📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 নিজেদেরকে সতর্ক মানবও মনে করার উদাহরণ

📄 নিজেদেরকে সতর্ক মানবও মনে করার উদাহরণ


কারো কারো আচরণ-উচ্চারণ দ্বারা তো মনে হয়, তাঁরা কোরআন-হাদিসের পরিবর্তে নিজেদেরকে মিয়ারে হক বা সত্যের মানদণ্ড মনে করেন। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায়, দীনের এক বড় মারকাজের একজন তাহাজ্জুদগুজার মুফতি পির সাহেব একজন বরেণ্য আলেম সম্পর্কে অভিযোগের সুরে বললেন, 'তিনি "নবী রাসূলগণের উত্তরসূরি” নামের বইটি পড়ার পরামর্শ দেন।' [বইটির লেখক মাওলানা আবু আবদুর রহমান সাঈদ ইসলামাবাদি। বইটি ঢাকাস্থ বাংলাবাজারের ইসলামী টাওয়ারে পাওয়া যায়।]
একজন তাকে প্রশ্ন করলেন, বইটির সমস্যা কী? তার নিঃসঙ্কোচ উত্তর ছিলো, 'বইটিতে আদর্শ আলেমের এমন অনেক গুণ উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো আমাদের মধ্যে নেই।' উল্লেখ্য, বইটিতে প্রতিটি গুণ উল্লেখ করা হয়েছে এক বা একাধিক আয়াত কিংবা হাদিসের দলিলসহ।
অবাক হওয়ার বিষয় হলো, আলোচ্য মজলিসে উপস্থিত উক্ত মারকাজের আলেম ও মুখলিস হওয়ার দাবিদার কোনো দাঈর দৃষ্টিতে, তার এ উত্তরে কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়েনি। উপরন্তু মনে হয়েছে, আয়াত ও হাদিসগুলোর বিপরীত নিজেদের অবস্থানগুলোকেই তারা হক মনে করছেন। উল্লেখ্য, তাদের উপদেষ্টা ও পথপ্রদর্শক হলো আন্তঃধর্মীয় বৈঠকগুলোতে অংশগ্রহণকারী নবি পরিবারের একজন আলেম। (১)

টিকাঃ
১. 'ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে'র সহযোগী অধ্যাপক শায়খ আবদুল আজিজ রাজিহি হাফিজাহুল্লাহকে আন্তঃধর্মীয় বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির হুকুম জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন- যে ব্যক্তি বিভিন্ন ধর্মের একটিকে অপরটির কাছাকাছি করার আহ্বান জানায়, সে তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করেনি। সে মুসলমানদেরকে ইহুদিধর্ম বা খ্রিস্টানধর্মের নিকটবর্তী হওয়ার বা তাদের মতো হওয়ার অথবা তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার আহ্বান জানায় বা তারা হকের উপর আছে- একথা বলে। এ লোক তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করেনি। এটি ধর্মত্যাগ। এ ব্যক্তি ঈমানভঙ্গকারী একটি কাজ করেছে। 'সাহাব' ওয়েবসাইট দ্রষ্টব্য।

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 নবির সঙ্গে সম্পর্কহীন নবি পরিবারের সদস্য

📄 নবির সঙ্গে সম্পর্কহীন নবি পরিবারের সদস্য


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাজিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিসটি এখানে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন, আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি অনেক ফেতনার বিবরণ দিলেন। এমনকি চটের ফেতনার বর্ণনা দিলেন। একজন বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! চটের ফেতনা কী? তিনি বললেন, 'তা এমন ফেতনা যার মধ্যে একজন অপরজন থেকে পলায়ন করবে এবং ব্যক্তির সম্পদ এমনভাবে অপহরণ করা হবে যে, তার নিকট কিছুই থাকবে না। তারপর স্বচ্ছলতার ফেতনা হবে। এ ফেতনার প্রকাশ আমার পরিবারের একজন ব্যক্তির পায়ের নিচ থেকে হবে। সে মনে করবে, সে আমার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অথচ সে আমার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। আমার বন্ধু তো হলো মুত্তাকিগণ।' [মুসনাদে আহমদ : ৬১৬৮; এবং সুনানে আবি দাউদ : ৪২৪৪]
سَوْفَ تَرَى إِذَا انْجَلَى الغُبَارُ * أَفَرَسُ تَحْتَكَ أَمْ حِمَارُ
এ বইয়ের ৫৬ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখিত হজরত মুফতি মুহাম্মদ শফি রাহিমাহুল্লাহর একটি লেখা দ্বারা স্পষ্ট হয়, অভিশপ্ত মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি [১২৫৫-১৩২৬ হি./১৮৩৫-১৯০৮ ঈ.] অনেক উঁচুস্তরের আলেমও ছিল। বরং তাঁর ১৫০ নং পৃষ্ঠার আলোচনা থেকে পরিষ্কার হয়, গোলাম আহমদ কাদিয়ানি তাসাউফের বড় মাপের একজন পিরও ছিল। উপরন্তু গুগলে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত তার ছবিসমূহ থেকে যে কারো সামনে স্পষ্ট যে, সে ছিল উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, দাড়িবিশিষ্ট ও দীনি লেবাসধারী। আর কী প্রয়োজন? হাঁ, সর্বাগ্রে প্রয়োজন আকিদার সংশোধন।

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 কোরআন আগে, না ঈমান আগে?

📄 কোরআন আগে, না ঈমান আগে?


অতএব কারো শুধু তাফসির, হাদিস, ফিকহ প্রভৃতি বিষয়ে বড় আলেম হওয়ার কারণে, বা তাসাউফের বড় পির সাহেব হওয়ার কারণে, বা চাশত, আওয়াবিন ও তাহাজ্জুদগুজার হওয়ার কারণে, আমরা যেন তার অন্ধ অনুসারী না হয়ে যাই। তাগুত প্রত্যাখ্যান ও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন সংশ্লিষ্ট ইলম অর্জনের পূর্বে তাফসির, হাদিস, ফিকহ প্রভৃতি বিষয়ের 'তাখাসসুস' অর্জনের জন্য কেউ যেন পেরেশান না হই। সাহাবি হজরত জুনদুব বিন আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু [মৃ. ৭০ হি.] বলেছেন,
تَعَلَّمْنَا الْإِيمَانَ قَبْلَ أَنْ نَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ، ثُمَّ تَعَلَّمْنَا الْقُرْآنَ، فَازْدَدْنَا بِهِ إِيمَانًا.
'আমরা কোরআন শেখার পূর্বে ঈমান শিখেছি। তারপর কোরআন শিখেছি, তখন তা দ্বারা আমাদের ঈমান বৃদ্ধি পেয়েছে। (১) অতএব ওজু-নামাজ প্রভৃতি ভঙ্গের কারণ জানার পূর্বে ঈমান ভঙ্গের কারণ জানার জন্য যেন প্রত্যেকে পেরেশান হই। কারণ, ঈমান সবার আগে।
যিন্দিক ও মুলহিদদের ইলম, আমল, বংশ ও বেশভূষা দেখে প্রভাবিত ও প্রতারিত হওয়া থেকে মেহেরবান আল্লাহ মুসলমানদেরকে নিরাপদ রাখুন। এবং ঈমান-আকিদা সহিহ করার পাশাপাশি আল্লাহ আমাদেরকে ইলম, আমল ও বাহ্যিক বেশভূষাও ঠিক করার তাওফিক দিন।
اللَّهُمَّ اجْعَلْ سَرِيرَتِي خَيْرًا مِنْ عَلَانِيَتِي وَاجْعَلْ عَلَانِيَتِي صَالِحَةً
হে আল্লাহ! তুমি আমার গোপন অবস্থাকে প্রকাশ্য অবস্থার তুলনায় উত্তম বানাও এবং আমার প্রকাশ্য অবস্থাকে ভালো বানাও! (২) আমিন!

টিকাঃ
১. সুনানে ইবনে মাজা: ৬১
২. সুনানে তিরমিজি: ৩৬৬৭

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 ‘ওয়ালা-বারা’ বিষয়ের শর্তীয় উৎস

📄 ‘ওয়ালা-বারা’ বিষয়ের শর্তীয় উৎস


প্রসঙ্গত, মাহাদের 'আকিদা ও তাওহিদ বিভাগে'র একটি বিষয় হলো ওয়ালা-বারা বা শত্রুতা-মিত্রতা। কেউ কেউ নাকি এ বিষয়টির শরয়ি উৎস খুঁজে পান না। তাই নিম্নে দুটি হাদিস পেশ করা হচ্ছে।
১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহুমা [মৃ. ৬৮ হি.] থেকে বর্ণিত রয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের নামাজের পর যেসকল দুআ করতেন তার একটি হলো,
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا هَادِينَ مُهْتَدِينَ ، غَيْرَ ضَالَّيْنَ وَلَا مُضِلَّيْنَ، سِلْمًا لأَوْلِيَائِكَ، وَحَرْبًا لِأَعْدَائِكَ، نُحِبُّ بِحُبِّكَ مَنْ أَحَبَّكَ، وَنُعَادِي بِعَدَاوَتِكَ مَنْ خَالَفَكَ.
হে আল্লাহ! আমাদেরকে সুপথপ্রাপ্ত ও পথপ্রদর্শক করুন; বিপথগামী ও বিভ্রান্তকারী নয়। আপনার বন্ধুদের মিত্র ও আপনার দুশমনদের শত্রু বানিয়ে দিন। আপনাকে ভালোবাসার কারণে আমরা তাকে ভালোবাসি যে আপনাকে ভালোবাসে; এবং আপনার সাথে শত্রুতা করার কারণে আমরা তার সাথে শত্রুতা পোষণ করি যে আপনার বিরোধিতা করে। [সুনানে তিরমিজি: ৩৪১৯]
২. হজরত ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন,
مَنْ أَحَبَّ فِي اللهِ، وَأَبْغَضَ فِي اللهِ، وَوَالَى فِي اللهِ، وَعَادَى فِي اللهِ، فَإِنَّمَا تُنَالُ وِلَايَةُ اللهِ بِذلِكَ، وَلَنْ يَجِدَ عَبْدُ طَعْمَ الْإِيمَانِ وَإِنْ كَثُرَتْ صَلَاتُهُ وَصَوْمُهُ حَتَّى يَكُوْنَ كَذلِكَ، وَقَدْ صَارَتْ مُؤَاخَاةُ الناسِ عَلَى أَمْرِ الدُّنْيَا، وَذلِكَ لَا يُجْدِي عَلَى أَهْلِهِ شَيْئًا.
যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবেসেছে, আল্লাহর জন্য বিদ্বেষ পোষণ করেছে, আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব করেছে এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা করেছে, [সে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।] কারণ, এর মাধ্যমে আল্লাহর বন্ধুত্ব অর্জিত হয়। আর কোনো বান্দা ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করবে না, যতক্ষণ না তার অবস্থা এমন হয়, যদিও তার সালাত-সিয়াম অনেক হয়। বর্তমানে মানুষের ভ্রাতৃত্ব হয়ে পড়েছে দুনিয়ার বিষয়াদির ভিত্তিতে। আর এমন ভ্রাতৃত্ব লোকদের কোনো উপকারে আসবে না। [হিলয়াতুল আউলিয়া, ১: ৩১২]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00