন একে 'প্রকৃতপক্ষে ইসলামী জিন্দেগী অথবা আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গদের জিন্দেগীর নমুনা' দাবি করার সুযোগ আছে কি?
বলাবাহুল্য, শুধু নিয়ত সহিহ হলেই কোনো কাজ সহিহ হয়ে যায় না। মূর্তিপূজার ক্ষেত্রে অনেক মুশরিকের নিয়ত আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে তাদের ভাষায় এভাবে ব্যক্ত করেছেন-
مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى.
আমরা তো তাদের উপাসনা কেবল এ জন্য করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। [সুরা যুমার : ৩)
প্রসঙ্গত, তাবলিগ জামাতের চারটি পরিভাষা তথা ১. কালিমার দাওয়াত, ২. নবিওয়ালা কাজ, ৩. আল্লাহর রাস্তার মেহনত, ৪. নবির তরিকা-এর পর্যালোচনা দেখুন পাকিস্তানের বরেণ্য লেখক শায়খ যুবাইর আহমদ সিদ্দিকি দামাত বারাকাতুহুম রচিত 'আদ-দীন আন-নাসিহাহ' নামক বইয়ে। বইটির বাংলা অনুবাদের শিরোনামও এটিই। প্রাপ্তিস্থান : ঢাকাস্থ বাংলাবাজারের ইসলামী টাওয়ার।
কোনো হঠকারী মানুষকে কিছু বলে তো লাভ নেই। তাবলিগি সাথীদের যারা হঠকারী নন তাদেরকে বলব, ভুল বুঝবেন না। এ মেহনত তো আমরা দুনিয়ার জন্য করি না। বরং দীন হিসেবে করি।
দীনি বিষয়ে কারো অন্ধ অনুসরণের-তিনি অনেক বড় হলেও- শরয়ি বৈধতা নেই। আলেম-জাহেল নির্বিশেষে সকলের জন্য আল্লাহ তাআলার আদেশ লক্ষ্য করুন-
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمُ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَبِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
আর যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তর- প্রত্যেকটি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। [সুরা বনি ইসরাঈল: ৩৬]
এ আয়াত থেকে এটাও বুঝে আসে, জ্ঞানার্জন করে যে ব্যক্তি দীনের তাবলিগ করবে, অর্থাৎ আল্লাহর কালেমা বুলন্দ করা ও তাঁর হুকুম-আহকাম পূর্ণভাবে চালু করার জন্য জিহাদের যে তরিকা কোরআন মাজিদে প্রবর্তিত হয়েছে এবং জিহাদের যে কর্মপদ্ধতি খোলাফায়ে রাশেদিন, তাবেঈন ও তাবেঈন প্রমুখ পূর্ববর্তী বুযুর্গদের জিন্দেগীর নমুনা, যে ব্যক্তি সেভাবে তাবলিগ করবে, এবং উল্লিখিত মূলনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে 'ফাযায়েলে আমল', 'মুন্তাখাব হাদীস' প্রভৃতি কিতাবের যে সমস্ত স্থানে তাবলিগ জামাতের আমলের জন্য জিহাদের আয়াত ও হাদিস ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থেকে তাবলিগ করবে, 'কালিমার দাওয়াত', 'নবিওয়ালা কাজ', 'আল্লাহর রাস্তার মেহনত' ও 'নবির তরিকা'- পরিভাষাগুলোর অপব্যবহার না করবে, এককথায় নববি পদ্ধতিতে তাবলিগ করবে, এমন তাবলিগে সমস্যা নেই। বরং সেটাই কাম্য ও প্রত্যাশিত।
টিকাঃ
১. ফাযায়েলে আমল, পৃ. ১০১৩। 'দারুল কিতাব' সংস্করণ। বাংলাবাজার, ঢাকা।
১. তিনি হজরতজি মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস রাহিমাহুল্লাহর [১৩০৩-১৩৬৫ হি.] চাচাতো ভাই, ভগ্নিপতি ও তাঁর বিশিষ্ট আস্থাভাজন ছিলেন। তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাত পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্বে ও হজরতজি মুহাম্মদ ইলিয়াস রাহিমাহুল্লাহর সাহচর্যে। জামাতের 'ছয় নম্বর' নামক পুস্তিকার লেখকও তিনি। তিনি হজরতজি মাওলানা এনামুল হাসান রাহিমাহুল্লাহর পিতা।
২. অন্য একটি তরিকা দ্বারা 'পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ' পুস্তিকায় যে তরিকাকে مسلمانوں অধঃপতনের একক চিকিৎসা বলা হয়েছে, তা উদ্দেশ্য।
৩. 'পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ' নামক পুস্তিকাটি জামাতের প্রধান কেন্দ্র তথা দিল্লির নিজামুদ্দিন থেকে প্রকাশিত তাবলিগি মানহাজের পরিচিতি ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
১. ফাযায়েলে আমল, পৃ. ১০০৬