📄 কোরআন আগে, না ঈমান আগে?
অতএব কারো শুধু তাফসির, হাদিস, ফিকহ প্রভৃতি বিষয়ে বড় আলেম হওয়ার কারণে, বা তাসাউফের বড় পির সাহেব হওয়ার কারণে, বা চাশত, আওয়াবিন ও তাহাজ্জুদগুজার হওয়ার কারণে, আমরা যেন তার অন্ধ অনুসারী না হয়ে যাই। তাগুত প্রত্যাখ্যান ও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন সংশ্লিষ্ট ইলম অর্জনের পূর্বে তাফসির, হাদিস, ফিকহ প্রভৃতি বিষয়ের 'তাখাসসুস' অর্জনের জন্য কেউ যেন পেরেশান না হই। সাহাবি হজরত জুনদুব বিন আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু [মৃ. ৭০ হি.] বলেছেন,
تَعَلَّمْنَا الْإِيمَانَ قَبْلَ أَنْ نَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ، ثُمَّ تَعَلَّمْنَا الْقُرْآنَ، فَازْدَدْنَا بِهِ إِيمَانًا.
'আমরা কোরআন শেখার পূর্বে ঈমান শিখেছি। তারপর কোরআন শিখেছি, তখন তা দ্বারা আমাদের ঈমান বৃদ্ধি পেয়েছে। (১) অতএব ওজু-নামাজ প্রভৃতি ভঙ্গের কারণ জানার পূর্বে ঈমান ভঙ্গের কারণ জানার জন্য যেন প্রত্যেকে পেরেশান হই। কারণ, ঈমান সবার আগে।
যিন্দিক ও মুলহিদদের ইলম, আমল, বংশ ও বেশভূষা দেখে প্রভাবিত ও প্রতারিত হওয়া থেকে মেহেরবান আল্লাহ মুসলমানদেরকে নিরাপদ রাখুন। এবং ঈমান-আকিদা সহিহ করার পাশাপাশি আল্লাহ আমাদেরকে ইলম, আমল ও বাহ্যিক বেশভূষাও ঠিক করার তাওফিক দিন।
اللَّهُمَّ اجْعَلْ سَرِيرَتِي خَيْرًا مِنْ عَلَانِيَتِي وَاجْعَلْ عَلَانِيَتِي صَالِحَةً
হে আল্লাহ! তুমি আমার গোপন অবস্থাকে প্রকাশ্য অবস্থার তুলনায় উত্তম বানাও এবং আমার প্রকাশ্য অবস্থাকে ভালো বানাও! (২) আমিন!
টিকাঃ
১. সুনানে ইবনে মাজা: ৬১
২. সুনানে তিরমিজি: ৩৬৬৭
📄 ‘ওয়ালা-বারা’ বিষয়ের শর্তীয় উৎস
প্রসঙ্গত, মাহাদের 'আকিদা ও তাওহিদ বিভাগে'র একটি বিষয় হলো ওয়ালা-বারা বা শত্রুতা-মিত্রতা। কেউ কেউ নাকি এ বিষয়টির শরয়ি উৎস খুঁজে পান না। তাই নিম্নে দুটি হাদিস পেশ করা হচ্ছে।
১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহুমা [মৃ. ৬৮ হি.] থেকে বর্ণিত রয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের নামাজের পর যেসকল দুআ করতেন তার একটি হলো,
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا هَادِينَ مُهْتَدِينَ ، غَيْرَ ضَالَّيْنَ وَلَا مُضِلَّيْنَ، سِلْمًا لأَوْلِيَائِكَ، وَحَرْبًا لِأَعْدَائِكَ، نُحِبُّ بِحُبِّكَ مَنْ أَحَبَّكَ، وَنُعَادِي بِعَدَاوَتِكَ مَنْ خَالَفَكَ.
হে আল্লাহ! আমাদেরকে সুপথপ্রাপ্ত ও পথপ্রদর্শক করুন; বিপথগামী ও বিভ্রান্তকারী নয়। আপনার বন্ধুদের মিত্র ও আপনার দুশমনদের শত্রু বানিয়ে দিন। আপনাকে ভালোবাসার কারণে আমরা তাকে ভালোবাসি যে আপনাকে ভালোবাসে; এবং আপনার সাথে শত্রুতা করার কারণে আমরা তার সাথে শত্রুতা পোষণ করি যে আপনার বিরোধিতা করে। [সুনানে তিরমিজি: ৩৪১৯]
২. হজরত ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন,
مَنْ أَحَبَّ فِي اللهِ، وَأَبْغَضَ فِي اللهِ، وَوَالَى فِي اللهِ، وَعَادَى فِي اللهِ، فَإِنَّمَا تُنَالُ وِلَايَةُ اللهِ بِذلِكَ، وَلَنْ يَجِدَ عَبْدُ طَعْمَ الْإِيمَانِ وَإِنْ كَثُرَتْ صَلَاتُهُ وَصَوْمُهُ حَتَّى يَكُوْنَ كَذلِكَ، وَقَدْ صَارَتْ مُؤَاخَاةُ الناسِ عَلَى أَمْرِ الدُّنْيَا، وَذلِكَ لَا يُجْدِي عَلَى أَهْلِهِ شَيْئًا.
যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবেসেছে, আল্লাহর জন্য বিদ্বেষ পোষণ করেছে, আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব করেছে এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা করেছে, [সে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।] কারণ, এর মাধ্যমে আল্লাহর বন্ধুত্ব অর্জিত হয়। আর কোনো বান্দা ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করবে না, যতক্ষণ না তার অবস্থা এমন হয়, যদিও তার সালাত-সিয়াম অনেক হয়। বর্তমানে মানুষের ভ্রাতৃত্ব হয়ে পড়েছে দুনিয়ার বিষয়াদির ভিত্তিতে। আর এমন ভ্রাতৃত্ব লোকদের কোনো উপকারে আসবে না। [হিলয়াতুল আউলিয়া, ১: ৩১২]
📄 উম্মতে নুবুওয়াতের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে
তালিবানে ইলম শিরোনাম ধারণ করে আমরা যারা সময় অতিবাহিত করছি, আমাদের কেমন ব্যাপক ও গভীর অধ্যয়নের অধিকারী আলেম হতে হবে, এবং সর্বজন বোধগম্য করে সেই ইলমের কেমন উপস্থাপনকারী হতে হবে, আমার মনে হয়েছে, সেই ধারণা নেওয়ার জন্য এ রচনাকে বিশেষ মাইলফলক হিসেবে আমরা গ্রহণ করতে পারি। পদ্ধতি হলো, إِكْفَارُ الْمُلْحِدِينَ কিতাবটি অধ্যয়ন করা। তারপর উক্ত কিতাব থেকে এ পুস্তিকা কীভাবে নির্গত হলো, তা মিলিয়ে বুঝার চেষ্টা করা। অথবা প্রথমে এ পুস্তিকাই পাঠ করা। তারপর إِكْفَارُ الْمُلْحِدِينَ অধ্যয়ন করা। আল্লাহ সহজ করুন। আমিন!